📘 রাসূলুল্লাহ সাঃ এর বিচারালয় > 📄 বদর যুদ্ধে অংশ গ্রহণকারীদের সংখ্যা

📄 বদর যুদ্ধে অংশ গ্রহণকারীদের সংখ্যা


বায্যার বলেছেন- বদর যুদ্ধে মোট ৩১৩ জন মুসলমান অংশ গ্রহণ করেন। তার মধ্যে ৭৭ জন মুহাজির এবং ২৩৬জন আনসার। মুহাজিরদের ঝান্ডা ছিলো হযরত আলী [রা] এর হাতে এবং আনসারদের ঝান্ডা ছিলো হযরত সা'দ ইবনু উবাদা [রা] এর হাতে। তাদের মধ্যে ২০ জন ছিলো ক্রীতদাস আর ঘোড়া ছিলো তিনটি। একটি যুবায়ির [রা] এর, একটি মিকদাদ [রা] এর এবং অপরটি মুরশাদ ইবনু আবু মারছাদ [রা] এর। ৭০টি উট ছিলো। পালাক্রমে সেগুলোর ওপর আরোহন করা হতো। যেমন হুজুরে পাক [সা], হযরত আলী [রা] ও মুরশাদ [রা] এক উটের ওপর পালাক্রমে আরোহণ করতেন; আবার হামজা (রা), যায়িদ ইবনু হারিসা, আবু কুবাশা [রা] এবং আম্বাসা [রা] এক উটের ওপর পালাক্রমে আরাহণ করতেন। যায়িদ ইবনু হারিসা ও আম্বাসা ছিলেন রাসূল [সা] এর মুক্ত করে দেয়া গোলাম।
ঐতিহাসিক ইবনু হিশাম বলেছেন- বদর যুদ্ধে অংশ গ্রহণকারী মুসলমানের সংখ্যা ছিলো ৩১৪। ৮৩ জন মুহাজির, ৬১ জন আউস গোত্রের এবং ১৭০ জন খাযরাজ গোত্রের।
কাজী ইসমাঈল বলেন, উবাদাহ্ ইবনু সামিত [রা] বলেছেন, আমরা রাসূল [সা] এর সাথে বদর অভিমুখে রওয়ানা হলাম। যখন আল্লাহ্ মুশরিকদেরকে কষ্ট দেবার সিদ্ধান্ত নিলেন তখন একদল তাদেরকে হত্যা করার জন্য পেছনে গেলো, একদল রাসূল [সা] এর সাথে রইলো, অপর একদল মুশরিকদের মালামাল সংগ্রহে লিপ্ত হলো। যখন মুশরিকদের পশ্চাৎধাবনকারী দল ফিরে এসে তাদের মালের অংশ চাইলো। তারা বললো- আমরা কাফিরদের পশ্চাৎধাবন করে হটিয়ে দিয়ে এসেছি, অতএব আমাদের অংশ দাও। যারা রাসূল (সা) এর সাথে ছিলো, তারা বললো, আমরা অংশ পাবার অধিক হকদার কেননা আমরা রাসূল [সা] এর প্রতিরক্ষায় নিয়োজিত ছিলাম। যারা ময়দানে যুদ্ধ করে বিজয় অর্জন করেছিলো, তারা বললো- এ মাল আমাদের। তখন সূরা আনফাল অবতীর্ণ হয়। কাজী ইসমাঈল বলেন- বনী নাযীরের কাছ হতে প্রাপ্ত সমস্ত সম্পদ তিনজন আনসার এবং সমস্ত মুহাজিরের মধ্যে নবী করীম [সা] বন্টন করে দিয়েছিলেন। আনসারগণ হচ্ছেন, হযরত সাহল ইবনু হানিফ [রা], আবু দাজানা [রা] ও হারিস ইবনু সাম্মা [রা]। এভাবে বন্টন করে দেয়ার কারণ হচ্ছে- মুহাজিরগণ নিঃস্ব অবস্থায় মদীনায় হিজরত করে। তখন রাসূল [সা] আনসারদের সাথে ভ্রাতৃসম্পর্ক স্থাপন করে দেন। আনসারগণ তাদের দ্বীনি ভাইদের সব কিছু সমানভাবে বন্টন করে দিয়েছিলেন। যখন রাসূল [সা] এর সামনে বনী নাযীরের মালসম্পদ হাজির করা হলো, তখন তিনি বললেন- হে আনসারগণ! তোমরা যেভাবে তোমাদের সম্পদ আনসার ভাইদের মধ্যে বন্টন করে দিয়েছো সে ভাবে এগুলোও তোমাদের মধ্যে ভাগ করে নাও। আর যদি চাও তবে সবগুলো মুহাজিরদের মধ্যে বন্টন করে দিতে পারো। তখন আনসারগণ সম্মত হলেন এবং নবী করীম [সা] সমস্ত সম্পদ মুহাজিরদের মধ্যে বন্টন করে দিলেন। এতে মুহাজিরগণ চলার মত সম্পদের অধিকারী হলেন। আনসারদের মধ্যে মাত্র তিন ব্যক্তি অস্বচ্ছলতার কারণে (মুহাজিরদের সাথে) উক্ত সম্পদের অংশ গ্রহণ করেন। এ ছাড়া আর কোনো আনসার সে সম্পদ হতে কোন অংশ গ্রহণ করেননি।

