📘 রাসূলুল্লাহ সাঃ এর বিচারালয় > 📄 তিন এর চেয়ে কম তালাক

📄 তিন এর চেয়ে কম তালাক


মুসান্নাফ আবদুর রাজ্জাকে মালিক ও সুফিয়ান ইবনু উয়াইনাহ্ জাহেরী থেকে এবং তারা যথাক্রমে ইবনু মুসাইয়্যিব, হামিদ ইবনু আবদুর রহমান, উবাইদুল্লাহ্ ইবনু আবদুল্লাহ্ ইবনু উতবা এবং সুলাইমান ইবনু ইয়াসার থেকে বর্ণনা করেছেন, 'আমি হযরত আবু হুরাইরা [রা] কে বলতে শুনেছি যে, ওমর [রা] বলেছেন, যে স্ত্রীকে তার স্বামী এক অথবা দু'তালাক দেয়। তারপর সে অন্য স্বামীর নিকট বিয়ে বসে সেই স্বামী আবার তাকে তালাক দেয় অথবা মরে যায় অতঃপর প্রথম স্বামী তাকে পুনরায় বিয়ে করে। তাহলে প্রথম স্বামী নির্দিষ্ট তিনটি তালাক থেকে অবশিষ্ট তালাকের অধিকারী হবে।
হযরত আলী ইবনু আবী তালিব [রা] ও উবাই ইবনু কা'ব [রা] হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ [সা] এক মহিলার ব্যাপারে এই ফায়সালা দিয়েছেন, স্বামী পরবর্তীতে শুধুমাত্র অবশিষ্ট তালাকের মালিক হবে। ইমাম মালিক [রহ] হযরত ইবনু আব্বাস [রা] থেকে বর্ণনা করেছেন, নতুন বিয়ে নতুন তালাকের অধিকারী বানিয়ে দেয় [অর্থাৎ নতুন বিয়ে করলে স্বামী পূর্ণ তিন তালাকের ক্ষমতাপ্রাপ্ত হয়।] ইবনু ওমর [রা], ইবনু মাসউদ [রা] ও আতা [রহ] এ মত ব্যক্ত করেছেন। সুফিয়ান সাওরী [রহ] ও মা'মার [রহ] এর মতে যদি সেই স্ত্রী অন্য একজনের স্ত্রী হিসেবে ঘর সংসার করে পুনরায় আগের স্বামীর নিকট আসে তাহলে পূর্বের স্বামী তিনটি তালাকের অধিকারী হবেন। আর যদি তালাক এমন হয় যে, স্ত্রীর অন্যত্র বিয়ে বসার প্রয়োজন নেই শুধু প্রথম স্বামীর সাথে পুনরায় বিয়ে পড়ালেই হয়ে যায় তাহলে স্বামী অবশিষ্ট তালাকের অধিকারী হবেন। মা'মার [রহ] বলেন, ইব্রাহীম নখঈ [রহ] ও এ মতকে সমর্থন করেছেন।

টিকাঃ
২. কাফ্ফারা আদায় করে কসমের বাধ্যবাধকতা থেকে মুক্তি পাওয়ার বিধান সূরা আল মায়িদার ৮৯ নং আয়াতে বলে দেয়া হয়েছে। -অনুবাদক।

মুসান্নাফ আবদুর রাজ্জাকে মালিক ও সুফিয়ান ইবনু উয়াইনাহ্ জাহেরী থেকে এবং তারা যথাক্রমে ইবনু মুসাইয়্যিব, হামিদ ইবনু আবদুর রহমান, উবাইদুল্লাহ্ ইবনু আবদুল্লাহ্ ইবনু উতবা এবং সুলাইমান ইবনু ইয়াসার থেকে বর্ণনা করেছেন, 'আমি হযরত আবু হুরাইরা [রা] কে বলতে শুনেছি যে, ওমর [রা] বলেছেন, যে স্ত্রীকে তার স্বামী এক অথবা দু'তালাক দেয়। তারপর সে অন্য স্বামীর নিকট বিয়ে বসে সেই স্বামী আবার তাকে তালাক দেয় অথবা মরে যায় অতঃপর প্রথম স্বামী তাকে পুনরায় বিয়ে করে। তাহলে প্রথম স্বামী নির্দিষ্ট তিনটি তালাক থেকে অবশিষ্ট তালাকের অধিকারী হবে।
হযরত আলী ইবনু আবী তালিব [রা] ও উবাই ইবনু কা'ব [রা] হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ [সা] এক মহিলার ব্যাপারে এই ফায়সালা দিয়েছেন, স্বামী পরবর্তীতে শুধুমাত্র অবশিষ্ট তালাকের মালিক হবে। ইমাম মালিক [রহ] হযরত ইবনু আব্বাস [রা] থেকে বর্ণনা করেছেন, নতুন বিয়ে নতুন তালাকের অধিকারী বানিয়ে দেয় [অর্থাৎ নতুন বিয়ে করলে স্বামী পূর্ণ তিন তালাকের ক্ষমতাপ্রাপ্ত হয়।] ইবনু ওমর [রা], ইবনু মাসউদ [রা] ও আতা [রহ] এ মত ব্যক্ত করেছেন। সুফিয়ান সাওরী [রহ] ও মা'মার [রহ] এর মতে যদি সেই স্ত্রী অন্য একজনের স্ত্রী হিসেবে ঘর সংসার করে পুনরায় আগের স্বামীর নিকট আসে তাহলে পূর্বের স্বামী তিনটি তালাকের অধিকারী হবেন। আর যদি তালাক এমন হয় যে, স্ত্রীর অন্যত্র বিয়ে বসার প্রয়োজন নেই শুধু প্রথম স্বামীর সাথে পুনরায় বিয়ে পড়ালেই হয়ে যায় তাহলে স্বামী অবশিষ্ট তালাকের অধিকারী হবেন। মা'মার [রহ] বলেন, ইব্রাহীম নখঈ [রহ] ও এ মতকে সমর্থন করেছেন।

