📘 রাসূলুল্লাহ সাঃ এর বিচারালয় > 📄 নিরাপত্তা প্রদান ও মহিলা নিরাপত্তা প্রদানকারী

📄 নিরাপত্তা প্রদান ও মহিলা নিরাপত্তা প্রদানকারী


তাফসীরে ইবনু সালামে কালবী হতে বর্ণনা করা হয়েছে, মুশরিকদের মধ্যে কিছু লোক যাদের সাথে مسلمانوں কোনো সন্ধি বা চুক্তি ছিলো না। তারা সংবাদ পেয়েছিলো, নিষিদ্ধ মাস অতিক্রান্ত হলেই মুসলমানগণ তাদের ওপর আক্রমণ করবে। এজন্য তারা রাসূলে আকরাম (সা) এর নিকট এলো, যেন তারা মুসলমানের সাথে কোন চুক্তিতে আবদ্ধ হতে পারে। নবী করীম [সা] তাদের ইসলাম গ্রহণ করা ছাড়া অন্য কোনো শর্তে রাজী না হওয়ায় তাদের সাথে কোন চুক্তি করা সম্ভব হয়নি। তখন তাদেরকে ফিরে যেতে বলেন। তখন নিষিদ্ধ মাস ছিলো না। তারা ছিলো বনী কায়েস ইবনু সালাবা গোত্রের খৃষ্টান। পরবতীতে তাদের কিছু লোক ইসলাম গ্রহণ করেছিলো এবং অবশিষ্ট লোক খৃষ্টান রয়ে গিয়েছিলো।
মুসান্নাফ ইবনু আবি শায়বায় বর্ণিত আছে- মুসলিম বাহিনী কিছু মাল নিজেদের হস্তগত করে। যা নবী করীম [সা] এর কন্যা জয়নাব [রা] এর স্বামীর নিকট (গচ্ছিত) ছিলো। যুদ্ধের সময় সে পালিয়ে গিয়েছিলো কিন্তু রাতে সে জয়নাব [রা] এর ঘরে উপস্থিত হলো, তার সেই মাল নিয়ে যাবার জন্য। রাতে জয়নাব [রা] এর আশ্রয়ে রইলো। যখন নবী করীম [সা] ফজরের নামায আদায় করার জন্য দাঁড়ালেন এবং তাকবীর দেয়া হলো, তখন জয়নাব [রা] মেয়েদের কাতার থেকে উচ্চস্বরে বললেন, উপস্থিত লোকেরা! তোমরা শুনে রাখো, আমি আবুল আসকে আশ্রয় দিয়েছি। রাসূল [সা] সালাম ফিরিয়ে লোকদের দিকে মুখ করে বললেন, 'যা আমি শুনলাম তা তোমরাও শুনেছো।' তারা বললো, হ্যাঁ আমরাও শুনেছি। তিনি বললেন, 'ঐ সত্তার কসম যার হাতে আমার প্রাণ! আমি একথা শোনার আগে ঘটনা সম্পর্কে আমার কিছুই জানা ছিলো না। অবশ্যই مسلمانوں মধ্যে কোনো এক আদনা মুসলমানও যদি কাউকে আশ্রয় দেয় তবে সে নিরাপদ।'
তারপর তিনি ভেতরে গেলেন এবং কন্যাকে বললেন, তার সেবা যত্ন করতে পারো, কিন্তু সে যেন তোমাকে আর কিছু করতে না পারে। কারণ সে তোমার জন্য এখন হালাল নয়। অতঃপর তিনি লোকদেরকে লক্ষ্য করে বললেন, যদি তোমরা ইহসান করো এবং তার মাল ফেরত দাও তবে তা অত্যন্ত ভালো কাজ, আর যদি তোমরা তা পছন্দ করো, তবে সে অধিকার তোমাদের আছে। কেননা তা তোমরা গণিমত হিসেবে পেয়েছো। একথা শুনে লোকেরা তাদের সমস্ত মাল ফেরত দিয়ে দিলো। তখন সে মাল নিয়ে, মক্কায় ফিরে এসে কুরাইশদের প্রত্যেক ব্যক্তিকে তাদের (গচ্ছিত) মাল ফেরত দিলো। তারা মাল ফেরত পেয়ে দু'আ করলো, তোমাকে আল্লাহ্ কল্যাণ দান করুন এবং আরো মহৎ বানিয়ে দিন। সে বললো, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি আল্লাহ্ ছাড়া আর কোন ইলাহ্ নেই। হযরত