📄 স্ত্রীদেরকে অবকাশ দেয়া
মুদুওনাহ্ ও অন্যান্য গ্রন্থে উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়িশা [রা] থেকে বর্ণিত- যখন নবী করীম [সা] কে নিজের স্ত্রীদের ব্যাপারে অবকাশ প্রদানের নির্দেশ দেয়া হলো, তখন তিনি সর্বপ্রথম আমাকে ডেকে বললেন, 'আমি তোমাকে একটি কথা বলবো, হুট করে জবাব দেয়ার দরকার নেই, ভেবে চিন্তে বলবে। এমনকি তুমি তোমার মা বাপের পরামর্শও গ্রহণ করতে পারো।' আমি বললাম, 'আপনি অবশ্যই জানেন, আমার মা বাপ আপনার কাছ থেকে পৃথক হবার পরামর্শ কোনো দিনই দেবেন না। তখন তিনি এ আয়াত পড়ে শুনালেন-
يَٰٓأَيُّهَا ٱلنَّبِيُّ قُلْ لِّأَزْوَٰجِكَ إِن كُنتُنَّ تُرِدْنَ ٱلْحَيَوٰةَ ٱلدُّنْيَا وَزِينَتَهَا فَتَعَالَيْنَ أُمَتِّعْكُنَّ وَأُسَرِّحْكُنَّ سَرَاحًا جَمِيلًا (۲۸) وَإِن كُنتُنَّ تُرِدْنَ ٱللَّهَ وَرَسُولَهُ وَٱلدَّارَ ٱلْآخِرَةَ فَإِنَّ ٱللَّهَ أَعَدَّ لِلْمُحْسِنَٰتِ مِنكُنَّ أَجْرًا عَظِيمًا (۲۹)
হে নবী! আপনি আপনার স্ত্রীদেরকে বলে দিন, যদি তোমরা দুনিয়া এবং তার স্বাদ আহলাদ ভোগ করতে চাও তবে এসো আমি তোমাদেরকে কিছু দিয়ে ভালোভাবে বিদায় করে দেই। আর যদি তোমরা পরকালের ঘর পেতে চাও, তবে জেনে রেখো, তোমাদের মধ্যে যারা সৎকর্মশীল তাদের জন্য বিরাট পুরস্কার নির্দিষ্ট করে রেখেছেন। [সূরা আল আহযাব-২৮-২৯]
আমি বললাম, এ ব্যাপারে আমি আমার মা বাপের সাথে কি আলাপ করবো। আমিতো আল্লাহ্, রাসূল ও পরকালের ঘরই চাই। আয়িশা [রা] আরো বলেন, সমস্ত স্ত্রী একই উত্তর প্রদান করলেন যা আমি বলেছিলাম। তবে এটা তালাক ছিলো না।
অধিকাংশ উলামাদের বক্তব্য হচ্ছে, যদি কোনো স্ত্রীকে অবকাশ দেয়া হয় এবং সে স্বামীর অধীনে থাকার সিদ্ধান্ত নেয় তবে তা তালাক হিসাবে গণ্য হবে না। যদি [স্ত্রী] বিচ্ছিন্নতাকে প্রাধান্য দেয় তবে তা তালাক হিসেবে গণ্য হবে। হযরত ওমর ইবনুল খাত্তাব [রা], হযরত যায়িদ ইবনু সাবিত [রা], হযরত ইবনু আব্বাস [রা] ও ইবনু মাসউদ [রা] প্রমুখ এর মতও তাই।
এ ব্যাপারে হযরত আলী ইবনু আবু তালিব [রা] ভিন্নমত পোষণ করেছেন। তিনি বলেছেন, এ অবস্থায় যদি স্ত্রী স্বামীকে গ্রহণ করে তবে এক তালাক (রিজঈ) গণ্য হবে, আর যদি স্ত্রী পৃথক হয়ে যায়, তবে তিন তালাক (বায়িন) কার্যকরী হবে। তাঁর থেকে আবদুর রাজ্জাক বর্ণনা করেছেন, স্ত্রী যদি পৃথক হওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় তবে এক তালাক বায়িন হবে। আর যদি স্ত্রী স্বামীর সাথে থাকার সিদ্ধান্ত নেয় তবে তা এক তালাক রিজঈ হবে। ইবনু সালাম তাঁর তাফসীরে কাতাদা [রা] হতে এবং মুসান্নাফ আবদুর রাজ্জাকে হাসান (বসরী) থেকে বর্ণিত হয়েছে, মহাপরাক্রমশালী আল্লাহ্ তাদেরকে দুনিয়া অথবা আখিরাতের যে কোনো একটিকে বেছে নেয়ার অধিকার দিয়েছিলেন, কিন্তু তালাকের অধিকার প্রদান করেননি।
📄 নিজের দাসীকে নিজের উপর হারাম করে নেয়া
