📘 রাসূল (সঃ) এর জীবনী হতে নেতৃত্ব প্রদান ও প্রভাবিত করার গুপ্ত রহস্যাবলি > 📄 শিক্ষার নিয়ম-নীতি - পথ প্রদর্শন এবং নেতৃত্ব

📄 শিক্ষার নিয়ম-নীতি - পথ প্রদর্শন এবং নেতৃত্ব


এখানে আমরা অভিযোগ থেকে বিরত থাকা ও সমালোচনা থেকে দূরে থাকার সাধারণ নিয়ম-নীতি এবং এ ব্যাপারে নবী করীম প্রদত্ত পন্থার কথা আলোচনা করছি। আয়েশা (আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তার বাবার ওপর সন্তুষ্ট হোন) কয়েকটি উদাহরণের ওপর ভিত্তি করে তাঁর এ ধারণা সৃষ্টি করেন- যার কিছু তিনি শুনেছিলেন এবং অন্যান্যগুলো প্রত্যক্ষ করেছিলেন।
নবীর কথা, "কিছু লোকের ব্যাপারটা কি" তিনি দিক-নির্দেশনা দিতেন এবং সচরাচর তিনি ভুল শুদ্ধ করতেন। এরকম কিছু ব্যাপার এখানে উদ্ধৃত করা হলো:
১. আয়েশা -এর ভাষ্য অনুযায়ী, "নবী করীম কিছু ব্যাপারকে ধর্মীয়ভাবে অনুমোদনযোগ্য বলে ঘোষণা করেন, তবে কিছু সংখ্যক ব্যক্তি এ অনুমোদনযোগ্য ব্যাপারগুলো থেকে নিজেকে বিরত রাখেন। যখন এ ব্যাপারটি রসূলের কানে পৌঁছে তখন তিনি আল্লাহর সুনাম গেয়ে এবং তাঁকে মহিমান্বিত করে বললেন, যে কাজগুলো আমি করতে পারি সেগুলো থেকে অন্যান্য লোকেরা কিভাবে নিজেকে বিরত রাখে? আল্লাহর শপথ করে বলতে পারি। তারা আল্লাহকে যতটুকু জানে তার চেয়ে বেশি আমি আল্লাহকে জানি এবং আমি আল্লাহকে তাদের চেয়ে বেশি ভয় করি।”
২. ইবরাহীম ইবনে যায়েদ ইবনে কায়েসের মতে, "সাহাবীদের একজন দীর্ঘ সময় যাবত সালাতে ইমামতী করতেন। নবী করীম -কে ব্যাপারটা জানানো হলো এবং এ প্রসঙ্গে নবী করিম বললেন, 'কিছু লোকের ব্যাপারটা কি যাদের কারণে অন্যান্যরা এ ধর্মকে ঘৃণা করে? যে ব্যক্তি সালাতে ইমামত করেন তার উচিত হবে না দীর্ঘ সময় ক্ষেপণ করা, কারণ মুসুল্লীদের মধ্যে অসুস্থ, বৃদ্ধ এবং দুঃস্থ লোক থাকে।”
৩. আল আসওয়াদ ইবনে সারীর বরাতে বলা হয়েছে, "আমরা একটি যুদ্ধাভিযানে রসূল -এর সাথে বাইরে গিয়েছিলাম, যে যুদ্ধে আমরা অবিশ্বাসীদের পরাজিত করেছিলাম। যোদ্ধাদের মধ্যে কিছু সংখ্যক ব্যক্তি বাড়াবাড়ি করেছিল এবং শিশুদেরকে হত্যা করেছিল। (শিশুদেরকে হত্যা না করার আদেশ তখনও পর্যন্ত দেয়া হয়নি) এ ব্যাপারটা নবী (সা)-কে জানানো হলো এবং তিনি বললেন, 'কিছু লোকের ব্যাপারটা কি যারা শিশু হত্যা থেকে নিজেকে বিরত রাখতে পারেননি। শিশু হত্যা থেকে বিরত থাক। "তিনি এ কথাটা তিনবার বললেন।
৪. আনাস-এর সূত্রে বলা হয়েছে। 'নবী করীমের কতিপয় সাহাবী তার স্ত্রীদেরকে তিনি যে কাজগুলো একাকী করেন সেগুলো সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন। সাহাবীদের মধ্যে একজন বললেন, 'আমি বিয়ে করব না; "সাহাবীদের মধ্যে আরেকজন বললেন, 'আমি গোশত খাব না এবং আরেকজন বললেন, "আমি বিছানায় শোব না।" তিনি (নবী) আল্লাহর প্রশংসা এবং তাঁকে মহিমান্বিত করে বললেন, "কিছু লোকের ব্যাপারটি কি যে তারা অমুক অমুক কথা বলছে? যে ক্ষেত্রে আমি সালাত আদায় করি এবং ঘুমাই; আমি সাওম পালন করি এবং ভঙ্গ করি; এমনকি আমি বিয়েও করি এবং যে আমার সুন্নাহ থেকে দূরে সরে যাবে, তার সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নেই।