মুহাম্মদ [সা] তাঁর বান্দা ও রাসূল। আরো বললেন, আমি সেখান থেকেই ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করতে পারতাম, তা করিনি তোমরা ভেবে বসবে আমি তোমাদের মাল আত্মসাৎ করার জন্য এরূপ করেছি। আল্লাহ্ যখন তা তোমাদের হাতে পৌঁছে দেবার তাওফিক দিয়েছেন তাই এখন আমি ইসলাম গ্রহণ করলাম। অতঃপর সে মদীনার দিকে রওয়ানা দিলো এবং রাসূলে পাক [সা] এর দরবারে উপস্থিত হলো।
অন্য বর্ণনায় আছে- আব্বাস [রা] কে যখন বদর যুদ্ধে বন্দী করে আনা হলো, তখন সাহাবাগণ নবী করীম [সা] কে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আপনি যদি চান তবে আপনার চাচার মুক্তিপণ আমরা ছেড়ে দেবো। আবার যখন জয়নাব [রা] তাঁর স্বামী আবুল আসকে মুক্ত করার জন্য মুক্তিপণ পাঠালেন, তখন তার মধ্যে ঐ হারটিও ছিলো যা খাদিজা [রা] ব্যবহার করতেন এবং পরবর্তীতে জয়নাবকে উপহার দিয়েছিলেন। রাসুলে আকরাম [সা] আনসারদের লক্ষ্য করে বললেন, যদি তোমরা সম্ভবপর মনে কর তবে আবুল আসকে মুক্তিপণ ব্যতিরেকে ছেড়ে দিতে পারো এবং তার মালগুলোও তাকে ফেরত দিতে পারো। তাঁরা সন্তুষ্টিচিত্তে রাজী হয়ে গেলেন এবং তাকে তার মাল সহ ছেড়ে দিলেন।
বর্ণিত আছে- রাসূল [সা] জয়নাবের হার ফেরত দিয়েছিলেন, কারণ হারটি খাদিজা [রা] জয়নাবের বিয়ের সময় তাকে দান করেছিলেন। তাই হারটি দেখে খাদিজা [রা] এর কথা স্মরণ হওয়ায়, তাঁর প্রতি সম্মান প্রদর্শনার্থে তা ফেরত দেবার প্রস্তাব করেছিলেন। তা ছাড়া আবুল আসের নিজস্ব কোনো সম্পদ ছিলো না। যা ছিলো তা কুরাইশদের আমানত ও ব্যবসায়ে বিনিয়োগকৃত পুঁজি। তাই তাকে তার মালসহ ছেড়ে দেবার পরামর্শ দিয়েছিলেন।
মুয়াত্তায় ইমাম মালিক হযরত আবু নছর [রা] থেকে এবং তিনি আবু মাররা [রা] থেকে বর্ণনা করেছেন, যিনি উম্মে হানি বিনতে আবু তালিব [রা] এর দাস ছিলেন। তিনি উম্মে হানি [রা] কে বলতে শুনেছেন, আমি মক্কা বিজয়ের সময় তাঁর কাছে গেলাম। তখন তিনি গোসল করছিলেন এবং রাসূলাল্লাহ্ [সা] এর কন্যা ফাতিমা [রা] একটি কাপড় দিয়ে তাঁকে পর্দা করে রেখেছিলেন। যখন তিনি গোসল সেরে বাইরে এলেন তখন একখানা কাপড় জড়িয়ে আট রাকায়াত নামায আদায় করলেন। অতঃপর আমাদের দিকে ফিরলেন। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমার আপন ভাই আলী এমন এক ব্যক্তিকে হত্যা করতে ইচ্ছা করেছে, যাকে আমি আশ্রয় দিয়েছি। সে অমুক ব্যক্তির ছেলে হুবায়রা। রাসুলে আকরাম [সা] বললেন, হে উম্মে হানি! যাকে তুমি নিরাপত্তা দিয়েছো তাকে (মনে করো) আমিও নিরাপত্তা দিয়েছি।
উম্মে হানি বলেন, সেটি ছিলো চাশতের সময়, যখন তিনি নামায আদায় করছিলেন। আর হুবায়রা ইবনু আবি ওয়াহাব ছিলো উম্মে হানির স্বামী।