মায়ানিজ জুযায এবং নুহাসে বর্ণিত আছে- নবী করীম [সা] জয়নাব বিনতে জাহাশ [রা] এর নিকট কিছুক্ষণ অবস্থান করতেন এবং মধু পান করতেন। আয়িশা [রা] বলেন, আমি এবং হাফসা পরামর্শ করলাম, নবী করীম [সা] আমাদের যার কাছে তাশরীফ আনবেন, আমরা বলবো, আপনার কাছ থেকে মাগাফিরের গন্ধ আসছে। জুযায বলেছেন, মাগাফির এক ধরনের দূর্গন্ধযুক্ত বস্তু। আবার এও বলা হয়েছে, মাগাফির ছিলো এক কুকুরের নাম। নবী করীম [সা] সর্বদা পরিচ্ছন্ন থাকতে পছন্দ করতেন। তিনি কখনো চাইতেন না যে কোনরূপ দূর্গন্ধ হোক। যাহোক নবী করীম [সা] তাঁর ঘরে তাশরীফ আনলেন। তিনি বললেন, আপনার কাছ থেকে মাগাফিরের গন্ধ আসছে। অতঃপর তিনি আরেকজনের ঘরে প্রবেশ করলেন। তখনও বলা হলো- আপনার কাছ থেকে মাগাফিরের গন্ধ আসছে। নবী করীম [সা] বললেন, তাই! ঠিক আছে আমি আর কখনো তার ধারে কাছেও যাবো না। নুহাস ও জুযায বলেন, তিনি কসম খেলেন এবং নিজের উপর তা হারাম করে নিলেন।
নুহাস আরো বলেছেন- হযরত আয়িশা [রা] এর পালার দিন তিনি ক্রীতদাসী মারিয়ার (যার গর্তে রাসূল [সা] এর এক পুত্র সন্তান জন্মগ্রহণ করেছিলো) সাথে হযরত হাফসা [রা] এর ঘরে মিলিত হন। হাফসা [রা] বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আপনি আমাকে অবজ্ঞা করলেন। আপনার স্ত্রীদের মধ্যেও তো কেউ আমার চেয়ে ফেলনা নয়। নবী করীম [সা] বললেন, এ খবর আয়িশা [রা] কে দিয়ো না। হাফসা [রা] স্বীকৃতি জ্ঞাপন করলেন, তিনি মারিয়ার ব্যাপারে কসম করলেন এবং তাকে নিজের জন্য হারাম করে নিলেন। কিন্তু হাস্সা [রা] হযরত আয়িশা [রা] এর নিকট কথাটি বলে ফেললেন এবং কাউকে না বলার জন্য অনুরোধ করলেন। এ ভাবে গোপন রাখার পরামর্শ দিতে দিতে কথাটি সব বেগমদের গোচরীভূত হলো। তখনই আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন তাঁর নবীকে জানিয়ে দিলেন-
وَإِذْ أَسَرَّ النَّبِيُّ إِلَى بَعْضٍ أَزْوَاجِهِ حَدِيثًا (ج) فَلَمَّا نَبَاتِ بِهِ وَاظْهَرَهُ اللَّهُ عَلَيْهِ عَرَّفَ بَعْضَهُ وَأَعْرَضَ عَنْ بَعْضٍ (ج) فَلَمَّا نَبَاهَا بِهِ قَالَتْ مَنْ أَنْبَاكَ هُذَا (ط) قَالَ نَبَانِيَ الْعَلِيمُ الْخَبِيرُ (1)
নবী একটি কথা তার এক স্ত্রীর নিকট অতি গোপনে বলেছিলেন। পরে সেই স্ত্রী যখন গোপন কথা প্রকাশ করে দিলো তখন আল্লাহ্ও তাঁর নবীকে একথা [প্রকাশ হওয়ার ব্যাপারে] জানিয়ে দিলেন। নবী [তাঁর স্ত্রীকে] এ বিষয়ে কিছুটা সতর্কতা করেছিলেন এবং কিছুটা বাদ দিয়েছিলেন। পরে যখন তার কাছে [নবী] জিজ্ঞেস করলেন, তখন সে বললো- আপনাকে এটা কে জানিয়ে দিলো? নবী করীম [সা] বললেন- 'আমাকে তিনিই জানিয়ে দিয়েছেন যিনি সব কিছু জানেন সর্বজ্ঞ।' (সূরা আত্ তাহরীম: ৩) সাথে সাথে একথাও বলে দিলেন-
يَأَيُّهَا النَّبِيُّ لِمَ تُحَرِّمُ مَا أَحَلَّ اللَّهُ لَكَ (ج) تَبْتَغِي مَرْضَاتَ أَزْوَاجَكَ (ط) وَاللَّهُ غَفُورٌ رَّحِيمٌ (.)