📘 রাসূলুল্লাহ সাঃ এর বিচারালয় > 📄 অনুপস্থিত ব্যক্তির অংশ

📄 অনুপস্থিত ব্যক্তির অংশ


ইবনু হিশাম, ইবনু হাবীব এবং ইবনু সাহ্নুন বর্ননা করেছেন- তালহা ইবনু উবাইদুল্লাহ্ এবং সা'দ ইবনু যায়েদ [রা] বদর যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করতে পারেননি, কারণ তাঁরা তখন শামে (সিরিয়া) গিয়েছিলেন। রাসূল [সা] গনিমতের মালে তাদের দু'জনের অংশ রেখেছিলেন। বুখারীতে বর্ণিত হয়েছে- হযরত উকবা ইবনু আমের আনসারী [রা] বদর যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেছিলেন। ইয়াহইয়া ইবনু মুঈন বলেছেন, আমি বদর যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করিনি কিন্তু বাইয়াতে আকাবায় 'অংশ গ্রহণ করেছিলাম।
ইবনু সাহনুন এবং ইবনু হাবীব বর্ণনা করেছেন- আবু লুবাবা [রা], হারিস ইবনু হাতিব [রা] ও আসেম ইবনু আদী [রা] নবী করীম [সা] এর সাথে যুদ্ধে যাবার জন্য প্রস্তুত ছিলেন, কিন্তু তিনি তাদেরকে ফেরত দিলেন। আবু লুবাবা [রা] কে মদীনার ভারপ্রাপ্ত প্রশাসক নিযুক্ত করেছিলেন এবং আবদুল্লাহ্ ইবনু উম্মে মাকতুম [রা] কে ইমামতের দায়িত্ব দিয়েছিলেন। তিনি তাদেরকে গণিমতের অংশ দিয়েছিলেন। হারিস ইবনু সাম্মাহ [রা] রুহা নামক স্থানে গোপনে পাহারা দেবার দায়িত্ব পালন করছিলেন। তার জন্যও নবী করীম [সা] গনিমতের মালের অংশ রেখেছিলেন।
ইবনু হিশাম বলেছেন, খাত ইবনু যাবির ইবনু নুমান [রা] এর জন্য রাসূল [রা] গনিমতের অংশ রেখেছিলেন। এ ব্যাপারে কারো দ্বিমত নেই যে, হযরত ওসমান ইবনু আফ্ফান [রা] তাঁর স্ত্রী রোকাইয়া বিনতে রাসূলাল্লাহ্ [সা] এর অসুস্থতার কারণে যুদ্ধে যেতে পারেননি, হুজুর [সা] তার জন্য অংশ রেখেছিলেন। তাঁরা জিজ্ঞেস করেছিলেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ্! আমরা কি এর সওয়াব পাবো না? তিনি বলেছিলেন- হ্যাঁ, তোমাদের সওয়াব অবশ্যই তোমরা পাবো।
ইবনু হাবীব বলেন- অনুপস্থিত ব্যক্তির অংশ প্রদান নবী করীম [সা] এর জন্য খাস ছিলো। তাঁর ইন্তিকালের পর সমস্ত মুসলমান এ ব্যাপারে ইজমা করে নিয়েছেন যে, অনুপস্থিত ব্যক্তির কোনো অংশ নেই।
ইবনু ওয়াহাব ও ইবনু নাফি, ইমাম মালিক [রহ] থেকে বর্ণনা করেছেন- যখন ইমাম কাউকে কোনো দায়িত্ব প্রদান করবেন তখন সে তার অংশ পাবে। ইমাম মালিক [রহ] থেকে একথাও বর্ণিত হয়েছে, সে কোনো অংশ পাবে না। সাহনুন বলেন- আমি মালিক [রহ] এর প্রথম মতের পক্ষে।
বুখারী ও অন্যান্য বর্ণনায় আছে- ওহুদ যুদ্ধের দিন নবী করীম [সা] ইবনু ওমর [রা] কে ফেরত দিয়েছিলেন কারণ তখন তাঁর বয়স ছিলো চৌদ্দ বৎসর। আহযاب যুদ্ধের সময় তাকে যুদ্ধে অংশ গ্রহণের অনুমতি দেয়া হয়েছিলো। তখন তাঁর বয়স হয়েছিলো পনের বৎসর।
ইবনু হাবীব বলেন- নবী করীম [সা] মহিলা, অপ্রাপ্ত বয়স্ক ছেলে মেয়ে এবং দাসদের জন্য কোনো অংশ বের করতেন না। কিন্তু যদি কোনো দাস অংশ গ্রহণ করতো তবে তাকে এমনিই কিছু দিয়ে দিতেন। বুখারী শরীফে আছে- রাসুল [সা] উট ও ছাগল বন্টন করেছেন এবং প্রতি একটি উটের জন্য দশটি ছাগল নির্ধারণ করেছেন।

