📘 রাসূলুল্লাহ সাঃ এর বিচারালয় > 📄 মুসলমানদের ঐ সমস্ত সম্পদ যা মুশরিকদের হস্তগত হয়

📄 মুসলমানদের ঐ সমস্ত সম্পদ যা মুশরিকদের হস্তগত হয়


বুখারী শরীফে আছে- হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনু ওমর [রা] এর এক ঘোড়া মাঠে চরার সময় শত্রুপক্ষ ধরে নিয়ে যায়। পরে যখন মুসলমানগণ তাদের ওপর বিজয়ী হয় তখন রাসূলুল্লাহ্ [সা] এর শাসনামলে ঐ ঘোড়া তাঁকে ফেরত দেয়া হয়। তাঁর এক গোলাম পালিয়ে রোমে চলে যায়। যখন মুসলমানগণ হযরত আবু বকর [রা] এর শাসনামলে রোম বিজয় করেন তখন আবদুল্লাহ্ [রা] কে সেই গোলাম ফেরত দেয়া হয়। মদুওনাহ, ওয়াজিহা ও অন্যন্য গ্রন্থে বর্ণিত আছে- মুসলমানদের মধ্যে এক ব্যক্তি নিজের হারিয়ে যাওয়া এক উট গনিমতের মালের অন্তর্ভুক্ত দেখতে পেয়ে নবী করীম [সা] কে অবহিত করলেন। তিনি বললেন, যদি তুমি দেখো, গনিমতের মাল বন্টন করা হয়ে গেছে তবে তার মূল্য নেয়ার অধিকার তোমারআছে, যদি তুমি তা চাও।
বুখারী ও আবু দাউদ শরীফে বর্ণিত আছে- মক্কা বিজয়ের দিন রাসূল [সা] এর কাছে আরজ করা হলো, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কোথায় অবস্থান করবেন? তিনি উত্তর দিলেন, আকিল আমাদের জন্য, কোন্ ঘরটি অবশিষ্ট রেখেছে? আরো বললেন- আমরা সকলকে ইনশাআল্লাহ্ বনী কিনানা উপত্যকায় পাঠাবো যা মুহাচ্ছাবে অবস্থিত। তারা সেখানে যাবে কারণ বনী কিনানা কুরাইশদের সুরে সুর মিলিয়ে বনী হাশিমের বিরুদ্ধে শপথ করেছিলেন যে, তারা মুসলমানদের সাথে কোনো লেনদেন করবে না এবং তাদেরকে তাদের সাথে জায়গা দেবেনা।
যখন নবী করীম [সা] হিজরত করেন তখন আকিল বনী হাশিমের সমস্ত সম্পদ দখল করে নেয়। ইসলাম গ্রহণের পরও সেগুলো তার কাছে ছিলো। পরে হুজুরে পাক [সা] ফরমান জারি করেন, ইসলাম গ্রহণ করার সময় যে ব্যক্তি যে সম্পদের অধিকারী ছিলো তাকে তার সেই সম্পদ ফিরিয়ে দিতে হবে। খাত্তাবী বলেন, সে আবদুল মুত্তালিবের ঘর বিক্রি করে দিয়েছিলো। কেননা তা আবু তালিব ওয়ারিশ হিসাবে পেয়েছিলো। হযরত আলী [রা] তাঁর পিতার মৃত্যুর পূর্বে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন বলে ওয়ারিশ পাননি। আর রাসূল [সা] এর কোনো ঘর ছিলো না। কারণ দাদা জীবিত থাকাবস্থায় তাঁর পিতা ইন্তিকাল করেছিলেন। তাছাড়া আবদুল মুত্তালিবের জীবদ্দশায় তাঁর অধিকাংশ সন্তানের মৃত্যু হওয়ায় তার সম্পদ আবু তালিবের হস্তগত হয়। পরবর্তীতে আকিল তার মালিক হয়। যে সব লোক ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন এবং মদিনা হিজরত করেছিলেন, মুশরিকগণ তাদের সমস্ত সম্পদ দখল করে বিক্রি করে দিয়েছিলো।