হে নবী! আপনি কেন তা হারাম করেন যা আল্লাহ্ আপনার জন্য হালাল করেছেন? তবে কি আপনি আপনার স্ত্রীদের সন্তুষ্টি পেতে চান? বস্তুত আল্লাহ্ অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও দয়াময়। [সূরা আত্ তাহরীম-১]
আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন তার নবীকে হালাল জিনিস হারাম করে নেবার কোনো অধিকার দেননি। আর এ অধিকার কোনো মানুষের থাকার তো প্রশ্নই উঠে না। এ ব্যাপারে নবী যে শপথ করেছিলেন, তার বিধানও আল্লাহ্ দিলেন। ইরশাদ হচ্ছে-
قَدْ فَرَضَ اللَّهُ لَكُمْ تَحِلَّةَ أَيْمَا نُكُمْ (ج) وَهُوَ الْعَلِيمُ الْحَكِيمُ (5)
আল্লাহ্ তোমাদের জন্য নিজেদের কসমের বাধ্যবাধকতা হতে নিস্কৃতি পাওয়ার উপায় বলে দিয়েছেন। আল্লাহ্ তোমাদের অভিভাবক। তিনি সর্বজ্ঞ ও মহাবিজ্ঞানী। [সূরা আত্ তাহরীমঃ ২]
একদল বলেছেন, উপরোক্ত আয়াতে কসমের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। অপর দলের মতে এ আয়াতে হারাম করার দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।
হাসান বসরী বলেছেন, বাঁদীর ব্যাপারে তাহরীম (হারাম) করা হলে তা কসমের পর্যায় গণ্য হবে। আর স্বাধীন স্ত্রীর ব্যাপারে তাহরীম (হারাম) করলে তা তালাক বলে গণ্য হবে। নবী করীম [সা] মারিয়ার জন্য একটি দাস মুক্ত করেছিলেন। এটা ছিলো বাঁদীর বিনিময়ে দেয়।
যদি স্বাধীন মহিলাকে বলা হয়, তুমি হারাম। তবে ইমাম মালিক [রহ] ও তার ছাত্রদের মতে তিন তালাক হবে। শর্তে হচ্ছে, যদি তার সাথে সহবাস হয়ে থাকে। তালাক দেয়ার নিয়ত না থাকলেও তালাক হবে। কুফাবাসী আলিমদের মতে তালাকের নিয়ত করলে তিন তালাক বায়িন হিসেবে পরিগণিত হবে। ইমাম শাফঈ [রহ] এর মতে এক তালাক রিজঈ হবে এবং স্বামী তাঁকে ইচ্ছে করলে ফিরিয়ে নিতে পারবে। আর যদি কসমের নিয়ত করে তবে কসম হবে।
মায়ানিজ জুযায এবং নুহাসে বর্ণিত আছে- নবী করীম [সা] জয়নাব বিনতে জাহাশ [রা] এর নিকট কিছুক্ষণ অবস্থান করতেন এবং মধু পান করতেন। আয়িশা [রা] বলেন, আমি এবং হাফসা পরামর্শ করলাম, নবী করীম [সা] আমাদের যার কাছে তাশরীফ আনবেন, আমরা বলবো, আপনার কাছ থেকে মাগাফিরের গন্ধ আসছে। জুযায বলেছেন, মাগাফির এক ধরনের দূর্গন্ধযুক্ত বস্তু। আবার এও বলা হয়েছে, মাগাফির ছিলো এক কুকুরের নাম। নবী করীম [সা] সর্বদা পরিচ্ছন্ন থাকতে পছন্দ করতেন। তিনি