📄 ঐ দাসী প্রসঙ্গে যাকে তার স্বামীর ব্যাপারে ইখতিয়ার দেয়া হয়েছে
উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়িশা [রা] থেকে মুয়াত্তা, বুখারী ও নাসাঈতে বর্ণিত হয়েছে, বারীরার কারণে তিনটি সুন্নাত প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
এক. যখন তাকে মুক্ত করে দেয়া হয় তখন তার স্বামীর সাথে বিয়ে ঠিক রাখা না রাখার ইখতিয়ার দেয়া হয়।
দুই. রাসূল [সা] বলেছেন, 'যে দাস মুক্ত করে দেবে সে ঐ গোলামের ওয়ারিশ।
তিন. নবী করীম (সা) যখন তার ঘরে প্রবেশ করেন তখন একটি পাত্রে গোশত রান্না করা হচ্ছিলো, কিন্তু যখন তাঁর সামনে খানা হাজির করা হলো তখন তিনি বললেন, 'আমি কি তোমাকে হাড্ডি ওয়ালা গোস্ত রান্না করতে দেখিনি?' সে বললো, 'ইয়া রাসুলাল্লাহ্! আপনি ঠিক দেখেছেন। কিন্তু সেগুলোতো বারীরার জন্য সদকার গোশত। আপনিতো সদকার কোনো জিনিস গ্রহণ করেন না।' হুজুর পাক [সা] বললেন, 'সে তো বারীরার জন্য সদকা কিন্তু আমার জন্য তা হাদীয়া' [লাকি সাদাকাতুন ওয়ালিয়া হাদিয়াহ্। ওয়াজিহায় বর্ণনা করা হয়েছে- বারীরার কারণে চারটি সুন্নাত জারী হয়েছে, তারপর উপরোক্ত তিনটি বর্ণনা করা হয়েছে এবং চতুর্থ সুন্নাত সম্পর্কে বলা হয়েছে- তাকে তিন হায়েয [তিনটি ঋতু অবস্থা] ইদ্দত পালনের নির্দেশ দিয়েছিলেন।
বুখারী, মুসলিম ও নাসাঈতে বলা হয়েছে- বারীরার স্বামী ছিলো এক হাবশী ক্রীতদাস যাকে মুগীস বলা হতো। উক্ত গ্রন্থের অন্য বর্ণনায় আছে- সে স্বাধীন ছিলো। উরওয়া বলেন, মুক্ত হওয়ার পরও তাকে ক্ষমতা দেয়া হয়নি। বস্তুত, সঠিক কথা হচ্ছে বারীরার স্বামী ক্রীতদাস ছিলো।
📄 যদি স্ত্রী তালাক দানের স্বীকৃতি স্বরূপ সাক্ষ্য প্রদান করে এবং স্বামী তা অস্বীকার করে
আমর ইবনু শুয়াইব দাদা থেকে এবং তিনি নবী করীম [সা] থেকে বর্ণনা করেছেন, যখন কোনো মহিলা স্বামী তালাক দিয়েছে বলে দাবী করবে এবং একজন সাক্ষী উপস্থিত করবে তখন স্বামীর কাছ থেকে শপথ গ্রহণ করতে হবে। যদি সে শপথ করে তবে সাক্ষীর সাক্ষ্য বাতিল হয়ে যাবে। আর যদি সে শপথ করতে অস্বীকার করে, তবে তার অস্বীকার দ্বিতীয় সাক্ষীর স্থলাভিষিক্ত হবে এবং তালাক কার্যকরী হয়ে যাবে।
📄 স্ত্রীদেরকে অবকাশ দেয়া
