📘 রাসূলুল্লাহ সাঃ এর বিচারালয় > 📄 বিভিন্ন আপে প্রদর্শনের জন্য গাভীর স্তনবদ্ধি করা

📄 বিভিন্ন আপে প্রদর্শনের জন্য গাভীর স্তনবদ্ধি করা


নবী করীম (সা) বলেছেন- তোমাদের কেউ যেন আরেক জনের দামের উপর দাম না বলে। অবশ্য গণিমত এবং ওয়ারিশের সম্পত্তির দাম বলতে পারো। (মুসনাদে ইবনু সাকান)। বুখারীতে আছে- 'ব্যবসায়ীদের সাথে পথে গিয়ে মিলবে না এবং জিনিসের দাম বেঁধে দেবে না। এ ধরনের কাজ পরিত্যাজ্য। যারা এভাবে (দালালীর মাধ্যমে) বেচা কেনা করে তারা গুনাহগার। কারণ তারা জানে, সে অপরকে ধোকা দিচ্ছে। আর ধোকা দেয়া অবৈধ।'
মুয়াত্তা, বুখারী, মুসলিম ও নাসাঈতে বর্ণিত হয়েছে, রাসূলূল্লাহ্ [সা] বলেছেন- 'বিক্রয় কেন্দ্রে পৌঁছার আগে তোমরা কোনো বাণিজ্য কাফেলার সাথে ক্রয় বিক্রয় করবে না, একজন দাম বলছে তোমরা তার ওপর দাম বলবে না তাছাড়া শহরে কোনো লোক গ্রাম্য কোনো লোককে (ঠকানোর উদ্দেশ্যে) বেচাকিনি করে দেবে না। আর উটনী ও ছাগলের দুধ বেশী দেখানোর জন্য তা দোহন না করে ফুলিয়ে রাখবে না। যদি কেউ দুধ আবদ্ধ অবস্থায় খরিদ করে, তবে ক্রেতা তা দোহনের পর ইচ্ছে হয় রাখবে নতুবা ফিরিয়ে দেবে। তবে ফেরতের সময় এক সা' খেজুর দিতে হবে দোহনকৃত দুধের বিনিময়ে।'
মুসলিম শরীফের এক হাদীসে আছে, 'যে ব্যক্তি তা খরিদ করবে, তিন দিন পর্যন্ত তার ইখতিয়ার থাকবে। মন চাইলে রাখবে অন্যথায় ফেরত দেবে। সাথে এক সা' খেজুর দিয়ে দেবে।' নাসাঈ শরীফে আছে, রাসূলে করীম [সা] বলেছেন- 'ব্যবসায়ীর সাথে প্রথমে গিয়ে মিলবে না। যদি কেউ মিলে এবং কোনো কিছু কেনে, বাজারে এসে মালিক তা ফেরত নিতে পারবে। 'নাসাঈতে হযরত আয়িশা [রা] থেকে বর্ণিত আরেক হাদীসে আছে- নবী করীম [সা] এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন, 'লাভ জিম্মাদারের।' এ কথার ওপর ভিত্তি করে ইমাম আবু হানিফা [রহ] বলেন, প্রদর্শনীর জন্য স্তনবৃদ্ধি করা পশু ক্রয়ের পর তা ফেরত দেয়ার সময় দুধ দোহনের বিনিময়ে কিছু প্রদান করা জায়েয নয়। এমনকি দুধ বিক্রি করাও জায়েয নয়। শুধু পশু ফেরত দিতে হবে।
আবু দাউদে আছে- এক ব্যক্তি এক গোলাম খরিদ করলো। সে তার কাছে যতোদিন আল্লাহর মঞ্জুর ছিলো ততোদিন রইলো। অতঃপর সে তার মধ্যে দোষ পেয়ে নবী করীম [সা] এর কাছে এসে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করলো। তিনি বললেন, 'তুমি তাকে ফিরিয়ে দাও।' তখন বিক্রেতা বললো, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! সে তো আমার গোলাম দিয়ে উপকৃত হয়েছে। নবী করীম (সা) বললেন- 'লাভ জিম্মাদারের।'