কখনো চাইতেন না যে কোনরূপ দূর্গন্ধ হোক। যাহোক নবী করীম [সা] তাঁর ঘরে তাশরীফ আনলেন। তিনি বললেন, আপনার কাছ থেকে মাগাফিরের গন্ধ আসছে। অতঃপর তিনি আরেকজনের ঘরে প্রবেশ করলেন। তখনও বলা হলো- আপনার কাছ থেকে মাগাফিরের গন্ধ আসছে। নবী করীম [সা] বললেন, তাই! ঠিক আছে আমি আর কখনো তার ধারে কাছেও যাবো না। নুহাস ও জুযায বলেন, তিনি কসম খেলেন এবং নিজের উপর তা হারাম করে নিলেন।
নুহাস আরো বলেছেন- হযরত আয়িশা [রা] এর পালার দিন তিনি ক্রীতদাসী মারিয়ার (যার গর্তে রাসূল [সা] এর এক পুত্র সন্তান জন্মগ্রহণ করেছিলো) সাথে হযরত হাফসা [রা] এর ঘরে মিলিত হন। হাফসা [রা] বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আপনি আমাকে অবজ্ঞা করলেন। আপনার স্ত্রীদের মধ্যেও তো কেউ আমার চেয়ে ফেলনা নয়। নবী করীম [সা] বললেন, এ খবর আয়িশা [রা] কে দিয়ো না। হাফসা [রা] স্বীকৃতি জ্ঞাপন করলেন, তিনি মারিয়ার ব্যাপারে কসম করলেন এবং তাকে নিজের জন্য হারাম করে নিলেন। কিন্তু হাস্সা [রা] হযরত আয়িশা [রা] এর নিকট কথাটি বলে ফেললেন এবং কাউকে না বলার জন্য অনুরোধ করলেন। এ ভাবে গোপন রাখার পরামর্শ দিতে দিতে কথাটি সব বেগমদের গোচরীভূত হলো। তখনই আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন তাঁর নবীকে জানিয়ে দিলেন-
وَإِذْ أَسَرَّ النَّبِيُّ إِلَى بَعْضٍ أَزْوَاجِهِ حَدِيثًا (ج) فَلَمَّا نَبَاتِ بِهِ وَاظْهَرَهُ اللَّهُ عَلَيْهِ عَرَّفَ بَعْضَهُ وَأَعْرَضَ عَنْ بَعْضٍ (ج) فَلَمَّا نَبَاهَا بِهِ قَالَتْ مَنْ أَنْبَاكَ هُذَا (ط) قَالَ نَبَانِيَ الْعَلِيمُ الْخَبِيرُ (1)
নবী একটি কথা তার এক স্ত্রীর নিকট অতি গোপনে বলেছিলেন। পরে সেই স্ত্রী যখন গোপন কথা প্রকাশ করে দিলো তখন আল্লাহ্ও তাঁর নবীকে একথা [প্রকাশ হওয়ার ব্যাপারে] জানিয়ে দিলেন। নবী [তাঁর স্ত্রীকে] এ বিষয়ে কিছুটা সতর্কতা করেছিলেন এবং কিছুটা বাদ দিয়েছিলেন। পরে যখন তার কাছে [নবী] জিজ্ঞেস করলেন, তখন সে বললো- আপনাকে এটা কে জানিয়ে দিলো? নবী করীম [সা] বললেন- 'আমাকে তিনিই জানিয়ে দিয়েছেন যিনি সব কিছু জানেন সর্বজ্ঞ।' (সূরা আত্ তাহরীম: ৩) সাথে সাথে একথাও বলে দিলেন-
يَأَيُّهَا النَّبِيُّ لِمَ تُحَرِّمُ مَا أَحَلَّ اللَّهُ لَكَ (ج) تَبْتَغِي مَرْضَاتَ أَزْوَاجَكَ (ط) وَاللَّهُ غَفُورٌ رَّحِيمٌ (.)
