📄 আবু সুফিয়ান যিনি খ্যাতি পছন্দ করতেন
আব্বাস বলেন : হে আল্লাহর রসূল! আবু সুফিয়ান এমন ব্যক্তি যিনি আত্মসম্মান পছন্দ করেন। সুতরাং তার জন্য কিছু করেন। নবী তাতে সম্মত হয়ে বলেন : যে আবু সুফিয়ানের ঘরে ঢুকবে সে নিরাপদ। যে আবু সুফিয়ানের বাড়ির দরজায় ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিবে সে নিরাপদ। যারা পবিত্র মসজিদে হারামে প্রবেশ করবে তারাও নিরাপদ। অনুরূপভাবে যারা মসজিদে ও তাদের বাড়িতে ঢুকে দরজা বন্ধ করবে তারাও।
আল্লাহর ওয়াস্তে আমাকে বলুন, ঐ ব্যক্তি কতই না সম্মানিত হন, যার বাড়ি যুদ্ধের সময় নিরাপদ ও শংকমুক্ত ঘোষণা করা হয়।
আবু সুফিয়ানের প্রতি মহান নবীর এহেন মহানুভবতা শুধু সম্মান প্রকাশ হয়নি বরং এমন ব্যক্তির ওপর সন্তুষ্টি প্রকাশ করা হয়েছে যিনি মানুষের মাঝে বিশেষ ব্যক্তি ছিলেন।
মানুষ তার নেতৃত্বের অনুগত হতে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছিল আর তার শত্রুদেরকেও তারা চিনে ফেলেছিল। যে কারণে এটা সত্য নয় যে, তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণের মাধ্যমে সম্মান অর্জন করেছেন ও তার অবস্থান নষ্ট করেছেন বা ইসলাম গ্রহণ করার কারণে তার স্তর নিম্নে নেমে গেছে।
টিকাঃ
১৩. আবু দাউদ-হাদীস নং ২৬৬৯
📄 সবাই মহানুভব
আপনি কি তার মত নেতা, বা নীতি নির্ধারক পেয়েছেন?
যে নেতা মাত্র কিছুদিন পূর্বেও তাঁর শত্রু ছিলেন ও তাঁর প্রতি অসম্মত ছিলেন মাত্র ইসলাম গ্রহণেই তিনি তার মান সম্মান ও সম্ভ্রমের প্রতি গভীর দৃষ্টি রেখেছেন। আবু সুফিয়ানের সম্মান ও নেতৃত্ব সুসংরক্ষণ করা হয়। তার বাড়ি ছিল সকলের জন্য নিরাপত্তাস্থল ও প্রশ্রয়স্থল যারা সেখানে প্রবেশ করবে। এটা কত মহান শ্রদ্ধাবোধ ছিল যে, তিনি মক্কায় পবিত্র মসজিদের পূর্বে আবু সুফিয়ানের বাড়ি উল্লেখ করেছেন। অথচ সকলের এ বিষয় জানা যে প্রাচীন এ মসজিদই সম্মানের উচ্চস্তরে, সান্নিধ্য অর্জনের প্রণিধানযোগ্য ও অন্যান্য ঘর হতে উচ্চতর অবস্থানেই সমাসীন।
হ্যাঁ এটাই সত্য ধর্ম যা হৃদয় স্পর্শ করে ও মনের মাধুরীকে দোলা দেয়। সুতরাং যে একবার এ ধর্মের সংগে সম্পৃক্ত হয়ে পড়ে এ মহান আভিজাত্য, মহত্ব ও চমৎকার সুউচ্চ বৈশিষ্ট্যপূর্ণ চিত্তপ্রকর্ষ মহান ব্যক্তির সান্নিধ্যে আসে তার আর অন্য কিছু ভাবার অবকাশ থাকে না। এটা এমনই এক ধর্ম যা দায়িত্বের সর্বশেষ স্তরের দায়িত্ববান করে, মমত্ববোধের প্রতি অনুভূতিশীল ও অন্তরাত্মা পরিশুদ্ধ করে।
📄 সম্মাননা প্রদান ও সম্ভ্রম রক্ষার प्रतिक्रिया
