📘 রাসূলুল্লাহ সাঃ এর বিচারালয় > 📄 পড়ে থাকা বস্তু প্রাপ্তির হুকুম

📄 পড়ে থাকা বস্তু প্রাপ্তির হুকুম


মুয়াত্তা, বুখারী ও মুসলিম শরীফে বর্ণিত আছে-এক ব্যক্তি নবী করীম [সা] এর কাছে এসে রাস্তায় পড়ে থাকা বস্তু সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলো। তিনি বললেন, 'থলের মুখ ভাল ভাবে বেঁধে রেখে এক বৎসর পর্যন্ত ঘোষণা করতে হবে। যদি মালিক এসে পৌঁছে তাহলে তো তুমি তার হাতেই পৌঁছে দেবে। অন্যথায় তা তুমি নিজের প্রয়োজনে ব্যয় করো।' অতঃপর সে হারিয়ে যাওয়া ছাগল সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলো। তিনি উত্তর দিলেন, 'ওটা তোমার অথবা তোমার কোনো ভাইয়ের জন্য আর না হয় বাঘের জন্য।' অন্য হাদীসে আছে- 'তোমার ভাইয়ের হারিয়ে যাওয়া বস্তু তোমার ভাইকে ফেরত দিয়ে দেবে।' সে বললো, 'যদি উট হয়?' বুখারী ও মুসলিমে আছে, তখন রাসূলুল্লাহ্ [সা] রেগে গেলেন এবং বললেন, 'সে ব্যাপারে তোমার কি প্রয়োজন? সে হাটতে হাটতে পানির নিকট চলে যাবে এবং পানি ও লতা পাতা খেয়ে ঘুরে বেড়াবে, একবার না একবার তার মালিক তাকে পেয়েই যাবে।'
বুখারী ও মুসলিমে আরো আছে, হযরত উবাই ইবনু কা'ব [রা] একবার একটি থলে পান। তার মধ্যে ১০০টি দিনার ছিলো। যখন তিনি রাসূলুল্লাহ্ [সা] এর কাছে গেলেন এবং ঘটনা বললেন, তখন রাসূলুল্লাহ্ [সা] বললেন, 'তুমি এক বৎসর পর্যন্ত ঘোষণা দিতে থাকো। যদি এর মধ্যে মালিক এসে যায়, তবে তুমি তাকে দিয়ে দেবে।' বর্ণনাকারী বলেছেন, 'আমি এক বৎসর পর্যন্ত ঘোষণা দিয়েও কোনো মালিকের সন্ধান পেলাম না। তখন আবার রাসূল [সা] এর নিকট গেলাম।' এবার তিনি বললেন, 'তুমি থলেটি এবং তার ফিতাটি ভালো করে সংরক্ষণ করবে, আর ভিতরের বস্তু ভালোভাবে হিসেব করে লিখে রাখবে। যদি কোনোদিন মালিক আসে তবে দিয়ে দেবে না হয় তুমি তা তোমার নিজের প্রয়োজনে ব্যয় করবে।' অতঃপর আমি তা খরচ করে ফেললাম। অনেকদিন পর আমি মক্কায় তার সাক্ষাৎ পেলাম। আমার স্মরণ নেই তা কতদিন পর ঘটেছিলো, দু'বছর না তিন বছর।
বুখারী ও মুসলিমে হযরত আবু হুরাইরা [রা] থেকে বর্ণিত হয়েছে- যখন আল্লাহ্ তাঁর রাসূলকে দিয়ে মক্কা বিজয় করালেন, তখন তিনি মানুষের সামনে ভাষণ [খুতবা] দিতে দাঁড়ালেন। আল্লাহ তা'আলার হামদ ও সানা পাঠ করলেন। তারপর বললেন, 'আল্লাহ্ তা'য়ালা মক্কায় হত্যাযজ্ঞ চালানো হারাম করে দিয়েছেন। তাঁর রাসূল [সা] ও মুমিনদের বিজয় দিয়েছেন। আমার আগে করোর জন্য [এখানে মৃত্যুদন্ড] বৈধ ছিলো না এবং আমার পরেও কারো জন্য বৈধ হবে না। শুধু আমার জন্য তা বৈধ করা হয়েছে। কোনো শিকারকে তাড়া করা যাবে না, কোনো গাছপালা কাটা যাবে না, অন্য বর্ণনায় আছে- কোনো ঝোপঝাড়ও কাটা যাবে না, অন্য বর্ণনায় আছে- কাঁটা যুক্ত লতাগুল্মও কাটা যাবে না। এখানে পড়ে থাকা বস্তুও উঠানো যাবে না। অপর বর্ণনায় বলা হয়েছে- পড়ে থাকা কোনো বস্তু পেলে তা প্রাপকের জন্য হালাল হবে না।
আবু শাহ্ নামক ইয়েমেনের এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বললেন- ইয়া রাসূলাল্লাহ্। ভাষণটি আমাকে লিখে দিন। অতঃপর তাকে সে ভাষণ লিখে দেয়া হলো।