হে নবী! আপনি কেন তা হারাম করেন যা আল্লাহ্ আপনার জন্য হালাল করেছেন? তবে কি আপনি আপনার স্ত্রীদের সন্তুষ্টি পেতে চান? বস্তুত আল্লাহ্ অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও দয়াময়। [সূরা আত্ তাহরীম-১]
আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন তার নবীকে হালাল জিনিস হারাম করে নেবার কোনো অধিকার দেননি। আর এ অধিকার কোনো মানুষের থাকার তো প্রশ্নই উঠে না। এ ব্যাপারে নবী যে শপথ করেছিলেন, তার বিধানও আল্লাহ্ দিলেন। ইরশাদ হচ্ছে-
قَدْ فَرَضَ اللَّهُ لَكُمْ تَحِلَّةَ أَيْمَا نُكُمْ (ج) وَهُوَ الْعَلِيمُ الْحَكِيمُ (5)
আল্লাহ্ তোমাদের জন্য নিজেদের কসমের বাধ্যবাধকতা হতে নিস্কৃতি পাওয়ার উপায় বলে দিয়েছেন। আল্লাহ্ তোমাদের অভিভাবক। তিনি সর্বজ্ঞ ও মহাবিজ্ঞানী। [সূরা আত্ তাহরীমঃ ২]
একদল বলেছেন, উপরোক্ত আয়াতে কসমের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। অপর দলের মতে এ আয়াতে হারাম করার দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।
হাসান বসরী বলেছেন, বাঁদীর ব্যাপারে তাহরীম (হারাম) করা হলে তা কসমের পর্যায় গণ্য হবে। আর স্বাধীন স্ত্রীর ব্যাপারে তাহরীম (হারাম) করলে তা তালাক বলে গণ্য হবে। নবী করীম [সা] মারিয়ার জন্য একটি দাস মুক্ত করেছিলেন। এটা ছিলো বাঁদীর বিনিময়ে দেয়।
যদি স্বাধীন মহিলাকে বলা হয়, তুমি হারাম। তবে ইমাম মালিক [রহ] ও তার ছাত্রদের মতে তিন তালাক হবে। শর্তে হচ্ছে, যদি তার সাথে সহবাস হয়ে থাকে। তালাক দেয়ার নিয়ত না থাকলেও তালাক হবে। কুফাবাসী আলিমদের মতে তালাকের নিয়ত করলে তিন তালাক বায়িন হিসেবে পরিগণিত হবে। ইমাম শাফঈ [রহ] এর মতে এক তালাক রিজঈ হবে এবং স্বামী তাঁকে ইচ্ছে করলে ফিরিয়ে নিতে পারবে। আর যদি কসমের নিয়ত করে তবে কসম হবে।
📄 তিন এর চেয়ে কম তালাক
মুসান্নাফ আবদুর রাজ্জাকে মালিক ও সুফিয়ান ইবনু উয়াইনাহ্ জাহেরী থেকে এবং তারা যথাক্রমে ইবনু মুসাইয়্যিব, হামিদ ইবনু আবদুর রহমান, উবাইদুল্লাহ্ ইবনু আবদুল্লাহ্ ইবনু উতবা এবং সুলাইমান ইবনু ইয়াসার থেকে বর্ণনা করেছেন, 'আমি হযরত আবু হুরাইরা [রা] কে বলতে শুনেছি যে, ওমর [রা] বলেছেন, যে স্ত্রীকে তার স্বামী এক অথবা দু'তালাক দেয়। তারপর সে অন্য স্বামীর নিকট বিয়ে বসে সেই স্বামী আবার তাকে তালাক দেয় অথবা মরে যায় অতঃপর প্রথম স্বামী তাকে পুনরায় বিয়ে করে। তাহলে প্রথম স্বামী নির্দিষ্ট তিনটি তালাক থেকে অবশিষ্ট তালাকের অধিকারী হবে।
