📄 খায়বারের গনিমতের মাল বণ্টন
ইমাম মালিক [রহ] বলেছেন, খায়বারের গণিমতের মাল মোট আঠারো ভাগ করে ১৮শ' লোকের মধ্যে বন্টন করা হয়েছিলো। প্রতি ১০০শ' লোকের জন্য এক ভাগ। (অর্থাৎ আঠারো ভাগকে আঠারো শ' ভাগে ভাগ করা হয়েছিলো।)
আবু উবাইদ বলেছেন, খায়বারের সমস্ত সম্পদকে মোট ৩৬ ভাগে ভাগ করা হয়েছিলো তার প্রতি ভাগ ছিলো ১০০ শ' ভাগের সমষ্টি। অর্ধেক রেখেছিলেন রাসূল [সা] এর নিজের জন্য ও রাষ্ট্রীয় জরুরী অবস্থার জন্য। অবশিষ্ট অর্ধেক উপরোক্ত নিয়মে مسلمانوں মধ্যে বন্টন করে দিয়েছিলেন। যখন সমস্ত ভূখন্ড রাসূল [সা] এর হস্তগত হয়ে গেলো। তখন এমন লোকজন পাওয়া গেলোনা যারা ঐ সম্পূর্ণ ভুখন্ডকে আবাদ করতে পারে। তখন তিনি অর্ধেক ফসল দেবার শর্তে ইহুদীদের কাছে বর্গা দিয়েছিলেন। ওয়াজিহায় বর্ণিত আছে- বনী নাযীরের পরিত্যক্ত সম্পদ হতে নবী করীম [সা] ৭টি বাগান দান করে দিয়েছিলেন।
হযরত উমর [রা] বলেছেন, যদি আমার পরবর্তী লোকদের জন্য ভয় না হতো তবে আমি বিজিত সমস্ত সম্পদ লোকদের মধ্যে বন্টন করে দিতাম, যেভাবে রাসূলে আকরাম [সা] খায়বারের সম্পদ বন্টন করে দিয়েছিলেন।
ইমাম মালিক ও আবু উবাইদ বর্ণনা করেছেন, হযরত বেলাল ও তাঁর কতিপয় সঙ্গী হযরত ওমর [রা] এর কাছে গিয়ে বললেন, শাম (সিরিয়া) এর বিজিত জমি আমাদের মধ্যে ভাগ করে দিন। এ ব্যাপারে হযরত বেলাল [রা] বেশী রকম চাপ প্রয়োগ করলেন। তখন হযরত ওমর [রা] দু'আ করলেন, 'আল্লাহ্! তুমি বেলাল ও তাঁর সাথীদের থেকে আমাকে রক্ষা করো।' এরপর বছর যেতে না যেতেই সবাই মৃত্যু বরণ করলেন।
ইবনু হিশাম বলেছেন, খায়বারের যুদ্ধ ৬ষ্ঠ হিজরীর সফর মাসে সংঘটিত হয়েছিলো। ইমাম মালিক বলেন, খায়বারের যুদ্ধ হয়েছিলো শীতকালে। যুদ্ধ চলাকালে রাসূল [সা] এর কাছে সাহাবাগণ আরজ করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! মনে হয় আমরা যুদ্ধ করতে পারবো না। রাসূল [সা] প্রশ্ন করলেন, কেন? তাঁরা বললেন, শীত ও ক্ষুধার তীব্রতার কারণে। একথা শুনে নবী করীম [সা] আল্লাহর নিকট দু'আ করলেন, 'ইলাহী! আজ তাদেরকে এমন একটি কিল্লার বিজয় দিন, যেখানে প্রচুর পরিমাণ খাদ্য ও চর্বি থাকে।' সেদিনই খায়বার বিজয় হয়ে গেলো।
ইবনু হিশাম বলেছেন, খায়বারের মাল হুদাইবিয়ার অধিবাসীদের মধ্যে বন্টন করা হয়েছিলো। যারা খায়বার যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেছিলেন এবং যারা অনুপস্থিত ছিলেন প্রত্যেককেই তিনি গণিমতের মাল দিয়েছিলেন। সত্যি কথা বলতে কি, হযরত জাবির ইবনু আবদুল্লাহ্ ছাড়া আর কেউ সেদিন অনুপস্থিত ছিলেন না। নবী করীম [রা] তাঁর অংশ উপস্থিত ব্যক্তিদের প্রাপ্ত অংশের সমান নির্ধারণ করেছিলেন। মুফাযযাল বলেছেন - নবী করীম [সা] তাদেরকে পর্যন্ত খাদ্য সামগ্রী দান করেছিলেন যারা আহলে ফাদকদের সঙ্গে রাসূল [সা] এর পক্ষ থেকে সন্ধি করতে গিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে মুহায়িয়সা ইবনু মাসউদ [রা] অন্যতম। তাকে তিনি ত্রিশ ওয়াসাক যব দিয়েছিলেন।
