📄 কিছু দুর্বল ঈমানদার কর্তৃক গনিমতের মাল বণ্টনে অসন্তোষ প্রকাশ
হুনাইন যুদ্ধে গণিমতের মাল বন্টনের সময় এক ব্যক্তি বলে উঠলো, আল্লাহর কসম! এটা এমন এক বন্টন যেখানে কোনো ইনসাফ করা হয়নি এবং আল্লাহর সন্তোষ অর্জন লক্ষ্য নয়। ঐ ব্যক্তি ছিলো বনী তামীম গোত্রের। রাসূলুল্লাহ [সা] বললেন-'ওরে হতভাগা! যদি আমিই ইনসাফ না করি তবে আর কে ইনসাফ করবে?' এটি একটি দীর্ঘ হাদীস। ওয়াকেদীর ছাত্র ইবনু সা'দ এটি বর্ণনা করেছেন।
একবার হযরত আলী [রা] ইয়েমেন থেকে নবী [সা] এর নিকট কিছু স্বর্ণ পাঠান। তখন রাসূলে আকরাম [সা] তা চারভাগ করে একভাগ আকরা ইবনু হাবিসকে, একভাগ যায়িদ আল খাইলকে, একভাগ আলকামা ইবনু আলাছাহকে এবং একভাগ উয়াইনা ইবনু হাসানকে দেন। এক ব্যক্তি তাঁর সামনে দাঁড়িয়ে বললো, আমি এমন একটি বন্টন দেখলাম যেখানে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন লক্ষ্য নয়।
একথা শুনে রাসূল [সা] রেগে গেলেন। এক কালো ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বললো, প্রথম দিন হতে আজ পর্যন্ত আপনি কোনো ইনসাফ করেননি।
📄 মুশরিকদের রাখা বস্তু
ইবনু ওয়াহাব বর্ণনা করেছেন- যখন নবী করীম [সা] খায়বার অবরোধ করেন তখন তাঁর কাছে কতিপয় লোক এসে বলে, আমাদেরকে কিছু দিন। তিনি তাদেরকে কিছুই দিলেন না। যখন তাঁরা কিছু কিল্লা বিজয় করলেন তখন মুসলমানের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি এক থলে চর্বি নিয়ে এলো। গণিমতের মালের দায়িত্বে নিয়োজিত কা'ব ইবনু আমর ইবনু যায়িদ আনসারী তাকে দেখে ফেললেন এবং ধরে আনলেন। সে ব্যক্তি বলতে লাগলো, আল্লাহর কসম! এটা আমি তোমাকে দেবো না। যতোক্ষণ আমাকে আমার সাথীদের কাছে নিয়ে না যাও। তিনি বললেন, এটা আমাকে দিয়ে দাও, লোকদের মধ্যে বন্টন করে দেই। সে অস্বীকার করলো। দু'জনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হলো। রাসূল [সা] বললেন- 'ঐ ব্যক্তির থলে তার কাছেই রেখে দাও, যেন সে তার সাথীদের কাছে নিয়ে যেতে পারে।'
📄 বনী নাযিরের পরিত্যক্ত সম্পদ
ইমাম বুখারী ও আবু উবাইদ বর্ণনা করেছেন, বনী নাযীরের সম্পদ যা আল্লাহ্ তাঁকে দান করেছিলেন, তা এমনভাবে হস্তগত হয়েছিলো, তার জন্য কোনো যুদ্ধ করতে হয়নি। এ ছিলো নবী করীম (সা) এর জন্য নির্দিষ্ট। যা থেকে তিনি পরিবারের ব্যয় নির্বাহ করতেন এবং অবশিষ্ট সম্পদ থেকে যুদ্ধের ঘোড়া ও সম্পদ ক্রয় করতেন। বনী নাযীরের পরিত্যাক্ত সম্পদকে পাঁচ ভাগে ভাগ করা হয়নি। কারণ তা ছিলো রাসূল [সা] এর জন্য নির্দিষ্ট। তবে বনী কুরাইযা হতে প্রাপ্ত সম্পদকে পাঁচ ভাগে ভাগ করেছিলেন। কেননা তা যুদ্ধের বিনিময়ে হস্তগত হয়েছিলো।
বনী নাযীরের ঘটনা সম্পর্কে আবু উবাইদ বলেছেন, বদর যুদ্ধের ছয় মাস পর সংঘটিত হয়েছিলো। বুখারীর বর্ণনাও অনুরূপ। ইবনু আবু যাইদ মুখতাসার মদুওনায় ইবনু শিহাবের নিকট হতে বর্ণনা করেছেন, বনী নাযীরের ঘটনা সংঘটিত হয়েছিলো ৩য় হিজরীর মুহাররম মাসে। অন্য বর্ণনায় আছে- ৪র্থ হিজরীতে সংঘটিত হয়েছিলো এবং সূরা হাশর এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে অবতীর্ণ হয়।
