📄 ভদ্রতার মাধ্যমে অভিযোগ
মায়ুন পত্নী চুপেচাপে অভিযোগ করার সময় তার প্রকাশভঙ্গি ছিল খুব সূক্ষ্ণ এবং কি চমৎকার ছিল তার ছবি। তার অভিযোগটি ছিল: আমরা তার কাছ থেকে কিছুই পাই না। কারণ তিনি রাতে ইবাদত-বন্দেগী করেন এবং দিনের বেলা সাওম পালন করেন। তারপর এ কথাগুলো দিয়ে তার বক্তব্য শেষ করলেন: যে দয়া অন্যান্য মানুষ পায়, সেটা আমরাও পেয়েছি।
📄 আবু বকর ﷺ দাস মুক্ত করলেন
আনহা আয়েশা (রাঃ) আর বর্ণনা করেছেন যে, নবী করীম ﷺ আবু বকর (রাঃ)-কে অতিক্রম করে যাচ্ছিলেন। যখন আবু বকর (রাঃ) তার কিছু ক্রীতদাসকে ভর্ৎসনা করেছিলেন। তিনি (অর্থাৎ নবী ﷺ) আবু বকর (রাঃ)-এর দিকে তাকিয়ে বললেন, "আমি আল্লাহর নামে শপথ করে বলতে পারি যে, দু'জন অভিশপ্ত এবং দুজন সৎ মানুষ একই জায়গায় মিলিত হতে পারে না।' একথা শুনে আবু বকর তাঁর কিছু ক্রীতদাসকে মুক্তি দিলেন। তিনি রসূল-এর কাছে এসে বললেন, আমি এটার পুনরাবৃত্তি করব না।
টিকাঃ
৭. আল বায়হাকী কর্তৃক তাঁর গ্রন্থ সুয়ার আল-ঈমানে বর্ণিত। হাদীস নং ৪৯১৯।
📄 ওমর ﷺ তাঁকে টেনে ধরলেন
আব্দুল্লাহ ইবনে উমর-এর বরাতে বলা হয়েছে। "যখন মুনাফিকদের প্রধান আব্দুল্লাহ ইবনে উবাই-এর মৃত্যু হলো তখন তার পুত্র আল্লাহর নবীর কাছে এসে বললেন, হে আল্লাহর রসূল, তাকে ঢেকে রাখার জন্য দয়া করে আপনার জুব্বাটি আমাকে দিন, যাতে করে তার জানাযা আদায় করা যায় এবং তার জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেতে পারি।"
আল্লাহর রসূল তাঁর জুব্বাটি দিয়ে বললেন, 'জানাযার সময় হলে আমাকে খবর দিও, যাতে করে আমি তার জানাযায় উপস্থিত হতে পারি। সুতরাং তিনি রসূল-কে খবর দিলেন এবং যখন রসূল জানাযা আদায় করার জন্য উদ্যোগী হলেন তখন উমর রসূলের হাত ধরে বললেন 'আল্লাহ কি মুনাফিকদের জানাযা আদায় করার জন্য নিষেধ করেননি? মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন, 'কোনো কিছু যায় আসে না আপনি (মুহাম্মাদ) মুনাফিকদের মাফ করে দেয়ার জন্য আল্লাহর কাছে মিনতী করলেন বা নাই করলেন। এমনকি তাদেরকে মাফ করে দেয়ার জন্য আপনি যদি আল্লাহর কাছে সত্তর বারও দোয়া করেন তাহলেও আল্লাহ তাদেরকে মাফ করবেন না।" তারপর এ আয়াতটি নাযিল হলো-
وَلَا تُصَلِّ عَلَى أَحَدٍ مِنْهُمْ مَّاتَ أَبَدًا وَلَا تَقُمْ عَلَى قَبْرِهِ .
অর্থ: "এবং হে মুহাম্মাদ! মুনাফিকদের থেকে যারা মারা গেছে তাদের কারও জন্য (জানাযার) নামায পড়াবেন না।"
টিকাঃ
৮. আল তাওবাহ (৯: ৮৪)
৯. আল বুখারী হাদীস নং ৫৪৭১
📄 কিছু লোকের ব্যাপারে
বিশ্বাসীদের মাতা আয়েশা নবী করীম-এর সাথে বসবাস করতেন এবং সে কারণে তিনি নবীর কিছু ব্যক্তিগত ব্যাপারে জানতেন, যেটা অন্যান্য সাহাবী এবং অন্যান্য স্ত্রীগণ জানতেন না। ভুল সংশোধন করা এবং যে কোনো বিশৃঙ্খলাকে শৃঙ্খলার মধ্যে ফিরিয়ে আনার যে পথ মহানবী দেখিয়ে গিয়েছেন সেটা সম্পর্কে আয়েশা অবগত ছিলেন। এটা হলো যেসব ব্যক্তিরা কুরআন প্রদর্শিত পথ থেকে বিচ্যূত হয় তাদের জন্য একটি উৎকৃষ্ট পন্থা。
আয়েশা বলেছিলেন, "যখনই মুহাম্মাদ-কে কারো সম্পর্কে খবর জানানো হতো, তখন তিনি বলতেন না, অমুকের ব্যাপার কি? তবে তিনি বলতেন, "কিছু লোকের ব্যাপারে কি যারা অমুক অমুক বলছে?"
টিকাঃ
*. সুনানে আবু দাউদ হাদীস নং ৪২১২। আল আলবানী এ হাদীসটিকে সহীহ বলে আখ্যায়িত করেছেন।