📄 সাক্ষ্য
রাসূলুল্লাহ্ [সা] এর কাছে কোনো মামলা দায়ের করা হলে তিনি সাক্ষ্য প্রমাণ না পেলে বিবাদীর কাছ থেকে শপথ গ্রহণ করতেন। আর যদি কোনো ব্যাপারে দু'জন দাবীদার হতো এবং উভয়েই তাদের দাবীর পক্ষে সাক্ষ্য পেশ করতো তাহলে তিনি তাদের থেকে শপথ গ্রহণ করতেন। মুসলিম কিংবা অমুসলিম সবার জন্যই এ আইন প্রযোজ্য ছিলো।
মুয়াত্তা, বুখারী ও মুসলিম শরীফে বর্ণিত হয়েছে- নবী করীম (সা) বলেছেন, 'আমি তো একজন মানুষ। দু'জন ঝগড়াকারী এসে আমার কাছে অভিযোগ করলে, যে অপেক্ষাকৃত বেশী বাকপটু আমি তার দিকে রায় দিতে পারি। এই মনে করে যে, সে সত্য বলেছে। সাবধান! তোমাদের কেউ যেন এরূপ না করে। এরূপ করলে এবং আমি তার পক্ষে রায় দিলে, সে যেন আগুনের টুকরো নিয়ে গেলো।' বুখারীর অন্য বর্ণনায় আছে, 'যাকে আমি [ভুল বুঝে] মুসলমানের সম্পদের মালিক বানিয়ে দেবো, তা আগুনের একটি টুকরা মাত্র। ইচ্ছে করলে সে নিতে পারে অথবা ত্যাগ করতে পারে।'
আবু দাউদে হযরত আলী [রা] হতে বর্ণিত। তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ [সা] আমাকে ইয়েমেনে পাঠিয়েছিলেন। তখন আমি তাঁকে বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আপনি আমাকে [দায়িত্ব দিয়ে] ইয়েমেন পাঠাচ্ছেন অথচ আমার বয়সতো কম, বিচার ফায়সালা করার মতো কোনো জ্ঞান বা যোগ্যতা আমার নেই। তিনি বললেন, 'আল্লাহ্পাক তোমার অন্তরকে হিদায়াত দেবেন এবং তোমার জবানকে দৃঢ় রাখবেন। যখন বাদী বিবাদী তোমার সামনে এসে উপস্থিত হবে তখন একজনের বক্তব্য শুনেই রায় দেবে না বরং দু'জনের বক্তব্য শুনবে। এতে ফায়সালার দিগন্ত তোমার সামনে উদ্ভাসিত হয়ে উঠবে।' হযরত আলী [রা] বলেন, এরপর আমি সেখানে বিচার ফায়সালা করতে গেলাম কিন্তু কোনো বিচারের রায় দিতে গিয়ে আমি কখনো সন্দেহে পড়িনি।
বুখারী শরীফে হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনু মাসউদ [রা] থেকে বর্ণিত 'যে নিজের পক্ষে রায় নেবার জন্য মিথ্যা শপথ করবে, সে আল্লাহর দরবারে এমন ভাবে হাজির হবে, আল্লাহ্ তার ওপর অত্যন্ত রাগান্বিত থাকবেন।' আশআছ [রা] থেকে বর্ণিত হাজরামী ও কিন্দী নামে দু'লোক একবার নবী করীম [সা] এর কাছে ইয়েমেনের এক জমির ব্যাপারে মামলা দায়ের করে।
হাজরামী বললো, 'আমার জমি তার পিতা জোর করে দখল করেছে।' কিন্দী বললো, 'এ জমি আমি আমার পিতার কাছ থেকে ওয়ারিশ সূত্রে পেয়েছি।' রাসূল [সা] হাজরামীকে ডেকে বললেন, 'তোমার কথার সপক্ষে তোমার কাছে কোনো সাক্ষী আছে কি?' সে বললো, 'নেই'। কিন্তু সে আল্লাহর শপথ করে বললো, 'এটা যে আমার জমি এবং তার পিতা জোর করে দখল করেছে একথা সে জানেনা।' কিন্দী শপথ করার জন্য তৈরী হয়েছে, এমন সময় রাসূলুল্লাহ [সা] বললেন, 'যে ব্যক্তি শপথের মাধ্যমে অন্যের সম্পদ আত্মসাৎ করবে সে এমন অবস্থায় আল্লাহর নিকট হাজির হবে, আল্লাহ্ তার ওপর অত্যন্ত রাগান্বিত থাকবেন।' অতঃপর কিন্দী সে জমির দখল ছেড়ে দিলো।