📄 কাফিরদের সাথে কৃত সন্ধি রক্ষা ও দূতকে হত্যা না করা
আবু দাউদ শরীফে হযরত নাঈম ইবনু মাসউদ [রা] হতে বর্ণিত হয়েছে- মুসায়লামা একটি পত্র লিখে [দু'জন দূতের মাধ্যমে] নবী করীম [সা] এর নিকট পাঠালো। যখন তিনি পত্রখানা পাঠ করলেন তখন আমার উপস্থিতিতেই তিনি তাদেরকে জিজ্ঞেস করলেন- তোমরা দু'জন কোন কথার উপর বিশ্বাসী? তারা উত্তর দিলো, পত্রে যা লিখা আছে আমরা সেই কথার উপর বিশ্বাসী। তখন রাসূল [সা] বললেন, আল্লাহর কসম! যদি দূত হত্যা অবৈধ ঘোষণা করা না হতো তবে অবশ্যই আমি তোমাদের দু'জনকে হত্যা করতাম।
আবু রাফে [রা] থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমাকে কুরাইশরা রাসূল [সা] এর কাছে পাঠিয়েছিলো, যখন আমি রাসূল [সা] এর সাথে সাক্ষাৎ করলাম। তখন মনে হলো) আমার অন্তরে ইসলাম প্রবিষ্ট হয়ে গেছে। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ্ আমি আর তাদের কাছে ফিরে যেতে চাইনা। শুনে তিনি বললেন, 'আমি প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করতে পারিনা এবং দূতকেও বাধা দিতে পারি না। বরং তুমি এখন চলে যাও। তারপর যদি তোমার মনের অবস্থা বর্তমান থাকে যা এখন অনুভব করছো, তবে তুমি চলে এসো।' সত্যিই সেদিন তিনি চলে গিয়েছিলেন এবং পরে এসে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন।
বুখারী শরীফে আছে- আবু জান্দাল শিকল দিয়ে বাঁধা অবস্থায় খুঁড়াতে খুঁড়াতে এসে রাসূল [সা] এর কাছে হাজির হলেন। শিকলের ঘর্ষণে তাঁর জায়গায় জায়গায় ছিঁড়ে গিয়েছিলো। হুজুরে আকরাম [সা] শুধু সন্ধির এ শর্তের কারণে তাকে মক্কায় ফেরত পাঠায়েছিলেন, যাতে বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি তাদের কাছে থেকে পালিয়ে مسلمانوں কাছে যায়, তবে তাকে ফেরত পাঠাতে মুসলমানগণ বাধ্য থাকবে।
আবু সুফিয়ান খাত্তাবী শরহে গারীবুল হাদীস গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, আবু জান্দালের ব্যাপারে নবী করীম [সা] এর আশংকা ছিলো না বিধায় তাকে তার পিতা ও বাড়ির দিকে ফেরত পাঠিয়েছিলেন। তবে যে সব স্ত্রীলোক এসেছিলো তাদেরকে ফেরত পাঠাননি। এ ব্যাপারে আল্লাহই সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন যে, কাফিরদের নিকট তাদেরকে ফেরত পাঠিও না। এ আলোচনা তাদের জন্য দলীল, যারা আল কুরআনের সাথে হাদীসও মানসুখ হওয়ার দাবী করেন। বুখারী শরীফে বলা হয়েছে, আবু জান্দালকে নবী করীম (সা) তার পিতা সুহাইল ইবনু আমরের নিকট ফেরত পাঠিয়ে দিয়েছিলেন।
তার কারণ হুদায়বিয়ার সন্ধিপত্রে তিনটি শর্ত লিখা ছিলো। শর্তগুলো হচ্ছে-
