📄 চোরাই মাল
দালায়েলে ওসীলীতে ইকরামা ইবনু খালিদ হযরত উমাইদ ইবনু হুযাইর থেকে বর্ণনা করেছেন, আমীর মুয়াবিয়া মারওয়ানের নিকট লিখে পাঠিয়েছিলেন- যদি কোনো ব্যক্তির মাল চুরি হয় এবং সে তা অবিকৃত অবস্থায় পায় তবে ঐ ব্যক্তি তার অধিকতর হকদার। তা যেখানেই পাওয়া যাক না কেন। তখন মারওয়ান আমার কাছে লিখলো। আমি সে সময় ইয়ামামার প্রশাসকের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলাম। আমি তাকে লিখে জানালাম, নবী করীম [সা] নির্দেশ দিয়েছেন- 'যখন চুরির মাল সেই ব্যক্তির কাছে পাওয়া যাবে যে অন্য কোনো উপায়ে তার মালিক হয়েছে, তখন মালিক সেই জিনিসের মূল্য দিয়ে তার থেকে মাল ফেরত নেবে অথবা তার মালের চোরকে সন্ধান করবে।' হযরত আবু বকর [রা], ওমর [রা] এবং হযরত ওসমান [রা]ও এ রায়কেই কার্যকর করেছেন। মারওয়ান আমার পত্রটি মুয়াবিয়া (রা) এর কাছে পাঠিয়ে দেন, পত্র পেয়ে তিনি মারওয়ানকে লিখে পাঠান, তুমি এবং ইবনু হুযাইর আমার পাঠানো নির্দেশের বাইরে কোনো ফায়সালা করতে পারবে না বরং আমি তোমাদের [পাঠানো মতের] বিপরীতে ফায়সালা করবো। কাজেই আমি যে নির্দেশ পাঠিয়েছি তার ওপর আমল করবে। তখন মারওয়ান তা আমার নিকট পাঠিয়ে দিলে আমি বললাম, যতোক্ষণ আমার ইচ্ছে শক্তি আছে ততোক্ষণ আমি ঐ নির্দেশ মানবো না।
নিশাপুরী বলেছেন, ফকীহদের মধ্যে কেউ এ হাদীসের প্রবক্তা বলে আমার জানা নেই। একমাত্র ইসহাক ছাড়া। ইমাম আহম্মদ ইবনু হাম্বলকে এ হাদীস সম্পর্কে জিজ্ঞেস করায় তিনি বললেন, আমি তা মানিনা। এ ব্যাপারে ফিকাহবিদদের মধ্যে ইখাতিলাফ আছে। আমি ঐ হাদীসের অনুসরণ করি যা হাশিম যথাক্রমে মুসা ইবনু সায়িব, কাতাদা, হাসান, সামুরা, নবী করীম [সা] থেকে বর্ণনা করেছেন। রাসূলাল্লাহ্ [সা] বলেছেন- 'যে নিজের মাল অন্য কোনো ব্যক্তির নিকট পাবে সে ঐ মালের অধিকতর হকদার।'
📄 আমদানী বা উৎপাদনে ঘাটতি দেখা দিলে
বুখারী, মুসলিম ও নাসাঈতে বর্ণিত হয়েছে, নবী করীম [সা] বলেছেন, 'ভালো কথা বলো, যদি আল্লাহ্ ফলন বন্ধ করে দেন তবে তোমরা আরেক ভাইয়ের মাল কিভাবে নেবে?' অন্য হাদীসে আছে- 'কেউ তার ভাইয়ের মাল কিসের বিনিময়ে বৈধ করবে?' এ হাদীসটি ইমাম মালিক মুয়াত্তায় মারফু সনদে রিওয়ায়াত করেছেন। তাছাড়া দালায়েলেও এটা বর্ণিত আছে।
মুসলিম শরীফে হযরত জাবির (রা) হতে বর্ণিত- নবী করীম [সা] প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ক্ষতি হলে তা পূরণ করতে নির্দেশ দিয়েছেন। ইমাম মালিক বলেছেন, যদি তা এক তৃতীয়াংশ পর্যন্ত পৌছে তবে ক্ষতিপূরণ করতে হবে। তিনি এ হাদীসকে দলিল হিসেবে পেশ করেন। ইমাম শাফিঈর এক বর্ণনায় এবং ইমাম আবু হানিফা [রহ], লাইছ ও সুফিয়ান সাওরী [রহ] বলেছেন, যে ফল ক্রয় করবে, যদি তা পরিপক্ক হওয়ার পর প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্থ হয়, তার কোনো ক্ষতিপূরণ নেই। যদি সে ক্ষতি কৃত্রিমভাবে হয় তবু।