📘 রাসূলুল্লাহ সাঃ এর বিচারালয় > 📄 ক্রেতা মাল ক্রয়ের পর মূল্য পরিশোধের আগেই নিরুদ্দেশ হয়ে গেলে অথবা মৃত্যুবরণ করলে

📄 ক্রেতা মাল ক্রয়ের পর মূল্য পরিশোধের আগেই নিরুদ্দেশ হয়ে গেলে অথবা মৃত্যুবরণ করলে


মুয়াত্তা, বুখারী ও মুসলিম ও নাসাঈতে বর্ণিত হয়েছে- রাসূলাল্লাহ্ [সা] বলেছেন- 'যদি কেউ নিঃস্ব হয়ে যায় এবং কেউ তার নিকট (বাকীতে) বিক্রিত মাল অক্ষত অবস্থায় পায়। তাহলে সেই ব্যক্তি উক্ত মালের বেশী হকদার। মুয়াত্তায় ইমাম মালিক ইবনু শিহাব হতে এবং তিনি আবু বাকরা ইবনু আবদুর রহমান থেকে বর্ণনা করেছেন, নবী করীম [সা] বলেছেন, 'কেউ কোনো বস্তু (বাকীতে) বিক্রি করলো তারপর ক্রেতা অভাবগ্রস্ত হয়ে পড়লো অথচ বিক্রেতা তার মূল্য বাবদ কিছুই পায়নি। যদি ঐ বিক্রিত মাল [ক্রেতার নিকট] অবিকৃত অবস্থায় থাকে, তবে বিক্রেতাই ঐ মালের বেশী হকদার। আর যদি ক্রেতা মরে গিয়ে থাকে তবে বিক্রেতা অন্যান্য পাওনাদারের সমপর্যায়ভুক্ত হবে।' হযরত আবু হুরাইরা [রা] থেকে বর্ণিত হাদীসে আছে- নবী করীম [সা] বলেছেন - 'যে ব্যক্তি [বাকীতে মাল কেনার পর] নিঃস্ব হয়ে যায় অথবা মরে যায় আর যদি সেই মাল তার নিকট অবিকৃত অবস্থায় থাকে, তা বিক্রেতা ফিরিয়ে নেয়ার অধিক হকদার।'

