📄 ওয়াক্ফ
ওয়াজিহায় ওয়াকেদী হতে বর্ণিত, তিনি হযরত হুসাইন ইবনু আবদুর রহমান ইবনু সা'দ ইবনু মায়াজ থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আমি এ কথা সবার কাছে জিজ্ঞেস করে ফিরছিলাম, ইসলামর সর্বপ্রথম ওয়াকফ কোনটি? কেউ বলেছেন, তা ছিলো নবী করীম [সা] এর করা ওয়াক্ফ্ফ। এ মত আনসার সাহাবাদের। আর মুহাজির সাহাবাগন বলেছেন, সর্বপ্রথম ওয়াক্ফ হচ্ছে হযরত ওমর ইবনু খাত্তাব [রা] এর। নবী করীম [সা] যখন মদীনায় হিজরত করে আসেন তখন এক খন্ড পরিত্যক্ত জমি পান। যা আহলে রায়েজ ও হাসকার ছিলো। রাসূল [সা] মদীনায় আসার কিছুদিন আগে তাদেরকে সেখান থেকে বহিস্কার করা হয়। সে জমি বিরান ছিলো। তার কিছু ছিলো পরিস্কার এবং কিছু ছিলো অপরিস্কার। তা কখনো আবাদ করা হতো না। রাসূল [সা] সেখান থেকে কিছু জমি যা ছামাগ নামে অভিহিত করা হতো, হযরত ওমর [রা] কে দান করেন। পরবর্তীতে হযরত ওমর [রা] ইহুদীদের থেকে আরো কিছু জমি কিনে আগেরটির সাথে মিলিয়ে নেন। যা পরে খুব আকর্ষণীয় এক টুকরা জমিতে পরিণত হয়। একদিন হযরত ওমর [রা] বললেন, 'ইয়া রাসূলুল্লাহ্! আমার জমিটি খুব সুন্দর হয়েছে। এবং আমার অত্যন্ত প্রিয়।' রাসূলুল্লাহ্! বললেন, 'ওটাকে এভাবে ওয়াক্ফ্ফ করে দাও, যেন তার মালিকানা আবদ্ধ থাকে। [অর্থাৎ হস্তান্তর করা না যায়) উৎপন্ন দ্রব্য খরচ করে দেয়া হয়।' অতঃপর হযরত ওমর [রা] একথার ওপর আমল করলেন।
নাফে' হযরত ইবনু ওমর [রা] থেকে বর্ণনা করেছেন, হযরত ওমর [রা] 'ছামাগ' নামক যে জমিটি ওয়াক্ফ করেছিলেন সেটিই ইসলামের প্রথম ওয়াক্ত। ওমর [রা] যেদিন তা ওয়াক্ত করেছিলেন, সেদিন তিনি নবী করীম [সা] এর কাছে পরামর্শ চেয়েছিলেন। রাসূল [সা] তাকে বলেছিলেন- 'তুমি মূল জমি ওয়াক্ফ্ফ করবে এবং তার থেকে যত ভাবে লাভবান হওয়া যায় তার অনুমতি প্রদান করবে।'
মাসূর ইবনু রিফায়া, মুহাম্মদ ইবনু কা'ব থেকে বর্ণনা করেছেন ইসলামে প্রথম সাদকা হচ্ছে নবী করীম [সা] কর্তৃক প্রদত্ত সাদকা, যা তিনি ওয়াকফকৃত সম্পদ থেকে আদায় করেছিলেন। আমি এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করেছিলাম, মানুষতো বলে প্রথম সাদকা ছিলো হযরত ওমর [রা] কর্তৃক প্রদত্ত সাদকা। তিনি উত্তর দিলেন, নবী করীম [সা] এর হিজরতের ২২ মাস পর সংঘটিত ওহুদ যুদ্ধে মাখরিক শাহাদাত বরণ করেন। তিনি ওসিয়ত করেছিলেন, আমি যদি মারা যাই তবে নবী করীম [সা] আমার সমস্ত মালামালের অধিকারী হবেন। আল্লাহ্ যেভাবে চাবেন তিনি তা সেভাবে ব্যবহার করবেন।