মুসান্নাফ আবদুর রাজ্জাকে এবং মদুওনায় বর্ণিত আছে- একবার দু'ব্যক্তি কোনো এক জমি নিয়ে ঝগড়া করে এবং নবী করীম (সা) এর কাছে মামলা দায়ের করে। তিনি তাদেরকে শপথ করালেন। উভয়ের শপথ সমান সমান হলো। তখন তিনি জমিখন্ড উভয়ের মধ্যে সমানভাবে ভাগ করে দিলেন।
বুখারী শরীফে হযরত আবু হুরাইরা [রা] হতে বর্ণিত- নবী করীম (সা) একদল লোকের শপথ গ্রহণ করতে চাইলেন। তারা তাড়াতাড়ি তৈরী হয়ে গেলো। তখন তিনি লটারীর মাধ্যমে নির্বাচিত করে শপথ গ্রহণ করলেন। অন্য হাদীসে আছে- [যা মুসলিম ও অন্যান্য মুহাদ্দিসগণ সহীহ্ সনদে বর্ণনা করেছেন। রাসূল [সা] সাক্ষ্য এবং শপথের মাধ্যমে বিচার ফায়সালা করেছেন। কাজী ইবনু জরব বর্ণনা করেছেন, এক বেদুইন নবী করীম [সা] এর সাথে একটি ঘোড়া বেচাকেনা করলো। পরে সে তার চুক্তি লংঘন করলো এবং বললো, আমি কি কারো সামনে আপনার সাথে চুক্তি করেছি? রাসূল [সা] তার সাথে কোনো কঠোর আচরণ করেননি এবং তাকে নির্যাতনও করেননি।
📄 শপথ
আবু দাউদে বর্ণিত হয়েছে- নবী করীম [সা] হযরত ইবনু আব্বাস [রা] কে এক ব্যক্তির শপথ গ্রহণ করার জন্য পাঠান। তিনি গিয়ে বললেন, 'তুমি শপথ করবে, আল্লাহ্ ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই এবং বাদীর কোনো মাল তোমার নিকট নেই।' ইমাম মালিক ইবনু আনাস [রা] ইমাম আবু হানিফা [রহ] ও তার শাগরেদগণ উপরোক্ত মতের অনুসারী।
অন্য দলের মতে- তাকে শুধুমাত্র আল্লাহর শপথ করানোই যথেষ্ট হবে। যেমন লি'আনের শপথ করানো হয়। নবী করীম [সা] থেকে বর্ণিত হয়েছে, যে শপথ করবে সে যেন আল্লাহর নামে শপথ করে অথবা চুপ থাকে। এভাবে হযরত ওসমান [রা], ইবনু ওমরের [রা] এর ক্রিতদাস সংক্রান্ত মামলার রায় পেশ করেন। ঘটনাটি হচ্ছে- ইবনু ওমর [রা] এক ব্যক্তির কাছে একটি গোলাম বিক্রি করেন। পরে উক্ত খরিদ্দার অভিযোগ করে যে, আমার নিকট রোগাক্রান্ত দাস বিক্রি করা হয়েছে অথচ আমাকে তা জানানো হয়নি। তখন হযরত ওসমান [রা], ইবনু ওমর [রা] কে এই মর্মে শপথ গ্রহণ করান যে, আল্লাহর কসম! আমি যখন দাস বিক্রি করি তখন সে আমার জানা মতে রোগাক্রান্ত ছিলো না। ক্রেতা শপথ করতে অস্বীকার করলো। তখন তিনি দাস ফেরত নিয়ে গেলেন। সেই দাস পরবর্তীতে আগের চেয়ে অনেক বেশী দামে বিক্রি করা হয়েছিলো।
