📘 রাসূলুল্লাহ সাঃ এর বিচারালয় > 📄 ওয়ারিশদের সম্পদ

📄 ওয়ারিশদের সম্পদ


মায়ানিল কুরআনে হযরত জাবির ইবনু আবদুল্লাহ্ [রা] থেকে বর্ণিত হাদীসে বলা হয়েছে- সা'দ ইবনু রবীর স্ত্রী নবী করীম [সা] এর দরবারে উপস্থিত হয়ে আরজ করলো, 'ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমার স্বামী আপনার অন্যান্য সাথীদের মতো শহীদ হয়ে গেছে। সে কয়েকটি মেয়ে এবং পিতা রেখে গেছে, কিন্তু তার পিতা সমস্ত সম্পদ ভোগ করছে। তখন রাসূলুল্লাহ্ [সা] তাকে ডেকে এনে বললেন, 'সা'দের স্ত্রীকে [৮-এর ১ অংশ) এবং তার মেয়েদেরকে [৩-এর ১ অংশ] দিয়ে দাও এবং অবশিষ্ট সম্পদ তামার।
মুহাম্মদ ইবনু সাহনুন তাঁর কিতাবুল ফারায়েযে বর্ণনা করেছেন, একবার সে [হযরত সা'দ [রা] এর স্ত্রী] নবী করীম [সা] এর খেদমতে আরজ করলো, 'ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আপনিতো জানেন সম্পদের জন্য মহিলাদের বিবাহ করা হয়।' রাসূলুল্লাহ্ [সা] বললেন, 'দেখা যাক এ অবস্থায় আল্লাহ্ কি সিদ্ধান্ত অবতীর্ণ করেন।' এরপর তিনি কদিন অপেক্ষা করলেন। অতঃপর সা'দ এর স্ত্রীকে খবর পাঠালেন, আল্লাহ্ তোমার এবং তোমার মেয়েদের ব্যাপারে ফায়সালা দিয়েছেন। তখন তিনি এ আয়াত তিলাওয়াত করলেন
يُوصِيكُمُ اللهُ فِي أَوْلَادِكُمْ (ق) لِلذَّكَرِ مِثْلُ حَظِّ الْأُنْثَيَنِ (ج) فَإِنْ كُنَّ نِسَاء فَوْقَ اثْنَتَيْنِ فَلَهُنَّ ثُلُثَا مَا تَرَكَ (ج) وَإِنْ كَانَتْ وَاحِدَاةً فَلَهَا النِّصْفُ (ط) وَلِأَبْوَيْهِ لِكُلِّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا السُّدُسُ مِمَّا تَرَكَ إِنْ كَانَ لَهُ وَلَدْ (ج) فَإِنْ لَّمْ يَكُنْ لَهُ وَلَدٌ وَوَرِثَهُ آيَاهُ فَلَا مِّهِ الثَّلث (ج) فَإِنْ كَانَ لَهُ إِخْوَةٌ فَلَا مِّهِ السُّدُسُ مِنْ بَعْدِ وَصِيَّةٍ يُومِي بها أودين (ط) أباؤكم وابناءكم لا تدرون أيهم اقرب لكم نفعا (ط) فَرِيضَةً مِّنَ الله (ط) إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلِيمًا حَكِيمًا (1)