টিকাঃ
২. কাফ্ফারা আদায় করে কসমের বাধ্যবাধকতা থেকে মুক্তি পাওয়ার বিধান সূরা আল মায়িদার ৮৯ নং আয়াতে বলে দেয়া হয়েছে। -অনুবাদক।

📘 রাসূলুল্লাহ সাঃ এর বিচারালয় > 📄 সন্তান প্রতিপালনে মা সন্তানের অধিকতর হকদার, খালা মায়ের স্থলাভিষিক্ত

📄 সন্তান প্রতিপালনে মা সন্তানের অধিকতর হকদার, খালা মায়ের স্থলাভিষিক্ত


মুসান্নাফ আবদুর রাজ্জাকে হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনু আমর [রা] হতে বর্ণিত-এক মহিলাকে তার স্বামী তালাক দিলো এবং তার সন্তান রেখে দিতে চাইলো। তখন সেই মহিলা নবী করীম (সা) এর দরবারে নালিশ করলো, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমার বুক ছিলো ঐ বাচ্চার নিরাপদ স্থান এবং আমার স্তন (ছিলো) তার মশক এবং আমার কোল তার ঠিকানা। তার পিতা আমাকে তালাক দিয়েছে এবং সে চাচ্ছে আমার সন্তানকে আমার বুক থেকে ছিনিয়ে নিতে। নবী করীম [সা] বললেন, 'যতোদিন তুমি অন্যত্র বিয়ে না বসো ততোদিন তুমিই সন্তান পালনের অধিকতর হকদার।'
মুসান্নাফ আবদুর রাজ্জাকে হযরত আবু হুরাইরা [রা] থেকে বর্ণিত আরেক হাদীসে আছে, সন্তান প্রতিপালনের বিষয়ে মা বাপ দুজনে ঝগড়া করেছিলো। নবী করীম (সা) এর কাছে স্ত্রীলোকটি বললো, আমার স্বামী চাচ্ছে আমার কাছ থেকে বাচ্চাটিকে ছিনিয়ে নিতে। সে আমাকে আবু উতবার কূপ থেকে পানি এনে পান করায়। নবী করীম (সা) ছেলেটিকে বললেন, 'এ তোমার মা এবং এ তোমার বাপ, তুমি যার কাছে ইচ্ছে যেতে পারো।' তখন ছেলেটি তার মায়ের হাত ধরলো। মা তাকে নিয়ে গেলো।
বুখারী ও মুসলিম আছে- নবী করীম [সা] যখন উমরাতুল কাযা আদায় করেছিলেন এবং নির্দিষ্ট সময় উত্তীর্ণ হয়ে গিয়েছিলো, তখন মক্কাবাসী হযরত আলী [রা] কে বললো, আপনার বন্ধুকে চলে যেতে বলুন। রাসূলে আকরাম [রা] রওয়ানা হলেন। এমন সময় হযরত হামজা [রা] এর কন্যা চাচা! চাচা !! বলতে বলতে পেছনে পেছনে আসছিলো।
হযরত আলী [রা] তাকে সওয়ারীর উপর উঠিয়ে নিলেন এবং ফাতিমা [রা] কে বললেন, এ তোমার চাচার মেয়ে। কাজেই একে প্রতিপালন করবে। হযরত আলী [রা], হযরত যায়িদ [রা] ও হযরত জাফর [রা] এর মধ্যে ঐ মেয়ের অভিভাবকত্ব নিয়ে ঝগড়া শুরু হলো। হযরত আলী [রা] বললেন, এতো আমার চাচার কন্যা আর এর খালাও আমার স্ত্রী। যায়িদ [রা] বললেন, এ আমার ভাইয়ের মেয়ে। নবী করীম [সা] তখন ফায়সালা দিলেন, 'মা খালার স্থলাভিষিক্ত।' তারপর তিনি মেয়েটিকে খালার জিম্মায় দিয়ে দিলেন।

টিকাঃ
৩. হযরত হামজা [রা] নবী করীম (সা) এর আপন চাচা ছিলেন, এ হিসেবে তার কন্যা নবী করীম (সা) এর বোন হতো। কিন্তু আবার হামজা [রা] নবী করীম [সা] রিযাঈ ভাই ছিলেন অর্থাৎ উভয়ে এক মহিলার দুধ পান করেছিলেন। আরবে রিযাঈ সম্পর্ককে সবচেয়ে বেশী গুরুত্ব দেযা হতো। এজন্য হামজা [রা] এর কন্যা নবী করীম (সা) কে চাচা বলে সম্বোধন করেছিলেন।
৪. যায়িদ নবী করীম [সা] এর আযাদকৃত গোলাম ছিলেন। যখন হিজরতের পর নবী করীম [সা] مسلمانوں মধ্যে ভ্রাতৃত্ব স্থাপন করে দেন তখন যায়িদ [রা] কে হামজা [রা] এর ভাই বানিয়ে দেন।

