📘 রাসূল (সঃ) এর জীবনী হতে নেতৃত্ব প্রদান ও প্রভাবিত করার গুপ্ত রহস্যাবলি > 📄 নতুন বন্ধু এবং সুখী জীবন

📄 নতুন বন্ধু এবং সুখী জীবন


তারপর ইবনে মায়ুনের জীবনে আমূল পরিবর্তন দেখা গেল এবং এই পরিবর্তনটা চলতে থাকলো। এ ধরনের পরিবর্তন তার চরিত্রের অন্যতম স্থায়ী বৈশিষ্ট্যে পরিণত হলো। অন্যান্য মহিলাদের মতো ভাল পোশাক এবং ভাল চাহনীসহ মায়ুন পত্নী রসূল ﷺ-এর বাসস্থানে গেলেন। তার চেহারা দেখে মনে হচ্ছিল যে, তার একটি শান্তিপূর্ণ ঘর এবং সমৃদ্ধশালী জীবন আছে।
রসূল ﷺ-এর ঘরে উপস্থিত অনেকেই তাকে তার এমন অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করল। উত্তরে মায়ুন পত্নী বলল, তার স্বামীর আচার-ব্যবহার পরিবর্তনের কারণে তিনি আনন্দময় মুহূর্ত কাটানোর সুযোগ পাচ্ছেন এবং কঠিন তপস্যারত স্বামীর মনযোগ আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছেন।

📘 রাসূল (সঃ) এর জীবনী হতে নেতৃত্ব প্রদান ও প্রভাবিত করার গুপ্ত রহস্যাবলি > 📄 ভদ্রতার মাধ্যমে অভিযোগ

📄 ভদ্রতার মাধ্যমে অভিযোগ


মায়ুন পত্নী চুপেচাপে অভিযোগ করার সময় তার প্রকাশভঙ্গি ছিল খুব সূক্ষ্ণ এবং কি চমৎকার ছিল তার ছবি। তার অভিযোগটি ছিল: আমরা তার কাছ থেকে কিছুই পাই না। কারণ তিনি রাতে ইবাদত-বন্দেগী করেন এবং দিনের বেলা সাওম পালন করেন। তারপর এ কথাগুলো দিয়ে তার বক্তব্য শেষ করলেন: যে দয়া অন্যান্য মানুষ পায়, সেটা আমরাও পেয়েছি।

📘 রাসূল (সঃ) এর জীবনী হতে নেতৃত্ব প্রদান ও প্রভাবিত করার গুপ্ত রহস্যাবলি > 📄 আবু বকর ﷺ দাস মুক্ত করলেন

📄 আবু বকর ﷺ দাস মুক্ত করলেন


আনহা আয়েশা (রাঃ) আর বর্ণনা করেছেন যে, নবী করীম ﷺ আবু বকর (রাঃ)-কে অতিক্রম করে যাচ্ছিলেন। যখন আবু বকর (রাঃ) তার কিছু ক্রীতদাসকে ভর্ৎসনা করেছিলেন। তিনি (অর্থাৎ নবী ﷺ) আবু বকর (রাঃ)-এর দিকে তাকিয়ে বললেন, "আমি আল্লাহর নামে শপথ করে বলতে পারি যে, দু'জন অভিশপ্ত এবং দুজন সৎ মানুষ একই জায়গায় মিলিত হতে পারে না।' একথা শুনে আবু বকর তাঁর কিছু ক্রীতদাসকে মুক্তি দিলেন। তিনি রসূল-এর কাছে এসে বললেন, আমি এটার পুনরাবৃত্তি করব না।

টিকাঃ
৭. আল বায়হাকী কর্তৃক তাঁর গ্রন্থ সুয়ার আল-ঈমানে বর্ণিত। হাদীস নং ৪৯১৯।

📘 রাসূল (সঃ) এর জীবনী হতে নেতৃত্ব প্রদান ও প্রভাবিত করার গুপ্ত রহস্যাবলি > 📄 ওমর ﷺ তাঁকে টেনে ধরলেন

📄 ওমর ﷺ তাঁকে টেনে ধরলেন


আব্দুল্লাহ ইবনে উমর-এর বরাতে বলা হয়েছে। "যখন মুনাফিকদের প্রধান আব্দুল্লাহ ইবনে উবাই-এর মৃত্যু হলো তখন তার পুত্র আল্লাহর নবীর কাছে এসে বললেন, হে আল্লাহর রসূল, তাকে ঢেকে রাখার জন্য দয়া করে আপনার জুব্বাটি আমাকে দিন, যাতে করে তার জানাযা আদায় করা যায় এবং তার জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেতে পারি।"
আল্লাহর রসূল তাঁর জুব্বাটি দিয়ে বললেন, 'জানাযার সময় হলে আমাকে খবর দিও, যাতে করে আমি তার জানাযায় উপস্থিত হতে পারি। সুতরাং তিনি রসূল-কে খবর দিলেন এবং যখন রসূল জানাযা আদায় করার জন্য উদ্যোগী হলেন তখন উমর রসূলের হাত ধরে বললেন 'আল্লাহ কি মুনাফিকদের জানাযা আদায় করার জন্য নিষেধ করেননি? মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন, 'কোনো কিছু যায় আসে না আপনি (মুহাম্মাদ) মুনাফিকদের মাফ করে দেয়ার জন্য আল্লাহর কাছে মিনতী করলেন বা নাই করলেন। এমনকি তাদেরকে মাফ করে দেয়ার জন্য আপনি যদি আল্লাহর কাছে সত্তর বারও দোয়া করেন তাহলেও আল্লাহ তাদেরকে মাফ করবেন না।" তারপর এ আয়াতটি নাযিল হলো-
وَلَا تُصَلِّ عَلَى أَحَدٍ مِنْهُمْ مَّاتَ أَبَدًا وَلَا تَقُمْ عَلَى قَبْرِهِ .
অর্থ: "এবং হে মুহাম্মাদ! মুনাফিকদের থেকে যারা মারা গেছে তাদের কারও জন্য (জানাযার) নামায পড়াবেন না।"

টিকাঃ
৮. আল তাওবাহ (৯: ৮৪)
৯. আল বুখারী হাদীস নং ৫৪৭১

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00