📘 রাসূলুল্লাহ সাঃ এর বিচারালয় > 📄 চোরাই মাল

📄 চোরাই মাল


দালায়েলে ওসীলীতে ইকরামা ইবনু খালিদ হযরত উমাইদ ইবনু হুযাইর থেকে বর্ণনা করেছেন, আমীর মুয়াবিয়া মারওয়ানের নিকট লিখে পাঠিয়েছিলেন- যদি কোনো ব্যক্তির মাল চুরি হয় এবং সে তা অবিকৃত অবস্থায় পায় তবে ঐ ব্যক্তি তার অধিকতর হকদার। তা যেখানেই পাওয়া যাক না কেন। তখন মারওয়ান আমার কাছে লিখলো। আমি সে সময় ইয়ামামার প্রশাসকের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলাম। আমি তাকে লিখে জানালাম, নবী করীম [সা] নির্দেশ দিয়েছেন- 'যখন চুরির মাল সেই ব্যক্তির কাছে পাওয়া যাবে যে অন্য কোনো উপায়ে তার মালিক হয়েছে, তখন মালিক সেই জিনিসের মূল্য দিয়ে তার থেকে মাল ফেরত নেবে অথবা তার মালের চোরকে সন্ধান করবে।' হযরত আবু বকর [রা], ওমর [রা] এবং হযরত ওসমান [রা]ও এ রায়কেই কার্যকর করেছেন। মারওয়ান আমার পত্রটি মুয়াবিয়া (রা) এর কাছে পাঠিয়ে দেন, পত্র পেয়ে তিনি মারওয়ানকে লিখে পাঠান, তুমি এবং ইবনু হুযাইর আমার পাঠানো নির্দেশের বাইরে কোনো ফায়সালা করতে পারবে না বরং আমি তোমাদের [পাঠানো মতের] বিপরীতে ফায়সালা করবো। কাজেই আমি যে নির্দেশ পাঠিয়েছি তার ওপর আমল করবে। তখন মারওয়ান তা আমার নিকট পাঠিয়ে দিলে আমি বললাম, যতোক্ষণ আমার ইচ্ছে শক্তি আছে ততোক্ষণ আমি ঐ নির্দেশ মানবো না।
নিশাপুরী বলেছেন, ফকীহদের মধ্যে কেউ এ হাদীসের প্রবক্তা বলে আমার জানা নেই। একমাত্র ইসহাক ছাড়া। ইমাম আহম্মদ ইবনু হাম্বলকে এ হাদীস সম্পর্কে জিজ্ঞেস করায় তিনি বললেন, আমি তা মানিনা। এ ব্যাপারে ফিকাহবিদদের মধ্যে ইখাতিলাফ আছে। আমি ঐ হাদীসের অনুসরণ করি যা হাশিম যথাক্রমে মুসা ইবনু সায়িব, কাতাদা, হাসান, সামুরা, নবী করীম [সা] থেকে বর্ণনা করেছেন। রাসূলাল্লাহ্ [সা] বলেছেন- 'যে নিজের মাল অন্য কোনো ব্যক্তির নিকট পাবে সে ঐ মালের অধিকতর হকদার।'