মুসলিম শরীফে হযরত বারা ইবনু আযিব [রা] হতে বর্ণিত- একবার রাসূলুল্লাহ্ [সা] এমন এক ইহুদীর কাছ দিয়ে যাচ্ছিলেন, যার মুখে চুনকালি লাগানো হয়েছিলো এবং তাকে বেত্রাঘাত করা হচ্ছিলো। তিনি অন্যান্য ইহুদীদেরকে ডেকে জিজ্ঞেস করলেন- 'তোমরা কি তোমাদের কিতাবে যিনার শাস্তি এরূপই পেয়েছো?' তারা বললো, 'হ্যাঁ'। তখন তিনি তাদের আলিমদের মধ্যে এক আলিমকে আহবান করলেন। তারপর তাকে লক্ষ্য করে বললেন, 'তোমাকে ঐ আল্লাহর কসম দিচ্ছি যিনি মূসা [রা] এর ওপর তওরাত অবতীর্ণ করেছেন। এবার বলো, 'তোমরা কি তোমাদের কিতাবে যিনার শাস্তি এরূপই পেয়েছো?' সে বললো, 'যদি আমাকে আপনি শপথ না করাতেন তবে আমি একথা আপনাকে বলতাম না। যিনার শাস্তি হচ্ছে-পাথর নিক্ষেপে মৃত্যুদন্ড।'
আবু দাউদ শরীফে যথাক্রমে মুহাম্মদ ইবনু আবুল আ'লা, সাঈদ ইবনু আবু আরুবা, কাতাদা এবং তিনি ইকরামা হতে বর্ণনা করেছেন, রাসূলুল্লাহ [সা] ইবনু সুরাইয়াকে বলেছিলেন, 'তোমাকে মহাপরাক্রমশালী আল্লাহর কসম দিচ্ছি। যিনি তোমাদেরকে [ফিরআউনের সাঙ্গপাঙ্গদের হাত থেকে] নাজাত দিয়েছেন, নদীর মধ্যে রাস্তা করে দিয়েছিলেন, মেঘ দিয়ে ছায়া দিয়েছেন, মান্না সালওয়া নাযিল করেছেন এবং মূসা [আ] এর ওপর তওরাত অবতীর্ণ করেছেন। তোমরা কি তোমাদের কিতাবে যিনার শাস্তি পাথর নিক্ষেপে হত্যার কথা পাওনি?' তখন সে বললো, 'আপনি আমাকে এমন এক সত্তার কসম দিয়েছেন, আমি আর মিথ্যে বলতে চাইনা।'
শপথের ব্যাপারে ইমাম মালিক ও তাঁর অনুসারীদের মত হচ্ছে, তাকে আল্লাহর শপথ করাতে হবে। এই বলে যে, 'আমি সেই আল্লাহর শপথ করছি যিনি ছাড়া আর কোনো ইলাহ্ নেই।' তারপর সে যার সম্মান করে তার কথা সংযুক্ত করতে হবে। ইমাম শাফিঈ ও ইমাম আবু হানিফা [রা] বলেন, শপথের সময় ইহুদীরা বলবে, আমি ঐ আল্লাহর নামে শপথ করছি যিনি মুসা [আ] এর ওপর তওরাত অবতীর্ণ করেছেন।' খৃষ্টানরা বলবে, 'আমি ঐ আল্লাহর নামে শপথ করছি যিনি ঈসা [আ] এর ওপর ইঞ্জিল কিতাব অবতীর্ণ করেছেন।' অগ্নি পূজকগণ বলবে, 'আমি ঐ আল্লাহর নামে শপথ করছি যিনি আগুন সৃষ্টি করেছেন।'
📄 অনাবাদী জমি আবাদ করা
বুখারী, আবুদাউদ ও অন্যান্য প্রামাণ্য হাদীসে আছে- রাসূলুল্লাহ [সা] বলেছেন, 'যে ব্যক্তি পরিত্যাক্ত, মালিকহীন অনাবাদী জমি আবাদ করবে ঐ জমির মালিক সেই হবে। আর জোর জবরদস্তি করে [অপরের জায়গায় গাছ লাগালে ঐ গাছের মালিক সে নয়।'
আবু উবায়েদের কিতাবে বর্ণিত হয়েছে, এক সাহাবী বর্ণনা করেছেন, আমি নবী করীম [সা] কে বনী বায়াজাহ্ গোত্রের দু'টো মামলার রায় প্রদান করতে দেখেছি। তার একটি হচ্ছে জমি নিয়ে এবং অপরটি গাছ সংক্রান্ত। জমির ব্যাপারে তিনি একজনের পক্ষে রায় দিলেন। আর গাছের ব্যাপারে রায় দিলেন, 'যে ব্যক্তি অপরের জায়গায় গাছ লাগিয়েছে সে তার গাছ কেটে নেবে।' আমি দেখলাম সে একটি কুঠার দিয়ে তার গাছ কেটে নেলো। তা ছিলো সাধারণ একটি খেজুর গাছ।
মুয়াত্তায় আছে- নবী করীম [সা] মাহরুজ ও মুযাইনিব'এর পানির ব্যাপারে বলেছেন, 'পায়ের গোড়ালির গিট পর্যন্ত পানি আটকে রাখা যাবে। পরে তা নিম্নভূমির দিকে ছেড়ে দিতে হবে।'
