📘 রাসূলুল্লাহ সাঃ এর বিচারালয় > 📄 মহিলাদের অংশ

📄 মহিলাদের অংশ


আবু সাফা [রা] বর্ণনা করেছেন, রাসূলুল্লাহ্ [সা] বলেছেন- তিনটি কারণেও মহিলারা ওয়ারিশ পেতে পারে।
১. নিজের আযাদকৃত গোলামের ওয়ারিশ হিসাবে।
২. লা-ওয়ারিশ কোনো বাচ্চাকে যদি সে লালন পালন করে এবং
৩. ঐ সন্তানের ওয়ারিশ, যাকে গর্ভে ধারণ করে স্বামীর সাথে লি'আন করে পৃথক হয়ে গেছে।

📘 রাসূলুল্লাহ সাঃ এর বিচারালয় > 📄 অবৈধ সন্তান সম্পর্কে

📄 অবৈধ সন্তান সম্পর্কে


ইবনু নদরের কিতাবে আছে- ইরাক, হিজায ও মিশরবাসী এ কথার ওপর একমত যে, ব্যভিচারের দ্বারা বংশ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয় না। আর যে ব্যক্তি তার সন্তান বলে অস্বীকার করবে এবং তার স্ত্রীর ব্যভিচারের ফসল বলে দাবী করবে, সে ঐ সন্তানের ওয়ারিশ হবে না। যদি ব্যভিচারী স্বীকার করে তবে ঐ সন্তান তার বংশোদ্ভূত বলে স্বীকৃতি লাভ করবে। এ মতের প্রবক্তাদের দলিল হচ্ছে নিম্নরূপ- রাসূলুল্লাহ্ [সা] এর জমানায় এক মহিলা সন্তান প্রসব করার পর, যে সেই মহিলার সাথে ব্যভিচারে লিপ্ত হয়েছিলো সে ঐ সন্তানের দাবী করে। তখন নবী করীম [সা] সিদ্ধান্ত দিলেন- 'তাকে বেত্রাঘাত করা হবে এবং ঐ সন্তান তার নামে পরিচিত হবে।'
উরওয়া ও সুলাইমান ইবনু ইয়াসার থেকে বর্ণিত। উভয়ে বর্ণনা করেছেন- যে ব্যক্তি কোনো সন্তানের মায়ের সাথে যিনা করেছে সেই পিতৃত্বের দাবিদার যদি আর কেউ না হয়, তবে সে সন্তান তার বলে ধরে নেয়া হবে এবং সে ঐ সন্তানের ওয়ারিশ হবে। সুলাইমান এ দলিল পেশ করেন যে, হযরত ওমর [রা] ঐ সমস্ত সভ্রদেরকে তাদের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করে দিয়েছিলেন, যারা জাহেলী অবস্থায় তাদের মায়ের সাথে যিনা করেছে বলে দাবী করেছিলো।

📘 রাসূলুল্লাহ সাঃ এর বিচারালয় > 📄 খালা ও ফুফুর অংশ

📄 খালা ও ফুফুর অংশ


মুসান্নাফ আবদুর রাজ্জাকে হযরত যায়িদ ইবনু আসলাম [রা] থেকে বর্ণিত আছে- এক ব্যক্তি নবী করীম [সা] এর নিকট এসে জিজ্ঞেস করলো, 'খালা এবং ফুফু সম্পর্কে মিরাসের বিধান কী?' তিনি এ সম্পর্কে ওহীর প্রতীক্ষা করতে লাগলেন। কিন্তু এ ব্যাপারে কিছু অবতীর্ণ হলো না। তখন তিনি বললেন, এ ব্যাপারে কোনো বিধান অবতীর্ণ হয়নি। সাফওয়ান ইবনু সালিম [রা] থেকে অন্য হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, এক ব্যক্তি রাসূলে আকরাম [সা] এর কাছে এসে জিজ্ঞেস করলো, 'ইয়া রাসূলাল্লাহ্ [সা] ! এক লোক খালা ও ফুফু রেখে ইন্তিকাল করলো। এখন তারা কে কত অংশ পাবে?' রাসূলুল্লাহ্ [সা] বললেন- 'যদি কেউ খালা ফুফু রেখে ইন্তিকাল করে, তবে এ ব্যাপারে আল্লাহর কোনো বিধান অবতীর্ণ হয়নি।' তারপর তিনি বললেন, 'তাদের জন্য কিছুই নেই।' অন্য হাদীসে মুয়াম্মার ইবনু তাউস থেকে বর্ণিত আছে, তিনি মদীনায় শুনেছেন যে, রাসূলুল্লাহ্ [সা] বলেছেন, 'আল্লাহ্ এবং তাঁর রাসূল ঐ ব্যক্তির ওয়ারিশ যার কোনো ওয়ারিশ নেই। আর যার কোনো ওয়ারিশ নেই কিন্তু মামা আছে, তাহলে মামা ঐ ব্যক্তির ওয়ারিশ।' এ হাদীসটি আমর ইবনু শুয়াইব তাঁর পিতা এবং তিনি তাঁর দাদা থেকে আর তিনি স্বয়ং রাসূলুল্লাহ্ [সা] থেকে বর্ণনা করেছেন। দালায়েল নামক গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে- একবার নবী করীম [সা] উটের উপর সওয়ার হয়ে বনি আমর ইবনু আওফের দিকে যাচ্ছিলেন। তখন নবী করীম [সা] কে জিজ্ঞেস করা হলো, 'এক ব্যক্তি তার ফুফু এবং খালাকে রেখে মৃত্যুবরণ করলো। তাদের সম্পর্কে মিরাসের বিধান কী?' তিনি উট থামিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, 'প্রশ্নকারী কোথায়?' তারপর তিনি বললেন, 'তাদের দু'জনের জন্য কোনো অংশ নেই।' অন্য হাদীসে আছে- তাঁকে প্রশ্ন করার পর তিনি কিছুদুর পথ চলতে থাকলেন। তারপর বললেন, 'আমাকে জিব্রাইল [আ] বললেন- তাদের কোনো অংশ নেই।'

📘 রাসূলুল্লাহ সাঃ এর বিচারালয় > 📄 হত্যাকারী নিহত ব্যক্তির ওয়ারিশ হয় না

📄 হত্যাকারী নিহত ব্যক্তির ওয়ারিশ হয় না


আবু মুহাম্মদ ইবনু আবু যায়িদ বলেছেন, রাসূলুল্লাহ্ [সা] কে জিজ্ঞেস করা হলো- হত্যাকারী সম্পর্কে মিরাসের বিধান কী? তিনি বললেন, 'হত্যাকারী নিহত ব্যক্তির ওয়ারিশ হয় না।' আমর ইবনু শুয়াইব তাঁর পিতা এবং তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন, নবী করীম [সা] বলেছেন, 'হত্যাকারী নিহত ব্যক্তির সম্পদ থেকে কিছুই পাবে না।' ইমাম মালিক সহ অন্যান্য ইমামদের মত হচ্ছে- যদি ভুলক্রমে হত্যা সংঘটিত হয়ে থাকে তবে হত্যাকারী ওয়ারিশ হবে। আর যদি ইচ্ছাকৃত হত্যা করা হয়, তবে সে ওয়ারিশ হবে না। এ ব্যাপারে সমস্ত উলামাগণ একমত। শুধুমাত্র ভুলক্রমে হত্যা করলে ওয়ারিশ হবে কিনা? এ ব্যাপারে উলামাদের মধ্যে কিছুটা মতবিরোধ পরিলক্ষিত হয়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00