📘 রাসূলুল্লাহ সাঃ এর বিচারালয় > 📄 অগ্নি পূজারীদের ইসলাম গ্রহণ

📄 অগ্নি পূজারীদের ইসলাম গ্রহণ


মদুওনাহ্ সহ অন্যান্য গ্রন্থে আছে- গায়লาน ইবনু সালমা সাকাফী যখন ইসলাম গ্রহণ করেন, তখন রাসূল [সা] তাকে বললেন, 'তোমার দশজন স্ত্রী আছে, তুমি যে কোনো চারজনকে রেখে অবশিষ্ট স্ত্রীদের তালাক দিয়ে দেবে। ফিরুজ দায়লামী বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমার নিকট দু'বোন স্ত্রী হিসেবে আছে? রাসূল [সা] বললেন, 'তুমি যাকে চাও তাকে রেখে আরেক জনকে তালাক দিয়ে দাও।'
আবু দাউদ শরীফে আছে- এক ব্যক্তি নবী করীম (সা) এর কাছে এসে বললো- হে আল্লাহর রাসূল! আমি ইসলাম গ্রহণ করেছি এবং ঐ স্ত্রী আমার ইসলাম গ্রহণের ব্যাপারে অবহিত। তখন রাসূল [সা] অন্যজনকে স্বামী থেকে পৃথক করে দিলেন।

📘 রাসূলুল্লাহ সাঃ এর বিচারালয় > 📄 বিয়ের পর স্ত্রী অসুস্থ হয়ে যাওয়া ও মুতা বিয়ে

📄 বিয়ের পর স্ত্রী অসুস্থ হয়ে যাওয়া ও মুতা বিয়ে


মুয়াত্তা, বুখারী ও নাসাঈতে বর্ণিত আছে- রাফা'আহ্ ইবনু সামওয়াল তার স্ত্রী তামীম বিনতে ওয়াহাবকে নবী করীম [সা] এর সময়ে তিন তালাক দেয়। আবদুর রহমান ইবনু জুবাইর তাকে বিয়ে করেন। কিন্তু তিনি নিজের অসুস্থতার কারণে পৃথক থাকেন। তাকে স্পর্শ পর্যন্ত করেননি। অতঃপর তাকে তালাক দিয়ে দেন। এবার রাফাআহ্ তাকে পুনরায় বিয়ে করতে চায়। অবশ্য এর পূর্বে সে তাকে তালাক দিয়েছিলো। রাসূল [সা] শুনে রাফাআহ্ ইবনু সামওয়ালকে বাঁধা দেন এবং বলেন, যতোক্ষণ সে অন্য স্বামীর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন না করবে ততোক্ষণ পর্যন্ত তোমার জন্য সে হালাল হবে না। অন্য বর্ণনায় আছে, 'যতোক্ষণ পর্যন্ত একজন আরেক জনের মধু পান না করবে।' রবী ইবনু মায়াসারা জাহমী বলেন, যখন আমরা মক্কা বিজয়ের বছর নবী করীম (সা) এর কাছে মক্কায় দেখা করি, তখন তিনি আমাদেরকে মুতা বিয়ের অনুমতি দেন। আমি এবং আমার এক বন্ধু বনী আমেরের এক মেয়ের নিকট [প্রস্তাব নিয়ে) গেলাম। মনে হলো সে মোটা গলার এক জোয়ান উটনী। আমরা উভয়ে আমাদের চাদরের বিনিময়ে তাকে চাইলাম। বর্ণনাকারী বলেন- সে আমার বন্ধুকে তাড়া করলো। আমার বন্ধু তাড়া খেয়ে বলতে লাগলো- 'আমার চাদর তার চাদর থেকে উত্তম।' সে বললো, আমার কাছে এটিই ভালো, যদি এটি তার চাদর হয় তবে আমি তার কাছে তিনদিন থাকবো। পরে নবী করীম [সা] তিন দিনের মু'তা বিয়েকে নিষিদ্ধ করেন এবং বলেন, 'আল্লাহ্ এটাকে হারাম করে দিয়েছেন।' অন্য বর্ণনায় আছে- 'আল্লাহ্ কি'য়ামত পর্যন্ত মুতা বিয়েকে হারাম করে দিয়েছেন। কাজেই যার নিকট মুতা বিয়েকৃত কোনো স্ত্রী আছে তাকে যেনো সে ছেড়ে দেয়, কিন্তু তাকে যা কিছু দেয়া হয়েছে তা ফেরৎ নেয়া যাবে না।'
বর্ণণাকারীগণ মুতা বিয়ে কবে হারাম করা হয়েছে এ ব্যাপারে মতবিরোধ করেছেন। একদল বলেন, খায়বার বিজয়ের সময় মুতা বিয়েকে হারাম করা হয়েছে। অপর দলের মতে হুদাইবিয়ার সন্ধির বছর অর্থাৎ ৭ম হিজরীতে মুতা বিয়ে হারাম করা হয়।
আবু উবাইদ বলেন, মক্কা বিজয়ের বছর মুতা বিয়ে হারাম হয়েছে।

