📘 রাসূলুল্লাহ সাঃ এর বিচারালয় > 📄 একাধিক স্ত্রীর মধ্যে সমতা বিধান

📄 একাধিক স্ত্রীর মধ্যে সমতা বিধান


হাদীসে আছে- যখন নবী করীম (সা) উম্মে সালমা [রা] কে বিয়ে করেন তখন তিনদিন তাঁর নিকট থাকেন। যখন তিনি অন্য স্ত্রীদের ঘরে যেতে চাইলেন, তখন উম্মে সালমা [রা] কাপড় ধরে রাখেন। তখন রাসূল [সা] বললেন, 'যদি তুমি চাও তবে সাত দিন আমি তোমার নিকট থাকবো এবং অন্যদের সাথেও সাতদিন করে থাকবো। আর যদি মনে করো তিনদিন পরপর পালা বদল হোক, তাহলে আমি তোমার নিকট তিন দিন থাকবো।' তখন উম্মে সালমা [রা] তিন দিনের কথায় রাজী হলেন।
রাসূল [সা] সর্বদা স্ত্রীদের ব্যাপারে ইনসাফ করতে তৎপর থাকতেন। অবশ্য এতে তাঁর জন্য অন্য কোনো বাধ্য বাধ্যকতা ছিলো না। স্বয়ং আল্লাহ্ তাকে বলেছেন, আপনি যার কাছে যতোদিন ইচ্ছে থাকুন এবং যার থেকে যতো ইচ্ছে এবং যতোদিন ইচ্ছে আপনি দূরে থাকুন। (সূরা আহযাব।)
মুয়াত্তা ও মদুওনাহ গ্রন্থে ইবনু শিহাব হতে বর্ণিত রাফে' ইবনু খাদীজ এক যুবতীকে বিয়ে করেন। অবশ্য তার কাছে তখন মুহাম্মদ ইবনু সালমার কন্যা স্ত্রী হিসেবে ছিলো। যখন যুবতী স্ত্রীকে প্রধান্য দেয়া শুরু করলেন, তখন তার প্রথম স্ত্রী নবী করীম [সা] এর নিকট অভিযোগ দায়ের করেন। রাসূল [সা] বলেন, 'হে রাফে'! তুমি স্ত্রীদের সাথে ইনসাফ করো অথবা তাকে ছেড়ে দাও।' তখন তিনি স্ত্রীকে বললেন- তোমার কাছ থেকে দীর্ঘ মেয়াদী অনুপস্থিতি যদি তুমি পছন্দ করো, যেমন এখন হচ্ছে, তবে থাকতে পারো অন্যথায় তোমাকে তালাক দিয়ে দেবো।
তখন সূরা নিসার নিম্নোক্ত আয়াতগুলো অবতীর্ণ হয়-
وَإِنْ امْرَأَةٌ خَافَتْ مِنْ بَعْلِهَا نُشُورًا أَوْ إِعْرَاضاً فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِمَا أَنْ يُصْلِحَا بَيْنَهُمَا صُلْحًا (١) وَالصُّلْحُ خَيْراً (ظ) وَأَحْضِرَتِ الْأَنْفُسُ الشُّحَّ (ط) وَإِنْ تُحْسِنُوا وَتَتَّقُوا فَإِنَّ اللَّهَ كَانَ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرٌ (ط) وَلَنْ تَسْتَطِيعُوا أَنْ تَعْدِلُوا بَيْنَ النِّسَاءِ وَلَوْ حَرَصْتُمْ فَلَا تَمِيلُوا كُلُّ المَيلِ فَتَزَرُوهَا كَالْمُعَلِّقَةِ (ط) وَإِنْ تُصْلِحُوا وَتَتَّقُوا فَإِنَّ اللَّهَ كَانَ غَفُورًا رَّحِيمًا (١) وَإِنْ يُتَفَرَّقَا يُغْنِ اللَّهُ كُلاً مِّنْ سَعَتِهِ (ط) وَكَانَ اللَّهُ وَاسِعًا حَكِيمًا (١)
কোনো স্ত্রীলোক যখন তার স্বামীর দিক হতে উপেক্ষার আশংকা করবে তখন স্বামী স্ত্রী যদি (অধিকারের কিছু কম বেশীর ভিত্তিতে) পারস্পরিক সন্ধি করে নেয় তাতে কোনো দোষ নেই। সন্ধি সর্বাবস্থায় উত্তম। বস্তুত নফস্ সংকীর্ণতার দিকে সহজেই ঝুকে পড়ে কিন্তু তোমরা যদি ইহসান করো এবং আল্লাহকে ভয় করে চলো, তবে জেনে রাখো- আল্লাহ্ তোমাদের এ কর্মনীতি অবশ্যই অবহিত হবেন। স্ত্রীদের মধ্যে পুরোপুরি সুবিচার ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখা তোমাদের সাধ্যের অতীত। তোমরা অন্তর দিয়ে চাইলেও তা পারবেনা। অতএব তোমরা একজনকে ঝুলিয়ে রেখে অপর স্ত্রীর দিকে ঝুকে পড়ো না। যদি তোমরা সংশোধন হও এবং আল্লাহকে ভয় করো তবে তিনি অত্যন্ত মেহেরবান ও মার্জনাকারী। কিন্তু স্ত্রী যদি পরস্পর হতে একেবারেই বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, তবে আল্লাহ্ তাঁর বিপুল শক্তির দ্বারা প্রত্যেককেই অপরের মুখাপেক্ষীতা থেকে বাঁচিয়ে দেবেন। বস্তুত আল্লাহ্ প্রশস্ততা বিধানকারী ও মহাবিজ্ঞানী। [সূরা আন নিসা- ১২৮-১৩০]
রাবী বলেন, এরপর তারা পরস্পর সন্ধি করে নিলো। বর্ণনার ভাষা মদুওনার। মুয়াত্তায় কুরআন অবতীর্ণের কথা বলা হয়নি। এটাকে নুহাসও বর্ণনা করেছেন।

