📘 রাসূলুল্লাহ সাঃ এর বিচারালয় > 📄 হযরত আলী (রা) এর প্রতি নির্দেশ

📄 হযরত আলী (রা) এর প্রতি নির্দেশ


বুখারী, আবু দাউদ ও ওয়াজিহায় বর্ণিত আছে- একবার আলী ইবনু আবী তালিব [রা] আবু জাহেল ইবনু হিশাম এর কন্যাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন এবং বনু হিশাম ইবনু মুগীরাকে দিয়ে রাসূল [সা] এর নিকট অনুমতি চান। রাসূল [সা] অনুমতি দেননি বরং তিনি রাগান্বিত হয়ে মসজিদের মিম্বারে গিয়ে দাঁড়ালেন। লোকজন তাঁর কাছে জড়ো হয়ে গেলো। অতঃপর তিনি মহান আল্লাহর প্রশংসার পর বললেন, বনী হিশাম ইবনু মুগীরার মাধ্যমে আবু জাহেলের কন্যাকে বিয়ে করার অনুমতি চেয়ে পাঠিয়েছে কিন্তু আমি অনুমতি দেইনি এবং দেবো না। যদি আবু তালিবের বেটা আমার কন্যাকে তালাক দিতে চায়, তবে সে যেনো তালাক দেয় এবং আবু জাহেলের মেয়েকে বিয়ে করে নেয়। আমার কন্যা আমার শরীরের অঙ্গ প্রত্যঙ্গের ন্যায়। যে তাকে কোনো কষ্ট দেয় সে যেন আমাকেই কষ্ট দেয়। আর আল্লাহর রাসূলের কন্যার সাথে আল্লাহর দুশমনের কন্যা কখনো একত্রে থাকতে পারে না। তোমরা মনে করেছো, ফাতিমার ওপর দূর্বলতার কারণে আমি এরূপ বলছি? না তা নয়। আমি হারামকে হালাল এবং হালালকে হারাম করছিনা। আল্লাহর কসম! আল্লাহর রাসূলের মেয়ের সাথে আল্লাহর দুশমনের মেয়ে একত্রিত হতে পারে না।

📘 রাসূলুল্লাহ সাঃ এর বিচারালয় > 📄 অগ্নি পূজারীদের ইসলাম গ্রহণ

📄 অগ্নি পূজারীদের ইসলাম গ্রহণ


মদুওনাহ্ সহ অন্যান্য গ্রন্থে আছে- গায়লาน ইবনু সালমা সাকাফী যখন ইসলাম গ্রহণ করেন, তখন রাসূল [সা] তাকে বললেন, 'তোমার দশজন স্ত্রী আছে, তুমি যে কোনো চারজনকে রেখে অবশিষ্ট স্ত্রীদের তালাক দিয়ে দেবে। ফিরুজ দায়লামী বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমার নিকট দু'বোন স্ত্রী হিসেবে আছে? রাসূল [সা] বললেন, 'তুমি যাকে চাও তাকে রেখে আরেক জনকে তালাক দিয়ে দাও।'
আবু দাউদ শরীফে আছে- এক ব্যক্তি নবী করীম (সা) এর কাছে এসে বললো- হে আল্লাহর রাসূল! আমি ইসলাম গ্রহণ করেছি এবং ঐ স্ত্রী আমার ইসলাম গ্রহণের ব্যাপারে অবহিত। তখন রাসূল [সা] অন্যজনকে স্বামী থেকে পৃথক করে দিলেন।

📘 রাসূলুল্লাহ সাঃ এর বিচারালয় > 📄 বিয়ের পর স্ত্রী অসুস্থ হয়ে যাওয়া ও মুতা বিয়ে