📘 রাসূলুল্লাহ সাঃ এর বিচারালয় > 📄 একটি মু'জিযা

📄 একটি মু'জিযা


রাসুলুল্লাহ [সা] যখন আনসারদেরকে বললেন, তোমরা তার অর্থাৎ আব্বাস [রা] এর একটি দিরহামও মাফ করবে না। সে ধনী লোক। তারপর আব্বাস [রা] এর দিকে লক্ষ্য করে বললেন, আপনি আপনার এবং আপনার দু'ভাতিজা আকীল ও নওফলের মুক্তিপণও আদায় করে দেবেন। কারণ আপনি বিত্তশালী। আব্বাস [রা] বললেন, আমি মুসলমান হয়ে গেছি। রাসূল [সা] বললেন, আপনার ইসলাম গ্রহণের ব্যাপারে আল্লাহ্ ভালো জানেন। তিনি তার বিনিময় দেবেন। কিন্তু আমরা শুধু আপনার বাহ্যিক অবস্থা দেখি। তখন বললেন, আমার কাছে কোনো মাল সম্পদ নেই। হুজুর [সা] বললেন, আপনার সেই সম্পদ কোথায়, যা আপনি যুদ্ধে আসার পূর্বে উম্মে ফজলের নিকট গচ্ছিত রেখে এসেছেন? এটাতো আপনারা দু'জন ছাড়া আর কেউ জানতো না? আপনি তাকে বলেছিলেন, যদি আমি এ সফর থেকে ফিরে না আসি তবে এতো অংশ ফজলের এবং এতো অংশ আবদুল্লাহ্। একথা শুনে তিনি বলে উঠলেন, সেই সত্তার শপথ যিনি আপনাকে সত্য সহকারে পাঠিয়েছেন, উম্মে ফজল ছাড়া এ ঘটনা আর কেউ জানেনা। আমি বিশ্বাস করি আপনি আল্লাহর রাসূল। অতঃপর তিনি তার ফিদিয়া বাবদ ১০০শ' আওকিয়া এবং আকীল ও নওফলের ফিদিয়া বাবদ ৪০ আওকিয়া করে আদায় করে দিলেন।
আবুল কাসেম ও ইবনু ইসহাক বলেছেন, আব্বাস [রা] ইসলাম গ্রহণ করলেন এবং আকিল [রা] কে ইসলাম গ্রহণের নির্দেশ দিলেন এবং তিনিও ইসলাম গ্রহণ করলেন। এ দু'জন ছাড়া আর কেউ বন্দীদের মধ্যে ইসলাম গ্রহণ করেনি।