📘 রাসূলুল্লাহ সাঃ এর বিচারালয় > 📄 আমদানী বা উৎপাদনে ঘাটতি দেখা দিলে

📄 আমদানী বা উৎপাদনে ঘাটতি দেখা দিলে


বুখারী, মুসলিম ও নাসাঈতে বর্ণিত হয়েছে, নবী করীম [সা] বলেছেন, 'ভালো কথা বলো, যদি আল্লাহ্ ফলন বন্ধ করে দেন তবে তোমরা আরেক ভাইয়ের মাল কিভাবে নেবে?' অন্য হাদীসে আছে- 'কেউ তার ভাইয়ের মাল কিসের বিনিময়ে বৈধ করবে?' এ হাদীসটি ইমাম মালিক মুয়াত্তায় মারফু সনদে রিওয়ায়াত করেছেন। তাছাড়া দালায়েলেও এটা বর্ণিত আছে।
মুসলিম শরীফে হযরত জাবির (রা) হতে বর্ণিত- নবী করীম [সা] প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ক্ষতি হলে তা পূরণ করতে নির্দেশ দিয়েছেন। ইমাম মালিক বলেছেন, যদি তা এক তৃতীয়াংশ পর্যন্ত পৌছে তবে ক্ষতিপূরণ করতে হবে। তিনি এ হাদীসকে দলিল হিসেবে পেশ করেন। ইমাম শাফিঈর এক বর্ণনায় এবং ইমাম আবু হানিফা [রহ], লাইছ ও সুফিয়ান সাওরী [রহ] বলেছেন, যে ফল ক্রয় করবে, যদি তা পরিপক্ক হওয়ার পর প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্থ হয়, তার কোনো ক্ষতিপূরণ নেই। যদি সে ক্ষতি কৃত্রিমভাবে হয় তবু।
তাদের দলিল হচ্ছে নিম্নোক্ত হাদীসটি। নবী করীম [সা] এর যুগে মুয়ায ইবনু জাবাল [রা] ফল কিনে ক্ষতিগ্রস্থ হন এবং তার ঋণের পরিমাণ বেড়ে যায়, তখন নবী করীম [সা] তাকে সাহায্য করার ব্যাপারে লোকদের আহবান জানান। লোকেরা তাকে সাহায্য করলো বটে কিন্তু তা ঋণ পরিশোধ করার মতো যথেষ্ট হলো না। তখন রাসূলুল্লাহ্ [সা] তাঁর পাওনাদারকে বললেন- 'যা পাচ্ছো তা নাও এর বেশী তোমাকে দেয়া যাবে না।'
মুয়ায [রা] এর এ ঘটনাটি ঘটেছিলো হিজরী নবম সনে। নবী করীম [সা] তাঁকে সাহায্যের জন্য আবেদন করায়, সাতভাগের পাঁচ ভাগ পরিমাণ পাওয়া গেলো। তখন তিনি বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাকে তা বিক্রি করে দেন। রাসূল [সা] বললেন- 'এ গুলো বাদ দাও।' অতঃপর তিনি তাঁকে ইয়েমেনে পাঠান এবং বলেন, 'সম্ভবত আল্লাহ্ তোমাকে ধনী বানিয়ে দেবেন।' তিনি নবী করীম [সা] এর সাথে তাবুক যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেন। নবী করীম [সা] এর ইন্তিকালের পর হযরত আবু বকর [রা] এর খিলাফতকালে তিনি দেশে প্রত্যাবর্তন করেন, তখন তাঁর সাথে বিরাট এক পাল ছাগল এবং অনেক দাস-দাসী ছিলো। হযরত ওমর [রা] তাঁকে দেখে জিজ্ঞেস করলেন, খবর কি? তিনি উত্তর দিলেন, এগুলো লোকজন আমাকে হাদিয়া দিয়েছে। ওমর [রা] বললেন, কেন তোমাকে লোকজন এগুলো হাদিয়া দিয়েছে? তিনি বললেন, এগুলো লোকেরা আমাকে এমনিই হাদিয়া দিয়েছে। ওমর [রা] বললেন, তুমি এ কথাগুলো হযরত আবু বকর [রা] এর কাছে গিয়ে বলো। মুয়ায [রা] বললেন, আমি একথা আবুবকর [রা] এর কাছে বলবোনা। সেই রাতে মুয়ায [রা] স্বপ্ন দেখলেন, তিনি জাহান্নামের কিনারায় পৌঁছে গেছেন। হযরত ওমর [রা] তাঁকে পেছন থেকে কোমড় ধরে টানাটানি করছেন, যেন মুয়ায [রা] আগুনে না পড়ে যান। এ স্বপ্ন দেখে তিনি কাঁপতে কাঁপতে বিছানায় বসে পড়লেন। তারপর তিনি আবু বকরের কাছে গিয়ে হযরত ওমর [রা] এর পরামর্শ অনুযায়ী সব কথা খুলে বললেন। তখন আবুবকর [রা] তাঁর সমস্ত সম্পদকে বৈধ সম্পদ বলে ঘোষণা দিলেন এবং বললেন, আমি নবী করীম [সা] কে বলতে শুনেছি, 'সম্ভবত আল্লাহ্ তোমাকে ধনী বানিয়ে দেবেন।' হযরত মুয়ায [রা] তাঁর আগের ঋণ দাতাদের অবশিষ্ট পাওনা মিটিয়ে দিলেন। [তাবারী]
বুখারীতে হযরত যায়িদ ইবনু সাবিত [রা] হতে বর্ণিত - লোকজন নবী করীম [সা] এর সময়ে গাছে থাকাবস্থায় অপরিপক্ক ফল বেচাকেনা করতো। যখন তা পরিপক্ক হতো তখন ক্রেতা বলতো, ফলে লোকসান হয়েছে, রোগের আক্রমণ হয়েছে, কাঁচা ফল ঝরে গেছে, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ইত্যাদি। এটিকে তারা বাহানা বানিয়ে নিলো। আর নবী করীম [সা] এর নিকট এ সংক্রান্ত অধিক সংখ্যক মামলা দায়ের হতে লাগলো। তখন তিনি ঘোষণা করলেন- 'ফল পরিপক্ক হওয়ার আগে তা বেচা কেনা করা যাবে না।'

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00