হযরত আলী ইবনু আবী তালিব [রা] ও উবাই ইবনু কা'ব [রা] হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ [সা] এক মহিলার ব্যাপারে এই ফায়সালা দিয়েছেন, স্বামী পরবর্তীতে শুধুমাত্র অবশিষ্ট তালাকের মালিক হবে। ইমাম মালিক [রহ] হযরত ইবনু আব্বাস [রা] থেকে বর্ণনা করেছেন, নতুন বিয়ে নতুন তালাকের অধিকারী বানিয়ে দেয় [অর্থাৎ নতুন বিয়ে করলে স্বামী পূর্ণ তিন তালাকের ক্ষমতাপ্রাপ্ত হয়।] ইবনু ওমর [রা], ইবনু মাসউদ [রা] ও আতা [রহ] এ মত ব্যক্ত করেছেন। সুফিয়ান সাওরী [রহ] ও মা'মার [রহ] এর মতে যদি সেই স্ত্রী অন্য একজনের স্ত্রী হিসেবে ঘর সংসার করে পুনরায় আগের স্বামীর নিকট আসে তাহলে পূর্বের স্বামী তিনটি তালাকের অধিকারী হবেন। আর যদি তালাক এমন হয় যে, স্ত্রীর অন্যত্র বিয়ে বসার প্রয়োজন নেই শুধু প্রথম স্বামীর সাথে পুনরায় বিয়ে পড়ালেই হয়ে যায় তাহলে স্বামী অবশিষ্ট তালাকের অধিকারী হবেন। মা'মার [রহ] বলেন, ইব্রাহীম নখঈ [রহ] ও এ মতকে সমর্থন করেছেন।
টিকাঃ
২. কাফ্ফারা আদায় করে কসমের বাধ্যবাধকতা থেকে মুক্তি পাওয়ার বিধান সূরা আল মায়িদার ৮৯ নং আয়াতে বলে দেয়া হয়েছে। -অনুবাদক।
মুসান্নাফ আবদুর রাজ্জাকে মালিক ও সুফিয়ান ইবনু উয়াইনাহ্ জাহেরী থেকে এবং তারা যথাক্রমে ইবনু মুসাইয়্যিব, হামিদ ইবনু আবদুর রহমান, উবাইদুল্লাহ্ ইবনু আবদুল্লাহ্ ইবনু উতবা এবং সুলাইমান ইবনু ইয়াসার থেকে বর্ণনা করেছেন, 'আমি হযরত আবু হুরাইরা [রা] কে বলতে শুনেছি যে, ওমর [রা] বলেছেন, যে স্ত্রীকে তার স্বামী এক অথবা দু'তালাক দেয়। তারপর সে অন্য স্বামীর নিকট বিয়ে বসে সেই স্বামী আবার তাকে তালাক দেয় অথবা মরে যায় অতঃপর প্রথম স্বামী তাকে পুনরায় বিয়ে করে। তাহলে প্রথম স্বামী নির্দিষ্ট তিনটি তালাক থেকে অবশিষ্ট তালাকের অধিকারী হবে।
হযরত আলী ইবনু আবী তালিব [রা] ও উবাই ইবনু কা'ব [রা] হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ [সা] এক মহিলার ব্যাপারে এই ফায়সালা দিয়েছেন, স্বামী পরবর্তীতে শুধুমাত্র অবশিষ্ট তালাকের মালিক হবে। ইমাম মালিক [রহ] হযরত ইবনু আব্বাস [রা] থেকে বর্ণনা করেছেন, নতুন বিয়ে নতুন তালাকের অধিকারী বানিয়ে দেয় [অর্থাৎ নতুন বিয়ে করলে স্বামী পূর্ণ তিন তালাকের ক্ষমতাপ্রাপ্ত হয়।] ইবনু ওমর [রা], ইবনু মাসউদ [রা] ও আতা [রহ] এ মত ব্যক্ত করেছেন। সুফিয়ান সাওরী [রহ] ও মা'মার [রহ] এর মতে যদি সেই স্ত্রী অন্য একজনের স্ত্রী হিসেবে ঘর সংসার করে পুনরায় আগের স্বামীর নিকট আসে তাহলে পূর্বের স্বামী তিনটি তালাকের অধিকারী হবেন। আর যদি তালাক এমন হয় যে, স্ত্রীর অন্যত্র বিয়ে বসার প্রয়োজন নেই শুধু প্রথম স্বামীর সাথে পুনরায় বিয়ে পড়ালেই হয়ে যায় তাহলে স্বামী অবশিষ্ট তালাকের অধিকারী হবেন। মা'মার [রহ] বলেন, ইব্রাহীম নখঈ [রহ] ও এ মতকে সমর্থন করেছেন।
টিকাঃ
২. কাফ্ফারা আদায় করে কসমের বাধ্যবাধকতা থেকে মুক্তি পাওয়ার বিধান সূরা আল মায়িদার ৮৯ নং আয়াতে বলে দেয়া হয়েছে। -অনুবাদক।