📘 রাসূলুল্লাহ সাঃ এর বিচারালয় > 📄 জিম্মি ও হারবী কর্তৃক প্রদত্ত উপহার

📄 জিম্মি ও হারবী কর্তৃক প্রদত্ত উপহার


ইবনু সাহ্নুনের গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে, নবী করীম [সা] আবু সুফিয়ান, জিম্মী, ওয়াহাই, মকুকাশ প্রমুখ কর্তৃক প্রদত্ত হাদীয়া গ্রহণ করেছেন। শুধু তাই নয়, তিনি নিজেও তাদের মধ্যে অনেককে হাদীয়া বা উপঢৌকন পাঠাতেন। তবে মাজাশানীর উপহার তিনি কবুল করেননি।
মাকুকাশ প্রদত্ত হাদীয়ার মধ্যে ছিলো মারিয়া নামক এক দাসী যার গর্ভে নবী করীম [সা] এর ঔরসে ইব্রাহীম নামক এক ছেলের জন্ম হয়েছিলো। তা ছাড়া একটি গাধা এবং খচ্চরও ছিলো। তিনি সেগুলো নিজের জন্য গ্রহণ করেছিলেন। তাঁর ওফাতের পূর্বপর্যন্ত সেই গাধা ও খচ্চর ছিলো। বাদশাহ্ মকুকাশের কাছ থেকে হযরত হাতিব ইবনু বালতায়া [রা] এ সমস্ত হাদিয়া নিয়ে এসেছিলেন। কারণ তাঁকে রাসূলে আকরাম [সা] ৬ষ্ঠ হিজরীতে উক্ত বাদশাহর নিকট পাঠিয়েছিলেন। আরো বর্ণিত আছে, তিন জন দাসী নবী করীম [সা] এর নিকট উপহার পাঠিয়েছিলেন। নবী করীম [সা] তার থেকে জাহম ইবনু হুজাইফা [রা] এর দায়িত্বে তুরকা নামের দাসীকে দিয়ে দেন এবং মারিয়ার বোন শিরীনকে হাসান ইবনে সাবিত [রা] কে দেন, যার গর্ভে আবদুর রহমান জন্ম গ্রহণ করেন।
মুসলিম শরীফে আছে- ফরওয়া ইবনু নুকাছাহ্ রাসূল [সা] কে একটি সাদা খচ্চর উপহার দিয়েছিলো। হুনায়নের যুদ্ধের দিন তিনি তার উপর সওয়ার ছিলেন।
আবু উবাদা তার কিতাবুল আমওয়ালে বলেছেন- আমের ইবনু মালেক নবী করীম [সা] কে একটি ঘোড়া উপহার দেয়, কিন্তু তিনি তা ফেরত দেন এবং বলেন, আমরা মুশরিকদের উপহার গ্রহণ করতে পারি না। এরকম কথা তিনি আয়াজ মাজাশায়ীকেও বলে দিয়েছিলেন। আবু উবাদা বলেন, তিনি যখন আবু সুফিয়ানের উপহার গ্রহণ করেছিলেন, তখন মক্কার অধিবাসীদের সাথে সন্ধি চুক্তি বলবত ছিলো। মাকুকাশ বাদশাহর উপহার গ্রহণ করার কারণ হচ্ছে- রাসূল [সা] তার নিকট যে দূতকে পাঠিয়েছিলেন তিনি তাকে অত্যন্ত সমাদর করেছিলেন। তাছাড়া তিনি নবুয়্যতের স্বীকৃতি দিয়েছিলেন এবং সে ইসলাম গ্রহণের ব্যাপারে দূতকে নিরাশ করেননি।
উপরোক্ত আলোচনায় বুঝা যায়, তিনি যে সব মুশরিকদের সাথে যুদ্ধ করার ইচ্ছে পোষণ করতেন তাদের পাঠানো কোনো উপহার উপঢৌকন গ্রহণ করতেন না।