মুসান্নাফ আবদুর রাজ্জাকে হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনু আমর [রা] হতে বর্ণিত-এক মহিলাকে তার স্বামী তালাক দিলো এবং তার সন্তান রেখে দিতে চাইলো। তখন সেই মহিলা নবী করীম (সা) এর দরবারে নালিশ করলো, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমার বুক ছিলো ঐ বাচ্চার নিরাপদ স্থান এবং আমার স্তন (ছিলো) তার মশক এবং আমার কোল তার ঠিকানা। তার পিতা আমাকে তালাক দিয়েছে এবং সে চাচ্ছে আমার সন্তানকে আমার বুক থেকে ছিনিয়ে নিতে। নবী করীম [সা] বললেন, 'যতোদিন তুমি অন্যত্র বিয়ে না বসো ততোদিন তুমিই সন্তান পালনের অধিকতর হকদার।'
মুসান্নাফ আবদুর রাজ্জাকে হযরত আবু হুরাইরা [রা] থেকে বর্ণিত আরেক হাদীসে আছে, সন্তান প্রতিপালনের বিষয়ে মা বাপ দুজনে ঝগড়া করেছিলো। নবী করীম (সা) এর কাছে স্ত্রীলোকটি বললো, আমার স্বামী চাচ্ছে আমার কাছ থেকে বাচ্চাটিকে ছিনিয়ে নিতে। সে আমাকে আবু উতবার কূপ থেকে পানি এনে পান করায়। নবী করীম (সা) ছেলেটিকে বললেন, 'এ তোমার মা এবং এ তোমার বাপ, তুমি যার কাছে ইচ্ছে যেতে পারো।' তখন ছেলেটি তার মায়ের হাত ধরলো। মা তাকে নিয়ে গেলো।
বুখারী ও মুসলিম আছে- নবী করীম [সা] যখন উমরাতুল কাযা আদায় করেছিলেন এবং নির্দিষ্ট সময় উত্তীর্ণ হয়ে গিয়েছিলো, তখন মক্কাবাসী হযরত আলী [রা] কে বললো, আপনার বন্ধুকে চলে যেতে বলুন। রাসূলে আকরাম [রা] রওয়ানা হলেন। এমন সময় হযরত হামজা [রা] এর কন্যা চাচা! চাচা !! বলতে বলতে পেছনে পেছনে আসছিলো।
হযরত আলী [রা] তাকে সওয়ারীর উপর উঠিয়ে নিলেন এবং ফাতিমা [রা] কে বললেন, এ তোমার চাচার মেয়ে। কাজেই একে প্রতিপালন করবে। হযরত আলী [রা], হযরত যায়িদ [রা] ও হযরত জাফর [রা] এর মধ্যে ঐ মেয়ের অভিভাবকত্ব নিয়ে ঝগড়া শুরু হলো। হযরত আলী [রা] বললেন, এতো আমার চাচার কন্যা আর এর খালাও আমার স্ত্রী। যায়িদ [রা] বললেন, এ আমার ভাইয়ের মেয়ে। নবী করীম [সা] তখন ফায়সালা দিলেন, 'মা খালার স্থলাভিষিক্ত।' তারপর তিনি মেয়েটিকে খালার জিম্মায় দিয়ে দিলেন।

টিকাঃ
৩. হযরত হামজা [রা] নবী করীম (সা) এর আপন চাচা ছিলেন, এ হিসেবে তার কন্যা নবী করীম (সা) এর বোন হতো। কিন্তু আবার হামজা [রা] নবী করীম [সা] রিযাঈ ভাই ছিলেন অর্থাৎ উভয়ে এক মহিলার দুধ পান করেছিলেন। আরবে রিযাঈ সম্পর্ককে সবচেয়ে বেশী গুরুত্ব দেযা হতো। এজন্য হামজা [রা] এর কন্যা নবী করীম (সা) কে চাচা বলে সম্বোধন করেছিলেন।
৪. যায়িদ নবী করীম [সা] এর আযাদকৃত গোলাম ছিলেন। যখন হিজরতের পর নবী করীম [সা] مسلمانوں মধ্যে ভ্রাতৃত্ব স্থাপন করে দেন তখন যায়িদ [রা] কে হামজা [রা] এর ভাই বানিয়ে দেন।

