📘 রাসূলুল্লাহ সাঃ এর বিচারালয় > 📄 বোনের অংশ

📄 বোনের অংশ


বুখারী ও মুসলিম ছাড়া অন্যান্য গ্রন্থে হযরত ইবনু আব্বাস (রা) ও ইবনু যুবাইর [রা] কন্যা ও বোন সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন, 'মেয়ের জন্য অর্ধেক। অবশিষ্ট অর্ধেক আসাবার। বোনের জন্য কোনো অংশ নেই। ইবনু আব্বাস [রা] কে বলা হলো, ইবনু ওমর [রা] কন্যার জন্য অর্ধেক এবং বোনের জন্য অর্ধেকের বিধান দিয়েছেন। ইবনু আব্বাস [রা] বললেন, হে আল্লাহ্ তুমিই ভালো জানো।

📘 রাসূলুল্লাহ সাঃ এর বিচারালয় > 📄 দাদী এবং নানীর অংশ

📄 দাদী এবং নানীর অংশ


মুয়াত্তায় বর্ণিত আছে- এক দাদী হযরত আবু বকর [রা] এর কাছে এসে তাকে ওয়ারিশ প্রদানের জন্য আবেদন করলো। আবু বকর [রা] বললেন, 'আল্লাহর কালামে তোমার জন্য নির্ধারিত কোনো অংশ নেই। আর সুন্নাতে রাসূলেও এ সম্পর্কে আমি কিছু পাইনি। এখন যাও, এ ব্যাপারে পরামর্শ করে দেখি।' তিনি সাহাবাদের কাছে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলেন। তখন হযরত মুগীরা ইবনু শোবা [রা] বললেন, 'একবার এক বৃদ্ধা নবী করীম [সা] এর নিকট এ ব্যাপারে এসেছিলেন, তিনি তাকে [৬-এর ১ অংশ] দেবার হুকুম দিয়েছিলেন।' আবু বকর [রা] তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, 'তখন তোমার সাথে [এ ঘটনার সাক্ষী স্বরূপ] আরো কেউ ছিলো কি?' এ কথা শুনে মুহাম্মদ ইবনু মুসলিমা আনসারী দাঁড়িয়ে হযরত মুগীরার অনুরূপ সাক্ষ্য দিলেন। তখন হযরত আবু বকর [রা] ঐ দাদীর জন্য [৬-এর ১ অংশ] নির্ধারণ করে দিলেন।
হযরত ওমর [রা] এর শাসনামলে এক দাদী এসে মিরাসের আবেদন জানালেন। তিনি বললেন, 'আল্লাহর কিতাবে এবং রাসূলের সুন্নাতে তোমার জন্য কোনো অংশ নির্ধারিত নেই। তবে ফারায়েজে তোমার জন্য এক ষষ্টাংশ [৬-এর ১] নির্ধারণ করা হয়েছে। আবদুর রাজ্জাক তাঁর মুসান্নাফে বলেন, আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করা হয়েছে, রাসূলুল্লাহ [সা] তিন দাদীকে একত্রে [৬-এর ১ অংশ] দিয়েছেন। আমি ইব্রাহীম কে জিজ্ঞেস করলাম, তারা কে কে ছিলো? বলা হলো- একজন তার পিতার নানী, একজন তার পিতার দাদী এবং অপর দু'জন স্বয়ং তার নানী।

📘 রাসূলুল্লাহ সাঃ এর বিচারালয় > 📄 আপন ও সৎভাই বোন

📄 আপন ও সৎভাই বোন


মুহাম্মদ ইবনু সাহনুনের কিতাবুল ফারায়েযে হযরত আমর ইবনু শুয়াইব [রা] থেকে বর্ণনা করা হয়েছে, নবী করীম [সা] বলেছেন, ওয়ারিশ হওয়ার ব্যাপারে আপন ভাই সৎ ভাইয়ের চেয়ে অগ্রগণ্য। আবার সৎ ভাই আপন ভাইয়ের ছেলের চেয়ে নিকটতর। একই পিতামাতার ঔরসজাত সন্তান শুধু পিতার ঔরশজাত সন্তানের চেয়ে নিকটতর। আবার বৈপিত্রেয় ভাইয়ের চেয়ে বৈমাত্রেয় ভাই নিকটতর। আপন চাচা সৎ চাচার চেয়েও নিকটতর। আবার সৎ চাচা আপন চাচার সন্তানের চেয়ে নিকটতর। আর ভাই এবং ভাইয়ের সন্তানের সাথে চাচা অথবা চাচাতো ভাই ওয়ারিশ হয় না।

📘 রাসূলুল্লাহ সাঃ এর বিচারালয় > 📄 মামার অংশ

📄 মামার অংশ


হাম্মাদ ইবনু সালমা [রা] বর্ণনা করেছেন, সাবিত ইবনু ওয়াদাহ মৃত্যুবরণ করলে রাসূলুল্লাহ্ [সা] আসেম ইবনু আদীকে জিজ্ঞেস করলেন, 'তোমরা কি আরবে এর বংশ সম্পর্কে কিছু জানো?' তিনি জবাব দিলেন 'না'। তবে আবদে মানযার তার এক বোনকে বিয়ে করেছে এবং সেই ঘরে আবু লুবাবাহ জন্ম গ্রহণ করেছে। সে তার ভাগ্নে।
আবু উমামা ইবনু সুহাইল ইবনু হানিফ থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তির তীরের আঘাতে অপর এক ব্যক্তি নিহত হয়। তার কোনো ওয়ারিশ ছিলোনা। শুধুমাত্র এক মামা ছিলো। এ ঘটনা হযরত আবু ওবাদা ইবনু জাররাহ হযরত ওমর (রা) এর নিকট লিখে পাঠান। হযরত ওমর [রা] জবাব লিখে পাঠান, রাসূলুল্লাহ [সা] বলেছেন- 'যে ব্যক্তির ওয়ারিশ নেই তার ওয়ারিশ- আল্লাহ্ এবং তাঁর রাসূল। মামা ঐ ব্যক্তির ওয়ারিশ যার কোনো ওয়ারিশ নেই।'
শা'বী বর্ণনা করেছেন, হযরত হামযা [রা] এর কন্যার এক মুক্ত গোলাম মৃত্যু বরণ করে। মৃত্যুকালে সে এক কন্যা এবং হযরত হামযা (রা) এর কন্যাকে ওয়ারিশ হিসেবে রেখে যায়। তখন রাসূল [সা] তার পরিত্যক্ত সম্পদ হতে অর্ধেক তার মেয়েকে দিয়ে দেন। [রাবী বলেন] আমার মনে নেই এ ঘটনা কি ফারায়েযের বিধান জারীর আগের না পরের।
হযরত হামযা [রা] এর কন্যাকে হযরত আলী (রা) মক্কা থেকে ৭ম হিজরীতে উমরাতুল কাজা আদায়ের সময় নিয়ে এসেছিলেন। আর ফারায়েযের বিধান নাযিল হয় ওহুদ যুদ্ধের সামান্য ক'দিন পর। ইবনু আবু নদর বলেন, 'কারো মতে তখন হযরত হামযা [রা] এর কন্যা নাবালেগ ছিলো। যদি তাই হয় তবে তার বালেগ হওয়া এবং গোলাম আযাদ করা এবং মৃত্যুবরণ করা প্রভৃতি ফারায়েযের বিধান জারীর পর সংঘটিত হওয়াই অধিকতর যুক্তিযুক্ত।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00