📘 রাসূলুল্লাহ সাঃ এর বিচারালয় > 📄 আল্লাহ কর্তৃক তাঁর রাসূলকে গনিমতের মাল প্রদান

📄 আল্লাহ কর্তৃক তাঁর রাসূলকে গনিমতের মাল প্রদান


বুখারী শরীফে হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনু যায়িদ থেকে বর্ণিত এক হাদীস দ্বারা শিরোনাম করা হয়েছে যে, নবী করীম [সা] মুয়াল্লিফাতুল কুলুব (মনোতুষ্টির জন্য অমুসলিমকে দান) ও অন্যান্যদের গণিমতের এক পঞ্চমাংশ হতে প্রদান করেন।
জাহেরী বলেছেন, আমাকে আনাস [রা] বর্ণনা করেছেন, যখন আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন নবী করীম [সা] কে হাওয়াজিন গোত্রের সম্পদ গনিমত হিসেবে প্রদান করলেন। তখন তিনি কুরাইশদের বেশী বেশী করে উট দান করতে লাগলেন। এ সময় আনসারদের মধ্যে কতিপয় লোক মন্তব্য করলেন, আল্লাহ্ তাঁর রাসূল [সা] কে মাফ করুন। তিনি শুধু কুরাইশদের দিয়েই যাচ্ছেন, আমাদের কোনো খবর নিচ্ছেন না। অথচ আমাদের তরবারী হতে এখনো রক্ত ঝরছে। আনাস [রা] বলেন, কথাটি রাসূল [সা] এর কানেও গেল। তিনি তাদেরকে এক চামড়ার তাবুতে একত্র করার নির্দেশ দিলেন এবং আরো বললেন, সেখানে অন্য কোনো লোক যেন না থাকে। অতঃপর তিনি সেখানে উপস্থিত হয়ে তাদেরকে লক্ষ্য করে বললেন, এগুলো কেমন কথা, যা তোমাদের থেকে আমার নিকট পৌছেছে?
তাদের মধ্যে যারা জ্ঞানী তারা বললেন, আমাদের নেতৃস্থানীয় কোনো ব্যক্তি একথা বলেনি বরং কতিপয় যুবক একথা বলেছে। রাসূল [রা] বললেন, 'আমি এজন্য তাদেরকে দিচ্ছি যে, তারা কদিন আগেও কাফির ছিলো। তোমরা কি এটা পছন্দ করোনা, ঐ লোকেরা মাল সম্পদ নিয়ে ঘরে ফিরবে এবং তোমরা আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলকে নিয়ে ফিরে যাবে?' তারা উত্তর দিলো, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমরা রাজী আছি।
আবু দাউদ শরীফে হযরত যুবাইর ইবনু মুতয়িম [রা] থেকে বর্ণিত হয়েছে, তারা বলেছিলো, যখন খায়বার বিজয় হয় তখন রাসূল [সা] বনী হাশিম ও বনী মুত্তালিবের মধ্যে স্বজনপ্রীতি করে অংশ প্রদান করেছেন। আর বনী নওফল ও বনী আবদে শামসকে বঞ্চিত করেছেন। একথা শোনে আমি ও হযরত উসমান [রা] নবী করীম [সা] এর নিকট গেলাম এবং বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমরা বনী হাশিমের মর্যাদাকে অস্বীকার করিনা। কেননা আপনার কারণেই তাদের মর্যাদা। কিন্তু আমাদের ভাই বনী মুত্তালিবের অধিকার কতটুকু? আপনি তাদেরকে দিচ্ছেন এবং আমাদেরকে বঞ্চিত করছেন? অথচ আমাদের উভয়ের সম্পর্ক সুত্র এক।' তিনি উত্তর দিলেন, আমি এবং বনী মুত্তালিবের মধ্যে পার্থক্য নেই। এমনকি জাহেলিয়াতের সময়েও ছিলো না আর ইসলামের সময়ও নেই। আমরা এবং তারা তো একই। একথা বলে তিনি এক হাতের আঙ্গুলের ফাঁকে অপর হাতের আঙ্গুল প্রবেশ করালেন।
অন্যান্য বর্ননায় আছে, তিনি বললেন, ঠিক আছে তোমরা ততোদিন পর্যন্ত অপেক্ষা করো যতদিন না তোমরা আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের সাথে হাউযে কাউসারে মিলিত হও। আবু যায়িদও এরূপ বর্ণনা করেছেন।
যাদেরকে নবী করীম [সা] প্রাধান্য দিয়ে বেশী বেশী উট দান করেছিলেন, তারা হচ্ছে- আকরা ইবনু হারিস, উয়াইনা ইবনু হাসান প্রমুখ। ইবনু হিশাম-আবু সুফিয়ান, তাঁর ছেলে মুয়াবিয়া, হাকিম ইবনু হাজাম, হারিস ইবনু হিশাম, সুহাইল ইবনু আমর, হুয়াইতাব ইবনুল আবদুল উজ্জা, আলা ইবনু হারিস, উয়াইনা ইবনু হাসান এবং আকরা ইবনু হাবিসের নাম বর্ণনা করেছেন। বুখারী শরীফে আছে নবী করীম [সা] বলেছেন, 'আমি কিছু লোককে তাদের অধৈর্য ও অতৃপ্তির কারণে দান করেছি। আবার কিছু লোককে তাদের কল্যাণ ও মনের প্রশান্তির উপর ছেড়ে দিয়েছি।'