"তোমাদের সন্তান সম্পর্কে আল্লাহর বিধান হচ্ছে- একজন পুরুষ দু'জন মহিলার সমান। যদি [মৃত ব্যক্তির উত্তরাধিকারী] দু'জনের অধিক কন্যা হয়, তবে তাদেরকে পরিত্যক্ত সম্পদের [৩-এর ২ অংশ] দেয়া হবে। আর যদি কন্যা একজন হয়, তবে সে সমস্ত সম্পত্তির অর্ধেক [২-এর ১ অংশ] পাবে। মৃত ব্যক্তির সন্তান থাকলে তার পিতামাতা প্রত্যেকেই [৬-এর ১ অংশ] পাবে। আর যদি মৃত ব্যক্তি নিঃসন্তান হয় এবং পিতামাতাই একমাত্র উত্তরাধিকারী হয়, তবে মাকে দেয়া হবে [৩-এর১ অংশ]। মৃত ব্যক্তির যদি ভাইবোন থাকে তবে মা পাবে [৬-এর ১ অংশ]। এসব বন্টন করে দিতে হবে তখন, যখন মৃতের ওসিয়ত [যা সে মরার পূর্বে করেছে] পূর্ণ করা হবে এবং তার যে সমস্ত ঋণ আছে, তা আদায় করা হবে। তোমরা জানো না তোমাদের পিতা মাতা ও সন্তান সন্ততিদের মধ্যে উপকারের দিক দিয়ে কে অধিক নিকটবর্তী। এসব আল্লাহ নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন এবং আল্লাহ্ নিশ্চিত রূপেই সমস্ত তত্ত ও নিগূঢ় সত্য সম্পর্কে পূর্ণ অবহিত মহাবিজ্ঞ।” [সূরা আন নিসা-১১]
উপরোক্ত আয়াত অবতীর্ণের পর নবী করীম [সা] মহিলাকে [৮-এর ১ অংশ] এবং দু'মেয়েকে [৩-এর ২ অংশ] এবং বাকী সম্পদ তার পিতাকে নেয়ার জন্য নির্দেশ দিলেন। বর্ণনাকারী বলেন, এটাই ইসলামে প্রথম ওয়ারিশী সম্পদ বন্টনের ঘটনা। জাবির ইবনু আবদুল্লাহ্ [রা] থেকে বর্ণিত হাদীসে বলা হয়েছে, সা'দ [রা] এর স্ত্রী জিজ্ঞেস করেছিলেন। আর বুখারীতে বলা হয়েছে- হুজাইল ইবনু সুরাহবিল হযরত আবু মূসা [রা] কে জিজ্ঞেস করেছিলেন, এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে যে মারা গেছে, এক কন্যা এক নাতনী এবং এক বোন রেখে। তখন তিনি বললেন, 'কন্যা পাবে অর্ধেক, বোন পাবে অর্ধেক। আর তুমি ইবনু মাসউদের কাছে যাও। আমার মনে হয় তিনিও আমার এ বক্তব্যের সাথে একমত হবেন। তখন ইবনু মাসউদ [রা] এর কাছে গিয়ে সব ঘটনা খুলে বলা হলো এবং আবু মূসা আশয়ারী [রা] এর রায় প্রসঙ্গেও বলা হলো। তখন তিনি বললেন, 'আমি যদি তার মতো ফায়সালা করে দেই, তবে আমার ভয় হয়, আমি গুমরাহ হয়ে যাবো এবং সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে যাবো। আমি বরং সে ফায়সালাই করে দেবো যা নবী করীম [সা] বলেছেন।' তিনি বলেছেন, 'কন্যার জন্য অর্ধেক সম্পদ এবং নাতনীর জন্য [৬-এর ১ অংশ]। যাতে উভয়ে মোট [৩-এর ২ অংশ] পায়। অবশিষ্টাংশ বোন পাবে। তখন ঐ ব্যক্তি পুনারায় আবু মূসা [রা] এর কাছে এসে সব ঘটনা জানালো। তখন তিনি বললেন, যতোদিন পর্যন্ত এ মহাবিজ্ঞ লোকটি তোমাদের মাঝে থাকবে, ততোদিন তোমরা আমার কাছে কোনো মাসয়ালা জানতে এসো না।