আবু সুফিয়ান অতি দ্রুত দৌড়াতে দৌড়াতে মক্কা পৌছেন ও সর্বোচ্চ আওয়াজে চিৎকার দিয়ে বলতে থাকলেন: ওহে কুরাইশরা! মুহাম্মাদ তোমাদের দিকে চলে আসছে, তাকে কেউ প্রতিরোধ করতে পারবে না। তোমাদের মধ্যে যে আবু সুফিয়ানের ঘরে ঢুকবে সে নিরাপদ থাকবে। তারা বলল: আল্লাহ তোমাকে ধ্বংস করুক। তোমার ঘর আমাদেরকে উপকার করবে না।
তিনি বলেন: যারা তাদের নিজেদের বাড়ির দরজা বন্ধ করবে তারাও নিরাপদ আবার যারা মসজিদে হারামে প্রবেশ করবে তারাও নিরাপদ। মানুষেরা তাদের বাড়িতে ফিরে গেল ও অনেকে মসজিদে গেল।
বিজয় হয়ে গেল। নির্দ্বিধায় ক্ষমা ও অনুমোদন হলো। মক্কার লোকেরা দলে দলে ইসলামের শান্তি সুধা পান করল।
টিকাঃ
১৪. শহে মায়ানী আল-আছার লিত্তাহাবী (৩/৩২০)
📄 মহান ব্যক্তিবর্গ
কোনো মহান নেতার জীবনী পড়ুন, যিনি তার নেতৃত্বের অন্যদের চেয়ে মহত্ব অর্জন করেছেন ও যার নাম প্রশংসার ঘ্রাণে বিমোহীত হয়েছে ও যার সুনাম বিচ্ছুরিত হয়েছে, এ রকম একজন নেতার জীবনীতে এমন কিছু বিশেষ দৃষ্টান্ত বা উদাহরণ মিলবে যার কারণে আম-জনতা তার প্রতি আকৃষ্ট হয়েছে। তার প্রচেষ্টা আবাল বৃদ্ধ বণিতা নির্বিশেষে সকলকে আকর্ষিত করেছে। তাতে তার উদ্দেশ্য পূর্ণ হতে প্রয়াস পেয়েছে ও সকলের ভালবাসায় সিক্ত হয়েছে, সকলের প্রশংসা কুড়িয়েছে।
তবে ঐ সমস্ত সকল নেতাগণই মহান নেতা মুহাম্মাদুর রসূলুল্লাহ -এর বিদ্যাপীঠের নগন্য ছাত্র মাত্র। নবী -এর জীবনী একটা গভীরতর মহাসাগর যার মাঝে পড়ে আছে মহামূল্যবান রত্নপাথর হীরা-চুন্নি, মনি- মুক্তা যা হচ্ছে তার নেতৃত্বের পিছনে লুক্কায়িত রহস্যসমূহ। যে মহাসাগর হতে আহরণ করা যায় পূর্ণতার বারতা।
তিনি কারও সাথে মিলিত হলে তার প্রতি পূর্ণ মনোনিবেশ সহকারে সম্পূর্ণ চেহারা তার দিকে দিয়ে কথা বলতেন:
আমর ইবনে আস বর্ণনা করেন: নবী যখন কারও প্রতি মনোনিবেশ করতেন তখন তিনি স্বীয় মুখমণ্ডল তার দিকে সম্পূর্ণ ফিরাতেন এবং অত্যন্ত একান্তভাবে তাদের সাথেই কথা বলতেন। তিনি যখন আমার দিকে মনোযোগ দিতেন তখন তার চেহারা সম্পূর্ণ আমার দিকে এতটাই ফেরাতেন যে, আমি ভাবতাম আমি সকলের চেয়ে অধিক প্রিয়।
আমি জিজ্ঞাসা করলাম, হে আল্লাহ রসূল! আমি কি অধিকতর ভালো না আবু বকর? তিনি বললেন, আবু বকর" তখন আমি জিজ্ঞাসা করলাম, হে আল্লাহ রসূল! আমি অধিকতর ভালো না ওমর? তিনি নবী বললেন, "ওমর” তখন আমি প্রশ্ন করলাম, হে আল্লাহর রসূল! আমি অধিক ভালো না ওসমান? তিনি (নবী) বললেন, "ওসমান" আমি আল্লাহর রসূলের নিকট যা জিজ্ঞাসা করেছি তিনি সত্য বলেছেন। এরপর আমি আর প্রশ্ন না করাটাই পছন্দ করলাম।
টিকাঃ
১৫. জামে তিরমিযী হাদীস নং ৩০৩৫