টিকাঃ
১. হাশিম, মুত্তালিব, নওফল ও আবদে শামস চার সহোদর, সকলেই আবদে মুন্নাফের ছেলে।

📘 রাসূলুল্লাহ সাঃ এর বিচারালয় > 📄 কিছু দুর্বল ঈমানদার কর্তৃক গনিমতের মাল বণ্টনে অসন্তোষ প্রকাশ

📄 কিছু দুর্বল ঈমানদার কর্তৃক গনিমতের মাল বণ্টনে অসন্তোষ প্রকাশ


হুনাইন যুদ্ধে গণিমতের মাল বন্টনের সময় এক ব্যক্তি বলে উঠলো, আল্লাহর কসম! এটা এমন এক বন্টন যেখানে কোনো ইনসাফ করা হয়নি এবং আল্লাহর সন্তোষ অর্জন লক্ষ্য নয়। ঐ ব্যক্তি ছিলো বনী তামীম গোত্রের। রাসূলুল্লাহ [সা] বললেন-'ওরে হতভাগা! যদি আমিই ইনসাফ না করি তবে আর কে ইনসাফ করবে?' এটি একটি দীর্ঘ হাদীস। ওয়াকেদীর ছাত্র ইবনু সা'দ এটি বর্ণনা করেছেন।
একবার হযরত আলী [রা] ইয়েমেন থেকে নবী [সা] এর নিকট কিছু স্বর্ণ পাঠান। তখন রাসূলে আকরাম [সা] তা চারভাগ করে একভাগ আকরা ইবনু হাবিসকে, একভাগ যায়িদ আল খাইলকে, একভাগ আলকামা ইবনু আলাছাহকে এবং একভাগ উয়াইনা ইবনু হাসানকে দেন। এক ব্যক্তি তাঁর সামনে দাঁড়িয়ে বললো, আমি এমন একটি বন্টন দেখলাম যেখানে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন লক্ষ্য নয়।
একথা শুনে রাসূল [সা] রেগে গেলেন। এক কালো ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বললো, প্রথম দিন হতে আজ পর্যন্ত আপনি কোনো ইনসাফ করেননি।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00