📄 সন্তান প্রতিপালনে মা সন্তানের অধিকতর হকদার, খালা মায়ের স্থলাভিষিক্ত
মুসান্নাফ আবদুর রাজ্জাকে হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনু আমর [রা] হতে বর্ণিত-এক মহিলাকে তার স্বামী তালাক দিলো এবং তার সন্তান রেখে দিতে চাইলো। তখন সেই মহিলা নবী করীম (সা) এর দরবারে নালিশ করলো, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমার বুক ছিলো ঐ বাচ্চার নিরাপদ স্থান এবং আমার স্তন (ছিলো) তার মশক এবং আমার কোল তার ঠিকানা। তার পিতা আমাকে তালাক দিয়েছে এবং সে চাচ্ছে আমার সন্তানকে আমার বুক থেকে ছিনিয়ে নিতে। নবী করীম [সা] বললেন, 'যতোদিন তুমি অন্যত্র বিয়ে না বসো ততোদিন তুমিই সন্তান পালনের অধিকতর হকদার।'
মুসান্নাফ আবদুর রাজ্জাকে হযরত আবু হুরাইরা [রা] থেকে বর্ণিত আরেক হাদীসে আছে, সন্তান প্রতিপালনের বিষয়ে মা বাপ দুজনে ঝগড়া করেছিলো। নবী করীম (সা) এর কাছে স্ত্রীলোকটি বললো, আমার স্বামী চাচ্ছে আমার কাছ থেকে বাচ্চাটিকে ছিনিয়ে নিতে। সে আমাকে আবু উতবার কূপ থেকে পানি এনে পান করায়। নবী করীম (সা) ছেলেটিকে বললেন, 'এ তোমার মা এবং এ তোমার বাপ, তুমি যার কাছে ইচ্ছে যেতে পারো।' তখন ছেলেটি তার মায়ের হাত ধরলো। মা তাকে নিয়ে গেলো।
বুখারী ও মুসলিম আছে- নবী করীম [সা] যখন উমরাতুল কাযা আদায় করেছিলেন এবং নির্দিষ্ট সময় উত্তীর্ণ হয়ে গিয়েছিলো, তখন মক্কাবাসী হযরত আলী [রা] কে বললো, আপনার বন্ধুকে চলে যেতে বলুন। রাসূলে আকরাম [রা] রওয়ানা হলেন। এমন সময় হযরত হামজা [রা] এর কন্যা চাচা! চাচা !! বলতে বলতে পেছনে পেছনে আসছিলো।
হযরত আলী [রা] তাকে সওয়ারীর উপর উঠিয়ে নিলেন এবং ফাতিমা [রা] কে বললেন, এ তোমার চাচার মেয়ে। কাজেই একে প্রতিপালন করবে। হযরত আলী [রা], হযরত যায়িদ [রা] ও হযরত জাফর [রা] এর মধ্যে ঐ মেয়ের অভিভাবকত্ব নিয়ে ঝগড়া শুরু হলো। হযরত আলী [রা] বললেন, এতো আমার চাচার কন্যা আর এর খালাও আমার স্ত্রী। যায়িদ [রা] বললেন, এ আমার ভাইয়ের মেয়ে। নবী করীম [সা] তখন ফায়সালা দিলেন, 'মা খালার স্থলাভিষিক্ত।' তারপর তিনি মেয়েটিকে খালার জিম্মায় দিয়ে দিলেন।
টিকাঃ
৩. হযরত হামজা [রা] নবী করীম (সা) এর আপন চাচা ছিলেন, এ হিসেবে তার কন্যা নবী করীম (সা) এর বোন হতো। কিন্তু আবার হামজা [রা] নবী করীম [সা] রিযাঈ ভাই ছিলেন অর্থাৎ উভয়ে এক মহিলার দুধ পান করেছিলেন। আরবে রিযাঈ সম্পর্ককে সবচেয়ে বেশী গুরুত্ব দেযা হতো। এজন্য হামজা [রা] এর কন্যা নবী করীম (সা) কে চাচা বলে সম্বোধন করেছিলেন।
৪. যায়িদ নবী করীম [সা] এর আযাদকৃত গোলাম ছিলেন। যখন হিজরতের পর নবী করীম [সা] مسلمانوں মধ্যে ভ্রাতৃত্ব স্থাপন করে দেন তখন যায়িদ [রা] কে হামজা [রা] এর ভাই বানিয়ে দেন।