টিকাঃ
১০. সহীহ আল বুখারী হাদীস নং ৬৯০৬
১১. মুহাম্মাদ বিন আল-হাসান কর্তৃক তাঁর আল আমার গ্রন্থে বর্ণিত। হাদীস নং ১৮৪
১২. সুনানে আল দারিমী হাদীস নং ২৪২৮
১৩. মুসলিম হাদীস নং ২৫৭৫।

📘 রাসূল (সঃ) এর জীবনী হতে নেতৃত্ব প্রদান ও প্রভাবিত করার গুপ্ত রহস্যাবলি > 📄 লভ্যাংশের দিক

📄 লভ্যাংশের দিক


যেহেতু অবহেলা ভুল এবং অজ্ঞতা মানুষের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত এবং বংশ পরস্পরা থেকে আমরা নিজেদেরকে জিজ্ঞাসা করে আসছি। রসূল কিভাবে এগুলো সমাধান করতেন? আরোও নির্দিষ্টভাবে বলতে গেলে, কিছু সংখ্যক ব্যক্তি মনে করেন যে, সমালোচনা, দোষারোপ এমনকি মার-ধরও মাঝে-মধ্যে জীবনে প্রয়োজন হয়ে পড়ে। সেগুলো ব্যতিরেকে কেউ চলতে পারবে না, যাদের ওপর কিছু লোককে শাসন ভার ন্যস্ত রয়েছে।

📘 রাসূল (সঃ) এর জীবনী হতে নেতৃত্ব প্রদান ও প্রভাবিত করার গুপ্ত রহস্যাবলি > 📄 আল্লাহর ঘরের পবিত্রতা

📄 আল্লাহর ঘরের পবিত্রতা


আনাস -এর বরাতে বর্ণিত। 'যখন আমরা রসূলের সাথে ছিলাম তখন এক বেদুঈন মসজিদের ভিতর প্রস্রাব করেছিল। সাহাবীদের মধ্যে কয়েকজন তাকে ভর্ৎসনা করা অথবা এ কাজ থেকে বিরত রাখার জন্য দাঁড়িয়ে গেল। তবে আল্লাহর রসূল বললেন, তাকে বাধা দিও না, তাকে প্রস্রাব করতে দাও।'
তারপর আল্লাহর রসূল ঐ বেদুঈনকে ডেকে বলল, 'অবশ্যই এ মসজিদগুলোতে প্রস্রাব অথবা মলত্যাগ করা ঠিক নয়। সর্বশক্তিমান, মহিমান্বিত আল্লাহকে স্মরণ করা, সালাত আদায় করা, কুরআন তেলাওয়াত অথবা আল্লাহর রসূল যা করতে বলবেন সেগুলো করার জন্য মসজিদ।” বর্ণনাকারী আরোও বললেন, "যখন রসূল কথা শেষ করলেন তিনি এক বালতি পানি আনতে বললেন এবং প্রস্রাবের ওপর ঐ পানি ঢেলে দিলেন।
আরেকটি হাদীস মতে, "বেদুঈন আল্লাহর কাছে দোয়া করার সময় বলছিলেন, 'হে আল্লাহ! তুমি মুহাম্মাদ এবং আমার প্রতি দয়াবান হও এবং অন্য কারো ওপরে তোমার দয়া প্রদর্শন কর না।' একথা শুনে রসূল বললেন "তুমি কোনোকিছু যা প্রশস্ত ছিল সেটাকে সঙ্কীর্ণ করেছ।"

টিকাঃ
১৪. সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৪৬০
১৫. আল বুখারী সহীহ হাদীস নং ৫৬৮৩।

📘 রাসূল (সঃ) এর জীবনী হতে নেতৃত্ব প্রদান ও প্রভাবিত করার গুপ্ত রহস্যাবলি > 📄 অপরাধীর পুরস্কার

📄 অপরাধীর পুরস্কার


আনাস ইবনে মালিকের বরাতে বলা হয়েছে। "যখন রসূলের সাথে আমি হাঁটছিলাম। তখন তাঁর পরনে ছিল ঘন মুড়ি সেলাই করা একটি নাযরানী আলখেল্লা। এক বেদুঈন রসূল-কে হঠাৎ করে আক্রমণ করে বসলো এবং তাঁর পোশাক এমন প্রচণ্ডভাবে টান মারল যে, আমি তার কাঁধের ওপর ঐ সেলাইয়ের দাগ দেখতে পেলাম। এরপর বেদুঈন রসূল-কে বললেন, আল্লাহর কাছ থেকে তার (বেদুঈন) জন্য একটি উপহারের কথা বলতে।' রসূল তার দিকে ঘুরলেন, হাসলেন এবং তারপর এ বেদুঈনকে একটি উপহার দেয়ার জন্য আদেশ করলেন।

টিকাঃ
১৬. সহীহ বুখারী হাদীস নং ১২৩৪২

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00