তাদের দলিল হচ্ছে নিম্নোক্ত হাদীসটি। নবী করীম [সা] এর যুগে মুয়ায ইবনু জাবাল [রা] ফল কিনে ক্ষতিগ্রস্থ হন এবং তার ঋণের পরিমাণ বেড়ে যায়, তখন নবী করীম [সা] তাকে সাহায্য করার ব্যাপারে লোকদের আহবান জানান। লোকেরা তাকে সাহায্য করলো বটে কিন্তু তা ঋণ পরিশোধ করার মতো যথেষ্ট হলো না। তখন রাসূলুল্লাহ্ [সা] তাঁর পাওনাদারকে বললেন- 'যা পাচ্ছো তা নাও এর বেশী তোমাকে দেয়া যাবে না।'
মুয়ায [রা] এর এ ঘটনাটি ঘটেছিলো হিজরী নবম সনে। নবী করীম [সা] তাঁকে সাহায্যের জন্য আবেদন করায়, সাতভাগের পাঁচ ভাগ পরিমাণ পাওয়া গেলো। তখন তিনি বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাকে তা বিক্রি করে দেন। রাসূল [সা] বললেন- 'এ গুলো বাদ দাও।' অতঃপর তিনি তাঁকে ইয়েমেনে পাঠান এবং বলেন, 'সম্ভবত আল্লাহ্ তোমাকে ধনী বানিয়ে দেবেন।' তিনি নবী করীম [সা] এর সাথে তাবুক যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেন। নবী করীম [সা] এর ইন্তিকালের পর হযরত আবু বকর [রা] এর খিলাফতকালে তিনি দেশে প্রত্যাবর্তন করেন, তখন তাঁর সাথে বিরাট এক পাল ছাগল এবং অনেক দাস-দাসী ছিলো। হযরত ওমর [রা] তাঁকে দেখে জিজ্ঞেস করলেন, খবর কি? তিনি উত্তর দিলেন, এগুলো লোকজন আমাকে হাদিয়া দিয়েছে। ওমর [রা] বললেন, কেন তোমাকে লোকজন এগুলো হাদিয়া দিয়েছে? তিনি বললেন, এগুলো লোকেরা আমাকে এমনিই হাদিয়া দিয়েছে। ওমর [রা] বললেন, তুমি এ কথাগুলো হযরত আবু বকর [রা] এর কাছে গিয়ে বলো। মুয়ায [রা] বললেন, আমি একথা আবুবকর [রা] এর কাছে বলবোনা। সেই রাতে মুয়ায [রা] স্বপ্ন দেখলেন, তিনি জাহান্নামের কিনারায় পৌঁছে গেছেন। হযরত ওমর [রা] তাঁকে পেছন থেকে কোমড় ধরে টানাটানি করছেন, যেন মুয়ায [রা] আগুনে না পড়ে যান। এ স্বপ্ন দেখে তিনি কাঁপতে কাঁপতে বিছানায় বসে পড়লেন। তারপর তিনি আবু বকরের কাছে গিয়ে হযরত ওমর [রা] এর পরামর্শ অনুযায়ী সব কথা খুলে বললেন। তখন আবুবকর [রা] তাঁর সমস্ত সম্পদকে বৈধ সম্পদ বলে ঘোষণা দিলেন এবং বললেন, আমি নবী করীম [সা] কে বলতে শুনেছি, 'সম্ভবত আল্লাহ্ তোমাকে ধনী বানিয়ে দেবেন।' হযরত মুয়ায [রা] তাঁর আগের ঋণ দাতাদের অবশিষ্ট পাওনা মিটিয়ে দিলেন। [তাবারী]