১. যারা মক্কা থেকে পালিয়ে مسلمانوں সাথে মিলিত হবে তাদেরকে মুসলমানগণ মক্কায় ফেরত পাঠাতে বাধ্য থাকবে।
২. যদি কোন মুসলমান (মুরতাদ হয়ে) পালিয়ে মক্কায় আসে তবে তাকে পুনরায় مسلمانوں কাছে ফেরত পাঠানো হবে না।
৩. আগামী বছর মুসলমানগণ মক্কায় আসবে এবং মাত্র তিন দিন অবস্থান করতে পারবে। মক্কায় প্রবেশের সময় তাদের কাছে আত্মরক্ষার জন্য কোষাবদ্ধ তলোয়ার ছাড়া আর কোনো অস্ত্র সাথে আনতে পারবেনা।
সন্ধির ব্যাপারে রাসূলে আকরাম [সা] মন্তব্য করেছেন, সন্ধি ছিলো আমাদের জন্য (ঘরের) চৌকাঠের ন্যায়। অর্থাৎ তার কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্থ।
যাহোক আবু জান্দাল যখন উপস্থিত হয়েছিলো তখনও সন্ধি পত্রে স্বাক্ষর করা হয়নি। বুখারী শরীফে কিতাবুল শুরুত অধ্যায়ে বলা হয়েছে- আবু জান্দালের পিতা সুহাইল ছিলো ঐ লোকদের অন্যতম যারা বদর যুদ্ধে مسلمانوں হাতে বন্দী হয়েছিলো।
এক বর্ণনায় আছে- হুদায়বিয়ার দিন সাবিয়া আসলামী মুসলমান হয়ে মক্কা থেকে পালিয়ে এসে مسلمانوں সাথে মিলিত হয়েছিলো। কিছুক্ষণ পর তার স্বামী খুঁজতে খুঁজতে এসে পৌঁছলো এবং বললো, হে মুহাম্মদ! আমার স্ত্রীকে আমার সাথে ফেরত যেতে দাও। তখন আল্লাহ্ অবতীর্ণ করেন- 'হে ঈমানদারগণ! যখন তোমাদের নিকট কোনো মুসলমান মহিলা হিজরত করে আসে... শেষ পর্যন্ত।
অতঃপর রাসূল [সা] মহিলাকে ডেকে শপথ নিলেন। সে বললো, প্রকৃত মাবুদের শপথ! ইসলামের সৌন্দর্য এবং তাঁর প্রতি অনুরাগই আমাকে আপনাদের সাথে মিলিত করেছে। অন্য কোনো উদ্দেশ্য আমার নেই। এরপর রাসূলুল্লাহ্ [সা] তার স্বামীকে ডেকে তার মোহরের টাকা ফেরত দিলেন এবং যা তার পেছনে খরচ করেছিলো তাও হিসেব করে তাকে দিয়ে দিলেন। তবু তার স্ত্রীকে ফেরত পাঠালেন না।
📄 নিরাপত্তা প্রদান ও মহিলা নিরাপত্তা প্রদানকারী
তাফসীরে ইবনু সালামে কালবী হতে বর্ণনা করা হয়েছে, মুশরিকদের মধ্যে কিছু লোক যাদের সাথে مسلمانوں কোনো সন্ধি বা চুক্তি ছিলো না। তারা সংবাদ পেয়েছিলো, নিষিদ্ধ মাস অতিক্রান্ত হলেই মুসলমানগণ তাদের ওপর আক্রমণ করবে। এজন্য তারা রাসূলে আকরাম (সা) এর নিকট এলো, যেন তারা মুসলমানের সাথে কোন চুক্তিতে আবদ্ধ হতে পারে। নবী করীম [সা] তাদের ইসলাম গ্রহণ করা ছাড়া অন্য কোনো শর্তে রাজী না হওয়ায় তাদের সাথে কোন চুক্তি করা সম্ভব হয়নি। তখন তাদেরকে ফিরে যেতে বলেন। তখন নিষিদ্ধ মাস ছিলো না। তারা ছিলো বনী কায়েস ইবনু সালাবা গোত্রের খৃষ্টান। পরবতীতে তাদের কিছু লোক ইসলাম গ্রহণ করেছিলো এবং অবশিষ্ট লোক খৃষ্টান রয়ে গিয়েছিলো।