তখন রাসূলূল্লাহ্ [সা] সেই ওয়াক্ফ সম্পদ দান করে দিয়েছিলেন। সেখানে ৭টি বাগান ছিলো। ওপরে হযরত ওমর [রা] এর ওয়াক্ফ করার যে ঘটনা বলা হয়েছে তা সংঘটিত হয়েছিলো খায়বার থেকে প্রত্যাবর্তনের পর ৭ম হিজরীতে। আর খায়বার বিজয় হয়েছিলো ৬ষ্ঠ হিজরীতে।
জাহেরী বলেছেন, রাসূল [সা] ওহুদ যুদ্ধ থেকে ফিরে এসে মাখরিকের সম্পদ বন্টন করেছিলেন। বনী নাযীর থেকে প্রাপ্ত সম্পদ সদকা করে দিয়েছিলেন। সেই সম্পদের মধ্যে ৭টি বাগিচা ছিলো। সেগুলোর নাম ১. আ'রাফ ২. সাফিয়া ৩. দালাল ৪. মছবত ৫. বারাকা ৬. হুসনা এবং ৭. মাশরাবাহ্ উম্মে ইব্রাহিম।
সপ্তম বাগানের নাম মাশরাবাহ উম্মে ইব্রাহিম সম্ভবত এজন্য রাখা হয়েছিলো যে, ঐ বাগানে সে বসবাস করতো। এ বাগানগুলোর মালিক ছিলো সালাম ইবনু মাশকুম নাযিরী। ওয়াকেদী বলেছেন, এর মধ্যে কোনো মতভেদ নেই যে বাগানগুলোর নাম এ ছাড়া অন্য কিছু ছিলো।
নাসাঈতে কুতায়বা ইবনু সাঈদ হতে এবং তিনি আবুল আখওয়াস হতে, তিনি আবু ইসহাক হতে এবং তিনি আমার ইবনু হারিস [রা] থেকে বর্ণনা করেছেন, নবী করীম [সা] কোনো দিনার বা দিরহাম, অথবা কোনো গোলাম বাঁদী রেখে ইন্তিকাল করেননি। শুধু একটা ডোরাকাটা খচ্চর ছাড়া, যার ওপর তিনি আরোহণ করতেন এবং কিছু হাতিয়ার যা তিনি আল্লাহর রাস্তায় ওয়াক্ফ করে গিয়েছিলেন।
ওয়াক্ফ সম্পর্কে বলা হয়েছে- ওয়াক্ফকৃত বস্তু বেচাকেনা করা যাবে না, হেবা করা যাবে না, এমন কি তা ওয়ারিশদের মধ্যে বন্টন করাও যাবে না। তা হচ্ছে দরিদ্র, নিকটাত্মীয়, ক্রীতদাস মুক্তি, আল্লাহর পথের পথিক ও মুসাফিরের জন্য এবং তার মুতাওয়াল্লীর জন্য। মুতাওয়াল্লীর প্রয়োজন মুতাবিক ব্যয় এবং মেহমানদারীর জন্য ব্যয় করাতে কোনো দোষ নেই। তবে তা যেন মুতাওয়াল্লীর নিজস্ব স্বার্থে মাল বৃদ্ধির উপকরণ না হয়।
টিকাঃ
১. ওয়াক্ত (وقف) এর আভিধানিক অর্থ স্থগিত রাখা বা নির্ধারণ করে দেয়া। ইসলামী পরিভাষায় কোনো বন্ধু ঠিক রেখে তার উপকারিতা জনকল্যাণ মূলক কাজের জন্য নির্দিষ্ট করে দেয়া।-অনুবাদক।
📄 সাদকা, হিবা ও তার সত্ত্বাব
মুয়াত্তা ইমাম মালিকে বর্ণিত আছে- আনসারদের এক গোত্র বনু হারিস ইবনু খাযরাজ এর এক ব্যক্তি নিজের পিতা-মাতাকে কিছু দান করেন। তারপর তারা উভয়ে মৃত্যুবরণ করায় সেই ব্যক্তি তাদের পরিত্যাক্ত সম্পদের ওয়ারিশ হয়। এ ব্যাপারে রাসূল [সা] এর নিকট জিজ্ঞেস করা হলো। [পিতা-মাতাকে দান করা সম্পদ পুনরায় গ্রহণ করা যাবে কিনা? তিনি বললেন, 'তুমি তাদেরকে যে দান করেছিলে তার বিনিময় পাবেই। এখন এগুলো তোমার মিরাসের অংশ বানিয়ে নাও।'