মুসান্নাফ আবদুর রাজ্জাকে হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনু আমর [রা] হতে বর্ণিত-এক মহিলাকে তার স্বামী তালাক দিলো এবং তার সন্তান রেখে দিতে চাইলো। তখন সেই মহিলা নবী করীম (সা) এর দরবারে নালিশ করলো, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমার বুক ছিলো ঐ বাচ্চার নিরাপদ স্থান এবং আমার স্তন (ছিলো) তার মশক এবং আমার কোল তার ঠিকানা। তার পিতা আমাকে তালাক দিয়েছে এবং সে চাচ্ছে আমার সন্তানকে আমার বুক থেকে ছিনিয়ে নিতে। নবী করীম [সা] বললেন, 'যতোদিন তুমি অন্যত্র বিয়ে না বসো ততোদিন তুমিই সন্তান পালনের অধিকতর হকদার।'
মুসান্নাফ আবদুর রাজ্জাকে হযরত আবু হুরাইরা [রা] থেকে বর্ণিত আরেক হাদীসে আছে, সন্তান প্রতিপালনের বিষয়ে মা বাপ দুজনে ঝগড়া করেছিলো। নবী করীম (সা) এর কাছে স্ত্রীলোকটি বললো, আমার স্বামী চাচ্ছে আমার কাছ থেকে বাচ্চাটিকে ছিনিয়ে নিতে। সে আমাকে আবু উতবার কূপ থেকে পানি এনে পান করায়। নবী করীম (সা) ছেলেটিকে বললেন, 'এ তোমার মা এবং এ তোমার বাপ, তুমি যার কাছে ইচ্ছে যেতে পারো।' তখন ছেলেটি তার মায়ের হাত ধরলো। মা তাকে নিয়ে গেলো।
বুখারী ও মুসলিম আছে- নবী করীম [সা] যখন উমরাতুল কাযা আদায় করেছিলেন এবং নির্দিষ্ট সময় উত্তীর্ণ হয়ে গিয়েছিলো, তখন মক্কাবাসী হযরত আলী [রা] কে বললো, আপনার বন্ধুকে চলে যেতে বলুন। রাসূলে আকরাম [রা] রওয়ানা হলেন। এমন সময় হযরত হামজা [রা] এর কন্যা চাচা! চাচা !! বলতে বলতে পেছনে পেছনে আসছিলো।
হযরত আলী [রা] তাকে সওয়ারীর উপর উঠিয়ে নিলেন এবং ফাতিমা [রা] কে বললেন, এ তোমার চাচার মেয়ে। কাজেই একে প্রতিপালন করবে। হযরত আলী [রা], হযরত যায়িদ [রা] ও হযরত জাফর [রা] এর মধ্যে ঐ মেয়ের অভিভাবকত্ব নিয়ে ঝগড়া শুরু হলো। হযরত আলী [রা] বললেন, এতো আমার চাচার কন্যা আর এর খালাও আমার স্ত্রী। যায়িদ [রা] বললেন, এ আমার ভাইয়ের মেয়ে। নবী করীম [সা] তখন ফায়সালা দিলেন, 'মা খালার স্থলাভিষিক্ত।' তারপর তিনি মেয়েটিকে খালার জিম্মায় দিয়ে দিলেন।
টিকাঃ
৩. হযরত হামজা [রা] নবী করীম (সা) এর আপন চাচা ছিলেন, এ হিসেবে তার কন্যা নবী করীম (সা) এর বোন হতো। কিন্তু আবার হামজা [রা] নবী করীম [সা] রিযাঈ ভাই ছিলেন অর্থাৎ উভয়ে এক মহিলার দুধ পান করেছিলেন। আরবে রিযাঈ সম্পর্ককে সবচেয়ে বেশী গুরুত্ব দেযা হতো। এজন্য হামজা [রা] এর কন্যা নবী করীম (সা) কে চাচা বলে সম্বোধন করেছিলেন।
৪. যায়িদ নবী করীম [সা] এর আযাদকৃত গোলাম ছিলেন। যখন হিজরতের পর নবী করীম [সা] مسلمانوں মধ্যে ভ্রাতৃত্ব স্থাপন করে দেন তখন যায়িদ [রা] কে হামজা [রা] এর ভাই বানিয়ে দেন।