📘 রাসূলুল্লাহ সাঃ এর বিচারালয় > 📄 কোনো প্রাণীকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা

📄 কোনো প্রাণীকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা


বুখারী ও অন্যান্য গ্রন্থে হযরত আবু হুরাইরা কর্তৃক বর্ণিত হাদীসে বলা হয়েছে, তিনি বলেন, একবার নবী করীম [সা] আমাকে এক সৈন্যদলের সাথে এক অভিযানে পাঠান। পাঠানোর সময় তিনি আমাদেরকে বললেন, 'তোমরা যদি অমুক অমুককে পাও তাহলে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করবে।' যখন আমরা রওয়ানা হবো তখন তাঁর সাথে দেখা করতে গেলাম। তিনি আমাদেরকে বললেন, 'শোন! আমি তোমাদেরকে অমুক অমুককে পুড়িয়ে হত্যা করার নির্দেশ দিয়েছিলাম কিন্তু তোমরা তা করো না। কেননা আগুনে পুড়িয়ে শাস্তি দেয়ার ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহর। বরং তোমরা যদি তাদেরকে ধরতে পারো তবে হত্যা করে ফেলবে।' যাদেরকে তিনি হত্যা করার নির্দেশ দিয়েছিলেন, তারা হচ্ছে, হুবার ইবনু আসওয়াদ ও নাফে ইবনু আবদে আমর। ইবনু ইসহাক বলেন, তার নাম ছিলো নাফে ইবনু আবদে শাম্স।
এরা দু'জন বদর যুদ্ধের পর যখন যয়নাব [রা] মক্কা থেকে মদীনায় যেতে চেয়েছিলেন তখন তাঁর পিছু লেগেছিলো। 'যুজী তুলা' নামক স্থানে গিয়ে তাঁকে ধরে ফেলে। তিনি তখন উটের হাওদার ওপর বসা ছিলেন। এ নরাধম দুটো উটকে লাকড়ী দিয়ে জোরে আঘাত করলে হযরত জয়নাব [রা] উট থেকে নিচে পড়ে যান। এ সময় তিনি গর্ভবতী ছিলেন ফলে সেই আঘাতে তাঁর গর্ভপাত ঘটে যায় এবং তিনি মারাত্মক আহত হন। এজন্য তিনি তাদেরকে হত্যা করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন।

📘 রাসূলুল্লাহ সাঃ এর বিচারালয় > 📄 দয়া ও অনুকম্পের অনুপম দৃষ্টান্ত

📄 দয়া ও অনুকম্পের অনুপম দৃষ্টান্ত


মুসুর ইবনু মাখরামা উরওয়াকে বলেছেন- যখন হাওয়াযিন গোত্রের এক দূত মুসলমান হয়ে নবী করীম [সা] এর নিকট এলো, তখন তিনি তার সামনে দাঁড়িয়েছিলেন। সে তাঁকে জিজ্ঞেস করলো, 'আপনি কি কয়েদী ও মালামাল ফেরত দেবেন?' হুজুরে পাক [সা] বললেন- 'আমার নিকট তাই প্রিয় ও পছন্দনীয় যা সত্য। তোমরা দুটোর যে কোনো একটি গ্রহণ করতে পারো। একটি হচ্ছে তোমাদের মালামাল এবং অপরটি হচ্ছে তোমাদের বন্দী। আমি তোমাদের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রইলাম। তারা প্রায় ১০ দিনের মতো অবস্থান করলো। যখন বুঝতে পারলো যে কোনো একটিই গ্রহণ করতে হবে তখন তারা বললো, 'আমরা আমাদের বন্দীদের মুক্তি চাই।' আল্লাহর রাসূল [সা] দাঁড়িয়ে হামদ ও সানা পাঠ করে বললেন- 'তোমাদের ভাইয়েরা তাদের বন্দীরকে মুক্ত করে নেয়ার জন্য তায়েফ থেকে এসেছে। কাজেই তোমরা স্বেচ্ছায় যার নিকট যে বন্দী আছে মুক্ত করে দাও। আর যদি কেউ বিনা শর্তে মুক্ত করতে না চাও, তবে আমি তাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, এরপর প্রথম যে গনীমতের মাল আমার হস্তগত হবে তা থেকে প্রথমে তাদেরকে দিয়ে দেয়া হবে।' লোকেরা বললো, 'ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমরা স্বেচ্ছায় আমাদের বন্দীদের মুক্তি দিয়ে দিলাম।' তখন তিনি বললেন, 'আমিতো বুঝতে পারলাম না, তোমাদের মধ্যে কে স্বেচ্ছায় মুক্তি দিলে এবং কে শর্ত সাপেক্ষে মুক্তি দিলে? তোমাদের গোত্রপতিকে আমার সাথে আলাপ করতে পাঠাও।' তখন প্রত্যেক গোত্রপতি এসে বললো, 'আমরা স্বেচ্ছায় মুক্তি দিয়ে দিলাম।'
এ ঘটনা থেকে একটি মাসয়ালা জানা যায়- ভবিষ্যতে পাওয়া যাবে কিন্তু বর্তমানে নেই এমন বস্তু হিবা করা বৈধ।