📘 রাসূলুল্লাহ সাঃ এর বিচারালয় > 📄 উম্মুল মুমিনীন হযরত মাইমুনা (রা) এর বিয়ে

📄 উম্মুল মুমিনীন হযরত মাইমুনা (রা) এর বিয়ে


বুখারী এবং মুসলিম হযরত জাবির ইবনু যায়িদ [রা] থেকে বর্ণিত- তিনি বলেন, আমাকে হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনু আব্বাস বলেছেন, নবী করীম [সা] মুহরিম অবস্থায় বিয়ে করেছেন। মুসলিম শরীফে ইয়াজিদ ইবনু ছম বর্ণনা করেছেন, আমাকে আমার খালা মাইমুনাহ্ [রা] বলেছেন, তাঁকে রাসূল [সা] ইহরামমুক্ত অবস্থায় বিয়ে করেছেন। ওয়াজিহায়ও এরূপ বর্ণনা করা হয়েছে।

📘 রাসূলুল্লাহ সাঃ এর বিচারালয় > 📄 একাধিক স্ত্রীর মধ্যে সমতা বিধান

📄 একাধিক স্ত্রীর মধ্যে সমতা বিধান


হাদীসে আছে- যখন নবী করীম (সা) উম্মে সালমা [রা] কে বিয়ে করেন তখন তিনদিন তাঁর নিকট থাকেন। যখন তিনি অন্য স্ত্রীদের ঘরে যেতে চাইলেন, তখন উম্মে সালমা [রা] কাপড় ধরে রাখেন। তখন রাসূল [সা] বললেন, 'যদি তুমি চাও তবে সাত দিন আমি তোমার নিকট থাকবো এবং অন্যদের সাথেও সাতদিন করে থাকবো। আর যদি মনে করো তিনদিন পরপর পালা বদল হোক, তাহলে আমি তোমার নিকট তিন দিন থাকবো।' তখন উম্মে সালমা [রা] তিন দিনের কথায় রাজী হলেন।
রাসূল [সা] সর্বদা স্ত্রীদের ব্যাপারে ইনসাফ করতে তৎপর থাকতেন। অবশ্য এতে তাঁর জন্য অন্য কোনো বাধ্য বাধ্যকতা ছিলো না। স্বয়ং আল্লাহ্ তাকে বলেছেন, আপনি যার কাছে যতোদিন ইচ্ছে থাকুন এবং যার থেকে যতো ইচ্ছে এবং যতোদিন ইচ্ছে আপনি দূরে থাকুন। (সূরা আহযাব।)
মুয়াত্তা ও মদুওনাহ গ্রন্থে ইবনু শিহাব হতে বর্ণিত রাফে' ইবনু খাদীজ এক যুবতীকে বিয়ে করেন। অবশ্য তার কাছে তখন মুহাম্মদ ইবনু সালমার কন্যা স্ত্রী হিসেবে ছিলো। যখন যুবতী স্ত্রীকে প্রধান্য দেয়া শুরু করলেন, তখন তার প্রথম স্ত্রী নবী করীম [সা] এর নিকট অভিযোগ দায়ের করেন। রাসূল [সা] বলেন, 'হে রাফে'! তুমি স্ত্রীদের সাথে ইনসাফ করো অথবা তাকে ছেড়ে দাও।' তখন তিনি স্ত্রীকে বললেন- তোমার কাছ থেকে দীর্ঘ মেয়াদী অনুপস্থিতি যদি তুমি পছন্দ করো, যেমন এখন হচ্ছে, তবে থাকতে পারো অন্যথায় তোমাকে তালাক দিয়ে দেবো।
