📘 রাসূলুল্লাহ সাঃ এর বিচারালয় > 📄 আপন ও সৎভাই বোন

📄 আপন ও সৎভাই বোন


মুহাম্মদ ইবনু সাহনুনের কিতাবুল ফারায়েযে হযরত আমর ইবনু শুয়াইব [রা] থেকে বর্ণনা করা হয়েছে, নবী করীম [সা] বলেছেন, ওয়ারিশ হওয়ার ব্যাপারে আপন ভাই সৎ ভাইয়ের চেয়ে অগ্রগণ্য। আবার সৎ ভাই আপন ভাইয়ের ছেলের চেয়ে নিকটতর। একই পিতামাতার ঔরসজাত সন্তান শুধু পিতার ঔরশজাত সন্তানের চেয়ে নিকটতর। আবার বৈপিত্রেয় ভাইয়ের চেয়ে বৈমাত্রেয় ভাই নিকটতর। আপন চাচা সৎ চাচার চেয়েও নিকটতর। আবার সৎ চাচা আপন চাচার সন্তানের চেয়ে নিকটতর। আর ভাই এবং ভাইয়ের সন্তানের সাথে চাচা অথবা চাচাতো ভাই ওয়ারিশ হয় না।

📘 রাসূলুল্লাহ সাঃ এর বিচারালয় > 📄 মামার অংশ

📄 মামার অংশ


হাম্মাদ ইবনু সালমা [রা] বর্ণনা করেছেন, সাবিত ইবনু ওয়াদাহ মৃত্যুবরণ করলে রাসূলুল্লাহ্ [সা] আসেম ইবনু আদীকে জিজ্ঞেস করলেন, 'তোমরা কি আরবে এর বংশ সম্পর্কে কিছু জানো?' তিনি জবাব দিলেন 'না'। তবে আবদে মানযার তার এক বোনকে বিয়ে করেছে এবং সেই ঘরে আবু লুবাবাহ জন্ম গ্রহণ করেছে। সে তার ভাগ্নে।
আবু উমামা ইবনু সুহাইল ইবনু হানিফ থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তির তীরের আঘাতে অপর এক ব্যক্তি নিহত হয়। তার কোনো ওয়ারিশ ছিলোনা। শুধুমাত্র এক মামা ছিলো। এ ঘটনা হযরত আবু ওবাদা ইবনু জাররাহ হযরত ওমর (রা) এর নিকট লিখে পাঠান। হযরত ওমর [রা] জবাব লিখে পাঠান, রাসূলুল্লাহ [সা] বলেছেন- 'যে ব্যক্তির ওয়ারিশ নেই তার ওয়ারিশ- আল্লাহ্ এবং তাঁর রাসূল। মামা ঐ ব্যক্তির ওয়ারিশ যার কোনো ওয়ারিশ নেই।'
শা'বী বর্ণনা করেছেন, হযরত হামযা [রা] এর কন্যার এক মুক্ত গোলাম মৃত্যু বরণ করে। মৃত্যুকালে সে এক কন্যা এবং হযরত হামযা (রা) এর কন্যাকে ওয়ারিশ হিসেবে রেখে যায়। তখন রাসূল [সা] তার পরিত্যক্ত সম্পদ হতে অর্ধেক তার মেয়েকে দিয়ে দেন। [রাবী বলেন] আমার মনে নেই এ ঘটনা কি ফারায়েযের বিধান জারীর আগের না পরের।
হযরত হামযা [রা] এর কন্যাকে হযরত আলী (রা) মক্কা থেকে ৭ম হিজরীতে উমরাতুল কাজা আদায়ের সময় নিয়ে এসেছিলেন। আর ফারায়েযের বিধান নাযিল হয় ওহুদ যুদ্ধের সামান্য ক'দিন পর। ইবনু আবু নদর বলেন, 'কারো মতে তখন হযরত হামযা [রা] এর কন্যা নাবালেগ ছিলো। যদি তাই হয় তবে তার বালেগ হওয়া এবং গোলাম আযাদ করা এবং মৃত্যুবরণ করা প্রভৃতি ফারায়েযের বিধান জারীর পর সংঘটিত হওয়াই অধিকতর যুক্তিযুক্ত।

📘 রাসূলুল্লাহ সাঃ এর বিচারালয় > 📄 মহিলাদের অংশ

📄 মহিলাদের অংশ


আবু সাফা [রা] বর্ণনা করেছেন, রাসূলুল্লাহ্ [সা] বলেছেন- তিনটি কারণেও মহিলারা ওয়ারিশ পেতে পারে।
১. নিজের আযাদকৃত গোলামের ওয়ারিশ হিসাবে।
২. লা-ওয়ারিশ কোনো বাচ্চাকে যদি সে লালন পালন করে এবং
৩. ঐ সন্তানের ওয়ারিশ, যাকে গর্ভে ধারণ করে স্বামীর সাথে লি'আন করে পৃথক হয়ে গেছে।

📘 রাসূলুল্লাহ সাঃ এর বিচারালয় > 📄 অবৈধ সন্তান সম্পর্কে

📄 অবৈধ সন্তান সম্পর্কে


ইবনু নদরের কিতাবে আছে- ইরাক, হিজায ও মিশরবাসী এ কথার ওপর একমত যে, ব্যভিচারের দ্বারা বংশ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয় না। আর যে ব্যক্তি তার সন্তান বলে অস্বীকার করবে এবং তার স্ত্রীর ব্যভিচারের ফসল বলে দাবী করবে, সে ঐ সন্তানের ওয়ারিশ হবে না। যদি ব্যভিচারী স্বীকার করে তবে ঐ সন্তান তার বংশোদ্ভূত বলে স্বীকৃতি লাভ করবে। এ মতের প্রবক্তাদের দলিল হচ্ছে নিম্নরূপ- রাসূলুল্লাহ্ [সা] এর জমানায় এক মহিলা সন্তান প্রসব করার পর, যে সেই মহিলার সাথে ব্যভিচারে লিপ্ত হয়েছিলো সে ঐ সন্তানের দাবী করে। তখন নবী করীম [সা] সিদ্ধান্ত দিলেন- 'তাকে বেত্রাঘাত করা হবে এবং ঐ সন্তান তার নামে পরিচিত হবে।'
উরওয়া ও সুলাইমান ইবনু ইয়াসার থেকে বর্ণিত। উভয়ে বর্ণনা করেছেন- যে ব্যক্তি কোনো সন্তানের মায়ের সাথে যিনা করেছে সেই পিতৃত্বের দাবিদার যদি আর কেউ না হয়, তবে সে সন্তান তার বলে ধরে নেয়া হবে এবং সে ঐ সন্তানের ওয়ারিশ হবে। সুলাইমান এ দলিল পেশ করেন যে, হযরত ওমর [রা] ঐ সমস্ত সভ্রদেরকে তাদের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করে দিয়েছিলেন, যারা জাহেলী অবস্থায় তাদের মায়ের সাথে যিনা করেছে বলে দাবী করেছিলো।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00