📘 রাসূলুল্লাহ সাঃ এর বিচারালয় > 📄 বিনিময় ও বরকতের একটি দৃষ্টান্ত

📄 বিনিময় ও বরকতের একটি দৃষ্টান্ত


মায়ানিন্ নুহাসে বর্ণনা করা হয়েছে- হযরত আব্বাস [রা] একবার বলেছেন, যখন আমি বন্দী হই তখন আমার নিকট ২০ আওকিয়া স্বর্ণ ছিলো তা আমার কাছ থেকে নিয়ে যাওয়ার পর আল্লাহ্ আমাকে তার বিনিময়ে ২০টি দাস দান করেছেন এবং মাগফিরাতের ওয়াদা করেছেন।

📘 রাসূলুল্লাহ সাঃ এর বিচারালয় > 📄 জিযিয়ার বর্ণনা

📄 জিযিয়ার বর্ণনা


ইবনু হাবীব বলেন, আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন প্রথম দিকে তাঁর রাসূলকে শুধু দাওয়াত ও তাবলীগের দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছিলেন। তখন জিহাদ ও জিযিয়ার ব্যাপারটি আলোচনা করা হয়নি। এ অবস্থায় তিনি মক্কায় দশ বৎসর নবুওয়াতের দায়িত্ব পালন করেন। তখন আল্লাহর নির্দেশ ছিলো যথা সম্ভব সংযম প্রদর্শন করার জন্য। পরে আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন নিম্নোক্ত আয়াত অবতীর্ণ করেন। ইরশাদ হচ্ছে,
أَذِنَ لِلَّذِينَ يُقَاتِلُونَ بِأَنَّهُمْ ظُلِمُوا(ط) وَإِنَّ اللَّهَ عَلَى نَصْرِهِمْ لَقَدِيرُ
যাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা হচ্ছে তাদেরকেও (যুদ্ধের জন্য) অনুমতি দেয়া হলো। কেননা তারা নির্যাতিত। অবশ্যই আল্লাহ তাদেরকে সাহায্য করতে সক্ষম। (সূরা হজ্জ-৩৯)
অর্থাৎ যারা যুদ্ধ করবে শুধু তাদের সাথে যুদ্ধ করা যাবে আর যারা যুদ্ধ করবে না তাদের সাথে যুদ্ধ করা যাবে না। মহান আল্লাহ্ আরো বলেন-
فَإِنِ اعْتَزِلَكُمْ فَلَمْ يُقَاتِلُوكُمْ وَالْقَوْا إِلَيْكُمُ السَّلْمِ فَمَا جَعَلَ اللَّهُ لَكُمْ عَلَيْهِمْ سَبِيلًا
কাজেই তারা যদি তোমাদের কাছ থেকে পৃথক হয়ে যায় এবং যুদ্ধ করা থেকে বিরত থাকে আর তোমাদের সাথে সন্ধি ও বন্ধুতার হাত সম্প্রসারিত করে দেয়- তবে আল্লাহ্ তোমাদের জন্য তাদেরকে আক্রমণ করার কোনো পথই রাখেননি। (সূরা আন নিসা-৯০)
হিজরতের আট বৎসর পর সূরা বারায়াত অবতীর্ণ করে আহলে আরবদের সাথে যুদ্ধ করার নির্দেশ দেন।' আরো নির্দেশ দেন যারা ইসলাম গ্রহণ করেনি তারা যুদ্ধ করুক বা না করুক তাদের সাথেও যুদ্ধ করতে হবে, যতোক্ষণ পর্যন্ত তারা ইসলাম গ্রহণ না করে অথবা জিযিয়া না দেয়। আহলে কিতাবদের বেলায় ও এ ফরমান জারী করা হয়।

টিকাঃ
১. হিজরী ৮ম সনের পূর্বে যে সমস্ত যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিলো, মূলত তা ছিলো আত্মরক্ষা ও প্রতিরক্ষা মূলক জিহাদ। পরবর্তীতে সূরা তওবা বা বারায়াতের মাধ্যমে ইসলামের দাওয়াত সম্প্রসারণ ও তা বাস্তাবায়নের জন্য প্রয়োজনে জিহাদের নির্দেশ দেয়া হয়। -অনুবাদক

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00