মাসান্নাফ ইবনু আবী শাইবা, 'আকদিয়াতুল রাসূল' শীর্ষক শিরোনামে হযরত জাবির [রা] থেকে বর্ণনা করেছেন, রাসূলুল্লাহ্ [সা] এক আনসার মহিলার ব্যাপারে ফায়সালা করেছেন, যাকে তার ছেলে একটি খেজুর বাগান দান করেছিলো। সে মরে যাবার পর তার ছেলে বললো, 'আমি তাকে সারা জীবন ভোগ করার জন্য দিয়েছিলাম।' তার এক ভাই ছিলো। রাসূলুল্লাহ্ [সা] বললেন, 'সেটা তোমার মা সারা জীবন মালিক ছিলো এবং মৃত্যুর পরও মালিক।' সে বললো 'আমি তো তা তাকে দান করেছিলাম।' তিনি বললেন, 'এটা তোমার (একার) হক নয়।
মুয়াত্তা, বুখারী ও মুসলিমে আছে- হযরত নু'মান ইবনু বশীর [রা] বর্ণনা করেছেন। তাঁর পিতা তাঁকে নিয়ে মহানবী [সা] এর কাছে গিয়ে বললেন, 'আমি আমার এই ছেলেকে আমার একটি গোলাম দান করেছি।' নবী করীম [সা] বললেন, 'তুমি কি তোমার প্রত্যেক ছেলেকে একটি করে গোলাম দান করেছো? 'বশীর [রা] উত্তরে দিলেন, 'না।' তিনি বললেন, 'তুমি এ দান ফেরত নাও। আল্লাহকে ভয় করো এবং নিজের সন্তানদের মধ্যে ইনসাফ করো।'
নু'মানের মা আমরা বিনতে রাওয়াহা বশীর [রা] কে বলেছিলেন, তুমি তোমার এ দানে রাসূলুল্লাহ্ [সা] কে সাক্ষী রাখো। তিনি সারা বৎসর তাকে পটাচ্ছিলেন। অবশেষে বশীর [রা] রাজী হলেন। তখন তার স্ত্রী বললেন, এ ব্যাপারে রাসূল [সা] কে সাক্ষী বানাতে হবে। রাসূলুল্লাহ্ [সা] বললেন, 'আমি জুলুমের কাজে সাক্ষী হতে পারি না। এতো ছোট সন্তানের দোহাই দিয়ে পিতার সম্পদ জমা করার ব্যবস্থা মাত্র। কিন্তু যদি তোমার বড়ো কোনো সন্তান অথবা কাউকে হিবা করো অথবা সাদকা দাও বা দান করে দাও, তবে তা তার আয়ত্বে দিয়ে দিতে হবে।'
যখন সূরা তাকাছুর অবতীর্ণ হলো, তখন নবী করীম [সা] বললেন, 'বান্দাহ্ বলে এ আমার সম্পদ, এ আমার সম্পদ। কিন্তু প্রকৃত পক্ষে সম্পদে তার মাত্র তিনটি অংশ আছে। যা সে খেয়েছে শেষ হয়ে গেছে। যা সে পরছে তাও লুপ্ত হয়ে গেছে। যা আল্লাহর রাস্তায় খরচ করেছে, শুধুমাত্র সেটুকু-ই আল্লাহর নিকট জমা রয়েছে।'