📘 রাসূলুল্লাহ সাঃ এর বিচারালয় > 📄 আসাবা

📄 আসাবা


বুখারী ও মুসলিমে হযরত ইবনু আব্বাস [রা] হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ [সা] বলেছেন, নির্দিষ্ট অংশ তার হকদারদের মধ্যে বন্টন করার পর যা অবশিষ্ট থাকে, তা অধিকতর নিকটাত্মীয়ের জন্য, যে পুরুষ হবে। অধিকাংশ উলামার দৃষ্টিতে এ ইঙ্গিতের তাৎপর্য হচ্ছে- আসাবা। আসাবা হচ্ছে কোনো ব্যক্তি তার পিতার কারণে আত্মীয় হওয়া। যেমন, ফুফা, চাচাতো ভাই, চাচাতো ভাইয়ের ছেলে, নাতি ইত্যাদি।

📘 রাসূলুল্লাহ সাঃ এর বিচারালয় > 📄 বোনের অংশ

📄 বোনের অংশ


বুখারী ও মুসলিম ছাড়া অন্যান্য গ্রন্থে হযরত ইবনু আব্বাস (রা) ও ইবনু যুবাইর [রা] কন্যা ও বোন সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন, 'মেয়ের জন্য অর্ধেক। অবশিষ্ট অর্ধেক আসাবার। বোনের জন্য কোনো অংশ নেই। ইবনু আব্বাস [রা] কে বলা হলো, ইবনু ওমর [রা] কন্যার জন্য অর্ধেক এবং বোনের জন্য অর্ধেকের বিধান দিয়েছেন। ইবনু আব্বাস [রা] বললেন, হে আল্লাহ্ তুমিই ভালো জানো।

📘 রাসূলুল্লাহ সাঃ এর বিচারালয় > 📄 দাদী এবং নানীর অংশ

📄 দাদী এবং নানীর অংশ


মুয়াত্তায় বর্ণিত আছে- এক দাদী হযরত আবু বকর [রা] এর কাছে এসে তাকে ওয়ারিশ প্রদানের জন্য আবেদন করলো। আবু বকর [রা] বললেন, 'আল্লাহর কালামে তোমার জন্য নির্ধারিত কোনো অংশ নেই। আর সুন্নাতে রাসূলেও এ সম্পর্কে আমি কিছু পাইনি। এখন যাও, এ ব্যাপারে পরামর্শ করে দেখি।' তিনি সাহাবাদের কাছে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলেন। তখন হযরত মুগীরা ইবনু শোবা [রা] বললেন, 'একবার এক বৃদ্ধা নবী করীম [সা] এর নিকট এ ব্যাপারে এসেছিলেন, তিনি তাকে [৬-এর ১ অংশ] দেবার হুকুম দিয়েছিলেন।' আবু বকর [রা] তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, 'তখন তোমার সাথে [এ ঘটনার সাক্ষী স্বরূপ] আরো কেউ ছিলো কি?' এ কথা শুনে মুহাম্মদ ইবনু মুসলিমা আনসারী দাঁড়িয়ে হযরত মুগীরার অনুরূপ সাক্ষ্য দিলেন। তখন হযরত আবু বকর [রা] ঐ দাদীর জন্য [৬-এর ১ অংশ] নির্ধারণ করে দিলেন।
হযরত ওমর [রা] এর শাসনামলে এক দাদী এসে মিরাসের আবেদন জানালেন। তিনি বললেন, 'আল্লাহর কিতাবে এবং রাসূলের সুন্নাতে তোমার জন্য কোনো অংশ নির্ধারিত নেই। তবে ফারায়েজে তোমার জন্য এক ষষ্টাংশ [৬-এর ১] নির্ধারণ করা হয়েছে। আবদুর রাজ্জাক তাঁর মুসান্নাফে বলেন, আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করা হয়েছে, রাসূলুল্লাহ [সা] তিন দাদীকে একত্রে [৬-এর ১ অংশ] দিয়েছেন। আমি ইব্রাহীম কে জিজ্ঞেস করলাম, তারা কে কে ছিলো? বলা হলো- একজন তার পিতার নানী, একজন তার পিতার দাদী এবং অপর দু'জন স্বয়ং তার নানী।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00