📘 রাসূলুল্লাহ সাঃ এর বিচারালয় > 📄 ক্রীতদাস মুক্তি

📄 ক্রীতদাস মুক্তি


মুসান্নাফ আবদুর রাজ্জাকে হযরত আলী ইবনু আবী তালিব [রা] থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী করীম [সা] কে ওসিয়ত বাস্তবায়নের আগে ঋণ আদায় করতে দেখেছি। মুয়াত্তা ও অন্যান্য গ্রন্থে হাসান ও মুহাম্মদ ইবনু সিরীন [রহ] হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ্ [সা] লটারী করে দু'জন ক্রীতদাস [অর্থাৎ এক তৃতীয়াংশ] মুক্ত করে দেন। ইমাম মালিক [রহ] বলেছেন, আমার মনে হয় তার নিকট ছয়জন ক্রীতদাস ছাড়া আর কিছু ছিলো না। মুসান্নাফ আবদুর রাজ্জাকে আছে- রাসূলূল্লাহ্ [সা] তার ওপর নারাজ ছিলেন। তাই তিনি মন্তব্য করেছিলেন, যদি সম্ভব হতো তবে আমি তাকে মুসলমানের কবরস্থানে দাফন করতাম না।
অতঃপর তিনি লটারী করে দু'জন ক্রীতদাস মুক্ত করে দিলেন। অন্য হাদীসে আছে- এক আনসার মহিলা ছ'জন ক্রীতদাস মুক্ত করে গিয়েছিলো। রাসূল [সা] ছ'টি তীর চাইলেন এবং তা দিয়ে লটারীর মাধ্যমে দু'জনকে মুক্ত করে দিলেন। অন্য গ্রন্থে আছে, রাসূলুল্লাহ্ তা তিন ভাগ করে দু'জনকে মুক্ত করলেন এবং অবশিষ্ট চারজনকে দাস হিসেবে রেখে দিলেন। ইসমাঈল [রহ] বলেছেন, রাসূলুল্লাহ্ তাদের মূল্য নির্ধারণ করেছিলেন। সুলাইমান ইবনু মূসা [রহ] বলেছেন, এ ধরনের কোনো কথা আমার পৌঁছেনি যে, তিনি তাঁদের মূল্য নির্ধারণ করেছিলেন। এখন সুলাইমানের কথা যদি ঠিক মনে করা হয়, তবে বুঝা যাবে ঐ ক্রীতদাসদের মূল্য সমান ছিলো। নইলে মূল্য নির্ধারণ করা অপরিহার্য ছিলো।
ওপরের আলোচনা হতে নিম্নোক্ত মাসয়ালাগুলো জানা যায়-
১. ওসিয়ত সর্বোচ্চ এক তৃতীয়াংশের করা যাবে।
২. এক তৃতীয়াংশের বেশী ওসিয়ত করলে, অতিরিক্ত অংশ বাতিল বলে গণ্য হবে।
৩. ঋণের ব্যাপারে যদি কেউ ক্রীতদাস মুক্তির সিদ্ধান্ত দেয় তবে তা ওসিয়তের মতোই কার্যকরী হবে।
মুসন্নাফ আবদুর রাজ্জাকে ইকরামা থেকে বর্ণিত হয়েছে- রাসূলুল্লাহ্ [সা] বলেছেন, 'ওয়ারিশদের জন্য ওসিয়ত করা যাবে না। আর স্ত্রীলোকদের জন্যও তাদের স্বামীর অনুমতি ছাড়া কোনো কিছু গ্রহণ করা বৈধ নয়।' অন্য হাদীসে আছে, নবী করীম [সা] এক ব্যক্তির মুদাব্বার ক্রীতদাস বিক্রি করে দিয়েছিলেন। মুসলিমের অন্য বর্ণনায় আছে, ঐ ক্রীতদাসকে মুদাব্বার বানিয়েছিলেন। কিন্তু ক্রীতদাসটিকে ৮০০শ' দিরহামে বিক্রি করে তার মূল্য তাকে দিয়েছিলেন এবং বলেছিলেন, 'এটা দিয়ে তুমি ঋণ আদায় করবে এবং পরিবার পরিজনের জন্য ব্যয় করবে।'
ইমাম মালিক [রহ] বলেছেন, পূর্বের হাদীসটি অধিকতর সহীহ। যে হাদীসে বলা হয়েছে, নবী করীম [সা] ঐ ব্যক্তির মৃত্যুর পর মুদাব্বির গোলাম বিক্রি করে দিয়েছিলেন।
ইবনু আবী যায়িদ বলেছেন, জাবির [রা] কর্তৃক বর্ণিত হাদীস থেকে বুঝা যায়, নবী করীম [সা] ঋণ পরিশোধের জন্য গোলাম বিক্রি করেছিলেন। এতে প্রমাণিত হয়, নবী করীম [সা] ক্রীতদাসকে অনর্থক বিক্রি করেননি। এঘটনা থেকে একটি জরুরী নির্দেশ জানা গেল। জাবির বর্ণিত হাদীসে বলা হয়েছে- গোলাম ছাড়া আর কোন সম্পদ সে রেখে মারা যায়নি। তাই নবী করীম [সা] বললেন- 'একে কে কিনে নেবে?' জাবির [রা] কর্তৃক বর্ণিত হাদীস সম্পর্কে মতভেদ আছে। কোথাও বলা হয়েছে তাকে মুক্ত করে দেয়া হয়েছিলো আবার কোথাও বলা হয়েছে তাকে 'মুদাব্বার' ঘোষণা করা হয়েছিলো।
ইবনু আবী যায়িদ এর মুখতাসারে আবু সাঈদ খুদরী [রা] থেকে বর্ণনা করা হয়েছে- যখন আওতাসের যুদ্ধে বাঁদী হস্তগত হলো তখন লোকজন বললেন- হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আযল সম্পর্কে কি বলেন? আমরাতো তাদের মূল্যকে পছন্দ করি। তখন নবী করীম [সা] তা করা হারাম ঘোষণা করলেন না। 'আমরা তাদের মূল্যকে পছন্দ করি' বাক্য দ্বারা বুঝাতে চেয়েছেন- দাসীর গর্ভে সন্তান হলে তাকে আর বিক্রি করা যায় না, তাই তারা সন্তান যাতে না হয় সে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে আগ্রহী ছিলেন।