মুসান্নাফ আবদুর রাজ্জাকে তাউস হতে বর্ণিত হয়েছে- এক ব্যক্তি নবী করীম [সা] কে কিছু জিনিস হিবা করে দেয়। তিনি তার বিনিময়ে দাতাকে কিছু দিলেন কিন্তু সে খুশী হলো না, তারপর আরো কিছু দিলেন। বর্ণনাকারী বলেন- আমার মনে হয় তিনি তিনবার এরূপ করলেন। কিন্তু সে এতে সন্তুষ্ট হলো না। তখন নবী করীম (সা) বললেন, 'আমি আর কারো কাছ থেকে কোনো দান গ্রহণ করবো না।'
দালায়েলে ওসীলীতে আছে- এক ব্যক্তি রাসূল [সা] কে একটি দুধেল উটনী হাদিয়া দিলো। তিনি তার বিনিময়ে ছ'টি জওয়ান উট দিলেন কিন্তু সে রাজী হলো না।
বুখারী শরীফে বর্ণিত হয়েছে - যখন মুহাজিরগণ মক্কা থেকে মদীনায় হিজরত করে আসেন তখন তারা ছিলেন একেবারে নিঃস্ব। পক্ষান্তরে আনসারগণ অপেক্ষাকৃত ভালো অবস্থায় ছিলেন এবং তাদের কিছু জমি জমাও ছিলো। আনসারগণ সেই জমি থেকে উৎপন্ন ফসলের অর্ধেক মুহাজিরদের দিতেন।
উম্মে সুলাইম ছিলেন হযরত আনাস ইবনু মালিক [রা] ও আব্দুল্লাহ্ ইবনু আবু তালহার মা। উম্মে সুলাইম [রা] রাসূলূল্লাহ্ [সা] কে খেজুরসহ একটি গাছ হাদিয়া দিয়েছিলেন। রাসূলূল্লাহ্ তাঁর মুক্ত করা বাঁদী উম্মে আয়মানকে 'তা দিয়ে দিয়েছিলেন।
ইবনু শিহাব বলেন, আমাকে হযরত আনাস ইবনু মালিক [রা] বলেছেন, রাসূলুল্লাহ্ [সা] যখন খায়বার বিজয় করে মদীনায় প্রত্যাবর্তন করেন, তখন মুহাজিরগণ আনসারদের দেয়া ফলের অংশ ফেরত দিয়েছিলেন। যা তারা তাদেরকে দিয়েছিলেন। রাসূলূল্লাহ্ [সা] তার পরিবর্তে তাদেরকে বাগান দান করেছিলেন। হাদীসটি মুসলিম শরীফেও আছে। তবে সেখানে অতিরিক্ত আছে- তা ছিলো ঐ ফলের দশগুণ বা প্রায় দশগুণ।
টিকাঃ
১. উম্মে আয়মান ছিলেন আবদুল্লাহ্ ইবনু আবদুল মুত্তালিবের বাঁদী। তিনি ছিলেন হাবশী। নবী করীম [সা] জন্ম গ্রহণের পর যখন তাঁর আম্মা আমিনা ইন্তিকাল করেন তখন উম্মে আয়মান তাঁকে প্রতিপালন করেন। পরবর্তীতে রাসূলুল্লাহ্ তাঁকে আযাদ করে হযরত যায়িদ ইবনু হারেসা [রা] এর সাথে বিয়ে দেন। সেই ঘরে হযরত ওসামা ইবনু যায়িদ জন্ম গ্রহণ করেন। রাসূলুল্লাহ্ [সা] এর ইস্তিকালের পাঁচ মাস পর উম্মে আয়মান ইন্তিকাল করেন। ওয়াকেদী বলেছেন, তার প্রকৃত নাম ছিলো 'বারাকাহ।' -লেখক।
📄 ওমরা [আমৃত্যু মালিকানা]
হযরত জাবির ইবনু আবদুল্লাহ্ (রা) থেকে মুয়াত্তায় বর্ণিত হয়েছে- রাসূলুল্লাহ্ [সা] বলেছেন, 'যদি কোনো ব্যক্তি অথবা তার কোনো সন্তানের জন্য কেউ কিছু তার জীবনকাল পর্যন্ত ভোগ করার জন্য দান করে, তবে আর তা কখনো ঐ ব্যক্তি ফেরত নিতে পারবে না। যাকে দান করা হলো এ বস্তুর মালিক সে এবং তার মৃত্যুর পর তার সন্তানগণ ওয়ারিশ হবে।' মুসলিম শরীফে হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে। তবে সেখানে [!] [কখনো শব্দটি নেই। সহীহ্ সূত্রে লাইস, ইবনু সাহল, আবু সালমা ও জাবির ইবনু আব্দুল্লা [রা] পর্যায়ক্রমে বর্ণনা করেছেন। জাবির [রা] বলেন, 'আমি রাসূলুল্লাহ্ [সা] কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি কোনো ব্যক্তি বা তার সন্তানকে আজীবন ব্যবহারের জন্য কিছু দান করলো সে ঐ বস্তুর ওপর থেকে নিজের কর্তৃত্বকে কর্তন করে ফেললো। তা [দানকৃত বস্তু] ঐ ব্যক্তি ও তার সন্তানের জন্য হয়ে গেলো।'
ইমাম আবু হানিফা [রহ], শাফিঈ [রহ], সুফিয়ান সাওরী [রহ] ও ইমাম আহমদ ইবনু হাম্বল প্রমূখের মতও তাই। তাদের বক্তব্য হচ্ছে ওমরা [জীবন ব্যাপী ভোগের অনুমতি) হিবার মতো। কিন্তু ইমাম মালিক কিছুটা ভিন্ন মত পোষণ করেছেন। তার মতে কোনো এক পর্যায়ে গিয়ে যদি দান গ্রহণকারী ব্যক্তির বংশধারা শেষ হয়ে যায়, তবে ঐ দানকৃত বস্তু দাতার বংশধরের নিকট ফেরত আসবে।
📄 সন্ধান এড়াতে অদৃশ্য অবয়ব সম্পর্কে
মুয়াত্তা, বুখারী ও মুসলিমে হযরত আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত। উতবা ইবনু আবু ওয়াক্কাস তার ভাই সা'দ ইবনু আবু ওয়াক্কাসকে ওসিয়ত করেছিলো, জামাআ'র দাসীর পুত্র আমার ঔরশজাত। কাজেই তুমি তাকে এনে তোমার কাছে রাখবে। যখন মক্কা বিজয় হলো' তখন সা'দ তাকে ধরে আনলেন এবং বললেন, 'তুমি আমার ভাতিজা।' এদিকে আবদ ইবনে জামআ' বলতে লাগলেন, 'সে তো আমার ভাই। কেননা সে আমার পিতার দাসীর গর্ভজাত সন্তান।' উভয়ে রাসূলুল্লাহ্ [সা] এর কাছে মোকদ্দমা দায়ের করলো। রাসূলুল্লাহ্ [সা] বললেন, 'বিছানা যার সন্তান তার। ব্যভিচারীর জন্য পাথর।' তারপর উম্মুল মু'মিনীন হযরত সাওদা বিনতে জামাআ' কে বলে দিলেন, 'তুমি তার থেকে পর্দা করবে। কেননা আমি তাকে উতবা ইবনু আবু ওয়াক্কাসের সাথে সাদৃশ্য দেখতে পাচ্ছি।' এরপর থেকে হযরত সাওদা [রা] আমরন তার সাথে দেখা দেননি।
এ হাদীস থেকে একটি মাসয়ালা জানা যায়, কাফিরদের ওসিয়তের ওপর আমল করা যাবে। কেননা উতবা ওসিয়ত করে কাফির অবস্থায় মারা যায়। আর সে উহুদের যুদ্ধে নবী করীম [সা] এর দান্দান মুবারক শহীদ করে। পরে রাসূল [সা] এর বদ দু'আয় ঐ বৎসরের শেষ দিকেই সে মৃত্যু বরণ করে। দ্বিতীয় আরেকটি মাসায়ালা জানা যায়, ভাই দাবী করায় বিতর্কের অবকাশ আছে কিন্তু সন্তান দাবী করায় বিতর্কের অবকাশ নেই।