মুসান্নাফ ইবনু আবি শায়বায় বর্ণিত আছে- মুসলিম বাহিনী কিছু মাল নিজেদের হস্তগত করে। যা নবী করীম [সা] এর কন্যা জয়নাব [রা] এর স্বামীর নিকট (গচ্ছিত) ছিলো। যুদ্ধের সময় সে পালিয়ে গিয়েছিলো কিন্তু রাতে সে জয়নাব [রা] এর ঘরে উপস্থিত হলো, তার সেই মাল নিয়ে যাবার জন্য। রাতে জয়নাব [রা] এর আশ্রয়ে রইলো। যখন নবী করীম [সা] ফজরের নামায আদায় করার জন্য দাঁড়ালেন এবং তাকবীর দেয়া হলো, তখন জয়নাব [রা] মেয়েদের কাতার থেকে উচ্চস্বরে বললেন, উপস্থিত লোকেরা! তোমরা শুনে রাখো, আমি আবুল আসকে আশ্রয় দিয়েছি। রাসূল [সা] সালাম ফিরিয়ে লোকদের দিকে মুখ করে বললেন, 'যা আমি শুনলাম তা তোমরাও শুনেছো।' তারা বললো, হ্যাঁ আমরাও শুনেছি। তিনি বললেন, 'ঐ সত্তার কসম যার হাতে আমার প্রাণ! আমি একথা শোনার আগে ঘটনা সম্পর্কে আমার কিছুই জানা ছিলো না। অবশ্যই مسلمانوں মধ্যে কোনো এক আদনা মুসলমানও যদি কাউকে আশ্রয় দেয় তবে সে নিরাপদ।'
তারপর তিনি ভেতরে গেলেন এবং কন্যাকে বললেন, তার সেবা যত্ন করতে পারো, কিন্তু সে যেন তোমাকে আর কিছু করতে না পারে। কারণ সে তোমার জন্য এখন হালাল নয়। অতঃপর তিনি লোকদেরকে লক্ষ্য করে বললেন, যদি তোমরা ইহসান করো এবং তার মাল ফেরত দাও তবে তা অত্যন্ত ভালো কাজ, আর যদি তোমরা তা পছন্দ করো, তবে সে অধিকার তোমাদের আছে। কেননা তা তোমরা গণিমত হিসেবে পেয়েছো। একথা শুনে লোকেরা তাদের সমস্ত মাল ফেরত দিয়ে দিলো। তখন সে মাল নিয়ে, মক্কায় ফিরে এসে কুরাইশদের প্রত্যেক ব্যক্তিকে তাদের (গচ্ছিত) মাল ফেরত দিলো। তারা মাল ফেরত পেয়ে দু'আ করলো, তোমাকে আল্লাহ্ কল্যাণ দান করুন এবং আরো মহৎ বানিয়ে দিন। সে বললো, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি আল্লাহ্ ছাড়া আর কোন ইলাহ্ নেই। হযরত মুহাম্মদ [সা] তাঁর বান্দা ও রাসূল। আরো বললেন, আমি সেখান থেকেই ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করতে পারতাম, তা করিনি তোমরা ভেবে বসবে আমি তোমাদের মাল আত্মসাৎ করার জন্য এরূপ করেছি। আল্লাহ্ যখন তা তোমাদের হাতে পৌঁছে দেবার তাওফিক দিয়েছেন তাই এখন আমি ইসলাম গ্রহণ করলাম। অতঃপর সে মদীনার দিকে রওয়ানা দিলো এবং রাসূলে পাক [সা] এর দরবারে উপস্থিত হলো।
অন্য বর্ণনায় আছে- আব্বাস [রা] কে যখন বদর যুদ্ধে বন্দী করে আনা হলো, তখন সাহাবাগণ নবী করীম [সা] কে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আপনি যদি চান তবে আপনার চাচার মুক্তিপণ আমরা ছেড়ে দেবো। আবার যখন জয়নাব [রা] তাঁর স্বামী আবুল আসকে মুক্ত করার জন্য মুক্তিপণ পাঠালেন, তখন তার মধ্যে ঐ হারটিও ছিলো যা খাদিজা [রা] ব্যবহার করতেন এবং পরবর্তীতে জয়নাবকে উপহার দিয়েছিলেন। রাসুলে আকরাম [সা] আনসারদের লক্ষ্য করে বললেন, যদি তোমরা সম্ভবপর মনে কর তবে আবুল আসকে মুক্তিপণ ব্যতিরেকে ছেড়ে দিতে পারো এবং তার মালগুলোও তাকে ফেরত দিতে পারো। তাঁরা সন্তুষ্টিচিত্তে রাজী হয়ে গেলেন এবং তাকে তার মাল সহ ছেড়ে দিলেন।