নবী করীম [সা] উম্মে ইব্রাহীম সম্পর্কে বলেছেন, 'ইব্রাহীম জন্ম গ্রহণ করে তার মাকে মুক্ত করে দিয়েছে।' সাঈদ ইবনু মুসাইয়্যিব [রা] থেকে বর্ণিত অন্য হাদীসে বলা হয়েছে, যে দাসীর গর্ভে তার মনিবের সন্তান জন্ম গ্রহণ করবে তাকে [অর্থাৎ ঐ দাসীকে মুক্ত করে দেয়ার জন্য রাসূলূল্লাহ্ [সা] নির্দেশ দিয়েছেন।' তিনি আরো বলেছেন, 'তাকে ওসিয়তের মধ্যে শামিল করা যাবে না এবং ঋণ আদায়ের মাধ্যমও বানানো যাবে না।'
ইমাম মুসলিম বলেন, আমি সাঈদ ইবনু মুসাইয়্যিবকে জিজ্ঞেস করেছি, মনিবের সন্তান প্রসবকারী সম্পর্কে হযরত ওমর [রা] এর অভিমত কী? তিনি জবাবে বললেন- হযরত ওমর [রা] তাকে মুক্ত করে দেবার বিধান দেননি, মুক্ত করে দেবার বিধানতো স্বয়ং নবী করীম [সা] দিয়েছেন। না তার এক তৃতীয়াংশ ওসিয়ত করা যাবে আর না তাকে ঋণের দায়ে বিক্রি করা যাবে। কিতাবুর রিজালে সাঈদ ইবনু আবদুল আজীজ থেকে বর্ণিত আছে- মারিয়া [উম্মে ইব্রাহিম] মুক্ত হওয়ার পর তিন মাস ইদ্দত পালন করেন এবং হিজরী ১৬ সনে তিনি ইন্তিকাল করেন।
হাদীসে বর্ণিত আছে, বারীরাহ্ [নাম্মী এক দাসী] হযরত আয়িশা [রা] এর কাছে এসে সাহায্য চায়। বুখারীর অন্য বর্ণনায় আছে- সাহায্য চাইতে আসে, তার জিম্মায় পাঁচ আউকিয়া ছিলো এবং তা পরিশোধের মেয়াদ ছিলো পাঁচ বৎসর। এরপর হাদীসের বাকী অংশ। এটি আয়িশা [রা] থেকে উরওয়া বর্ণনা করেছেন। আর হযরত আয়িশা [রা] থেকে হযরত ওমর [রা] কর্তৃক বর্ণিত হাদীস বুখারী ও মুয়াত্তায় আছে। সেখানে বলা হয়েছে, হযরত আয়িশা [রা] বললেন, আমি যদি তোমাকে মুক্ত করে দেই তবে তোমার অভিভাবকত্ব ]ولاء[ আমার হবে। একথা কি তোমার মনিব মেনে নেবে?
বারীরাহ্ তার মনিবের কাছে গিয়ে একথা বললো, মনিব মেনে নিতে অস্বীকার করে। রাসূল [সা] শুনে হযরত আয়িশা [রা] কে বললেন- 'তুমি কেন শর্ত করতে যাও? যে তাকে ক্রয় করে মুক্ত করে দেবে সেই তার অভিভাবকত্ব ]ولاء[ লাভ করবে।' আয়িশা [রা] নবী করীম [সা] এর পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করলেন। তারপর রাসূলূল্লাহ্ [সা] মিম্বরে দাঁড়িয়ে হামদ ও সানা পড়ার পর বললেন, ' লোকদের কি হয়েছে যে, তারা এরূপ শর্তারোপ করে যা কুরআন নেই। যা কুরআনে নেই তা বাতিল। যদি একশ'টি শর্তও দেয়া হয় তবু আল্লাহর কালাম তার চেয়ে সত্য ও উত্তম। আল্লাহর শর্ত হচ্ছে স্পষ্ট সার্বজনীন। কাজেই ওয়ারিশ হবে সে, যে ক্রয় করে তাকে মুক্ত করে দেবে।'
কিতাবে ইবনু শো'বানে বর্ণিত আছে, ইসলামের প্রথম মুকাতাব গোলাম হচ্ছে হযরত সালমান আল ফারেসী [রা]। তাঁর মনিব তাঁকে একশ'টি খেজুর গাছের চারা লাগানোকে মুক্তির শর্ত নির্ধারণ করেছিলো। যা তিনি এক নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে লাগিয়েছিলেন। রাসূলুল্লাহ্ [সা] তাঁকে বলেছিলেন- 'যখন তুমি খেজুর গাছের চারা লাগাবে তখন আমাকে খবর দেবে।' তিনি তাঁর জন্য দু'আ করেছিলেন ফলে একটি চারাও শুকিয়ে যায়নি অথবা মরে যায়নি।
অবশ্য এ ব্যাপারে আরো একটি কথা আছে, ইসলামের প্রথম মুকাতাব হচ্ছে 'আবু মুয়েল' নামক এক ব্যক্তি। আল্লাহর রাসূল [সা] তার ব্যাপারে সকলকে বললেন- 'তাকে মুক্তির জন্য সাহায্য করো।' তখন উপস্থিত সবাই তাকে সাহায্য করলো। সে তা দিয়ে মুক্তিপণ আদায় করলো। তারপর কিছু অর্থ বেঁচে গেলো। তখন নবী করীম [সা] বললেন- 'সে গুলো আল্লাহর পথে খরচ করে দাও।'