টিকাঃ
২. বাইয়াতে আকাবা হচ্ছে নবী করীম (সা) এর হিযরতের পূর্বে হজ্জের সময় আকাবা নামক এক পাহাড়ের গুহার বাইয়াত বা শপথ। - অনুবাদক।

📘 রাসূলুল্লাহ সাঃ এর বিচারালয় > 📄 আনফাল (অতিরিক্ত) এর বর্ণনা

📄 আনফাল (অতিরিক্ত) এর বর্ণনা


মুয়াত্তা, বুখারী ও মুসলিমে হযরত আবু কাতাদা [রা] হতে বর্ণিত, তিনি বলেন- আমরা রাসূলুল্লাহ্ [সা] এর সাথে হুনায়ন যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেছিলাম। যখন উভয় পক্ষ যুদ্ধ শুরু করলো তখন মুসলমানগণ ঘাবড়ে গিয়ে ছত্রভঙ্গ হয়ে গেলো। আমি দেখলাম, এক মুশরিক একজন মুসলমানকে কাবু করে ফেলছে। তখন আমি চুপি চুপি তাকে তার পেছন থেকে আক্রমণ করলাম। সে তৎক্ষনাৎ ঘুরে আমাকে এমন ভাবে ঝাপটে ধরলো, আমি মৃত্যুর মুখোমূখি হয়ে গেলাম। যাহোক কিছুক্ষন পর তার হাতের বাঁধন শিথিল হয়ে এলো, সে আমাকে ছেড়ে দিয়ে লুটিয়ে পড়লো। আমি হযরত ওমর ইবনু খাত্তাব [রা] এর নিকট এসে বললাম- লোকদের হলো কি? তিনি উত্তর দিলেন- আল্লাহর ইচ্ছে। যখন লোকজন এসে জড়ো হলো, তখন রাসূল [সা] ঘোষণা করলেন- "যে ব্যক্তি কোনো শত্রুকে হত্যা করবে এবং একজন সাক্ষী হাজির করতে পারবে তাকে সেই শত্রু কর্তৃক পরিত্যাক্ত সমস্ত মাল দিয়ে দেয়া হবে।" তখন আমি দাঁড়িয়ে বললাম, আমার একটি আবেদন আছে। তারপর আমি বসে পড়লাম। রাসূল [সা] এভাবে তিনবার বললেন। আবু কাতাদা [রা] বলেন, যখন আমি পুনরায় দাঁড়ালাম তখন রাসূল [রা] বললেন, আবু কাতাদা কি কিছু বলতে চাও? আমি সমস্ত ঘটনা তাঁর নিকট বললাম। এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বললো, আবু কাতাদা সত্য কথা বলেছে। আর নিহত ব্যক্তির সমস্ত মালামাল আমার কাছে আছে। তাকে কিছু দিয়ে সন্তুষ্ট করে দিন। হযরত আবু বকর [রা] ঐ ব্যক্তির দিকে মুখ করে দাঁড়িয়ে বললেন, না, আল্লাহর কসম! তা হতে পারে না। আল্লাহর রাসূল [রা] এমন সিংহের দিকে নজর দিবেন না, যিনি আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের পক্ষে জিহাদ করেন। আর নিহত ব্যক্তির মালামাল তোমাকে দিয়ে দেবেন।