📘 রাসূলুল্লাহ সাঃ এর বিচারালয় > 📄 যে বলে আমার বাগান আল্লাহকে দান করলাম

📄 যে বলে আমার বাগান আল্লাহকে দান করলাম


মুয়াত্তা, বুখারী ও মুসলিমে হযরত আনাস [রা] থেকে বর্ণিত - আবু তালহা মদীনার আনসারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশী খেজুর বাগানের মালিক ছিলেন। তার মধ্যে ‘বীরহা’ নামক বাগানটি ছিলো সর্বোত্তম। এটি ছিলো মসজিদের সামনে। আবু তালহার কাছে এ বাগানটি ছিলো অত্যন্ত প্রিয়। রাসূল [সা] মাঝে মাঝে সেই বাগানে প্রবেশ করে তার সুস্বাদু পানি পান করতেন। যখন নিচের আয়াতটি অবতীর্ণ হলো-
لَنْ تَنَالُوا الْبِرَّ حَتَّى تُنْفِقُوا مِمَّا تُحِبُّونَ (٥)
তোমরা ততোক্ষণ পূণ্য লাভ করতে পারবে না যতোক্ষণ তোমাদের প্রিয় বস্তু আল্লাহর পথে দান না করবে। [সূরা আল-ইমরান]
তখন আবু তালহা [রা] রাসূল [সা] এর নিকট দাঁড়িয়ে বললেন, 'ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আল্লাহ্ প্রিয় বস্তু দান করার কথা বলেছেন। আমার নিকট সবচেয়ে প্রিয় হচ্ছে ‘বিরহা’! আপনি যে ভাবে চান তা ব্যবহার করবেন।' রাসূল (সা) বললেন, 'বাহ্! বাহ্! তুমিতো অত্যন্ত লাভবান এক কাজ করলে। তবে আমার পরামর্শ হচ্ছে, এ বাগানটি তোমার নিকটাত্মীয় বিশেষ করে তোমার চাচাতো ভাইদের মাঝে বন্টন করে দাও।' বুখারীর অন্য বর্ণনায় আছে, 'তা তোমার দরিদ্র আত্মীয়দের দান করে দাও।' আনাস [রা] বলেন, 'এরপর তিনি হাসান ইবনু সাবিত ও উবাই ইবনু কা'ব কে তা দান করে দিলেন। তারা দু'জন আমার চেয়ে তাঁর বেশী নিকটতর ছিলো।'
এ আলোচনা থেকে নিচের মাসয়ালাগুলো পাওয়া যায়-
১. যে ব্যক্তি বলে আমার বাড়ী দান করে দিলাম, যদি নির্দিষ্ট কারো নাম উল্লেখ না করে, তবে সে তা তার নিকটাত্মীয়দের মাঝে বন্টন করে দিতে পারে। অবশ্য কিছু সংখ্যক উলামা বলেছেন তা বৈধ নয়।
[লেখক বলেন] যদি সে নির্দিষ্ট কারো নাম না বলে তবে প্রথম কথাই ঠিক।
২. যদি কেউ, জমি দান করতে চায়, আর যদি কারো নাম সে উচ্চারণ না করে তাহলে পরবর্তীতে আলাপ আলোচনা করে সে দানের পাত্র ঠিক করতে পারে।