📘 রাসূলুল্লাহ সাঃ এর বিচারালয় > 📄 জিহার এর বিধান

📄 জিহার এর বিধান


মায়ানী, জুযায ও অন্যান্য গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে- হযরত খাওলা বিনতে সালাবা [রা] নবী করীম [সা] এর কাছে এসে আরজ করলো, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আউস ইবনু সামেত আমাকে বিয়ে করেছিলো, যতোদিন আমার যৌবন অটুট ছিলো। এখন আমার যৌবন নষ্ট হয়ে গেছে এবং আমার পেট ফেলনা হয়ে গেছে (অর্থাৎ অনেক বাচ্চা পয়দা হয়েছে)। তাই সে আমাকে তার মায়ের সাথে তুলনা করে নিয়েছে, নবী করীম [সা] বললেন, 'তোমার এ সমস্যার কোনো সমাধান আমার কাছে নেই।' তখন সেই মহিলাটি আল্লাহর নিকট ফরিয়াদ করলো, আল্লাহ্ একমাত্র আপনার দরবারে আমার অভিযোগ। অন্য বর্ণনায় আছে, সে নবী করীম [সা] এর নিকট অভিযোগ করার সময় একথাও বলেছিলো, আমার অনেকগুলো ছোট ছোট ছেলেমেয়ে আছে। যদি আমি তাদেরকে নিয়ে পৃথক হয়ে যাই, তবে তারা না খেয়ে মরে যাবে। তখন আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন জিহারের বিধান অবতীর্ণ করেন। নবী করীম [সা] তার স্বামীকে জিজ্ঞেস করলেন, 'তুমি কি একজন দাস মুক্ত করার সামর্থ রাখো?' সে বললো, আল্লাহর কসম! সে সামর্থ আমার নেই। তখন তিনি বললেন, 'তবে কি তুমি একাধারে দু'মাস রোযা রাখতে পারবে?' সে বললো, সে সামর্থও আমার নেই। আবার জিজ্ঞেস করলেন, তাহলে তুমি ৬০ জন মিসকিনকে খানা খাওয়াতে পারবে? সে পূর্বের মতোই বললো, আল্লাহর কসম! সে সমর্থও আমার নেই। তখন নবী করীম [সা] তাকে ১৫সা' এবং আরেক ব্যক্তি ১৫ সা' সাহায্য দিলো। অতঃপর সে প্রত্যেক মিসকিনকে অর্ধসা করে দিয়ে দিলো। অন্য হাদীসে আছে, তিনি হযরত আলী [রা] কে বললেন, 'আমার কাছে একটি ঝুড়ি আছে এবং তাতে ৬০টি খেজুর আছে, তুমি তা নিয়ে এসো।' অতঃপর তা তাকে দিয়ে বললেন, 'তোমার এবং তোমার ঘরনীর পক্ষ থেকে এগুলো ৬০ জন মিসকিনকে দিয়ে দাও।' সে বললো, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমার মা বাপ আপনার ওপর কুরবান হোক। এমন ব্যক্তি সকাল সন্ধা অতিবাহিতকারী নেই, যে আমার ও আমার পরিবারের চেয়ে এ ঝুড়ির অধিক হকদার। শুনে নবী করীম [সা] মুচকী হেসে বললেন, 'ঠিক আছে এগুলো তুমি তোমার পরিবার পরিজন নিয়ে খেয়ো।'
ইমাম মালিক বলেন, জিহারের খাদ্য মুদ হিসেবে পরিমাপ করে দিতে হবে এবং তা শাম দেশীয় মুদ এর হিসেব অনুযায়ী হতে হবে।
ইমাম শাফিঈ বলেছেন, প্রত্যেক মিসকিনের জন্য গম বা এ ধরনের বস্তু এক মুদ করে দিতে হবে।
ইমাম আবু হানিফা [রহ] বলেছেন, প্রত্যেক মিসকিনকে অর্ধ সা' গম বা আটা দিতে হবে। অথবা খেজুর বা যব এক সা' করে দিতে হবে। ইমাম শাফিঈ [রহ] এর দলিল হচ্ছে দ্বিতীয় হাদীস আর ইমাম আবু হানিফা [রহ] প্রথম হাদীসকে দলিল হিসেবে পেশ করেছেন। দাস মুক্তির ব্যাপারেও ইমামদের মধ্যে মতভেদ আছে। ইমাম মালিক ও শাফিঈ [রহ] বলেন, দাস মুসলমান হতে হবে। অমুসলিম দাস মুক্ত করলে কাফ্ফারা আদায় হবেনা। পক্ষান্তরে ইমাম আবু হানিফা [রহ] বলেন, দাস খৃষ্টান কিংবা ইহুদী হলেও কাফ্ফারা আদায় হয়ে যাবে।

মায়ানী, জুযায ও অন্যান্য গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে- হযরত খাওলা বিনতে সালাবা [রা] নবী করীম [সা] এর কাছে এসে আরজ করলো, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আউস ইবনু সামেত আমাকে বিয়ে করেছিলো, যতোদিন আমার যৌবন অটুট ছিলো। এখন আমার যৌবন নষ্ট হয়ে গেছে এবং আমার পেট ফেলনা হয়ে গেছে (অর্থাৎ অনেক বাচ্চা পয়দা হয়েছে)। তাই সে আমাকে তার মায়ের সাথে তুলনা করে নিয়েছে, নবী করীম [সা] বললেন, 'তোমার এ সমস্যার কোনো সমাধান আমার কাছে নেই।' তখন সেই মহিলাটি আল্লাহর নিকট ফরিয়াদ করলো, আল্লাহ্ একমাত্র আপনার দরবারে আমার অভিযোগ। অন্য বর্ণনায় আছে, সে নবী করীম [সা] এর নিকট অভিযোগ করার সময় একথাও বলেছিলো, আমার অনেকগুলো ছোট ছোট ছেলেমেয়ে আছে। যদি আমি তাদেরকে নিয়ে পৃথক হয়ে যাই, তবে তারা না খেয়ে মরে যাবে। তখন আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন জিহারের বিধান অবতীর্ণ করেন। নবী করীম [সা] তার স্বামীকে জিজ্ঞেস করলেন, 'তুমি কি একজন দাস মুক্ত করার সামর্থ রাখো?' সে বললো, আল্লাহর কসম! সে সামর্থ আমার নেই। তখন তিনি বললেন, 'তবে কি তুমি একাধারে দু'মাস রোযা রাখতে পারবে?' সে বললো, সে সামর্থও আমার নেই। আবার জিজ্ঞেস করলেন, তাহলে তুমি ৬০ জন মিসকিনকে খানা খাওয়াতে পারবে? সে পূর্বের মতোই বললো, আল্লাহর কসম! সে সমর্থও আমার নেই। তখন নবী করীম [সা] তাকে ১৫সা' এবং আরেক ব্যক্তি ১৫ সা' সাহায্য দিলো। অতঃপর সে প্রত্যেক মিসকিনকে অর্ধসা করে দিয়ে দিলো। অন্য হাদীসে আছে, তিনি হযরত আলী [রা] কে বললেন, 'আমার কাছে একটি ঝুড়ি আছে এবং তাতে ৬০টি খেজুর আছে, তুমি তা নিয়ে এসো।' অতঃপর তা তাকে দিয়ে বললেন, 'তোমার এবং তোমার ঘরনীর পক্ষ থেকে এগুলো ৬০ জন মিসকিনকে দিয়ে দাও।' সে বললো, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমার মা বাপ আপনার ওপর কুরবান হোক। এমন ব্যক্তি সকাল সন্ধা অতিবাহিতকারী নেই, যে আমার ও আমার পরিবারের চেয়ে এ ঝুড়ির অধিক হকদার। শুনে নবী করীম [সা] মুচকী হেসে বললেন, 'ঠিক আছে এগুলো তুমি তোমার পরিবার পরিজন নিয়ে খেয়ো।'
ইমাম মালিক বলেন, জিহারের খাদ্য মুদ হিসেবে পরিমাপ করে দিতে হবে এবং তা শাম দেশীয় মুদ এর হিসেব অনুযায়ী হতে হবে।
ইমাম শাফিঈ বলেছেন, প্রত্যেক মিসকিনের জন্য গম বা এ ধরনের বস্তু এক মুদ করে দিতে হবে।
ইমাম আবু হানিফা [রহ] বলেছেন, প্রত্যেক মিসকিনকে অর্ধ সা' গম বা আটা দিতে হবে। অথবা খেজুর বা যব এক সা' করে দিতে হবে। ইমাম শাফিঈ [রহ] এর দলিল হচ্ছে দ্বিতীয় হাদীস আর ইমাম আবু হানিফা [রহ] প্রথম হাদীসকে দলিল হিসেবে পেশ করেছেন। দাস মুক্তির ব্যাপারেও ইমামদের মধ্যে মতভেদ আছে। ইমাম মালিক ও শাফিঈ [রহ] বলেন, দাস মুসলমান হতে হবে। অমুসলিম দাস মুক্ত করলে কাফ্ফারা আদায় হবেনা। পক্ষান্তরে ইমাম আবু হানিফা [রহ] বলেন, দাস খৃষ্টান কিংবা ইহুদী হলেও কাফ্ফারা আদায় হয়ে যাবে।

