📘 রাসূল (সঃ) এর জীবনী হতে নেতৃত্ব প্রদান ও প্রভাবিত করার গুপ্ত রহস্যাবলি > 📄 মসজিদের ঝাড়ুদার

📄 মসজিদের ঝাড়ুদার


এক বৃদ্ধা নারী
আবু হুরায়রা হতে বর্ণিত। একজন গাঢ়কৃষ্ণকায় মহিলা মসজিদ ঝাড়ু দিতেন। এজন্য আল্লাহর রসূল ﷺ তাঁকে পছন্দ করতেন ও তাঁর খোঁজ খবর নিতেন। কেউ একজন এসে রসূল ﷺ-কে বললেন, ঐ মহিলা মারা গেছেন। তিনি প্রশ্ন করলেন তোমরা কেন আমাকে জানাওনি? এ প্রশ্নের মাধ্যমে এমন একটি অভিব্যক্তি প্রকাশ করলেন যে, তারা হয়ত উক্ত মহিলার ঝাড়ু দেয়ার কাজকে তুচ্ছ ভাবত। তিনি বললেন: আমাকে তার কবরে নিয়ে চল। তখন তারা তাঁকে তার কবরের কাছে নিয়ে গেলেন। তিনি তার জন্য দুয়া করলেন। এরপর জানালেন, এ কবরস্থানের অনেক কবরবাসীর কবর সম্পূর্ণ অন্ধকারে (আযাবে) নিমজ্জিত ছিল। মহান আল্লাহ রব্বুল আলামীন তাদের জন্য আমার দুয়ার মাধ্যমে স্বীয় রহমত বর্ষণ করত: আলোকিত করেছেন।
আবু সাঈদ বর্ণনা করেন যে, উক্ত মহিলা অতি কৃষ্ণকার ছিলেন। তিনি রাতে মারা যান আর রসূল ﷺ-কে সকালে তার মৃত্যুর খবর দেয়া হয়েছিল। তিনি প্রশ্নকরে বলেন, "কেন আমাকে তোমরা তার মৃত্যুর খবর জানাওনি? তিনি তার সাহাবীদেরকে নিয়ে যান ও তার কবরের পার্শ্বে দাড়ান। তিনি আল্লাহু আকবার বলে অনেক্ষণ ধরে দু'য়া করেন। অন্যরা তার পিছে একইভাবে থাকেন তিনি দীর্ঘক্ষণ দুয়া করে ফিরে আসেন।
ইবনে আব্বাস বলেন, রসূলুল্লাহ বলেন: আমি ঐ মহিলাকে জান্নাতে মসজিদ হতে ময়লা ঝাড়ু দিতে দেখেছি।