মুদুওনাহ্ ও অন্যান্য গ্রন্থে উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়িশা [রা] থেকে বর্ণিত- যখন নবী করীম [সা] কে নিজের স্ত্রীদের ব্যাপারে অবকাশ প্রদানের নির্দেশ দেয়া হলো, তখন তিনি সর্বপ্রথম আমাকে ডেকে বললেন, 'আমি তোমাকে একটি কথা বলবো, হুট করে জবাব দেয়ার দরকার নেই, ভেবে চিন্তে বলবে। এমনকি তুমি তোমার মা বাপের পরামর্শও গ্রহণ করতে পারো।' আমি বললাম, 'আপনি অবশ্যই জানেন, আমার মা বাপ আপনার কাছ থেকে পৃথক হবার পরামর্শ কোনো দিনই দেবেন না। তখন তিনি এ আয়াত পড়ে শুনালেন-
يَٰٓأَيُّهَا ٱلنَّبِيُّ قُلْ لِّأَزْوَٰجِكَ إِن كُنتُنَّ تُرِدْنَ ٱلْحَيَوٰةَ ٱلدُّنْيَا وَزِينَتَهَا فَتَعَالَيْنَ أُمَتِّعْكُنَّ وَأُسَرِّحْكُنَّ سَرَاحًا جَمِيلًا (۲۸) وَإِن كُنتُنَّ تُرِدْنَ ٱللَّهَ وَرَسُولَهُ وَٱلدَّارَ ٱلْآخِرَةَ فَإِنَّ ٱللَّهَ أَعَدَّ لِلْمُحْسِنَٰتِ مِنكُنَّ أَجْرًا عَظِيمًا (۲۹)
হে নবী! আপনি আপনার স্ত্রীদেরকে বলে দিন, যদি তোমরা দুনিয়া এবং তার স্বাদ আহলাদ ভোগ করতে চাও তবে এসো আমি তোমাদেরকে কিছু দিয়ে ভালোভাবে বিদায় করে দেই। আর যদি তোমরা পরকালের ঘর পেতে চাও, তবে জেনে রেখো, তোমাদের মধ্যে যারা সৎকর্মশীল তাদের জন্য বিরাট পুরস্কার নির্দিষ্ট করে রেখেছেন। [সূরা আল আহযাব-২৮-২৯]
আমি বললাম, এ ব্যাপারে আমি আমার মা বাপের সাথে কি আলাপ করবো। আমিতো আল্লাহ্, রাসূল ও পরকালের ঘরই চাই। আয়িশা [রা] আরো বলেন, সমস্ত স্ত্রী একই উত্তর প্রদান করলেন যা আমি বলেছিলাম। তবে এটা তালাক ছিলো না।
অধিকাংশ উলামাদের বক্তব্য হচ্ছে, যদি কোনো স্ত্রীকে অবকাশ দেয়া হয় এবং সে স্বামীর অধীনে থাকার সিদ্ধান্ত নেয় তবে তা তালাক হিসাবে গণ্য হবে না। যদি [স্ত্রী] বিচ্ছিন্নতাকে প্রাধান্য দেয় তবে তা তালাক হিসেবে গণ্য হবে। হযরত ওমর ইবনুল খাত্তাব [রা], হযরত যায়িদ ইবনু সাবিত [রা], হযরত ইবনু আব্বাস [রা] ও ইবনু মাসউদ [রা] প্রমুখ এর মতও তাই।
এ ব্যাপারে হযরত আলী ইবনু আবু তালিব [রা] ভিন্নমত পোষণ করেছেন। তিনি বলেছেন, এ অবস্থায় যদি স্ত্রী স্বামীকে গ্রহণ করে তবে এক তালাক (রিজঈ) গণ্য হবে, আর যদি স্ত্রী পৃথক হয়ে যায়, তবে তিন তালাক (বায়িন) কার্যকরী হবে। তাঁর থেকে আবদুর রাজ্জাক বর্ণনা করেছেন, স্ত্রী যদি পৃথক হওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় তবে এক তালাক বায়িন হবে। আর যদি স্ত্রী স্বামীর সাথে থাকার সিদ্ধান্ত নেয় তবে তা এক তালাক রিজঈ হবে। ইবনু সালাম তাঁর তাফসীরে কাতাদা [রা] হতে এবং মুসান্নাফ আবদুর রাজ্জাকে হাসান (বসরী) থেকে বর্ণিত হয়েছে, মহাপরাক্রমশালী আল্লাহ্ তাদেরকে দুনিয়া অথবা আখিরাতের যে কোনো একটিকে বেছে নেয়ার অধিকার দিয়েছিলেন, কিন্তু তালাকের অধিকার প্রদান করেননি।