📘 রাসূলুল্লাহ সাঃ এর বিচারালয় > 📄 লি'আন এর বিধান

📄 লি'আন এর বিধান


মুয়াত্তা, বুখারী ও নাসাঈতে বর্ণিত আছে- সাহল ইবনু সা'দ ওয়াইমির আজলানী হযরত আসেম ইবনু আদ্দী আনসারী [রা] এর নিকট এসে বললেন, এক ব্যক্তি নিজের স্ত্রীর সাথে বিছানায় অন্য ব্যক্তিকে পেয়ে তাকে হত্যা করবে কি? যদি করে তাহলে নিহত ব্যক্তির ওয়ারিশগণ হত্যাকারীকে হত্যা করবে কিনা? এ ব্যাপারে ফায়সালা কি? তুমি নবী করীম [সা] এর নিকট এ মাসয়ালাটি জিজ্ঞেস করবে। তখন তিনি নবী করীম [সা] এর নিকট এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলেন। কিন্তু রাসূল [সা] এর নিকট প্রশ্নকারীর এ প্রশ্নটি অপছন্দ হলো। আসেম [রা] বাড়ী ফিরে এলেন। তখন ওয়াইমির [রা] তাকে জিজ্ঞেস করলেন, আমার প্রশ্নটি কি তুমি নবী করীম [সা] এর নিকট বলেছো? আসেম বললেন, বলেছিলাম। কিন্তু নবী করীম [সা] তা অপছন্দ করেছেন। তুমি এ ধরনের প্রশ্ন করে ভালো করোনি। শুনে ওয়াইমির [রা] বললেন, আল্লাহর কসম! আমি এর উত্তর না নিয়ে ছাড়বোনা। তখন তিনি নবী করীম [সা] এর কাছে লোকদের মাঝখানে গিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! এক ব্যক্তি নিজের স্ত্রীর সাথে কাউকে বিছানায় পেল তাকে হত্যা করবে? তারপর নিহত ব্যক্তির ওয়ারিশগণ তাকে হত্যা করবে, না করবে না? এ সম্পর্কে বিধান কি? তখন রাসূল [সা] বললেন, আল্লাহ্ তোমার ও তোমার স্ত্রীর সম্পর্কে বিধান দিয়েছেন। তোমাদেরকে লি'আন করতে হবে। যাও স্ত্রীকে নিয়ে এসো। অতঃপর তারা উভয়ে লি'আন করলো। যখন তারা লি'আন শেষ করলেন তখন ওয়াইমির বললেন, এরপর যদি আমি তাকে রাখি তবে মনে হবে, আমি তাকে ছোট কোনো অপবাদ দিয়েছি। 'রাসূল [সা] এর নির্দেশে তখন তিনি স্ত্রীকে তিন তালাক প্রদান করলেন। ইবনু শিহাব বলেছেন, 'পরবর্তীতে লি'আনকে শরীয়তের বিধান ঘোষনা করা হয়েছে।' বুখারী শরীফে আছে, ঐ স্ত্রীলোকটির সন্তানকে তার সাথে সম্বন্ধ করে ডাকা হতো।
অতঃপর ওয়ারিশ সংক্রান্ত বিধান জারী করা হয়েছে, ঐ সন্তান মায়ের ওয়ারিশ হবে এবং মাও ঐ সন্তানের ওয়ারিশ হবে আল্লাহর নির্দিষ্ট অংশ অনুযায়ী। বর্ণনাকারী সাহল [রা] বলেন- অতঃপর নবী করীম [সা] বললেন, 'তোমরা অপেক্ষায় থাকো-যদি মহিলা কালো রং, কালো চোখ, মাংসল উরু ও পা বিশিষ্ট সন্তান প্রসব করে তবে মনে করবো ওয়াইমি তার সম্পর্কে সত্য বলেছে। আর যদি রক্তিম বর্ণের ক্ষুদ্র কীটের ন্যায় রং বিশিষ্ট সন্তান প্রসব করে তবে মনে করবো ওয়াইমির মিথ্যে বলেছে। বর্ণনাকারী বলেন- অতঃপর মহিলাটি এমন বর্ণের সন্তান প্রসব করলো যাতে বুঝা যায় ওয়াইমির [রা] এর অভিযোগ সঠিক ছিলো।
বুখারী শরীফে ইবনু ওমর [রা] থেকে বর্ণিত- নবী করীম [সা] উভয়কে বললেন, তোমাদের হিসেব নিকেশ আল্লাহর জিম্মায়। তবে তোমাদের দু'জনের একজন অবশ্যই মিথ্যেবাদী। কাজেই তোমাদের কেউ কি তওবা করবে? তিনি একথাগুলো তিনবার বললেন। তারপর রাসূল [সা] তাদের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটিয়ে দিলেন। মুস্তাখ রাজায় আসবাগ থেকে বর্ণিত আছে, তিনি শুনেছেন, নবী করীম [সা] पुरुष ব্যক্তিকে লি'আনের পূর্বে বললেন- 'তুমি তোমার কথাকে ফিরিয়ে নাও, তোমার ওপর মিথ্যা অপবাদের শাস্তি আরোপ করা হবে এবং আল্লাহর নিকট তোমার তওবা করার সুযোগ মিলবে। আর আল্লাহ্ তোমার তওবা গ্রহণ করবেন। তখন তিনি বললেন, ঐ সত্তার কসম! যিনি আপনাকে সত্য সহকারে পাঠিয়েছেন, আমি কখনো আমার কথা ফিরিয়ে নেবো না। একথা চারবার বললেন।