বুখারীতে হযরত যায়িদ ইবনু সাবিত [রা] হতে বর্ণিত - লোকজন নবী করীম [সা] এর সময়ে গাছে থাকাবস্থায় অপরিপক্ক ফল বেচাকেনা করতো। যখন তা পরিপক্ক হতো তখন ক্রেতা বলতো, ফলে লোকসান হয়েছে, রোগের আক্রমণ হয়েছে, কাঁচা ফল ঝরে গেছে, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ইত্যাদি। এটিকে তারা বাহানা বানিয়ে নিলো। আর নবী করীম [সা] এর নিকট এ সংক্রান্ত অধিক সংখ্যক মামলা দায়ের হতে লাগলো। তখন তিনি ঘোষণা করলেন- 'ফল পরিপক্ক হওয়ার আগে তা বেচা কেনা করা যাবে না।'
📄 ক্রয় বিক্রয়ে ধোঁকা দেয়া
মুয়াত্তা, বুখারী ও মুসলিমে বর্ণিত আছে, একলোক নবী করীম [সা] কে বললো, আমি বেচাকেনা করতে গেলে প্রতারণার শিকার হই। তখন নবী করীম [সা] বললেন, 'তুমি যখন কারো সাথে বেচাকেনা করবে, তখন বলে দেবে এতে যেন কোনো প্রতারণা না হয়।' এরপর সে কোনো কিছু বেচাকেনা করতে গেলেই বলতো- এতে যেন কোনো ধোঁকা না থাকে। উক্ত ব্যক্তির নাম ছিলো হিব্বান ইবনু মুনকাজ [রা]। মদুওনায় হযরত ওমর ইবনু খাত্তাব (রা) থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেছেন, তোমাদের বেচাকেনার বেলায় ঐ শর্তই প্রযোজ্য যা নবী করীম [সা] হিব্বান ইবনু মুনকাজকে বলেছিলেন। শর্তটি হচ্ছে বিক্রিত মাল ফেরত দেবার অবকাশ তিন দিন। এ কথার উপর ভিত্তি করে হযরত আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়ের ফায়সালা করেছেন। আবু দাউদে উতবা ইবনু আহমার হতেও অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে। তবে সেখানে আরো আছে, 'গোলাম খরিদের ব্যাপারেও অবকাশ তিন দিন।'
বুখারীতে হযরত ইবনু খালিদ [রা] বর্ণনা করেছেন, আমার জন্য নবী করীম [সা] এই লিখে দিয়েছিলেন, সে ঐ ব্যক্তি যার জন্য মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ্ স্বয়ং খরচ করেছেন। বেচাকেনার সময় কোনো মুসলমান কোনো মুসলমানের কাছে কিছু গোপন করবে না। তাছাড়া কোনো গোপনীয়তা বা গায়েলাও নেই। কাতাদা [রহ] বলেছেন, গায়লা বলা হয় যিনা, চুরি এবং কোনো কথাকে পৃথক করা।
কিতাবুল ফাওয়ায়েদে বর্ণিত আছে- ইবনু খালিদ নবী করীম [সা] এর কাছে থেকে এক গোলাম ক্রয় করেছিলেন। তখন নবী করীম [সা] তাকে লিখে দিয়েছিলেন, মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ্ [সা] এর নিকট থেকে সে গোলাম খরিদ করেছে।
বুখারী শরীফে আছে- রাসূলুল্লাহ্ [সা] এক ইহুদীর কাছ থেকে লৌহবর্ম বন্ধক রেখে কিছু খাদ্য কিনেছিলেন। ইমাম বুখারী এ হাদীসটি তিনটি অধ্যায়ের শিরোনাম বানিয়েছেন। তার একটি হচ্ছে- 'নবী করীম (সা) কর্তৃক ধারে জিনিস কেনা প্রসঙ্গে।' অন্যটি 'জামানত সম্পর্কে' এবং সর্বশেষ শিরোনাম হচ্ছে- 'রেহেন বা বন্ধক প্রসঙ্গে।' বুখারীর অন্য বর্ণনায় হযরত আয়িশা [রা] থেকে বর্ণিত হাদীসে আছে- নবী করীম (সা) এমন (নিঃস্ব) অবস্থায় ইস্তিকাল করেছেন, যখন তার লৌহবর্মটি মাত্র তিন সা' যবের বিনিময়ে এক ইহুদীর কাছে বন্ধক ছিলো।