📄 বিয়ের পর স্ত্রী অসুস্থ হয়ে যাওয়া ও মুতা বিয়ে


মুয়াত্তা, বুখারী ও নাসাঈতে বর্ণিত আছে- রাফা'আহ্ ইবনু সামওয়াল তার স্ত্রী তামীম বিনতে ওয়াহাবকে নবী করীম [সা] এর সময়ে তিন তালাক দেয়। আবদুর রহমান ইবনু জুবাইর তাকে বিয়ে করেন। কিন্তু তিনি নিজের অসুস্থতার কারণে পৃথক থাকেন। তাকে স্পর্শ পর্যন্ত করেননি। অতঃপর তাকে তালাক দিয়ে দেন। এবার রাফাআহ্ তাকে পুনরায় বিয়ে করতে চায়। অবশ্য এর পূর্বে সে তাকে তালাক দিয়েছিলো। রাসূল [সা] শুনে রাফাআহ্ ইবনু সামওয়ালকে বাঁধা দেন এবং বলেন, যতোক্ষণ সে অন্য স্বামীর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন না করবে ততোক্ষণ পর্যন্ত তোমার জন্য সে হালাল হবে না। অন্য বর্ণনায় আছে, 'যতোক্ষণ পর্যন্ত একজন আরেক জনের মধু পান না করবে।' রবী ইবনু মায়াসারা জাহমী বলেন, যখন আমরা মক্কা বিজয়ের বছর নবী করীম (সা) এর কাছে মক্কায় দেখা করি, তখন তিনি আমাদেরকে মুতা বিয়ের অনুমতি দেন। আমি এবং আমার এক বন্ধু বনী আমেরের এক মেয়ের নিকট [প্রস্তাব নিয়ে) গেলাম। মনে হলো সে মোটা গলার এক জোয়ান উটনী। আমরা উভয়ে আমাদের চাদরের বিনিময়ে তাকে চাইলাম। বর্ণনাকারী বলেন- সে আমার বন্ধুকে তাড়া করলো। আমার বন্ধু তাড়া খেয়ে বলতে লাগলো- 'আমার চাদর তার চাদর থেকে উত্তম।' সে বললো, আমার কাছে এটিই ভালো, যদি এটি তার চাদর হয় তবে আমি তার কাছে তিনদিন থাকবো। পরে নবী করীম [সা] তিন দিনের মু'তা বিয়েকে নিষিদ্ধ করেন এবং বলেন, 'আল্লাহ্ এটাকে হারাম করে দিয়েছেন।' অন্য বর্ণনায় আছে- 'আল্লাহ্ কি'য়ামত পর্যন্ত মুতা বিয়েকে হারাম করে দিয়েছেন। কাজেই যার নিকট মুতা বিয়েকৃত কোনো স্ত্রী আছে তাকে যেনো সে ছেড়ে দেয়, কিন্তু তাকে যা কিছু দেয়া হয়েছে তা ফেরৎ নেয়া যাবে না।'
বর্ণণাকারীগণ মুতা বিয়ে কবে হারাম করা হয়েছে এ ব্যাপারে মতবিরোধ করেছেন। একদল বলেন, খায়বার বিজয়ের সময় মুতা বিয়েকে হারাম করা হয়েছে। অপর দলের মতে হুদাইবিয়ার সন্ধির বছর অর্থাৎ ৭ম হিজরীতে মুতা বিয়ে হারাম করা হয়।
আবু উবাইদ বলেন, মক্কা বিজয়ের বছর মুতা বিয়ে হারাম হয়েছে।

📘 রাসূলুল্লাহ সাঃ এর বিচারালয় > 📄 উম্মুল মুমিনীন হযরত মাইমুনা (রা) এর বিয়ে

📄 উম্মুল মুমিনীন হযরত মাইমুনা (রা) এর বিয়ে


বুখারী এবং মুসলিম হযরত জাবির ইবনু যায়িদ [রা] থেকে বর্ণিত- তিনি বলেন, আমাকে হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনু আব্বাস বলেছেন, নবী করীম [সা] মুহরিম অবস্থায় বিয়ে করেছেন। মুসলিম শরীফে ইয়াজিদ ইবনু ছম বর্ণনা করেছেন, আমাকে আমার খালা মাইমুনাহ্ [রা] বলেছেন, তাঁকে রাসূল [সা] ইহরামমুক্ত অবস্থায় বিয়ে করেছেন। ওয়াজিহায়ও এরূপ বর্ণনা করা হয়েছে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00