হাদীসের শিক্ষা
রসূলুল্লাহ ﷺ-এর গভীর মনোযোগ এমনই একটি অতি সাধারণ ঝাড়ুদার মহিলার প্রতি ছিল, যাকে তিনি অত্যন্ত মূল্যায়ন করেন ও যথাযথ সম্মানে আসীন করেন।
মানবতার মহান নেতা নবী মুহাম্মাদ ﷺ এ প্রকার একজন মহিলা যিনি তাঁর ঝাড়ু দেয়ার কাজ করতেন তাকে সর্বশেষ স্তরের স্থানে সমাসীন করলেন? তিনি কতটাই সচেতন ছিলেন যে ঐ মহিলার অনুপস্থিতিতে যিনি মসজিদ ঝাড়ু দিতেন তিনি তার সম্পর্কে প্রশ্ন করে বসলেন? কি মহানুভবতা তাকে তাঁর সাহাবীদেরকে অভিযোগ করালেন যে তোমরা আমাকে না জানিয়ে কেন তাকে কবর দিলে?
কি জিনিস বাধিত করেছে তাঁকে যাওয়ার জন্য তাও একাকী নয় বরং তাঁর সাহাবীগণসহ একটি দল এবং তার কবরের পার্শ্বে দাড়িয়ে তার নাজাতের জন্য, তার কাজের প্রতি অনুমোদন প্রকাশ করার জন্য দুয়া করতে কি অনুভূতি তাকে উৎসাহিত করেছে? নেতার পক্ষ হতে সাহাবীর এ দলটির অন্তরে কি মহানুভূতির প্রেরণা তিনি যুগিয়েছেন যেটি তার অবর্তমানে নেতৃত্বের চরিত্রের প্রশিক্ষণ কি প্রদান করা ছিল না?
কেন এ মহিমান্বিত মহিলাকে জান্নাতের সুসংবাদ প্রদান করে আনন্দিত করাল? এটা কি মহানুভবতা প্রকাশের ছোটখাট স্থর? তিনি ছিলেন একজন মহিলা যিনি তার নিজেকে সম্পূর্ণরূপে আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করেছিলেন ও তার ঘরের খেদমতে নিজেকে নিয়োজিত করেছিলেন, এটি তাকে মহান করে উচ্চাসনে অধিষ্ঠিত করেছেন।
তার চেহারাগত কদার্জতা ও বার্ধক্যজনিত বয়স থাকা সত্ত্বেও নিজেকে মসজিদের কাজে এমনভাবে আত্মনিয়োগ করে রেখেছিলেন যেখানে মানুষের পক্ষ হতে কাজের স্বীকৃতি বা প্রশংসার প্রতি ভ্রুক্ষেপ ছিল না।
মহান শিক্ষক ও পথ নির্দেশক রসূলুল্লাহ ﷺ মসজিদের দিকে আসা-যাওয়া করতেন তখন এ পূণ্যবতী মহিলার একাগ্রচিত্রে অত্যন্ত প্রাণবন্তভাবে যে মসজিদ ঝাড়ু দেয়ার কাজ করতেন তা তিনি দেখতেন। তিনি তার এ মহান ইবাদতের প্রতি খুবই সন্তুষ্ট হতেন ও আত্মতৃপ্তি পেতেন। বস্তুতঃ এটা এমনই একটি বিষয়, যার প্রতি খুব কম সংখ্যক মানুষই গভীরভাবে উপলব্ধি করে। আর পূর্ণাত্মা-মহিলা তার কাজ প্রতিনিয়ত মসজিদে আসা-যাওয়ার মধ্য দিয়ে একান্ত ইবাদতের নিয়তেই করতেন।
আল্লাহ রব্বুল আলামীন জান্নাতের আটটি দরজা তার বান্দাদের কাজের স্তর ভিত্তিক স্বীকৃতি প্রদানের জন্য তৈরী করেছেন। একাগ্রতা ও ঐকান্তিকতা দিয়ে যা মাপা হবে। উক্ত মহিলা এমনই কাজ তিনি সম্পন্ন করতে পেরেছেন যার মাধ্যমে তার জন্য জান্নাতের সকল দরজা উন্মুক্ত হয়েছে ও নবীজী তাকে জান্নাতে মসজিদের ঝাড়ু দিতে দেখেছেন। সুতরাং তার সমাপ্ত ছিল অত্যন্ত চমৎকার। আর প্রতিটি মানুষ তার শেষ কর্ম দিয়েই আখিরাতের প্রতিফলের সম্মুখীন হবেন। ঐ মহিলা তার কাজ সুচারুরূপে সুসম্পন্ন করেছেন ও তার জীবনের শেষ সময় আল্লাহর মহান ঘর নবীর মসজিদ পরিষ্কারের কাজে অতিবাহিত করেন।
এ কারণে মহান নেতা রসূলুল্লাহ-এর পক্ষ হতে যথাযথ প্রতিদানও পেয়েছেন। আর তা হলো তাঁর জান্নাতে পদচারণ। আর ঐ মসজিদের মহান ইমামের পক্ষ হতে তার প্রতি তাঁর মসজিদ পরিচ্ছন্নতা কাজের পরম স্বীকৃতি ও প্রতিদান। আর তাহলো তিনি স্বয়ং ও তাঁর সাহাবীগণকে নিয়ে তার কবরের কাছে যেয়ে তার জন্য একান্তভাবে দীর্ঘক্ষণ ধরে ঐরূপভাবে দুয়া ও প্রার্থনা করেছেন ও ঐ মহিলার সর্বশেষ আকাঙ্খা, জান্নাতে যাওয়া যা যথাযথ পেয়েছেন তার সুসংবাদ প্রদান করেছেন।

টিকাঃ
৪. মুসলিম: হাদীস-১৬৪৮
৪. ইবনে মাজাহ, কবর জিয়ারত অধ্যায় হাদীস নং ১৫৩৪
*. মাজমা আল-জওয়াইদ ২/১৩, তাবারানী।

📘 রাসূল (সঃ) এর জীবনী হতে নেতৃত্ব প্রদান ও প্রভাবিত করার গুপ্ত রহস্যাবলি > 📄 মহান নেতার সফলতার প্রথম গুপ্ত বিষয়

📄 মহান নেতার সফলতার প্রথম গুপ্ত বিষয়


প্রতি মানুষের গুণের যথাযথ বিচার-বিবেচনা ও প্রত্যেকের প্রতি একান্ত গভীর মনোযোগ প্রদান।

📘 রাসূল (সঃ) এর জীবনী হতে নেতৃত্ব প্রদান ও প্রভাবিত করার গুপ্ত রহস্যাবলি > 📄 প্রতি মানুষের ওপর যথাযথ বিচার-বিবেচনা ও প্রত্যেকের প্রতি একান্ত গভীর মনোযোগ প্রদান

📄 প্রতি মানুষের ওপর যথাযথ বিচার-বিবেচনা ও প্রত্যেকের প্রতি একান্ত গভীর মনোযোগ প্রদান


এই অধ্যায়ে কোনো কন্টেন্ট এখনো যোগ করা হয়নি।

📘 রাসূল (সঃ) এর জীবনী হতে নেতৃত্ব প্রদান ও প্রভাবিত করার গুপ্ত রহস্যাবলি > 📄 এ গুপ্তভেদের মূল

