📘 রাসূলুল্লাহ সাঃ এর বিচারালয় > 📄 অর্পণকৃত বস্তুর লভ্যাংশ মালিকের

📄 অর্পণকৃত বস্তুর লভ্যাংশ মালিকের


ইবনু মুগিরা সুফিয়ান সাওরী থেকে এবং তিনি ইবনু হুসাইন থেকে আর তিনি হাকিম ইবনু হিযাম [রা] থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, 'রাসূলুল্লাহ্ [সা] তাঁর হাতে এক দিনার দিয়ে একটি কুরবানীর পশু কেনার জন্য পাঠালেন। তিনি এক দিনার দিয়ে একটি পশু কিনে আবার তা দু'দিনারে বিক্রি করে দিলেন। তারপর এক দিনার দিয়ে একটি পশু কিনে এবং লাভের এক দিনার নিয়ে রাসূল [সা] এর কাছে এলেন। তখন রাসূলুল্লাহ [সা] সে দিনারটি দান করে দিলেন এবং তাঁর জন্য ব্যবসায়ে বরকত হওয়ার দু'আ করলেন। অন্য হাদীসে বলা হয়েছে, পরবর্তীতে তার অবস্থা এমন হয়েছিলো, যদি তিনি মাটি কিনেও বিক্রি করতেন তাতেও তিনি লাভবান হতেন।
অন্য বর্ণনায় আছে, তিনি এক দিনার দিয়ে দুটো পশু কিনে একটি পশু এক দিনারে বিক্রি করে সে বিক্রিত দিনার এবং পশুটি নবী করীম (সা) এর কাছে হাজির করলেন।

📘 রাসূলুল্লাহ সাঃ এর বিচারালয় > 📄 উপঢৌকন ফেরত আসা

📄 উপঢৌকন ফেরত আসা


আহমদ ইবনু খালিদ [রা] বলেছেন, যখন নবী করীম [সা] হযরত উম্মে সালমা [রা] কে বিয়ে করেন। তখন তিনি তাকে বললেন- 'আমি নাজ্জাসীর কাছে একটি পোষাক ও ক'আওকিয়া মিল্ক পাঠিয়েছি। আমার মনে হয় তিনি মারা গেছেন। কাজেই যদি তা ফেরত আসে, তোমাকে দিয়ে দেবো।' রাসূল [সা] যা বলেছিলেন, প্রকৃতপক্ষে তাই ঘটলো অর্থাৎ হাদিয়া ফেরত এলো। তখন প্রত্যেক স্ত্রীকে এক আওকিয়া করে মিল্ক দিয়ে অবশিষ্ট সবটুকু উম্মে সালমা [রা] কে দিয়ে দিলেন।
ইমাম আহম্মদ [রহ] বলেন, হাদিয়া ফেরত এলে তা গ্রহণ করার জন্য হাদীসটি দলিল। কিন্তু সাদকা যদি ফেরত আসে তবে তা গ্রহণ করা যাবে না। কেননা এ ব্যাপারে নবী করীম [সা] নিষেধ করেছেন। বুখারী শরীফে আছে, 'দান করে যে ফেরত নেয় তার দৃষ্টান্ত হচ্ছে ঐ কুকুরের মতো যে নিজে বমি করে আবার তা খায়।'

📘 রাসূলুল্লাহ সাঃ এর বিচারালয় > 📄 কোনো প্রাণীকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা

📄 কোনো প্রাণীকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা


বুখারী ও অন্যান্য গ্রন্থে হযরত আবু হুরাইরা কর্তৃক বর্ণিত হাদীসে বলা হয়েছে, তিনি বলেন, একবার নবী করীম [সা] আমাকে এক সৈন্যদলের সাথে এক অভিযানে পাঠান। পাঠানোর সময় তিনি আমাদেরকে বললেন, 'তোমরা যদি অমুক অমুককে পাও তাহলে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করবে।' যখন আমরা রওয়ানা হবো তখন তাঁর সাথে দেখা করতে গেলাম। তিনি আমাদেরকে বললেন, 'শোন! আমি তোমাদেরকে অমুক অমুককে পুড়িয়ে হত্যা করার নির্দেশ দিয়েছিলাম কিন্তু তোমরা তা করো না। কেননা আগুনে পুড়িয়ে শাস্তি দেয়ার ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহর। বরং তোমরা যদি তাদেরকে ধরতে পারো তবে হত্যা করে ফেলবে।' যাদেরকে তিনি হত্যা করার নির্দেশ দিয়েছিলেন, তারা হচ্ছে, হুবার ইবনু আসওয়াদ ও নাফে ইবনু আবদে আমর। ইবনু ইসহাক বলেন, তার নাম ছিলো নাফে ইবনু আবদে শাম্স।
এরা দু'জন বদর যুদ্ধের পর যখন যয়নাব [রা] মক্কা থেকে মদীনায় যেতে চেয়েছিলেন তখন তাঁর পিছু লেগেছিলো। 'যুজী তুলা' নামক স্থানে গিয়ে তাঁকে ধরে ফেলে। তিনি তখন উটের হাওদার ওপর বসা ছিলেন। এ নরাধম দুটো উটকে লাকড়ী দিয়ে জোরে আঘাত করলে হযরত জয়নাব [রা] উট থেকে নিচে পড়ে যান। এ সময় তিনি গর্ভবতী ছিলেন ফলে সেই আঘাতে তাঁর গর্ভপাত ঘটে যায় এবং তিনি মারাত্মক আহত হন। এজন্য তিনি তাদেরকে হত্যা করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন।

📘 রাসূলুল্লাহ সাঃ এর বিচারালয় > 📄 দয়া ও অনুকম্পের অনুপম দৃষ্টান্ত

📄 দয়া ও অনুকম্পের অনুপম দৃষ্টান্ত


মুসুর ইবনু মাখরামা উরওয়াকে বলেছেন- যখন হাওয়াযিন গোত্রের এক দূত মুসলমান হয়ে নবী করীম [সা] এর নিকট এলো, তখন তিনি তার সামনে দাঁড়িয়েছিলেন। সে তাঁকে জিজ্ঞেস করলো, 'আপনি কি কয়েদী ও মালামাল ফেরত দেবেন?' হুজুরে পাক [সা] বললেন- 'আমার নিকট তাই প্রিয় ও পছন্দনীয় যা সত্য। তোমরা দুটোর যে কোনো একটি গ্রহণ করতে পারো। একটি হচ্ছে তোমাদের মালামাল এবং অপরটি হচ্ছে তোমাদের বন্দী। আমি তোমাদের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রইলাম। তারা প্রায় ১০ দিনের মতো অবস্থান করলো। যখন বুঝতে পারলো যে কোনো একটিই গ্রহণ করতে হবে তখন তারা বললো, 'আমরা আমাদের বন্দীদের মুক্তি চাই।' আল্লাহর রাসূল [সা] দাঁড়িয়ে হামদ ও সানা পাঠ করে বললেন- 'তোমাদের ভাইয়েরা তাদের বন্দীরকে মুক্ত করে নেয়ার জন্য তায়েফ থেকে এসেছে। কাজেই তোমরা স্বেচ্ছায় যার নিকট যে বন্দী আছে মুক্ত করে দাও। আর যদি কেউ বিনা শর্তে মুক্ত করতে না চাও, তবে আমি তাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, এরপর প্রথম যে গনীমতের মাল আমার হস্তগত হবে তা থেকে প্রথমে তাদেরকে দিয়ে দেয়া হবে।' লোকেরা বললো, 'ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমরা স্বেচ্ছায় আমাদের বন্দীদের মুক্তি দিয়ে দিলাম।' তখন তিনি বললেন, 'আমিতো বুঝতে পারলাম না, তোমাদের মধ্যে কে স্বেচ্ছায় মুক্তি দিলে এবং কে শর্ত সাপেক্ষে মুক্তি দিলে? তোমাদের গোত্রপতিকে আমার সাথে আলাপ করতে পাঠাও।' তখন প্রত্যেক গোত্রপতি এসে বললো, 'আমরা স্বেচ্ছায় মুক্তি দিয়ে দিলাম।'
এ ঘটনা থেকে একটি মাসয়ালা জানা যায়- ভবিষ্যতে পাওয়া যাবে কিন্তু বর্তমানে নেই এমন বস্তু হিবা করা বৈধ।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00