📄 নিজের দাসীকে নিজের উপর হারাম করে নেয়া
মায়ানিজ জুযায এবং নুহাসে বর্ণিত আছে- নবী করীম [সা] জয়নাব বিনতে জাহাশ [রা] এর নিকট কিছুক্ষণ অবস্থান করতেন এবং মধু পান করতেন। আয়িশা [রা] বলেন, আমি এবং হাফসা পরামর্শ করলাম, নবী করীম [সা] আমাদের যার কাছে তাশরীফ আনবেন, আমরা বলবো, আপনার কাছ থেকে মাগাফিরের গন্ধ আসছে। জুযায বলেছেন, মাগাফির এক ধরনের দূর্গন্ধযুক্ত বস্তু। আবার এও বলা হয়েছে, মাগাফির ছিলো এক কুকুরের নাম। নবী করীম [সা] সর্বদা পরিচ্ছন্ন থাকতে পছন্দ করতেন। তিনি কখনো চাইতেন না যে কোনরূপ দূর্গন্ধ হোক। যাহোক নবী করীম [সা] তাঁর ঘরে তাশরীফ আনলেন। তিনি বললেন, আপনার কাছ থেকে মাগাফিরের গন্ধ আসছে। অতঃপর তিনি আরেকজনের ঘরে প্রবেশ করলেন। তখনও বলা হলো- আপনার কাছ থেকে মাগাফিরের গন্ধ আসছে। নবী করীম [সা] বললেন, তাই! ঠিক আছে আমি আর কখনো তার ধারে কাছেও যাবো না। নুহাস ও জুযায বলেন, তিনি কসম খেলেন এবং নিজের উপর তা হারাম করে নিলেন।
নুহাস আরো বলেছেন- হযরত আয়িশা [রা] এর পালার দিন তিনি ক্রীতদাসী মারিয়ার (যার গর্তে রাসূল [সা] এর এক পুত্র সন্তান জন্মগ্রহণ করেছিলো) সাথে হযরত হাফসা [রা] এর ঘরে মিলিত হন। হাফসা [রা] বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আপনি আমাকে অবজ্ঞা করলেন। আপনার স্ত্রীদের মধ্যেও তো কেউ আমার চেয়ে ফেলনা নয়। নবী করীম [সা] বললেন, এ খবর আয়িশা [রা] কে দিয়ো না। হাফসা [রা] স্বীকৃতি জ্ঞাপন করলেন, তিনি মারিয়ার ব্যাপারে কসম করলেন এবং তাকে নিজের জন্য হারাম করে নিলেন। কিন্তু হাস্সা [রা] হযরত আয়িশা [রা] এর নিকট কথাটি বলে ফেললেন এবং কাউকে না বলার জন্য অনুরোধ করলেন। এ ভাবে গোপন রাখার পরামর্শ দিতে দিতে কথাটি সব বেগমদের গোচরীভূত হলো। তখনই আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন তাঁর নবীকে জানিয়ে দিলেন-
وَإِذْ أَسَرَّ النَّبِيُّ إِلَى بَعْضٍ أَزْوَاجِهِ حَدِيثًا (ج) فَلَمَّا نَبَاتِ بِهِ وَاظْهَرَهُ اللَّهُ عَلَيْهِ عَرَّفَ بَعْضَهُ وَأَعْرَضَ عَنْ بَعْضٍ (ج) فَلَمَّا نَبَاهَا بِهِ قَالَتْ مَنْ أَنْبَاكَ هُذَا (ط) قَالَ نَبَانِيَ الْعَلِيمُ الْخَبِيرُ (1)