📄 খায়বারের গনিমতের মাল বণ্টন
ইমাম মালিক [রহ] বলেছেন, খায়বারের গণিমতের মাল মোট আঠারো ভাগ করে ১৮শ' লোকের মধ্যে বন্টন করা হয়েছিলো। প্রতি ১০০শ' লোকের জন্য এক ভাগ। (অর্থাৎ আঠারো ভাগকে আঠারো শ' ভাগে ভাগ করা হয়েছিলো।)
আবু উবাইদ বলেছেন, খায়বারের সমস্ত সম্পদকে মোট ৩৬ ভাগে ভাগ করা হয়েছিলো তার প্রতি ভাগ ছিলো ১০০ শ' ভাগের সমষ্টি। অর্ধেক রেখেছিলেন রাসূল [সা] এর নিজের জন্য ও রাষ্ট্রীয় জরুরী অবস্থার জন্য। অবশিষ্ট অর্ধেক উপরোক্ত নিয়মে مسلمانوں মধ্যে বন্টন করে দিয়েছিলেন। যখন সমস্ত ভূখন্ড রাসূল [সা] এর হস্তগত হয়ে গেলো। তখন এমন লোকজন পাওয়া গেলোনা যারা ঐ সম্পূর্ণ ভুখন্ডকে আবাদ করতে পারে। তখন তিনি অর্ধেক ফসল দেবার শর্তে ইহুদীদের কাছে বর্গা দিয়েছিলেন। ওয়াজিহায় বর্ণিত আছে- বনী নাযীরের পরিত্যক্ত সম্পদ হতে নবী করীম [সা] ৭টি বাগান দান করে দিয়েছিলেন।
হযরত উমর [রা] বলেছেন, যদি আমার পরবর্তী লোকদের জন্য ভয় না হতো তবে আমি বিজিত সমস্ত সম্পদ লোকদের মধ্যে বন্টন করে দিতাম, যেভাবে রাসূলে আকরাম [সা] খায়বারের সম্পদ বন্টন করে দিয়েছিলেন।
ইমাম মালিক ও আবু উবাইদ বর্ণনা করেছেন, হযরত বেলাল ও তাঁর কতিপয় সঙ্গী হযরত ওমর [রা] এর কাছে গিয়ে বললেন, শাম (সিরিয়া) এর বিজিত জমি আমাদের মধ্যে ভাগ করে দিন। এ ব্যাপারে হযরত বেলাল [রা] বেশী রকম চাপ প্রয়োগ করলেন। তখন হযরত ওমর [রা] দু'আ করলেন, 'আল্লাহ্! তুমি বেলাল ও তাঁর সাথীদের থেকে আমাকে রক্ষা করো।' এরপর বছর যেতে না যেতেই সবাই মৃত্যু বরণ করলেন।
ইবনু হিশাম বলেছেন, খায়বারের যুদ্ধ ৬ষ্ঠ হিজরীর সফর মাসে সংঘটিত হয়েছিলো। ইমাম মালিক বলেন, খায়বারের যুদ্ধ হয়েছিলো শীতকালে। যুদ্ধ চলাকালে রাসূল [সা] এর কাছে সাহাবাগণ আরজ করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! মনে হয় আমরা যুদ্ধ করতে পারবো না। রাসূল [সা] প্রশ্ন করলেন, কেন? তাঁরা বললেন, শীত ও ক্ষুধার তীব্রতার কারণে। একথা শুনে নবী করীম [সা] আল্লাহর নিকট দু'আ করলেন, 'ইলাহী! আজ তাদেরকে এমন একটি কিল্লার বিজয় দিন, যেখানে প্রচুর পরিমাণ খাদ্য ও চর্বি থাকে।' সেদিনই খায়বার বিজয় হয়ে গেলো।
ইবনু হিশাম বলেছেন, খায়বারের মাল হুদাইবিয়ার অধিবাসীদের মধ্যে বন্টন করা হয়েছিলো। যারা খায়বার যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেছিলেন এবং যারা অনুপস্থিত ছিলেন প্রত্যেককেই তিনি গণিমতের মাল দিয়েছিলেন। সত্যি কথা বলতে কি, হযরত জাবির ইবনু আবদুল্লাহ্ ছাড়া আর কেউ সেদিন অনুপস্থিত ছিলেন না। নবী করীম [রা] তাঁর অংশ উপস্থিত ব্যক্তিদের প্রাপ্ত অংশের সমান নির্ধারণ করেছিলেন। মুফাযযাল বলেছেন - নবী করীম [সা] তাদেরকে পর্যন্ত খাদ্য সামগ্রী দান করেছিলেন যারা আহলে ফাদকদের সঙ্গে রাসূল [সা] এর পক্ষ থেকে সন্ধি করতে গিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে মুহায়িয়সা ইবনু মাসউদ [রা] অন্যতম। তাকে তিনি ত্রিশ ওয়াসাক যব দিয়েছিলেন।