টিকাঃ
২. যে ক্রীতদাসকে তার মনিব বলে আমার মৃত্যুর পর তুমি মুক্ত হয়ে যাবে। ঐ ক্রীতদাসকে 'মুদাব্বার' বলা হয়। এ ধরনের ক্রীতদাসীকে বলা হয় 'মুদাব্বারা' আর মনিবকে বলা হয় মুদাব্বির।-অনুবাদক।
৩. মুকাতাব গোলাম বলা হয়-যার মনিব গোলামকে তার মুক্তিপণ নির্দিষ্ট করে দেয় এবং বলে এতোদিনের মধ্যে এই পরিমাণ পণ পরিশোধ করতে পারলে তুমি মুক্ত।-অনুবাদক

📘 রাসূলুল্লাহ সাঃ এর বিচারালয় > 📄 ক্রীতদাসের চেহারা বিকৃতি ও মারধর করার কাফফারা

📄 ক্রীতদাসের চেহারা বিকৃতি ও মারধর করার কাফফারা


মদুওনায় হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনু আমর ইবনুল আস [রা] থেকে বর্ণিত। জুনবাগ নামক এক ব্যক্তির একটি ক্রীতদাস ছিলো। নাম সান্দ্রা অথবা ইবনু সান্দ্রা। একদিন সে দেখতে পেলো ঐ ক্রীতদাসটি তার এক দাসীকে ঝাপটে ধরে চুমা দিচ্ছে। তখন সে তাকে ধরে নিয়ে তার নাক ও কান কেটে দিলো। ক্রীতদাসটি রাসূলুল্লাহ্ [সা] এর দরবারে এসে নালিশ করলো। তখন তিনি জুনবাগকে ডেকে এনে বললেন- 'তার ওপর এমন কোনো বোঝা চাপানো যা সে বহন করতে অক্ষম। আর তুমি যা খাবে তাকে তাই খেতে দেবে। তুমি যা পরবে তাঁকেও তাই পরাবে। আর যদি তুমি তাকে অপছন্দ করো তবে বিক্রি করে দাও। যাকে পছন্দ হয় রাখো। তবু আল্লাহর কোনো সৃষ্টিকে কষ্ট দিয়ো না।' তারপর বললেন, 'যার চেহারা বিকৃত করা হবে অথবা আগুনে কোনো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ভস্ম করা হবে সে মুক্ত। সে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কর্তৃক মুক্ত।' অতঃপর তিনি তাকে মুক্ত ঘোষণা করলেন।
হযরত আবদুল্লাহ ইবনু ওমর [রা] থেকে বর্ণিত হাদীসে বলা হয়েছে, রাসূলূল্লাহ্ [সা] বলেছেন, 'যে ব্যক্তি তার কোনো ক্রীতদাসকে অন্যায়ভাবে মারধোর করবে, তার কাফ্ফারা হচ্ছে তাকে মুক্ত করে দেয়া।'

📘 রাসূলুল্লাহ সাঃ এর বিচারালয় > 📄 পড়ে থাকা বস্তু প্রাপ্তির হুকুম

📄 পড়ে থাকা বস্তু প্রাপ্তির হুকুম


মুয়াত্তা, বুখারী ও মুসলিম শরীফে বর্ণিত আছে-এক ব্যক্তি নবী করীম [সা] এর কাছে এসে রাস্তায় পড়ে থাকা বস্তু সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলো। তিনি বললেন, 'থলের মুখ ভাল ভাবে বেঁধে রেখে এক বৎসর পর্যন্ত ঘোষণা করতে হবে। যদি মালিক এসে পৌঁছে তাহলে তো তুমি তার হাতেই পৌঁছে দেবে। অন্যথায় তা তুমি নিজের প্রয়োজনে ব্যয় করো।' অতঃপর সে হারিয়ে যাওয়া ছাগল সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলো। তিনি