তখন সূরা নিসার নিম্নোক্ত আয়াতগুলো অবতীর্ণ হয়-
وَإِنْ امْرَأَةٌ خَافَتْ مِنْ بَعْلِهَا نُشُورًا أَوْ إِعْرَاضاً فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِمَا أَنْ يُصْلِحَا بَيْنَهُمَا صُلْحًا (١) وَالصُّلْحُ خَيْراً (ظ) وَأَحْضِرَتِ الْأَنْفُسُ الشُّحَّ (ط) وَإِنْ تُحْسِنُوا وَتَتَّقُوا فَإِنَّ اللَّهَ كَانَ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرٌ (ط) وَلَنْ تَسْتَطِيعُوا أَنْ تَعْدِلُوا بَيْنَ النِّسَاءِ وَلَوْ حَرَصْتُمْ فَلَا تَمِيلُوا كُلُّ المَيلِ فَتَزَرُوهَا كَالْمُعَلِّقَةِ (ط) وَإِنْ تُصْلِحُوا وَتَتَّقُوا فَإِنَّ اللَّهَ كَانَ غَفُورًا رَّحِيمًا (١) وَإِنْ يُتَفَرَّقَا يُغْنِ اللَّهُ كُلاً مِّنْ سَعَتِهِ (ط) وَكَانَ اللَّهُ وَاسِعًا حَكِيمًا (١)
কোনো স্ত্রীলোক যখন তার স্বামীর দিক হতে উপেক্ষার আশংকা করবে তখন স্বামী স্ত্রী যদি (অধিকারের কিছু কম বেশীর ভিত্তিতে) পারস্পরিক সন্ধি করে নেয় তাতে কোনো দোষ নেই। সন্ধি সর্বাবস্থায় উত্তম। বস্তুত নফস্ সংকীর্ণতার দিকে সহজেই ঝুকে পড়ে কিন্তু তোমরা যদি ইহসান করো এবং আল্লাহকে ভয় করে চলো, তবে জেনে রাখো- আল্লাহ্ তোমাদের এ কর্মনীতি অবশ্যই অবহিত হবেন। স্ত্রীদের মধ্যে পুরোপুরি সুবিচার ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখা তোমাদের সাধ্যের অতীত। তোমরা অন্তর দিয়ে চাইলেও তা পারবেনা। অতএব তোমরা একজনকে ঝুলিয়ে রেখে অপর স্ত্রীর দিকে ঝুকে পড়ো না। যদি তোমরা সংশোধন হও এবং আল্লাহকে ভয় করো তবে তিনি অত্যন্ত মেহেরবান ও মার্জনাকারী। কিন্তু স্ত্রী যদি পরস্পর হতে একেবারেই বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, তবে আল্লাহ্ তাঁর বিপুল শক্তির দ্বারা প্রত্যেককেই অপরের মুখাপেক্ষীতা থেকে বাঁচিয়ে দেবেন। বস্তুত আল্লাহ্ প্রশস্ততা বিধানকারী ও মহাবিজ্ঞানী। [সূরা আন নিসা- ১২৮-১৩০]
রাবী বলেন, এরপর তারা পরস্পর সন্ধি করে নিলো। বর্ণনার ভাষা মদুওনার। মুয়াত্তায় কুরআন অবতীর্ণের কথা বলা হয়নি। এটাকে নুহাসও বর্ণনা করেছেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00