মদুওনায় হযরত যায়িদ ইবনু আসলাম [রা] হতে বর্ণিত হাদীসে বলা হয়েছে, এক ব্যক্তি নবী করীম [সা] এর কাছে এসে পাওনার জন্য তাগাদা করলো। এমনকি কিছু তপ্ত বাক্য বিনিময়ও হলো। যারা এ ঘটনা দেখলেন, তারা তাকে শাসাতে লাগলেন। তখন নবী করীম (সা) বললেন, 'তাকে কিছু বলো না, কেননা সে তার অধিকারের ব্যপারে বলবেই।' তারপর তাকে বললেন, 'অমুক ইহুদীর নিকট যাও, সে আমার হয়ে তোমাকে কিছু দিয়ে দেবে, পরে আমার কাছে কোনো মাল এলে আমি তা পরিশোধ করে দেবো।' কিন্তু সেই ইহুদী তা অস্বীকার করে বললো- 'আমি তাকে কোনো সওদা দেবো না। তবে কোনো কিছু বন্ধক পেলে দেবো। শুনে রাসূলাল্লাহ্ [সা] বললেন, 'আমার এ বর্মটি তার কাছে নিয়ে যাও। আল্লাহর কসম! আসমানের নিচে এবং জমিনের ওপর আমি আমানতদার।'
📄 দাসী বিক্রির সময় মা ও সন্তানকে পৃথক না করা
প্রামাণ্য হাদীস সমূহে বর্ণিত হয়েছে, নবী করীম [সা] বলেছেন- 'মাকে তার সন্তানের ব্যাপারে হয়রান করা যাবে না। যে ব্যক্তি মা ও তার সন্তানের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটাবে, আল্লাহ্ কিয়ামতের দিন তার ও তার প্রিয়জনের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটিয়ে দেবেন।' মদুওনায় জাফর ইবনু মুহাম্মদ হতে বর্ণিত, তিনি তার পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, রাসূলুল্লাহ্ [সা] এর কাছে যখন বন্দীদের আনা হতো, তিনি তাদেরকে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে পর্যবেক্ষণ করতেন। যখন কোনো মহিলা বন্দীকে কাঁদতে দেখতেন, জিজ্ঞেস করতেন, 'তোমার কান্নার কারণ কি?' কেউ বলতো, আমার সন্তানকে বিক্রি করে দেয়া হয়েছে। আবার কেউ বলতো, আমার কন্যাকে বিক্রি করে দেয়া হয়েছে। তখন তিনি তাদের সন্তানকে মায়ের নিকট ফেরত দিতে নির্দেশ দিতেন।
জাফর ইবনু মুহাম্মদের অন্য বর্ণনায় আছে- হযরত আবু উসাইদ আনসারী বাহরাইন থেকে কিছু বন্দী এনে নবী করীম [সা] এর নিকট হাজির করলেন। তিনি বন্দীদেরকে গভীর মনোযোগের সাথে দেখতে লাগলেন। হঠাৎ এক সারি থেকে এক স্ত্রীলোক কেঁদে উঠলো। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, 'তুমি কাঁদছো কেন?' সে বললো, আমার ছেলেকে বনী আয়েস গোত্রে বিক্রি করে দেয়া হয়েছে। রাসূল [সা] আবু উসাইদ [রা] কে বললেন, 'তুমি জলদি সওয়ার হয়ে যাও। ঐ ছেলের দাম যাই হোক না কেন তুমি তাকে কিনে আনবে।' তখন তিনি গিয়ে ঐ ছেলেকে কিনে এনে স্ত্রীলোকটির কাছে দিলেন।