নবী একটি কথা তার এক স্ত্রীর নিকট অতি গোপনে বলেছিলেন। পরে সেই স্ত্রী যখন গোপন কথা প্রকাশ করে দিলো তখন আল্লাহ্ও তাঁর নবীকে একথা [প্রকাশ হওয়ার ব্যাপারে] জানিয়ে দিলেন। নবী [তাঁর স্ত্রীকে] এ বিষয়ে কিছুটা সতর্কতা করেছিলেন এবং কিছুটা বাদ দিয়েছিলেন। পরে যখন তার কাছে [নবী] জিজ্ঞেস করলেন, তখন সে বললো- আপনাকে এটা কে জানিয়ে দিলো? নবী করীম [সা] বললেন- 'আমাকে তিনিই জানিয়ে দিয়েছেন যিনি সব কিছু জানেন সর্বজ্ঞ।' (সূরা আত্ তাহরীম: ৩) সাথে সাথে একথাও বলে দিলেন-
يَأَيُّهَا النَّبِيُّ لِمَ تُحَرِّمُ مَا أَحَلَّ اللَّهُ لَكَ (ج) تَبْتَغِي مَرْضَاتَ أَزْوَاجَكَ (ط) وَاللَّهُ غَفُورٌ رَّحِيمٌ (.)
হে নবী! আপনি কেন তা হারাম করেন যা আল্লাহ্ আপনার জন্য হালাল করেছেন? তবে কি আপনি আপনার স্ত্রীদের সন্তুষ্টি পেতে চান? বস্তুত আল্লাহ্ অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও দয়াময়। [সূরা আত্ তাহরীম-১]
আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন তার নবীকে হালাল জিনিস হারাম করে নেবার কোনো অধিকার দেননি। আর এ অধিকার কোনো মানুষের থাকার তো প্রশ্নই উঠে না। এ ব্যাপারে নবী যে শপথ করেছিলেন, তার বিধানও আল্লাহ্ দিলেন। ইরশাদ হচ্ছে-
قَدْ فَرَضَ اللَّهُ لَكُمْ تَحِلَّةَ أَيْمَا نُكُمْ (ج) وَهُوَ الْعَلِيمُ الْحَكِيمُ (5)
আল্লাহ্ তোমাদের জন্য নিজেদের কসমের বাধ্যবাধকতা হতে নিস্কৃতি পাওয়ার উপায় বলে দিয়েছেন। আল্লাহ্ তোমাদের অভিভাবক। তিনি সর্বজ্ঞ ও মহাবিজ্ঞানী। [সূরা আত্ তাহরীমঃ ২]
একদল বলেছেন, উপরোক্ত আয়াতে কসমের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। অপর দলের মতে এ আয়াতে হারাম করার দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।
হাসান বসরী বলেছেন, বাঁদীর ব্যাপারে তাহরীম (হারাম) করা হলে তা কসমের পর্যায় গণ্য হবে। আর স্বাধীন স্ত্রীর ব্যাপারে তাহরীম (হারাম) করলে তা তালাক বলে গণ্য হবে। নবী করীম [সা] মারিয়ার জন্য একটি দাস মুক্ত করেছিলেন। এটা ছিলো বাঁদীর বিনিময়ে দেয়।
যদি স্বাধীন মহিলাকে বলা হয়, তুমি হারাম। তবে ইমাম মালিক [রহ] ও তার ছাত্রদের মতে তিন তালাক হবে। শর্তে হচ্ছে, যদি তার সাথে সহবাস হয়ে থাকে। তালাক দেয়ার নিয়ত না থাকলেও তালাক হবে। কুফাবাসী আলিমদের মতে তালাকের নিয়ত করলে তিন তালাক বায়িন হিসেবে পরিগণিত হবে। ইমাম শাফঈ [রহ] এর মতে এক তালাক রিজঈ হবে এবং স্বামী তাঁকে ইচ্ছে করলে ফিরিয়ে নিতে পারবে। আর যদি কসমের নিয়ত করে তবে কসম হবে।
