📄 এক দুর্বল মহিলা, একটি বালিশ ও ভালবাসা
যখন আদী ইবনে হাতিম ইসলাম গ্রহণ করার জন্য নবী করীম-এর নিকট আসলেন। তিনি বলেন, নবী উঠে আমার সাথে মিলিত হলেন। আল্লাহর ওয়াস্তে তিনি তাঁর বাড়িতে আমাকে আতিথেয়তার জন্য নিচ্ছিলেন। পথে একজন বৃদ্ধা ও দুর্বল মহিলার সংগে সাক্ষাৎ হলো। যে মহিলা তাকে থামালেন। মহিলার কাজ মিটানোর জন্য দীর্ঘক্ষণ যাবৎ অপেক্ষা করলেন। আদী বলেন: তখন আমি মনে মনে বললাম "এ ব্যক্তি নিশ্চিত একজন বাদশাহ নয়"।
তিনি বলেন, এরপর নবী করীম আমাকে নিয়ে যেতে থাকলেন। আমরা তাঁর বাড়িতে পৌঁছলাম। তিনি খেজুরের পাতা ভর্তি একটা বালিশ নিয়ে আমার দিকে ছুড়ে দিয়ে বললেন, এটার ওপর ভর করে বস। আমি বললাম, না আপনি ওটার ওপর ভর দিয়ে বসুন। তিনি বললেন, না তুমিই বস। তখন আমি তার ওপর ভর করে বসলাম। আর নবী করীম (সা) মাটিতে বসলেন, তখন আমি আমার নিজেকে বললাম, আল্লাহর কসম! আমি নিশ্চিত কোনো বাদশাহর সাথে তাকে তুলনা করব না।"
টিকাঃ
১৯. তাবাকাত হাদীস নং ২৮৪, আল-বিদায়া ওয়ান্নেহায়া ৫/৭৫
📄 প্রথম অধ্যায়ের মুক্তাদানা
সাধারণ জনগণের স্বাভাবিক স্বভাব যে, তার থেকে উচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তিগণকে ভক্তি শ্রদ্ধা করে থাকে। মানুষ মাত্ররই এমনটা স্বাভাবিক। সাধারণ জনগণের এ মনোভাবের ব্যত্যয় ঘটে ঐ সময়, যখন উক্ত বিশেষ ব্যক্তি সাধারণ জনগণ, গরিব ও নিম্নবিত্তদের সংগে বিরূপ মানসিকতা প্রকাশ করে। এমনকি আপনি দেখবেন কেহ কেহ বিশেষ বিশেষ ব্যক্তি পর্যায়ে না হয়েও সাধারণ মানুষের প্রতি বিশেষ সুদৃষ্টি দেয়ার কারণে ও তাদের প্রতি মমত্ববোধ প্রকাশ করায় যিনি বিশেষ প্রশংসার পাত্র হন।
আবার দেখবেন সমাজের উচ্চবিত্ত অনেকে সাধারণ জনগণকে ভালবাসা-প্রীতি প্রদর্শন করার কারণে তাকে সমাজে বিশেষ স্থান দেয়া হচ্ছে। আবার সাধারণ জনগণের সংগে ঐরূপ ভালো আচরণ না করার কারণে তিনি প্রশংসা হারাচ্ছেন। যদিও সাধারণ জনগণ ব্যস্ত থাকে ও সমাজে বিশেষ কোনো প্রভাব ফেলতে উচ্চ বিত্তদের পর্যায়ে দেখা যায় না। কিন্তু এরা যখন কোনো ব্যক্তিকে বিশেষ মর্যাদা দিতে থাকবে। তিনি একক নেতার পরিণত হবেন। আর আপনি জেনে রাখুন ঐ ব্যক্তি এমন মহান নেতায় রূপান্তরিত হবেন যা আপনার চক্ষু কখনও দেখেনি আর আপনার কান কখনও তা শুনেনি।
📄 প্রথম মুক্তাদানা
আবু রেফায়া বর্ণনা করেন: আমি নবী করীম-এর নিকট এমন সময় আসলাম যখন তিনি হিতোপদেশ দিচ্ছিলেন। আমি বললাম: হে আল্লাহর রসূল! একজন ব্যক্তি যিনি দ্বীন সম্পর্কে কিছু জানে না তিনি দ্বীন সম্পর্কে জানতে চায়। আল্লাহর রসূল আমার দিকে তাকালেন। তিনি তাঁর বক্তব্য বন্ধ করে আমার কাছে আসলেন। তাকে একটি আসন দেয়া হলো মনে হলো তার পায়া লোহার। আল্লাহর রসূল তাঁর ওপর বসলেন ও আল্লাহ প্রদত্ত শিক্ষা আমাকে শিখাতে লাগলেন। এরপর তিনি (মেম্বারে) ফিরে গেলেন তার বক্তব্য প্রদানের জন্যও তা যথাযথ সম্পন্ন করলেন।
স্মরণীয়
একজন মহান ও সফল নেতা হওয়ার জন্য আপনাকে অবশ্য সকলের প্রতি মনোযোগী হতে হবে। তাদের যথাযথ মূল্যায়ন করে, তাদের কর্মের প্রশংসা বা বিনিময় নিশ্চিত করতে হবে। সকল সত্তার স্রষ্টা, করুণাময় মহান আল্লাহ বলেন-
وَ إِذَا جَاءَكَ الَّذِينَ يُؤْمِنُوْنَ بِايْتِنَا فَقُلْ سَلَمٌ عَلَيْكُمْ كَتَبَ رَبُّكُمْ عَلَى نَفْسِهِ الرَّحْمَةَ أَنَّهُ مَنْ عَمِلَ مِنْكُمْ سُوءًا بِجَهَالَةٍ ثُمَّ تَابَ مِنْ بَعْدِهِ وَ أَصْلَحَ فَأَنَّهُ غَفُورٌ رَّحِيمٌ.
অর্থ: আমার আয়াতসমূহের ওপর যারা ঈমান এনেছে তারা যখন আপনার নিকট আসবে তাদের বলুন: আপনাদের ওপর সালাম। তোমাদের রব নিজ থেকে রহমত নির্ধারণ করেছেন এ বিষয়ে যে, তোমাদের কেহ অসাবধানতাবশতঃ কোনো খারাপ কাজ করে ফেলল তারপর তওবা করে ও ভাল কাজ করে তাহলে তিনি (আল্লাহ) ক্ষমাশীল ও করুণাময়।
যারা আমার আয়াতসমূহের ওপর ঈমান রাখে তারা যখন আপনার নিকট আসে তারা ঐ সকল ব্যক্তি যাদেরকে আল্লাহ ক্ষমা করেছেন তাদেরকে আপনি বলুন; তোমাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। এটা এ জন্য যে, তাদের হৃদয় সুবিন্যস্ত হবে ও তাদেরকে মূল্যায়ন করা হবে।
এ আয়াতের দিকে লক্ষ্য করে নবী করীম তাদের (সাহাবীদের) সাথে দেখা হলে তিনিই প্রথম সালাম দিতেন।
টিকাঃ
২০. সহীহ মুসলিম-হাদীস নং ১৫০৬
২১. আল-আনয়াম- ৬: ৫৪
২২. জুবদাতুত্তাফসীর মিম ফাতহুল কাদীর পৃ: ১৭৯