📄 জিযিয়ার বর্ণনা
ইবনু হাবীব বলেন, আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন প্রথম দিকে তাঁর রাসূলকে শুধু দাওয়াত ও তাবলীগের দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছিলেন। তখন জিহাদ ও জিযিয়ার ব্যাপারটি আলোচনা করা হয়নি। এ অবস্থায় তিনি মক্কায় দশ বৎসর নবুওয়াতের দায়িত্ব পালন করেন। তখন আল্লাহর নির্দেশ ছিলো যথা সম্ভব সংযম প্রদর্শন করার জন্য। পরে আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন নিম্নোক্ত আয়াত অবতীর্ণ করেন। ইরশাদ হচ্ছে,
أَذِنَ لِلَّذِينَ يُقَاتِلُونَ بِأَنَّهُمْ ظُلِمُوا(ط) وَإِنَّ اللَّهَ عَلَى نَصْرِهِمْ لَقَدِيرُ
যাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা হচ্ছে তাদেরকেও (যুদ্ধের জন্য) অনুমতি দেয়া হলো। কেননা তারা নির্যাতিত। অবশ্যই আল্লাহ তাদেরকে সাহায্য করতে সক্ষম। (সূরা হজ্জ-৩৯)
অর্থাৎ যারা যুদ্ধ করবে শুধু তাদের সাথে যুদ্ধ করা যাবে আর যারা যুদ্ধ করবে না তাদের সাথে যুদ্ধ করা যাবে না। মহান আল্লাহ্ আরো বলেন-
فَإِنِ اعْتَزِلَكُمْ فَلَمْ يُقَاتِلُوكُمْ وَالْقَوْا إِلَيْكُمُ السَّلْمِ فَمَا جَعَلَ اللَّهُ لَكُمْ عَلَيْهِمْ سَبِيلًا
কাজেই তারা যদি তোমাদের কাছ থেকে পৃথক হয়ে যায় এবং যুদ্ধ করা থেকে বিরত থাকে আর তোমাদের সাথে সন্ধি ও বন্ধুতার হাত সম্প্রসারিত করে দেয়- তবে আল্লাহ্ তোমাদের জন্য তাদেরকে আক্রমণ করার কোনো পথই রাখেননি। (সূরা আন নিসা-৯০)
হিজরতের আট বৎসর পর সূরা বারায়াত অবতীর্ণ করে আহলে আরবদের সাথে যুদ্ধ করার নির্দেশ দেন।' আরো নির্দেশ দেন যারা ইসলাম গ্রহণ করেনি তারা যুদ্ধ করুক বা না করুক তাদের সাথেও যুদ্ধ করতে হবে, যতোক্ষণ পর্যন্ত তারা ইসলাম গ্রহণ না করে অথবা জিযিয়া না দেয়। আহলে কিতাবদের বেলায় ও এ ফরমান জারী করা হয়।
টিকাঃ
১. হিজরী ৮ম সনের পূর্বে যে সমস্ত যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিলো, মূলত তা ছিলো আত্মরক্ষা ও প্রতিরক্ষা মূলক জিহাদ। পরবর্তীতে সূরা তওবা বা বারায়াতের মাধ্যমে ইসলামের দাওয়াত সম্প্রসারণ ও তা বাস্তাবায়নের জন্য প্রয়োজনে জিহাদের নির্দেশ দেয়া হয়। -অনুবাদক
📄 জিযিয়া ও তার পরিমাণ
মুসান্নাফ আব্দুর রাজ্জাকে এবং আবু উবায়দার কিতাবুল আমওয়ালে বর্ণিত হয়েছে, নবী করীম [সা] হযরত মুয়ায ইবনু জাবাল [রা] কে য়েমেনে পাঠানোর সময় নির্দেশ দিয়েছিলেন, ইয়েমেনের প্রত্যেক প্রাপ্ত বয়স্ক পুরুষ ও মহিলার কাছ থেকে জিযিয়া আদায় করবে। আবু উবায়দা অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন, দাস হোক অথবা দাসী হোক প্রত্যেকের মাথা পিছু এক দিনার অথবা তার সমমূল্যের ইয়েমেনী চাদর। এ মতের ওপর শাফিঈ আমল করেন আর ইমাম মালিক [র] আমল করেন হযরত ওমর ইবনুল খাত্তাব [রা] এর মতের ওপর। হযরত ওমর ইবনুল খাত্তাব [রা] বলেছেন, যারা চার দিনার স্বর্ণ অথবা চল্লিশ দিরহাম রৌপ্যের মালিক শুধু তাদের থেকে জিযিয়া আদায় করতে হবে। স্ত্রীলোক ও দাসের ওপর জিযিয়া নেই।
আমাদের নিকট এ হাদীসের তাৎপর্য হচ্ছে- ইয়েমেনবাসী অভাব অনটন সম্পর্কে রাসূলে আকরাম [সা] অভিহিত ছিলেন। আর শামের অধিবাসীদের স্বচ্ছলতা সম্পর্কে ওমর [রা] অভিহিত ছিলেন। তবে কথা হচ্ছে সকলেই যদি স্বেচ্ছায় জিযিয়া প্রদান করে তবে তা গ্রহণ করা যাবে।
ইবনু ওয়াহাব বলেন- নবী করীম [সা] কুরাইশদের বিরুদ্ধে ইসলাম এবং তরবারী দিয়ে যুদ্ধ করেছেন। আর যারা আরবের কোনো মাযহাবের অনুসারী ছিলেন তাদের থেকে জিযিয়া গ্রহন করা হয়নি। তাদের সাথে ইসলামের নামে যুদ্ধ করা হয়েছে। যদি তাদের কেউ আহলে কিতাবের ধর্মে দীক্ষা নিতো তাহলে তার থেকে জিযিয়া গ্রহণ করা হতো।
সাহ্নুন [রহ] বলেন- আমার একথা বুঝে আসেনা কারণ নবী করীম [সা] যেখানে বলেছেন- তাদের সাথে আহলে কিতাবদের মতো আচরণ করো। তাছাড়া তিনি আহলে হিজর এবং মনযুর ইবনু মুসাওয়ার কাছে লিখিত দাওয়াত প্রদানের সময় লিখেছিলেন, যে দাওয়াত গ্রহণে অস্বীকার করবে তাকে জিযিয়া প্রদান করতে হবে। জিযিয়া গ্রহণের ব্যাপারে আরব অনারব কোনো পার্থক্য করা হয়নি বরং অগ্নি উপাসকরাও এ নির্দেশের আওতাভুক্ত ছিলো।