উত্তর দিলেন, 'ওটা তোমার অথবা তোমার কোনো ভাইয়ের জন্য আর না হয় বাঘের জন্য।' অন্য হাদীসে আছে- 'তোমার ভাইয়ের হারিয়ে যাওয়া বস্তু তোমার ভাইকে ফেরত দিয়ে দেবে।' সে বললো, 'যদি উট হয়?' বুখারী ও মুসলিমে আছে, তখন রাসূলুল্লাহ্ [সা] রেগে গেলেন এবং বললেন, 'সে ব্যাপারে তোমার কি প্রয়োজন? সে হাটতে হাটতে পানির নিকট চলে যাবে এবং পানি ও লতা পাতা খেয়ে ঘুরে বেড়াবে, একবার না একবার তার মালিক তাকে পেয়েই যাবে।'
বুখারী ও মুসলিমে আরো আছে, হযরত উবাই ইবনু কা'ব [রা] একবার একটি থলে পান। তার মধ্যে ১০০টি দিনার ছিলো। যখন তিনি রাসূলুল্লাহ্ [সা] এর কাছে গেলেন এবং ঘটনা বললেন, তখন রাসূলুল্লাহ্ [সা] বললেন, 'তুমি এক বৎসর পর্যন্ত ঘোষণা দিতে থাকো। যদি এর মধ্যে মালিক এসে যায়, তবে তুমি তাকে দিয়ে দেবে।' বর্ণনাকারী বলেছেন, 'আমি এক বৎসর পর্যন্ত ঘোষণা দিয়েও কোনো মালিকের সন্ধান পেলাম না। তখন আবার রাসূল [সা] এর নিকট গেলাম।' এবার তিনি বললেন, 'তুমি থলেটি এবং তার ফিতাটি ভালো করে সংরক্ষণ করবে, আর ভিতরের বস্তু ভালোভাবে হিসেব করে লিখে রাখবে। যদি কোনোদিন মালিক আসে তবে দিয়ে দেবে না হয় তুমি তা তোমার নিজের প্রয়োজনে ব্যয় করবে।' অতঃপর আমি তা খরচ করে ফেললাম। অনেকদিন পর আমি মক্কায় তার সাক্ষাৎ পেলাম। আমার স্মরণ নেই তা কতদিন পর ঘটেছিলো, দু'বছর না তিন বছর।
বুখারী ও মুসলিমে হযরত আবু হুরাইরা [রা] থেকে বর্ণিত হয়েছে- যখন আল্লাহ্ তাঁর রাসূলকে দিয়ে মক্কা বিজয় করালেন, তখন তিনি মানুষের সামনে ভাষণ [খুতবা] দিতে দাঁড়ালেন। আল্লাহ তা'আলার হামদ ও সানা পাঠ করলেন। তারপর বললেন, 'আল্লাহ্ তা'য়ালা মক্কায় হত্যাযজ্ঞ চালানো হারাম করে দিয়েছেন। তাঁর রাসূল [সা] ও মুমিনদের বিজয় দিয়েছেন। আমার আগে করোর জন্য [এখানে মৃত্যুদন্ড] বৈধ ছিলো না এবং আমার পরেও কারো জন্য বৈধ হবে না। শুধু আমার জন্য তা বৈধ করা হয়েছে। কোনো শিকারকে তাড়া করা যাবে না, কোনো গাছপালা কাটা যাবে না, অন্য বর্ণনায় আছে- কোনো ঝোপঝাড়ও কাটা যাবে না, অন্য বর্ণনায় আছে- কাঁটা যুক্ত লতাগুল্মও কাটা যাবে না। এখানে পড়ে থাকা বস্তুও উঠানো যাবে না। অপর বর্ণনায় বলা হয়েছে- পড়ে থাকা কোনো বস্তু পেলে তা প্রাপকের জন্য হালাল হবে না।
আবু শাহ্ নামক ইয়েমেনের এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বললেন- ইয়া রাসূলাল্লাহ্। ভাষণটি আমাকে লিখে দিন। অতঃপর তাকে সে ভাষণ লিখে দেয়া হলো।