প্রতিবারই নবী করীম [সা] আগের কথার পুনরাবৃত্তি করলেন। অতঃপর মহিলাকে সম্বোধন করে বললেন, আল্লাহকে ভয় করো এবং নিজের কৃত অপরাধ স্বীকার করো। আল্লাহ্ তোমার তওবা কবুল করবেন। সে বললো, ঐ সত্তার কসম যিনি আপনাকে সত্য দিয়ে পাঠিয়েছেন, সে আমার উপর মিথ্যে অপবাদ দিচ্ছে। তিনি তাকে উপরোক্ত কথা চার বার বললেন। অতঃপর কুরআনের নিম্নোক্ত আয়াতটি অবতীর্ণ হয়-
وَالَّذِينَ يَرْمُونَ أَزْوَاجَهُمْ وَلَمْ يَكُنْ لَهُمْ شُهَدَاءُ إِلَّا أَنْفُسَهُمْ فَشَهَادَةُ أَحَدِهِمْ أَرْبَعُ شَهَادَاتٍ بِاللَّهِ (ط) إِنَّهُ لَمِنَ الصَّدِقِينَ.
আর যারা নিজেদের স্ত্রী সম্পর্কে অভিযোগ করবে আর নিজেদের ছাড়া আর কোনো সাক্ষী উপস্থাপন করতে পারবে না, তাহলে তাদের মধ্যে একজন আল্লাহর কসম খেয়ে সাক্ষ্য দেবে যে, সে সত্যবাদী...। [সূরা আন নূর- ৬]
তখন নবী করীম [সা] বললেন,' উঠে সাক্ষ্য দাও।' ওয়াইমির [রা] বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমি কিভাবে সাক্ষ্য দেবো? তিনি বললেন, তুমি চারবার আল্লাহর নামে কসম করে বলবে, তুমি সত্যবাদী পঞ্চম বার বলবে-যদি আমি মিথ্যাবাদী হই তবে আমার ওপর আল্লাহর লা'নত পড়ুক।
তারপর তিনি স্ত্রীলোকটিকে ডেকে এনে জিজ্ঞেস করলেন-'তুমি কি সাক্ষ্য দেবে, না তোমাকে পাথর নিক্ষেপে হত্যা করার নির্দেশ দেবো?' সে বললো, আমি সাক্ষ্য দেবো। তারপর সে চারবার বললো, আমি আল্লাহর নামে শপথ করে বলছি সে মিথ্যাবাদী। এরপর সে নবী করীম [সা] কে জিজ্ঞেস করলো, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমি এখন কি বলবো? তিনি বললেন, এবার বলবে- যদি সে সত্যবাদী হয় তবে আমার উপর আল্লাহর গজব পড়ুক। সে কথা বলার পর তিনি তাদের দু'জনকে লক্ষ্য করে বললেন, এবার তোমরা যাও, আমি তোমাদেরকে পৃথক করে দিলাম। তোমাদের যে কোনো একজনের জন্য জাহান্নাম অবধারিত হয়ে গেলো। আর সন্তান মায়ের নামে পরিচিত হবে।
আবু দাউদে আছে- যখন চারবার মহিলার শপথ নেয়া হলো, তখন পঞ্চম বারের সময় তাকে বলা হলো, আল্লাহর সেই আজাবকে ভয় করো যা এবার তোমার উপর অবধারিত হয়ে যাবে। একথা শুনে স্ত্রীলোকটি কিছু সময় কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে রইলো, তারপর বললো, আল্লাহর কসম! আমি আমার বংশের কালিমা লেপন করবো না। তারপর সে পঞ্চমবারও সাক্ষ্য দিয়ে দিলো। তখন রাসূলে আকরাম [সা] তাদেরকে পৃথক করে দিলেন এবং বললেন, 'তার ছেলেকে পিতার নাম ধরে ডাকা যাবে না। আর যে ব্যক্তি ঐ স্ত্রীলোকের উপর অপবাদ দিয়েছে এবং সন্তানকে অস্বীকার করেছে, তার ওপর এর ভরণ পোষণের ব্যবস্থা করার দায়িত্বও নেই। তারা দু'জন আমৃত্যু একে অপরের জন্য হারাম।' আরো বললেন, 'যদি ঐ স্ত্রীলোকের সন্তানটি রক্তিম বর্ণের পেট বড়ো এবং লিকলিকে হয় তবে তা হেলাল ইবনু উমাইয়ার। আর যদি তা উচু কপাল, বোঁচা নাক ও বড়ো মাথা বিশিষ্ট হয় তবে ঐ সন্তান তার, যার সাথে স্ত্রীলোকটিকে সম্পর্কিত করে অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে। অবশেষে ঐ মহিলা নিন্দনীয় আকৃতির (যার বর্ণনা উপরে করা হয়েছে) সন্তানই প্রসব করলো। ইকরামা বলেছেন, সে সন্তান পরবর্তীতে মিশরের গভর্নর হয়েছিলো। তবু তাকে তার পিতার নামে ডাকা হয়নি।
বুখারী শরীফে বর্ণিত হয়েছে-আসেম ইবনু আদী [রা] ও তাঁর স্ত্রীর সাথে লি'আন করেছেন। বলেছেন- আমি এ ব্যাপারে মুখের একটি কথায় ফেঁসে গেছি।
উপরোক্ত ঘটনার সময় সাহল [রা] এর বয়স ছিলো পনের বৎসর। তারপর তিনি পঁচাশি বৎসর জীবিত ছিলেন। একশ' বৎসর বয়সে তিনি ইন্তিকাল করেন। মদীনায় ইস্তিকালকারী সর্বশেষ সাহাবী তিনি।