📘 রাসূলুল্লাহ সাঃ এর বিচারালয় > 📄 দুধ পান করানো প্রসঙ্গে একজন মহিলার সাক্ষ্য

📄 দুধ পান করানো প্রসঙ্গে একজন মহিলার সাক্ষ্য


বুখারী শরীফে উম্মে হাবিবা [রা] থেকে বর্ণিত এক হাদীসে বলা হয়েছে, তিনি বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আবু সুফিয়ানের কন্যাকে কি আপনার পছন্দ হয়? রাসূল [সা] বললেন, 'কেন, কি করবো?' আমি বললাম, আপনি তাকে বিয়ে করুন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, 'তবে কি তুমি খুশী হও?' আমি বললাম, 'আমার বোনকে আমি সতীন হিসেবে পেলে একটুও আপত্তি করবো না।' তিনি বললেন, সে আমার জন্য হালাল নয়। তখন আমি বললাম, আপনি নাকি দূরাহ্ এর সাথে বিয়ের পয়গাম দিয়েছেন? তিনি বললেন, 'উম্মে সালমার মেয়ে?' আমি বললাম, 'হ্যাঁ।' তখন রাসূল বললেন, 'তার সাথেও আমার বিয়ে বৈধ নয়। কেননা সে হচ্ছে আমার দুধ ভাইয়ের মেয়ে। আমাকে এবং তার পিতা আবু সালমাকে ছাওরিয়া দুধ পান করিয়েছে। কাজেই তোমরা তোমাদের বোন ও মেয়েকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়োনা।'
উরওয়া বলেন, ছাওবিয়া আবু লাহাবের বাদী ছিলো, পরে সে তাকে আযাদ করে দিয়েছিলো। যখন আবু লাহাব মারা গেলো তখন তাকে একজন স্বপ্নে দেখে জিজ্ঞেস করলো, তোমার সাথে কী ব্যবহার করা হয়? সে বললো, আমি আমার দাসী হাওবীয়াকে মুক্ত করে দিয়েছিলাম। এ সুবাদে সামান্য একটু সুবিধা পেয়েছি। তাছাড়া আমার আর কোনো ভালো কাজ নেই।
উরওয়া বলেন, আমি একজন মহিলাকে বিয়ে করি। তখন একজন কালো এক মহিলা এসে বলে, সে আমাদের দু'জনকে দুধ পান করিয়েছে। তখন নবী করীম [সা] কে ঘটনা জানালাম এবং বললাম, উক্ত মহিলা মিথ্যে বলছে। শুনে তিনি অন্য দিকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন।
দ্বিতীয়বার আমি বললাম, সে মিথ্যে বলছে। তখন তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তুমি একথা কিভাবে বলো? অথচ সে দৃঢ় প্রত্যয়ের সাথে বলছে, তোমাদের দু'জনকে দুধ পান করিয়েছে। কাজেই তুমি তোমার স্ত্রীকে ছেড়ে দাও। বুখারী শরীফে আছে, অতঃপর সে তার স্ত্রীকে ছেড়ে দিলো এবং সেই স্ত্রী অন্যত্র বিয়ে বসলো।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00