মায়ানিজ জুযায এবং নুহাসে বর্ণিত আছে- নবী করীম [সা] জয়নাব বিনতে জাহাশ [রা] এর নিকট কিছুক্ষণ অবস্থান করতেন এবং মধু পান করতেন। আয়িশা [রা] বলেন, আমি এবং হাফসা পরামর্শ করলাম, নবী করীম [সা] আমাদের যার কাছে তাশরীফ আনবেন, আমরা বলবো, আপনার কাছ থেকে মাগাফিরের গন্ধ আসছে। জুযায বলেছেন, মাগাফির এক ধরনের দূর্গন্ধযুক্ত বস্তু। আবার এও বলা হয়েছে, মাগাফির ছিলো এক কুকুরের নাম। নবী করীম [সা] সর্বদা পরিচ্ছন্ন থাকতে পছন্দ করতেন। তিনি কখনো চাইতেন না যে কোনরূপ দূর্গন্ধ হোক। যাহোক নবী করীম [সা] তাঁর ঘরে তাশরীফ আনলেন। তিনি বললেন, আপনার কাছ থেকে মাগাফিরের গন্ধ আসছে। অতঃপর তিনি আরেকজনের ঘরে প্রবেশ করলেন। তখনও বলা হলো- আপনার কাছ থেকে মাগাফিরের গন্ধ আসছে। নবী করীম [সা] বললেন, তাই! ঠিক আছে আমি আর কখনো তার ধারে কাছেও যাবো না। নুহাস ও জুযায বলেন, তিনি কসম খেলেন এবং নিজের উপর তা হারাম করে নিলেন।
নুহাস আরো বলেছেন- হযরত আয়িশা [রা] এর পালার দিন তিনি ক্রীতদাসী মারিয়ার (যার গর্তে রাসূল [সা] এর এক পুত্র সন্তান জন্মগ্রহণ করেছিলো) সাথে হযরত হাফসা [রা] এর ঘরে মিলিত হন। হাফসা [রা] বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আপনি আমাকে অবজ্ঞা করলেন। আপনার স্ত্রীদের মধ্যেও তো কেউ আমার চেয়ে ফেলনা নয়। নবী করীম [সা] বললেন, এ খবর আয়িশা [রা] কে দিয়ো না। হাফসা [রা] স্বীকৃতি জ্ঞাপন করলেন, তিনি মারিয়ার ব্যাপারে কসম করলেন এবং তাকে নিজের জন্য হারাম করে নিলেন। কিন্তু হাস্সা [রা] হযরত আয়িশা [রা] এর নিকট কথাটি বলে ফেললেন এবং কাউকে না বলার জন্য অনুরোধ করলেন। এ ভাবে গোপন রাখার পরামর্শ দিতে দিতে কথাটি সব বেগমদের গোচরীভূত হলো। তখনই আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন তাঁর নবীকে জানিয়ে দিলেন-
وَإِذْ أَسَرَّ النَّبِيُّ إِلَى بَعْضٍ أَزْوَاجِهِ حَدِيثًا (ج) فَلَمَّا نَبَاتِ بِهِ وَاظْهَرَهُ اللَّهُ عَلَيْهِ عَرَّفَ بَعْضَهُ وَأَعْرَضَ عَنْ بَعْضٍ (ج) فَلَمَّا نَبَاهَا بِهِ قَالَتْ مَنْ أَنْبَاكَ هُذَا (ط) قَالَ نَبَانِيَ الْعَلِيمُ الْخَبِيرُ (1)
নবী একটি কথা তার এক স্ত্রীর নিকট অতি গোপনে বলেছিলেন। পরে সেই স্ত্রী যখন গোপন কথা প্রকাশ করে দিলো তখন আল্লাহ্ও তাঁর নবীকে একথা [প্রকাশ হওয়ার ব্যাপারে] জানিয়ে দিলেন। নবী [তাঁর স্ত্রীকে] এ বিষয়ে কিছুটা সতর্কতা করেছিলেন এবং কিছুটা বাদ দিয়েছিলেন। পরে যখন তার কাছে [নবী] জিজ্ঞেস করলেন, তখন সে বললো- আপনাকে এটা কে জানিয়ে দিলো? নবী করীম [সা] বললেন- 'আমাকে তিনিই জানিয়ে দিয়েছেন যিনি সব কিছু জানেন সর্বজ্ঞ।' (সূরা আত্ তাহরীম: ৩) সাথে সাথে একথাও বলে দিলেন-
يَأَيُّهَا النَّبِيُّ لِمَ تُحَرِّمُ مَا أَحَلَّ اللَّهُ لَكَ (ج) تَبْتَغِي مَرْضَاتَ أَزْوَاجَكَ (ط) وَاللَّهُ غَفُورٌ رَّحِيمٌ (.)
হে নবী! আপনি কেন তা হারাম করেন যা আল্লাহ্ আপনার জন্য হালাল করেছেন? তবে কি আপনি আপনার স্ত্রীদের সন্তুষ্টি পেতে চান? বস্তুত আল্লাহ্ অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও দয়াময়। [সূরা আত্ তাহরীম-১]
আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন তার নবীকে হালাল জিনিস হারাম করে নেবার কোনো অধিকার দেননি। আর এ অধিকার কোনো মানুষের থাকার তো প্রশ্নই উঠে না। এ ব্যাপারে নবী যে শপথ করেছিলেন, তার বিধানও আল্লাহ্ দিলেন। ইরশাদ হচ্ছে-
قَدْ فَرَضَ اللَّهُ لَكُمْ تَحِلَّةَ أَيْمَا نُكُمْ (ج) وَهُوَ الْعَلِيمُ الْحَكِيمُ (5)
আল্লাহ্ তোমাদের জন্য নিজেদের কসমের বাধ্যবাধকতা হতে নিস্কৃতি পাওয়ার উপায় বলে দিয়েছেন। আল্লাহ্ তোমাদের অভিভাবক। তিনি সর্বজ্ঞ ও মহাবিজ্ঞানী। [সূরা আত্ তাহরীমঃ ২]
একদল বলেছেন, উপরোক্ত আয়াতে কসমের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। অপর দলের মতে এ আয়াতে হারাম করার দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।
হাসান বসরী বলেছেন, বাঁদীর ব্যাপারে তাহরীম (হারাম) করা হলে তা কসমের পর্যায় গণ্য হবে। আর স্বাধীন স্ত্রীর ব্যাপারে তাহরীম (হারাম) করলে তা তালাক বলে গণ্য হবে। নবী করীম [সা] মারিয়ার জন্য একটি দাস মুক্ত করেছিলেন। এটা ছিলো বাঁদীর বিনিময়ে দেয়।
যদি স্বাধীন মহিলাকে বলা হয়, তুমি হারাম। তবে ইমাম মালিক [রহ] ও তার ছাত্রদের মতে তিন তালাক হবে। শর্তে হচ্ছে, যদি তার সাথে সহবাস হয়ে থাকে। তালাক দেয়ার নিয়ত না থাকলেও তালাক হবে। কুফাবাসী আলিমদের মতে তালাকের নিয়ত করলে তিন তালাক বায়িন হিসেবে পরিগণিত হবে। ইমাম শাফঈ [রহ] এর মতে এক তালাক রিজঈ হবে এবং স্বামী তাঁকে ইচ্ছে করলে ফিরিয়ে নিতে পারবে। আর যদি কসমের নিয়ত করে তবে কসম হবে।