📄 আমরা এ বিষয়টার ওপর চিন্তা করি
উসমান ইবনে মায়ুন সত্যিকার অর্থে একজন বিশ্বাসী এবং আল্লাহর অকৃত্রিম অনুরাগী। তিনি তাঁর সালাতের স্থানে রাতভর সালাত আদায় করেন এবং দিনের সময়টা অতিবাহিত করেন সাওম পালন করে। তাঁর একজন সুন্দরী যুবতী পত্নী আছেন যিনি এ ধরনের খাপছাড়া দাম্পত্য জীবনে অসুখী। তিনি কোনো অভিযোগ ছাড়াই রসূল ﷺ-এর পত্নীদের শরণাপন্ন হলেন। রসূল পত্নীরা তার এ অবস্থা আঁচ করে তাকে জিজ্ঞাসা করলেন এবং তিনি তার অবস্থাটা ব্যাখ্যা করলেন। এ খবরটা রসূল ﷺ-এর কানে গেল এবং তিনি এটা শুনে বিরক্ত হলেন। উসমান বিন মায়ুনের পক্ষে এটা কিভাবে সম্ভব।
শেষ বার্তাটা ছিল সুখের দিকের একটি নির্দেশনা, যেটা মানুষ অনুসরণ করবে এবং যে বার্তার মধ্যে হৃদয়ের জন্য আনন্দ এবং আত্মার জন্য আরাম খুঁজে পাবে, যার মাধ্যমে তারা সঙ্গতভাবে আবেগের প্রয়োজনীয়তাকে পরিপূর্ণ করতে পারবে।
সে ক্ষেত্রে ধর্মীয় আইনে কোনো অস্পষ্টতা নেই এবং ধর্মের বৈশিষ্ট্যগুলো পরিষ্কার। সে ক্ষেত্রে উসমানের হৃদয়ে কিভাবে এ অন্যের মনোভাব স্থান পেল? এ ঘটনাটা পরবর্তী সময়ে ঘটেছিল অর্থাৎ রসূল করীম ﷺ যখন মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করেছিলেন, সেখানে বসতি স্থাপন এবং সেখানে তাঁর মসজিদ এবং ঘর তৈরি করেন।
এ নেতা এবং প্রশিক্ষক উসমানের সাথে কি করলেন? নবী করীম ﷺ উসমানকে ডেকে পাঠালেন। তিনি তাঁকে গালমন্দ করলেন না। এমনকি তার কাজের কোনো খুঁতও ধরলেন না অর্থাৎ তার ইবাদত-বন্দেগী, সালাত এবং সাওমের ব্যাপারে কোনো হস্তক্ষেপ করলেন না।
এবং রসূল করীম উসমানের সালাত ও সাওম আদায় করার ব্যাপারে কোনো নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করেননি।
অন্যপক্ষে রসূল এমন একটি পরিপূর্ণ চিত্র তাঁর সামনে হাজির করলেন যার মাধ্যমে দৃঢ় বিশ্বাসীরা এ জীবনের প্রয়োজন এবং পরবর্তী জীবনের প্রস্তুতির মধ্যে একটি অনুকূল ভারসাম্য রক্ষা করতে পারে।
রসূল তাকে সবচাইতে ন্যায়পরায়ণ পথের সন্ধান দিলেন এবং একট পরিপূর্ণ পন্থা বাতলে দিলেন। 'তুমি কি আমার মধ্যে অনুসরণযোগ্য একটি পরিপূর্ণ আদর্শের সন্ধান পাও না? অর্থাৎ তোমার এটা জানা আছে যে, আমি হলাম আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে একেবারে নিখাদ। যিনি হলেন আল্লাহ সম্পর্কে সবচাইতে বেশি সচেতন এবং আল্লাহর ভয়ে ভীত। তবুও আমি সালাত আদায় করি এবং ঘুমাই, আমি সাওম পালন করি এবং সাওম ভঙ্গ করি।'
এভাবেই আমার পত্নীকে আদর সোহাগ করার জন্য, শিশুদের সাথে খেলার জন্য আবেগ পরিপূর্ণ করার জন্য এবং বসতবাড়ির প্রতিটি অংশে শান্তি ছড়িয়ে দিতে আমি কিছু সময় ব্যয় করি। ঘরের বাসিন্দারা যেভাবে আনন্দ পায় এবং সঠিক মনযোগের জন্য তাদের তৃষ্ণা নিবারণ হয় সেটার ব্যবস্থা করি। এগুলোর মাধ্যমে জীবনের সমস্যা এবং জীবন ধারণের কষ্টের মূলোৎপাটন করা সম্ভব।
এ সুন্দর শব্দগুলো ইবনে মায়ুনের হৃদয় জয় করে এবং তার মনকে বশীভূত করে...........