বুখারী শরীফে হযরত উরওয়া ইবনু যুবাইর [রা] হতে বর্ণিত আছে- এক আনসারীর জমি সংলগ্ন হযরত যুবাইর [রা] এর এক জমি ছিলো। একদিন নালার পানি নিয়ে আনসারের সাথে যুাবাইর [রা] এর ঝগড়া বাঁধে। তখন রাসূল [সা] বললেন, 'হে যুবাইর! আগে তুমি তোমার জমিতে পানি সেচ দেবে তারপর তুমি তোমার প্রতিবেশীর জমির দিকে পানি ছেড়ে দেবে।' আনসারী বললো, 'ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আপনি কি এ ফায়সালা এজন্য দিলেন যে, যুবাইর আপনার ফুফাতো ভাই?' একথা শুনে নবী করীম (সা) এর চেহারা মুবারক রক্তিম বর্ণ ধারণ করলো। বললেন, 'যুবাইর! তুমি বাঁধ দিয়ে তোমার জমির জন্য পানি আটকে রাখবে। যদি পানি উপচে পড়ে তবে তাই পাবে তোমার প্রতিবেশী।' যুবাইর [রা] বলেন, আমার মনে হয় নিম্নোক্ত আয়াতটি এ ঘটনাক্রমেই অবতীর্ণ হয়। ইরশাদ হচ্ছে-
فَلَا وَرَبِّكَ لَا يُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لَا يَجِدُوا فِي أَنْفُسِهِمْ حَرَجًا مِمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا تَسْلِيمًا (0)
না, (হে নবী) রবের কসম! এরা কিছুতেই ঈমানদার হতে পারে না, যতক্ষণ না তারা তাদের পারস্পরিক মতভেদের বিষয়ে তোমাকে বিচারপতি মেনে না নেয়। তারপর তুমি যা রায় দেবে সে সম্পর্কে তারা নিজেদের মনে কিছুমাত্র কুণ্ঠাবোধ করবে না বরং তার সামনে নিজেদেরকে পরিপূর্ণ ভাবে সোপর্দ করে দেবে। (সূরা আন নিসা-৬৫)
মুয়াত্তায় ইমাম মালিক বর্ণনা করেছেন- বারা' ইবনু আযিব [রা] এর এক উটনী এক ব্যক্তির বাগানে প্রবেশ করে এবং কিছু ক্ষতি করে। রাসূলূল্লাহ্ [সা] ফায়সালা দিলেন, 'দিনের বেলা বাগান হিফাজতের দায়িত্ব মালিকের এবং রাতের বেলা পশুর হিফাজতের দায়িত্ব ঐ পশুর মালিকের।'
দালায়েল নামক গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে, একবার নবী করীম [সা] তাঁর কোনো এক স্ত্রীর ঘরে অবস্থান করছিলেন। এমন সময় অন্য এক স্ত্রী তার খাদেমের হাতে এক পেয়ালা খাদ্য পাঠালেন। হযরত আয়িশা [রা] হাত দিয়ে আঘাত করলে তা পড়ে ভেঙ্গে যায়। রাসূল [সা] পেয়ালার ভাঙ্গা টুকরোগুলো জোড়া দিয়ে দিলেন এবং বললেন, 'তোমার মায়ের সর্বনাশ হোক।' আবু দাউদে আছে- আয়িশা [রা] এর পালার দিন হযরত উম্মে সালমা এক পেয়ালা খানা রাসূলুল্লাহ্ [সা] এবং তাঁর সাহাবাদের নিকট হাদিয়া পাঠান। নবী করীম [সা] তখন আয়িশা [রা] এর ঘরে ছিলেন। দেখে আয়িশা [রা] চাদর দিয়ে আঘাত করেন এবং হাতে ঠেলা দিয়ে পেয়ালাটি ভেঙ্গে দু'টুকরো করে ফেলেন। তখন রাসূলুল্লাহ্ [সা] তা কুড়িয়ে এনে জোড়া দিয়ে তার ওপর খাদ্য রাখলেন। তারপর বললেন, তোমার মায়ের ক্ষতি হোক। তখন আয়িশা [রা] একটি ভালো পেয়ালা উম্মে সালমা [রা] এর ঘরে পাঠিয়ে দেন এবং ভাঙ্গা পেয়ালাটি আয়িশা [রা] এর ঘরে রেখে দেন।