মুয়াত্তা, বুখারী ও নাসাঈতে বর্ণিত আছে- সাহল ইবনু সা'দ ওয়াইমির আজলানী হযরত আসেম ইবনু আদ্দী আনসারী [রা] এর নিকট এসে বললেন, এক ব্যক্তি নিজের স্ত্রীর সাথে বিছানায় অন্য ব্যক্তিকে পেয়ে তাকে হত্যা করবে কি? যদি করে তাহলে নিহত ব্যক্তির ওয়ারিশগণ হত্যাকারীকে হত্যা করবে কিনা? এ ব্যাপারে ফায়সালা কি? তুমি নবী করীম [সা] এর নিকট এ মাসয়ালাটি জিজ্ঞেস করবে। তখন তিনি নবী করীম [সা] এর নিকট এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলেন। কিন্তু রাসূল [সা] এর নিকট প্রশ্নকারীর এ প্রশ্নটি অপছন্দ হলো। আসেম [রা] বাড়ী ফিরে এলেন। তখন ওয়াইমির [রা] তাকে জিজ্ঞেস করলেন, আমার প্রশ্নটি কি তুমি নবী করীম [সা] এর নিকট বলেছো? আসেম বললেন, বলেছিলাম। কিন্তু নবী করীম [সা] তা অপছন্দ করেছেন। তুমি এ ধরনের প্রশ্ন করে ভালো করোনি। শুনে ওয়াইমির [রা] বললেন, আল্লাহর কসম! আমি এর উত্তর না নিয়ে ছাড়বোনা। তখন তিনি নবী করীম [সা] এর কাছে লোকদের মাঝখানে গিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! এক ব্যক্তি নিজের স্ত্রীর সাথে কাউকে বিছানায় পেল তাকে হত্যা করবে? তারপর নিহত ব্যক্তির ওয়ারিশগণ তাকে হত্যা করবে, না করবে না? এ সম্পর্কে বিধান কি? তখন রাসূল [সা] বললেন, আল্লাহ্ তোমার ও তোমার স্ত্রীর সম্পর্কে বিধান দিয়েছেন। তোমাদেরকে লি'আন করতে হবে। যাও স্ত্রীকে নিয়ে এসো। অতঃপর তারা উভয়ে লি'আন করলো। যখন তারা লি'আন শেষ করলেন তখন ওয়াইমির বললেন, এরপর যদি আমি তাকে রাখি তবে মনে হবে, আমি তাকে ছোট কোনো অপবাদ দিয়েছি। 'রাসূল [সা] এর নির্দেশে তখন তিনি স্ত্রীকে তিন তালাক প্রদান করলেন। ইবনু শিহাব বলেছেন, 'পরবর্তীতে লি'আনকে শরীয়তের বিধান ঘোষনা করা হয়েছে।' বুখারী শরীফে আছে, ঐ স্ত্রীলোকটির সন্তানকে তার সাথে সম্বন্ধ করে ডাকা হতো।
অতঃপর ওয়ারিশ সংক্রান্ত বিধান জারী করা হয়েছে, ঐ সন্তান মায়ের ওয়ারিশ হবে এবং মাও ঐ সন্তানের ওয়ারিশ হবে আল্লাহর নির্দিষ্ট অংশ অনুযায়ী। বর্ণনাকারী সাহল [রা] বলেন- অতঃপর নবী করীম [সা] বললেন, 'তোমরা অপেক্ষায় থাকো-যদি মহিলা কালো রং, কালো চোখ, মাংসল উরু ও পা বিশিষ্ট সন্তান প্রসব করে তবে মনে করবো ওয়াইমি তার সম্পর্কে সত্য বলেছে। আর যদি রক্তিম বর্ণের ক্ষুদ্র কীটের ন্যায় রং বিশিষ্ট সন্তান প্রসব করে তবে মনে করবো ওয়াইমির মিথ্যে বলেছে। বর্ণনাকারী বলেন- অতঃপর মহিলাটি এমন বর্ণের সন্তান প্রসব করলো যাতে বুঝা যায় ওয়াইমির [রা] এর অভিযোগ সঠিক ছিলো।
বুখারী শরীফে ইবনু ওমর [রা] থেকে বর্ণিত- নবী করীম [সা] উভয়কে বললেন, তোমাদের হিসেব নিকেশ আল্লাহর জিম্মায়। তবে তোমাদের দু'জনের একজন অবশ্যই মিথ্যেবাদী। কাজেই তোমাদের কেউ কি তওবা করবে? তিনি একথাগুলো তিনবার বললেন। তারপর রাসূল [সা] তাদের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটিয়ে দিলেন। মুস্তাখ রাজায় আসবাগ থেকে বর্ণিত আছে, তিনি শুনেছেন, নবী করীম [সা] पुरुष ব্যক্তিকে লি'আনের পূর্বে বললেন- 'তুমি তোমার কথাকে ফিরিয়ে নাও, তোমার ওপর মিথ্যা অপবাদের শাস্তি আরোপ করা হবে এবং আল্লাহর নিকট তোমার তওবা করার সুযোগ মিলবে। আর আল্লাহ্ তোমার তওবা গ্রহণ করবেন। তখন তিনি বললেন, ঐ সত্তার কসম! যিনি আপনাকে সত্য সহকারে পাঠিয়েছেন, আমি কখনো আমার কথা ফিরিয়ে নেবো না। একথা চারবার বললেন।