📄 এ গুপ্তভেদের মূল


নিশ্চয় মানুষের এক মহা উদ্দেশ্য হলো প্রশংসা অর্জন করা ও তার কর্মফলের স্বীকৃতি পাওয়া। সকল সৃষ্ট জীবের মধ্যে মানুষের উন্নত বৈশিষ্ট্যের প্রধানতম গোপন রহস্য হলো তাকে পুরস্কৃত করা। আর এটিই মানুষের কৃতকর্মের জন্য মূল শক্তি। এটি মানুষকে একটি উন্নত চরিত্র ও সঞ্চালনশক্তি হিসেবে অনুরণিত করতে থাকে।
মানবসত্ত্বা অবশ্যই তার মালিকের প্রতি দয়াবান ও বিনয়ী। সুতরাং সে তার কর্মফলের স্বীকৃতি বা প্রশংসা বা প্রতিদানের মাধ্যমে নিজেকে অনেক উর্ধ্বে উন্নীত করতে সমর্থ হয়।
আবু মূসা আশয়ারী বলেন, এক ব্যক্তি রসূল-এর নিকট এসে জিজ্ঞাসা করলেন, এক ব্যক্তি যুদ্ধ করলেন গানিমত পাওয়ার উদ্দেশ্যে, অন্যজন যুদ্ধ করলেন বীরত্ব প্রকাশের উদ্দেশ্যে আর তৃতীয় ব্যক্তি যুদ্ধ করলেন আত্ম প্রকাশের জন্য তাদের কার যুদ্ধ আল্লাহর রাস্তায় হবে? রসূল বলেন, ঐ ব্যক্তির যুদ্ধ আল্লাহর রাস্তায় হবে যে আল্লাহর কালেমা সর্বোচ্চে আসীন করার জন্য যুদ্ধ করবে।
সুতরাং অনেক ব্যক্তি এমন যিনি তাদের নিজেদেরকে ভয়ংকর পরিস্থিতি যুদ্ধ ও মৃত্যুর ময়দানে আত্মদান করেন। তাঁরা এরূপ কেন করে? সে এজন্য করে যাতে তার সত্ত্বা একটা প্রশংসসীয় স্বীকৃতি অর্জন করতে পারে। সে তার অবস্থান উর্ধ্বে আরোহন করার জন্য এটা করে।
বিচারের দিনে বান্দা তার প্রভুর সমীপে বলবেন আমি শহীদ হিসেবে মৃত্যু হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত আপনার রাস্তায় যুদ্ধ করেছিলাম। আল্লাহ বলবেন; তুমি মিথ্যা বলছ। তুমি এ জন্য যুদ্ধ করেছ যে, তোমাকে একজন মহাবীর বলা হবে। যা তোমাকে বলা হয়েছে। তখন তার মাথা নিচে দিয়ে পা ধরে টেনে হিঁচড়ে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।
যেখানে মুসলিম জাতির পুরুষ-মহিলা নির্বিশেষে সকলে ঈমানের বিনিময়ে তার জীবনের সকল কিছু ত্যাগ করে, ক্ষুধায় ধৈর্য ধারণ করে, নামাযে একান্ত অবনত হয়, মানসম্মান ত্যাগ করে, সেখানে তার পরিণতি ঐরূপ হোক নিশ্চয় কোনো মুসলিমের নিকট তা গ্রহণযোগ্য না।
আত্মত্যাগ করা ও মনোনিবেশ প্রদান মানবসত্ত্বা এমন যে, তার দিকে একান্ত মনোনিবেশ করা হোক, এটাই গভীরভাবে সে আশা করে। যা কুরআনে কারীমে বারংবার উল্লেখ করা হয়েছে। আল্লাহ বলেন-
لَقَدْ أَنْزَلْنَا إِلَيْكُمْ كِتَابًا فِيْهِ ذِكْرُكُمْ.
অর্থ: নিশ্চয় আমি তোমাদের প্রতি এমন কিতাব অবতীর্ণ করেছি যাতে তোমাদের জন্য উপদেশ আছে।
যে কুরআনের মধ্যে তোমাদের উপদেশ অর্থাৎ তোমাদের সম্মান ও আত্মমর্যাদা।
ইতিহাস গ্রন্থে বলা হয়েছে আমরা ও আবদ মুনাফের পরিবার সম্মানের সাথে বক্তব্য পেশ করছি যে, আমরা ততক্ষণ পর্যন্ত দুইটি প্রতিযোগী ঘোড়া হব। যতক্ষণ আমাদের মাঝে একজন নবী হবেন যিনি আমাদেরকে পরামর্শ ও উপদেশ দিবেন।

টিকাঃ
*. সহীহ বুখারী কিতাবুল জিহাদ হাদীস নং ২৬৭৭
*. সহীহ মুসলিম হাদীস নং ৩৬৩৫
*. আম্বিয়া-১০
১০. তাফসীর ইবনে কাসীর

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00