বর্ণিত আছে- রাসূল [সা] জয়নাবের হার ফেরত দিয়েছিলেন, কারণ হারটি খাদিজা [রা] জয়নাবের বিয়ের সময় তাকে দান করেছিলেন। তাই হারটি দেখে খাদিজা [রা] এর কথা স্মরণ হওয়ায়, তাঁর প্রতি সম্মান প্রদর্শনার্থে তা ফেরত দেবার প্রস্তাব করেছিলেন। তা ছাড়া আবুল আসের নিজস্ব কোনো সম্পদ ছিলো না। যা ছিলো তা কুরাইশদের আমানত ও ব্যবসায়ে বিনিয়োগকৃত পুঁজি। তাই তাকে তার মালসহ ছেড়ে দেবার পরামর্শ দিয়েছিলেন।
মুয়াত্তায় ইমাম মালিক হযরত আবু নছর [রা] থেকে এবং তিনি আবু মাররা [রা] থেকে বর্ণনা করেছেন, যিনি উম্মে হানি বিনতে আবু তালিব [রা] এর দাস ছিলেন। তিনি উম্মে হানি [রা] কে বলতে শুনেছেন, আমি মক্কা বিজয়ের সময় তাঁর কাছে গেলাম। তখন তিনি গোসল করছিলেন এবং রাসূলাল্লাহ্ [সা] এর কন্যা ফাতিমা [রা] একটি কাপড় দিয়ে তাঁকে পর্দা করে রেখেছিলেন। যখন তিনি গোসল সেরে বাইরে এলেন তখন একখানা কাপড় জড়িয়ে আট রাকায়াত নামায আদায় করলেন। অতঃপর আমাদের দিকে ফিরলেন। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমার আপন ভাই আলী এমন এক ব্যক্তিকে হত্যা করতে ইচ্ছা করেছে, যাকে আমি আশ্রয় দিয়েছি। সে অমুক ব্যক্তির ছেলে হুবায়রা। রাসুলে আকরাম [সা] বললেন, হে উম্মে হানি! যাকে তুমি নিরাপত্তা দিয়েছো তাকে (মনে করো) আমিও নিরাপত্তা দিয়েছি।
উম্মে হানি বলেন, সেটি ছিলো চাশতের সময়, যখন তিনি নামায আদায় করছিলেন। আর হুবায়রা ইবনু আবি ওয়াহাব ছিলো উম্মে হানির স্বামী।
📄 একটি মু'জিযা
রাসুলুল্লাহ [সা] যখন আনসারদেরকে বললেন, তোমরা তার অর্থাৎ আব্বাস [রা] এর একটি দিরহামও মাফ করবে না। সে ধনী লোক। তারপর আব্বাস [রা] এর দিকে লক্ষ্য করে বললেন, আপনি আপনার এবং আপনার দু'ভাতিজা আকীল ও নওফলের মুক্তিপণও আদায় করে দেবেন। কারণ আপনি বিত্তশালী। আব্বাস [রা] বললেন, আমি মুসলমান হয়ে গেছি। রাসূল [সা] বললেন, আপনার ইসলাম গ্রহণের ব্যাপারে আল্লাহ্ ভালো জানেন। তিনি তার বিনিময় দেবেন। কিন্তু আমরা শুধু আপনার বাহ্যিক অবস্থা দেখি। তখন বললেন, আমার কাছে কোনো মাল সম্পদ নেই। হুজুর [সা] বললেন, আপনার সেই সম্পদ কোথায়, যা আপনি যুদ্ধে আসার পূর্বে উম্মে ফজলের নিকট গচ্ছিত রেখে এসেছেন? এটাতো আপনারা দু'জন ছাড়া আর কেউ জানতো না? আপনি তাকে বলেছিলেন, যদি আমি এ সফর থেকে ফিরে না আসি তবে এতো অংশ ফজলের এবং এতো অংশ আবদুল্লাহ্। একথা শুনে তিনি বলে উঠলেন, সেই সত্তার শপথ যিনি আপনাকে সত্য সহকারে পাঠিয়েছেন, উম্মে ফজল ছাড়া এ ঘটনা আর কেউ জানেনা। আমি বিশ্বাস করি আপনি আল্লাহর রাসূল। অতঃপর তিনি তার ফিদিয়া বাবদ ১০০শ' আওকিয়া এবং আকীল ও নওফলের ফিদিয়া বাবদ ৪০ আওকিয়া করে আদায় করে দিলেন।
আবুল কাসেম ও ইবনু ইসহাক বলেছেন, আব্বাস [রা] ইসলাম গ্রহণ করলেন এবং আকিল [রা] কে ইসলাম গ্রহণের নির্দেশ দিলেন এবং তিনিও ইসলাম গ্রহণ করলেন। এ দু'জন ছাড়া আর কেউ বন্দীদের মধ্যে ইসলাম গ্রহণ করেনি।