📘 রাসূলুল্লাহ সাঃ এর বিচারালয় > 📄 রাসূলুল্লাহ [সা] কর্তৃক আরোপিত বিধি নিষেধের মর্যাদা

📄 রাসূলুল্লাহ [সা] কর্তৃক আরোপিত বিধি নিষেধের মর্যাদা


রাসূলুল্লাহ্ [সা] কর্তৃক আরোপিত বিধি নিষেধের মর্যাদা সম্পর্কে উলামাদের মধ্যে মতভেদ আছে। আহলে জাহের ও আহলে হাদীসদের মতে রাসূলুল্লাহ্ [সা] এর নির্দেশ ফরয এবং তাঁর নিষেধকৃত বস্তু বা কাজ হারাম। তারা তাঁর কথাকে কুরআনের সমমর্যাদা দিয়ে থাকেন।
অন্য দলের মতে রাসূলুল্লাহ্ [সা] এর আদেশ নিষেধ উলামাগণ যেভাবে গ্রহণ করেছেন তা সেভাবেই গ্রহণ করা যুক্তিযুক্ত বলে মনে করেন। তাঁর নির্দেশের কোনো কোনোটি ফরয, আবার কিছু ওয়াজিব আবার কিছু সুন্নাত ও মুস্তাহাব পর্যায়ের। তবে [নিষেধের ব্যাপারে অভিমত হচ্ছে] যা তিনি নিষেধ করেছেন তা অধিকাংশই হারাম। অবশ্য সামান্য কিছু ব্যাপার আছে যা মাকরুহ বা মুবাহ পর্যায়ের। যেমন নিম্নোক্ত হাদীসগুলো - রাসূলুল্লাহ্ [সা] বলেছেন, 'তোমাদের মধ্যে যদি কোনো ব্যক্তি নিদ্রা থেকে জাগ্রত হয়, তবে সে কোনো পাত্রে হাত প্রবেশ করানোর পূর্বে যেন তার হাত দুটো ভালো করে ধুয়ে নেয়। কেননা সেতো জানে না, তার হাত ঘুমের সময় কোথায় অবস্থান করেছে।' আরো বলেছেন- 'যে ব্যক্তি ওযু করবে সে যেন ভালোভাবে নাক পরিস্কার করে নেয়। আর যে পায়খানা করতে যাবে সে যেন তিনটি কুলুখ নিয়ে যায়।' হাদীসে বর্ণিত উপরোক্ত কাজগুলো উলামাদের দৃষ্টিতে ফরজ নয়। এরকম আরো বহু হাদীস আছে। যথা- ইমামের 'সামিয়াল্লাহু লিমান হামিদা' বলার পর 'রব্বানা লাকাল হামদ' এবং 'ওয়ালাদ্দুয়াল্লীন' বলার পর আমিন বলা ইতাদি।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00