ইবনে মায়ুন রাতে কেন অতিরিক্ত সালাত আদায় করেন এবং দিনের বেলায় কেন সাওম পালন করেন? তার এ অতিরিক্ত সালাত আদায় এবং সাওম পালনের উদ্দেশ্য হলো বেহেশতে একটি উচু আসন লাভ করা এবং একমাত্র শেষ নবীই বেহেশতের সবচাইতে উঁচু আসনে উপবিষ্ট হবেন।
বেহেশতের সবচাইতে উচ্চাসনে যিনি স্থান পাবেন (অর্থাৎ নবী) তিনি রাতে ঘুমাবেন এবং ইবাদত-বন্দেগী করবেন, দিনের বেলায় সাওম পালন এবং ভঙ্গ করবেন। তিনি হলেন শরীয়তের প্রবর্তক এবং আল্লাহর বাণীর জিম্মাদার।
আল্লাহর সান্নিধ্য অর্জনের জন্য রসূল ﷺ যে পথ অবলম্বন করেছিলেন তার চেয়ে ভাল পথ আর কি হতে পারে? অথবা তিনি যে পদ্ধতি অনুসরণ করেছিলেন তার চেয়ে ভাল পদ্ধতি আর কি হতে পারে? রসূল ﷺ যে পথে নির্দেশ দিয়েছেন তার চেয়ে খাঁটি পথ আর কি হতে পারে?
উসমান ইবনে মায়ুন স্বগোক্তি উক্তি করেছেন: এ পথটা যদি সঠিক হয়। তাহলে আমি অবশ্যই এটা অনুসরণ করব, কারণ নবীর ﷺ প্রদর্শিত পথ অবলম্বন করেই ইহজগত এবং পরজগতে দয়া অর্জন করা সম্ভব।
📄 নতুন বন্ধু এবং সুখী জীবন
তারপর ইবনে মায়ুনের জীবনে আমূল পরিবর্তন দেখা গেল এবং এই পরিবর্তনটা চলতে থাকলো। এ ধরনের পরিবর্তন তার চরিত্রের অন্যতম স্থায়ী বৈশিষ্ট্যে পরিণত হলো। অন্যান্য মহিলাদের মতো ভাল পোশাক এবং ভাল চাহনীসহ মায়ুন পত্নী রসূল ﷺ-এর বাসস্থানে গেলেন। তার চেহারা দেখে মনে হচ্ছিল যে, তার একটি শান্তিপূর্ণ ঘর এবং সমৃদ্ধশালী জীবন আছে।
রসূল ﷺ-এর ঘরে উপস্থিত অনেকেই তাকে তার এমন অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করল। উত্তরে মায়ুন পত্নী বলল, তার স্বামীর আচার-ব্যবহার পরিবর্তনের কারণে তিনি আনন্দময় মুহূর্ত কাটানোর সুযোগ পাচ্ছেন এবং কঠিন তপস্যারত স্বামীর মনযোগ আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছেন।
📄 ভদ্রতার মাধ্যমে অভিযোগ
মায়ুন পত্নী চুপেচাপে অভিযোগ করার সময় তার প্রকাশভঙ্গি ছিল খুব সূক্ষ্ণ এবং কি চমৎকার ছিল তার ছবি। তার অভিযোগটি ছিল: আমরা তার কাছ থেকে কিছুই পাই না। কারণ তিনি রাতে ইবাদত-বন্দেগী করেন এবং দিনের বেলা সাওম পালন করেন। তারপর এ কথাগুলো দিয়ে তার বক্তব্য শেষ করলেন: যে দয়া অন্যান্য মানুষ পায়, সেটা আমরাও পেয়েছি।
📄 আবু বকর ﷺ দাস মুক্ত করলেন
আনহা আয়েশা (রাঃ) আর বর্ণনা করেছেন যে, নবী করীম ﷺ আবু বকর (রাঃ)-কে অতিক্রম করে যাচ্ছিলেন। যখন আবু বকর (রাঃ) তার কিছু ক্রীতদাসকে ভর্ৎসনা করেছিলেন। তিনি (অর্থাৎ নবী ﷺ) আবু বকর (রাঃ)-এর দিকে তাকিয়ে বললেন, "আমি আল্লাহর নামে শপথ করে বলতে পারি যে, দু'জন অভিশপ্ত এবং দুজন সৎ মানুষ একই জায়গায় মিলিত হতে পারে না।' একথা শুনে আবু বকর তাঁর কিছু ক্রীতদাসকে মুক্তি দিলেন। তিনি রসূল-এর কাছে এসে বললেন, আমি এটার পুনরাবৃত্তি করব না।
টিকাঃ
৭. আল বায়হাকী কর্তৃক তাঁর গ্রন্থ সুয়ার আল-ঈমানে বর্ণিত। হাদীস নং ৪৯১৯।