আবু দাউদে বর্ণিত হয়েছে, হযরত আয়িশা [রা] বলেছেন, 'আমি সাফিয়ার চেয়ে ভালো খানা পাক করতে আর কাউকে দেখিনি। সে রাসূলুল্লাহ্ (সা) এর জন্য খানা পাক করে একদিন পাঠিয়ে দিলো। এতে আমার কাছে খারাপ লাগায় আমি থালা ভেঙ্গে ফেলি। পরে আমি (অনুতপ্ত হয়ে) বললাম, 'ইয়া রাসূলাল্লাহ্! এর কাফ্ফারা কি? তিনি বললেন, 'এর কাফ্ফারা হচ্ছে থালার বদলে থালা এবং খানার বদলে খানা।'
টিকাঃ
১. * এ গুলো মদীনার উপত্যকা সমূহের মধ্যে দুটো উপত্যকার নাম।
📄 'শুফআ'
মুয়াত্তা ও অন্যান্য গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে নবী করীম [সা] ঐ সমস্ত জমিতে শুফআ'র বিধান দিয়েছেন যা এখনো অংশীদারদের মধ্যে বন্টন করা হয়নি। কিন্তু যখন শরিকানা জমির সীমা নির্ধারিত হয় এবং পথের গতি [আপন আপন দিকে] ফিরিয়ে নেয়া হয়, তখন শুফআ' [এর অধিকার থাকে না। শুফআ'র জমি চাই আবাদী, অনাবাদি কিংবা খেজুর বাগান যাই হোক না কেন। সর্বাবস্থায় শুফআ'র বিধান প্রয়োগ করা যাবে।
আবু উবাইদ বর্ণনা করেছেন, রাসূলুল্লাহ্ [সা] ফায়সালা দিয়ে গিয়েছেন, ঘরের সামনের জায়গা, রাস্তা, দু'ঘরের মাঝের রাস্তা, ঘরের যে কোনো পাশের জায়গা এবং বৃষ্টির পানি প্রবাহিত হওয়ার জায়গায় শুফআ' নেই।
শুফআ' সংক্রান্ত উপরোক্ত হাদীসের তাৎপর্য হচ্ছে উল্লেখিত পাঁচটি জায়গায় যদি কেউ অংশীদার থাকে এবং ঘরের কোনো অংশীদার না থাকে, তবু সেখানে শুফআ'র অবকাশ নেই। এটা হচ্ছে, মদীনাবাসী উলামাদের মত। পক্ষান্তরে ইরাকী উলামাগণের মতে- ঐ পাঁচ জায়গায় যদি কেউ অংশীদার না থাকে তবে তার নিকটতম প্রতিবেশীর হক আছে।
আবু উবায়েদের গ্রন্থে আছে- নবী করীম [সা] শুফ'আর ব্যাপারে প্রতিবেশীর হকের স্বীকৃতি দিয়েছেন এবং একথা নবী করীম [সা] দু'বার বলেছেন, 'নিকটত্বের কারণে প্রতিবেশী অধিকতর হকদার।' নাসাঈতে আছে- এক ব্যক্তি বললো, 'ইয়া রাসূলাল্লাহ্! এটা আমার জমি। যার মধ্যে কোনো শরীক বা কারো কোনো অংশ নেই। তবে পাশের জমি অন্য জনের।' তিনি বললেন, প্রতিবেশী নিকটত্বের কারণে অধিক হকদার।
মুসলিম শরীফে আছে- রাসূলুল্লাহ্ [সা] প্রত্যেক শরিকি জমি যা বন্টন করা হয়নি, এমন জমির ব্যাপারে শুফআ'র ফায়সালা দিয়েছেন। জায়গা, বাগান অথবা যাই হোক না কেন তা প্রতিবেশীকে না জানিয়ে বিক্রি করা বৈধ নয়। আগে প্রতিবেশীকে জানাতে হবে। যদি সে চায় রাখবে, না হয় অন্যত্র বিক্রির জন্য ছাড় দেবে।
টিকাঃ
১. শুফআ'র আভিধানিক অর্থ হচ্ছে মিলানো বা সংযোজন করা। পরিভাষিক অর্থে- অপরের ক্রীত সম্পত্তি নির্দিষ্ট মূল্য পরিশোধ করে নিজের সম্পত্তির সাথে মিলিয়ে নেয়া। অথবা পৃথক হতে না দেয়াকে শুফআ' বলা হয়। -অনুবাদক।