📘 রাসূলুল্লাহ সাঃ এর বিচারালয় > 📄 যে বলে আমার বাগান আল্লাহকে দান করলাম

📄 যে বলে আমার বাগান আল্লাহকে দান করলাম


মুয়াত্তা, বুখারী ও মুসলিমে হযরত আনাস [রা] থেকে বর্ণিত - আবু তালহা মদীনার আনসারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশী খেজুর বাগানের মালিক ছিলেন। তার মধ্যে ‘বীরহা’ নামক বাগানটি ছিলো সর্বোত্তম। এটি ছিলো মসজিদের সামনে। আবু তালহার কাছে এ বাগানটি ছিলো অত্যন্ত প্রিয়। রাসূল [সা] মাঝে মাঝে সেই বাগানে প্রবেশ করে তার সুস্বাদু পানি পান করতেন। যখন নিচের আয়াতটি অবতীর্ণ হলো-
لَنْ تَنَالُوا الْبِرَّ حَتَّى تُنْفِقُوا مِمَّا تُحِبُّونَ (٥)
তোমরা ততোক্ষণ পূণ্য লাভ করতে পারবে না যতোক্ষণ তোমাদের প্রিয় বস্তু আল্লাহর পথে দান না করবে। [সূরা আল-ইমরান]
তখন আবু তালহা [রা] রাসূল [সা] এর নিকট দাঁড়িয়ে বললেন, 'ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আল্লাহ্ প্রিয় বস্তু দান করার কথা বলেছেন। আমার নিকট সবচেয়ে প্রিয় হচ্ছে ‘বিরহা’! আপনি যে ভাবে চান তা ব্যবহার করবেন।' রাসূল (সা) বললেন, 'বাহ্! বাহ্! তুমিতো অত্যন্ত লাভবান এক কাজ করলে। তবে আমার পরামর্শ হচ্ছে, এ বাগানটি তোমার নিকটাত্মীয় বিশেষ করে তোমার চাচাতো ভাইদের মাঝে বন্টন করে দাও।' বুখারীর অন্য বর্ণনায় আছে, 'তা তোমার দরিদ্র আত্মীয়দের দান করে দাও।' আনাস [রা] বলেন, 'এরপর তিনি হাসান ইবনু সাবিত ও উবাই ইবনু কা'ব কে তা দান করে দিলেন। তারা দু'জন আমার চেয়ে তাঁর বেশী নিকটতর ছিলো।'
এ আলোচনা থেকে নিচের মাসয়ালাগুলো পাওয়া যায়-
১. যে ব্যক্তি বলে আমার বাড়ী দান করে দিলাম, যদি নির্দিষ্ট কারো নাম উল্লেখ না করে, তবে সে তা তার নিকটাত্মীয়দের মাঝে বন্টন করে দিতে পারে। অবশ্য কিছু সংখ্যক উলামা বলেছেন তা বৈধ নয়।
[লেখক বলেন] যদি সে নির্দিষ্ট কারো নাম না বলে তবে প্রথম কথাই ঠিক।
২. যদি কেউ, জমি দান করতে চায়, আর যদি কারো নাম সে উচ্চারণ না করে তাহলে পরবর্তীতে আলাপ আলোচনা করে সে দানের পাত্র ঠিক করতে পারে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00