📘 রাসূলুল্লাহ সাঃ এর বিচারালয় > 📄 বেপর্দা ও উচ্ছৃঙ্খল মহিলা সম্পর্কে

📄 বেপর্দা ও উচ্ছৃঙ্খল মহিলা সম্পর্কে


আবু দাউদ ও ওয়াজিহায় হযরত ইবনু আব্বাস [রা] থেকে বর্ণিত-একবার এক ব্যক্তি নবী করীম [সা] এর কাছে এসে আরজ করলো, 'ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমার স্ত্রী এমন, সে তাকে স্পর্শকারী কোনো পুরুষের হাতকেই প্রত্যাখ্যান করে না।' তিনি বললেন, 'তাকে তালাক দিয়ে দাও।' অন্য বর্ণনায় আছে- 'তাকে তাড়িয়ে দাও।' সে বললো 'আমার ভয় হয়, আমার কন্যাটাও না তার সাথে চলে যায়।' ওয়াজিহার বর্ণনা আছে, 'আমি তাকে ছাড়া থাকতে পারবো না।' নবী করীম [সা] বললেন- 'তবে তুমি তার থেকে ফায়দা উঠাতে থাকো।'
সা'দ ইবনু উবাদা [রা] কর্তৃক বর্ণিত হাদীসে আছে- সে বললো, 'আমি যদি আমার স্ত্রীর ওপর কাউকে দেখতে পাই তখন কি আমি তাকে হত্যা করতে পারবো, না চারজন সাক্ষ্য সংগ্রহের জন্য চেষ্টা করবো?' তখন রাসূল [সা] বলতে বলতে প্রস্থান করলেন, 'ঐ অবস্থায় তোমার তরবারী সাক্ষী হওয়াই যথেষ্ট। তবে অন্ধ কোনো লোকের সাথে এমন করো না।'

📘 রাসূলুল্লাহ সাঃ এর বিচারালয় > 📄 কুকুর পোষা

📄 কুকুর পোষা


কাজী ইবনু যিয়াদের 'আহকাম' এ আছে, তিনি কোনো বিচারকের কাছে একটি পত্র দিয়েছিলেন। যার মধ্যে কুকুর সম্বন্ধে প্রশ্ন করা হয়েছিলো। তাতে এভাবে লেখা ছিলো- 'আল্লাহ্ তা'আলা কাজী সাহেবকে যেন তওফিক দেন, আমাকে একথা বলার জন্য, যেসব কুকুর লোকালয়ে পালন করা হয় সে সম্পর্কে। সেগুলোর মধ্যে অধিকাংশই মানুষকে কষ্ট দেয়, কামড় দেয় এবং বাচ্চাদের আহত করে, এ বিষয়ে অসংখ্য অভিযোগ এখানে পাওয়া যাচ্ছে।'
প্রতি উত্তরে তিনি লিখে পাঠান- 'এ ব্যাপারে অপরিহার্য কাজ হচ্ছে, কুকুর মারার জন্য নির্দেশ জারী করা। আল্লাহ্ যেন আপনাকে সে তওফিক দেন। তবে যে সব কুকুর শিকার এবং ক্ষেত খামার পাহারা দেয়ার কাজে নিয়োজিত সে সব কুকুর হত্যা করা যাবে না।'
নবী করীম [সা] কুকুর হত্যা করার নির্দেশ দিয়েছেন। একবার একজনকে তিনি কুকুর হত্যা করার নির্দেশ দিলেন। তখন তিনি এক বৃদ্ধা অন্ধ মহিলার বাড়ি গেলেন, যেখানে একটি কুকুর ছিলো। কুকুরটিকে মারার জন্য উদ্যত হলে বৃদ্ধা তাকে বাধা দেন এবং বলেন, 'তুমি দেখছোনা আমি একজন অন্ধ। কুকুরটি আমার জন্য ক্ষতিকর জীবজন্তু তাড়িয়ে দেয়। তাছাড়া আযান হলে আমাকে জানিয়ে দেয়।' তখন তিনি নবী করীম [সা] এর নিকট ফিরে গিয়ে সব কিছু বললেন। সব কিছু শোনার পরও তিনি ঐ কুকুরটিকে হত্যার নির্দেশ দিলেন। বৃদ্ধার কোনো ওজরই গ্রহণ করলেন না।

📘 রাসূলুল্লাহ সাঃ এর বিচারালয় > 📄 অর্পণকৃত বস্তুর লভ্যাংশ মালিকের

📄 অর্পণকৃত বস্তুর লভ্যাংশ মালিকের


ইবনু মুগিরা সুফিয়ান সাওরী থেকে এবং তিনি ইবনু হুসাইন থেকে আর তিনি হাকিম ইবনু হিযাম [রা] থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, 'রাসূলুল্লাহ্ [সা] তাঁর হাতে এক দিনার দিয়ে একটি কুরবানীর পশু কেনার জন্য পাঠালেন। তিনি এক দিনার দিয়ে একটি পশু কিনে আবার তা দু'দিনারে বিক্রি করে দিলেন। তারপর এক দিনার দিয়ে একটি পশু কিনে এবং লাভের এক দিনার নিয়ে রাসূল [সা] এর কাছে এলেন। তখন রাসূলুল্লাহ [সা] সে দিনারটি দান করে দিলেন এবং তাঁর জন্য ব্যবসায়ে বরকত হওয়ার দু'আ করলেন। অন্য হাদীসে বলা হয়েছে, পরবর্তীতে তার অবস্থা এমন হয়েছিলো, যদি তিনি মাটি কিনেও বিক্রি করতেন তাতেও তিনি লাভবান হতেন।
অন্য বর্ণনায় আছে, তিনি এক দিনার দিয়ে দুটো পশু কিনে একটি পশু এক দিনারে বিক্রি করে সে বিক্রিত দিনার এবং পশুটি নবী করীম (সা) এর কাছে হাজির করলেন।

📘 রাসূলুল্লাহ সাঃ এর বিচারালয় > 📄 উপঢৌকন ফেরত আসা

📄 উপঢৌকন ফেরত আসা


আহমদ ইবনু খালিদ [রা] বলেছেন, যখন নবী করীম [সা] হযরত উম্মে সালমা [রা] কে বিয়ে করেন। তখন তিনি তাকে বললেন- 'আমি নাজ্জাসীর কাছে একটি পোষাক ও ক'আওকিয়া মিল্ক পাঠিয়েছি। আমার মনে হয় তিনি মারা গেছেন। কাজেই যদি তা ফেরত আসে, তোমাকে দিয়ে দেবো।' রাসূল [সা] যা বলেছিলেন, প্রকৃতপক্ষে তাই ঘটলো অর্থাৎ হাদিয়া ফেরত এলো। তখন প্রত্যেক স্ত্রীকে এক আওকিয়া করে মিল্ক দিয়ে অবশিষ্ট সবটুকু উম্মে সালমা [রা] কে দিয়ে দিলেন।
ইমাম আহম্মদ [রহ] বলেন, হাদিয়া ফেরত এলে তা গ্রহণ করার জন্য হাদীসটি দলিল। কিন্তু সাদকা যদি ফেরত আসে তবে তা গ্রহণ করা যাবে না। কেননা এ ব্যাপারে নবী করীম [সা] নিষেধ করেছেন। বুখারী শরীফে আছে, 'দান করে যে ফেরত নেয় তার দৃষ্টান্ত হচ্ছে ঐ কুকুরের মতো যে নিজে বমি করে আবার তা খায়।'

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00