ইউনুস ইবনু আবদুর রহমান থেকে বর্ণিত- নবী করীম [সা] হযরত আলী [রা] এর নেতৃত্বে একদল সৈন্যবাহিনী কোনো এক অভিযানে পাঠান। সে অভিযানে বেশ কিছু মালামাল مسلمانوں হস্তগত হয়। তার মধ্যে কিছু বাঁদী ছিলো। হযরত আলী [রা] এক বাঁদীর বিনিময়ে কিছু উট কিনে নেন। সেখানে বিক্রিত বাঁদীর মা ও উপস্থিত ছিলো। সে নবী করীম [সা] এর নিকট অভিযোগ দায়ের করলো। রাসূল [সা] আলী [রা] কে বললেন- 'তুমি কি মা ও মেয়ের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটিয়ে দিলে?' হযরত আলী [রা] গভীর চিন্তায় নিমজ্জিত হয়ে গেলেন। রাসূল [সা] বার বার তাঁকে এ কথা জিজ্ঞেস করতে লাগলেন। অগত্যা হযরত আলী [রা] বললেন, 'আমি যাবো। গিয়ে তাকে ফেরত নিয়ে আসবো।'
হুসাইন ইবনু আবদুর রহমান বিনতে জমীরা তার দাদী জমীরা হতে বর্ণনা করেছেন, রাসূলুল্লাহ্ [সা] জমীরার কাছ দিয়ে যাওয়ার সময় দেখতে পেলেন সে কাঁদছে। তিনি জিজ্ঞেস করলেন- 'তোমার কান্নার কারণ কি? তোমার কি খাদ্য অথবা কাপড় কিংবা থাকার জায়গার প্রয়োজন?' সে বললো, 'ইয়া রাসূলাল্লাহ্। আমার ও আমার মেয়ের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটিয়ে দেয়া হয়েছে।'
রাসূলুল্লাহ্ [সা] বললেন- 'মা ও মেয়ের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটানো যাবে না।' পরে তার কাছে লোক পাঠানো হলো যার কাছে জমীরা [রা] ছিলো। তাকে ডেকে এনে এক পূর্ণাঙ্গ বয়সের হৃষ্টপুষ্ট উটের বিনিময়ে জমীরা [রা] কে খরিদ করে আনা হলো।
হযরত উরওয়া ইবনু যুবাইর [রা] থেকে বর্ণিত, যখন নবী করীম [সা] ও হযরত আবু বকর [রা] হিজরত করে মদীনায় যান, তখন রাস্তায় এক গরীব লোকের কাছ থেকে ছাগল কিনেন। তা সে দোহন করবে এই শর্তে বেচাকেনা হয়।
বর্ণিত আছে- নবী করীম [সা] ও হযরত আবু বকর [ra] উভয়ে বনী হুজাইলের এক ব্যক্তিকে পথ দেখিয়ে দেবে এই শর্তে মজদুর ঠিক করেন। সে ছিলো মুশরিক কুরাইশ। উভয়ে তাঁদের উটনী দুটো তার কাছে রেখেছিলেন এবং তিনদিন পর ছুর পাহাড়ের গুহায় পৌঁছে দেয়ার ওয়াদা নিয়েছিলেন। কথামতো সে তৃতীয়দিন প্রভাতকালে উভয়ের উটনীসহ ছুর পাহাড়ের পাদদেশে উপস্থিত হয়। ইমাম বুখারী- এ হাদীসটিকে উল্লেখ করে প্রমাণ করেছেন, পারিশ্রমিক চুক্তি অনুযায়ী তিন দিন, একমাস বা এক বৎসর কাজ করানোর পর আদায় করা বৈধ।
ইমাম মালিক থেকে বর্ণিত - নবী করীম [সা] মদীনার নিকটবর্তী কোনো এক সফরে হযরত জাবির ইবনু আবদুল্লাহ্ [রা] থেকে একটি উট কিনেছিলেন। শর্ত ছিলো, মদীনা পর্যন্ত হযরত জাবির [রা] তার ওপর আরোহণ করতে পারবেন। অন্য বর্ণনায় আছে- নবী করীম (সা) তাঁকে বললেন 'এর ওপর সওয়ার হয়ে মদীনা পর্যন্ত পৌঁছার অধিকার তোমার আছে।'