📘 রাসূলুল্লাহ সাঃ এর বিচারালয় > 📄 আমানতদারী

📄 আমানতদারী


আহকাম ইবনু যিয়াদের বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ্ [সা] বলেছেন, 'আমানতদারের ওপর কোনো জরিমানা নেই। আহলে ইলমগণ বলেন, এ ব্যাপারে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে। আহকাম ছাড়া অন্যান্য গ্রন্থে বলা হয়েছে, রাসূল [সা] বলেছেন, 'প্রত্যেক হাতের কর্তব্য ঐ বস্তু ফেরত দেয়া যা তার আয়ত্বে আছে।' কতিপয় উলামা এ কথার নিম্মোক্ত ব্যাখ্যা করেছেন। তাদের দলিল হচ্ছে- আল্লাহর এ বাণী, 'তোমরা তোমাদের আমানত তার মালিকের নিকট ফিরিয়ে দাও।' ইবনু সালাম বলেন, এ আয়াত কা'বার মুতাওয়াল্লী প্রসঙ্গে অবতীর্ণ হয়েছে। যখন হযরত আব্বাস [রা] নবী করীম [সা] এর নিকট কা'বা ঘরের চাবি চেয়েছিলেন তখন এ আয়াতটি অবতীর্ণ হয়। তখন তিনি কা'বা ঘরের চাবি ওসমান ইবনু তালহাকে দিয়ে দিলেন। অন্য বর্ণনায় আছে, রাসূল [রা] বললেন, ওসমান কোথায়?' হযরত ওসমান ইবনু আফফান [রা] মাথা উঠিয়ে উপস্থিতি প্রমাণ করলেন। তারপর তিনি আবার বললেন, 'ওসমান ইবনু তালহা কোথায়?' বনী হাজরানীর এক ব্যক্তি তাকে দাঁড় করিয়ে দিলো। অতঃপর নবী করীম [সা] তাকে চাবিগুচ্ছ দিয়ে দিলেন। তিনি মুখ ঢেকে বসেছিলেন। নবী করীম [সা] তাকে চাবি দিয়ে বললেন- 'হে আবু তালহার বেটা! এটিকে সংরক্ষণ করো সব সময়ের জন্য। এজন্য তোমার সাথে জুলুম করা হবে না। তবে জালিম বা কাফিররা এরূপ করলে ভিন্ন কথা।' এ ঘটনা বিদায় হজ্জের সময়ের। ওসমান এর পিতা তালহা উহুদ যুদ্ধের সময় হযরত আলী [রা] এর বিপক্ষে যুদ্ধ করতে গিয়ে নিহত হয়। পরে চাবি তালহার উম্মে ওয়ালাদ (দাসী) সালাফা [অর্থাৎ ওসমানের মা] এর নিকট গচ্ছিত থাকে।

📘 রাসূলুল্লাহ সাঃ এর বিচারালয় > 📄 আমানতদারকে শপথ করানো

📄 আমানতদারকে শপথ করানো


যদি আমানতদারের কাছে গচ্ছিত মাল নষ্ট হয়ে যায়, তবে তাকে এ ব্যাপারে শপথ করানো যাবে কিনা, তা নিয়ে ইমামদের মধ্যে মতভেদ আছে। ইমাম আবু হানিফা ও ইমাম শাফিয়ী [রহ] বলেন, আমানতদারের কাছ থেকে শপথ নিতে হবে। ইমাম মালিক [রহ] বলেন, তার থেকে শপথ নেয়ার প্রয়োজন নেই। কেননা এমনিইতো তার দুর্নাম হয়ে যায়। ইবনু মানযার 'আশরাফ' নামক গ্রন্থে বলেছেন, শপথ গ্রহণের কথাটিই সঠিক ও উত্তম।
ইবনু নাফি' ইমাম মালিক থেকে আল মাবসুতে বর্ণনা করেছেন, যদি ঋণগ্রস্থ দাবী করে, সম্পূর্ণ মাল কিংবা আংশিক বিনষ্ট হয়ে গেছে তবে তার থেকে শপথ নিতে হবে। এতে দুর্নাম হোক বা না হোক। ইবনু মুযাযের মতও তাই। ওয়াজিহায় বর্ণিত হয়েছে- তার থেকে শপথ নেয়া যাবে না। মদুওনায় ইমাম মালিক থেকে ইবনু কাশেম বর্ণনা করেছেন- এমতাবস্থায় তার থেকে শপথ নিতে হবে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00