প্রতিবারই নবী করীম [সা] আগের কথার পুনরাবৃত্তি করলেন। অতঃপর মহিলাকে সম্বোধন করে বললেন, আল্লাহকে ভয় করো এবং নিজের কৃত অপরাধ স্বীকার করো। আল্লাহ্ তোমার তওবা কবুল করবেন। সে বললো, ঐ সত্তার কসম যিনি আপনাকে সত্য দিয়ে পাঠিয়েছেন, সে আমার উপর মিথ্যে অপবাদ দিচ্ছে। তিনি তাকে উপরোক্ত কথা চার বার বললেন। অতঃপর কুরআনের নিম্নোক্ত আয়াতটি অবতীর্ণ হয়-
وَالَّذِينَ يَرْمُونَ أَزْوَاجَهُمْ وَلَمْ يَكُنْ لَهُمْ شُهَدَاءُ إِلَّا أَنْفُسَهُمْ فَشَهَادَةُ أَحَدِهِمْ أَرْبَعُ شَهَادَاتٍ بِاللَّهِ (ط) إِنَّهُ لَمِنَ الصَّدِقِينَ.
আর যারা নিজেদের স্ত্রী সম্পর্কে অভিযোগ করবে আর নিজেদের ছাড়া আর কোনো সাক্ষী উপস্থাপন করতে পারবে না, তাহলে তাদের মধ্যে একজন আল্লাহর কসম খেয়ে সাক্ষ্য দেবে যে, সে সত্যবাদী...। [সূরা আন নূর- ৬]
তখন নবী করীম [সা] বললেন,' উঠে সাক্ষ্য দাও।' ওয়াইমির [রা] বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমি কিভাবে সাক্ষ্য দেবো? তিনি বললেন, তুমি চারবার আল্লাহর নামে কসম করে বলবে, তুমি সত্যবাদী পঞ্চম বার বলবে-যদি আমি মিথ্যাবাদী হই তবে আমার ওপর আল্লাহর লা'নত পড়ুক।
তারপর তিনি স্ত্রীলোকটিকে ডেকে এনে জিজ্ঞেস করলেন-'তুমি কি সাক্ষ্য দেবে, না তোমাকে পাথর নিক্ষেপে হত্যা করার নির্দেশ দেবো?' সে বললো, আমি সাক্ষ্য দেবো। তারপর সে চারবার বললো, আমি আল্লাহর নামে শপথ করে বলছি সে মিথ্যাবাদী। এরপর সে নবী করীম [সা] কে জিজ্ঞেস করলো, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমি এখন কি বলবো? তিনি বললেন, এবার বলবে- যদি সে সত্যবাদী হয় তবে আমার উপর আল্লাহর গজব পড়ুক। সে কথা বলার পর তিনি তাদের দু'জনকে লক্ষ্য করে বললেন, এবার তোমরা যাও, আমি তোমাদেরকে পৃথক করে দিলাম। তোমাদের যে কোনো একজনের জন্য জাহান্নাম অবধারিত হয়ে গেলো। আর সন্তান মায়ের নামে পরিচিত হবে।
আবু দাউদে আছে- যখন চারবার মহিলার শপথ নেয়া হলো, তখন পঞ্চম বারের সময় তাকে বলা হলো, আল্লাহর সেই আজাবকে ভয় করো যা এবার তোমার উপর অবধারিত হয়ে যাবে। একথা শুনে স্ত্রীলোকটি কিছু সময় কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে রইলো, তারপর বললো, আল্লাহর কসম! আমি আমার বংশের কালিমা লেপন করবো না। তারপর সে পঞ্চমবারও সাক্ষ্য দিয়ে দিলো। তখন রাসূলে আকরাম [সা] তাদেরকে পৃথক করে দিলেন এবং বললেন, 'তার ছেলেকে পিতার নাম ধরে ডাকা যাবে না। আর যে ব্যক্তি ঐ স্ত্রীলোকের উপর অপবাদ দিয়েছে এবং সন্তানকে অস্বীকার করেছে, তার ওপর এর ভরণ পোষণের ব্যবস্থা করার দায়িত্বও নেই। তারা দু'জন আমৃত্যু একে অপরের জন্য হারাম।' আরো বললেন, 'যদি ঐ স্ত্রীলোকের সন্তানটি রক্তিম বর্ণের পেট বড়ো এবং লিকলিকে হয় তবে তা হেলাল ইবনু উমাইয়ার। আর যদি তা উচু কপাল, বোঁচা নাক ও বড়ো মাথা বিশিষ্ট হয় তবে ঐ সন্তান তার, যার সাথে স্ত্রীলোকটিকে সম্পর্কিত করে অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে। অবশেষে ঐ মহিলা নিন্দনীয় আকৃতির (যার বর্ণনা উপরে করা হয়েছে) সন্তানই প্রসব করলো। ইকরামা বলেছেন, সে সন্তান পরবর্তীতে মিশরের গভর্নর হয়েছিলো। তবু তাকে তার পিতার নামে ডাকা হয়নি।
বুখারী শরীফে বর্ণিত হয়েছে-আসেম ইবনু আদী [রা] ও তাঁর স্ত্রীর সাথে লি'আন করেছেন। বলেছেন- আমি এ ব্যাপারে মুখের একটি কথায় ফেঁসে গেছি।
উপরোক্ত ঘটনার সময় সাহল [রা] এর বয়স ছিলো পনের বৎসর। তারপর তিনি পঁচাশি বৎসর জীবিত ছিলেন। একশ' বৎসর বয়সে তিনি ইন্তিকাল করেন। মদীনায় ইস্তিকালকারী সর্বশেষ সাহাবী তিনি।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00