বুখারী শরীফে কিতাবুল আহকামে বর্ণিত আছে- আবু বকর [রা] বললেন, কক্ষনো নয়, এ সমস্ত মাল আল্লাহ্র সিংহের মধ্য থেকে এক সিংহকে বঞ্চিত করে কুরাইশের এক দুর্বল লোককে দেয়া যেতে পারে না। তখন নবী করীম [সা] ইরশাদ করলেন, তুমি সত্য বলেছো। সবগুলো মাল তাকে দিয়ে দাও। আবু কাতাদা [রা] বলেন, প্রাপ্ত সম্পদ থেকে আমি জেরা (যুদ্ধের পোশাক) বিক্রি করে তার মূল্য দিয়ে একটি বাগান ক্রয় করি। এটি ইসলাম গ্রহণের পর আমার প্রথম প্রাপ্ত সম্পদ।

📘 রাসূলুল্লাহ সাঃ এর বিচারালয় > 📄 নিহত ব্যক্তির সম্পদে কি হত্যাকারীর প্রাপ্য?

📄 নিহত ব্যক্তির সম্পদে কি হত্যাকারীর প্রাপ্য?


বুখারী শরীফে বলা হয়েছে- নিহত ব্যক্তির সম্পদ হত্যাকারীর প্রাপ্য। এটা গণিমতের মালের পাঁচ ভাগের বহির্ভূত একটি অংশ। এর থেকে গণিমতের মাল হিসেবে অংশ বের করা যাবেনা। ইমাম মালিক এবং তাঁর সঙ্গীরা বলেন- তা গণিমতের মালের অন্তর্ভূক্ত। তাদের দলীল হচ্ছে নিম্নের আয়াতটি-
وَعَلَمُوا أَنَّمَا غَنَمْتُمْ شَيْءٍ فَإِنَّ لِلَّهِ خُمُسَهُ وَلِلرَّسُولِ
জেনে রাখো, গনীমত হিসেবে তোমরা যা কিছু পাবে তার এক পঞ্চমাংশ আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের। [সূরা আল-আনফাল- ৪১]
তারা আরো বলেন- গনীমতের এক পঞ্চমাংশ রেখে দেয়া হয়েছে এবং অবশিষ্ট চার পঞ্চমাংশ বন্টন করে দেয়া হয়েছে। গনীমতের মাল বন্টন না করে কোনো অংশ পৃথক করে রাখা জায়েয নেই।
আমাদের [অর্থাৎ লেখকের] বক্তব্য হচ্ছে নবী করীম [সা] হুনাইন যুদ্ধে প্রথম বারের মতো গণিমতের মালে পাঁচ ভাগের বহির্ভূত অতিরিক্ত দান করেছিলেন। কারণ - আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন তাঁকে গনিমতের মালে পাঁচ ভাগের ব্যক্তিক্রম করা ও কাউকে কিছু দেয়ার অধিকার দিয়েছিলেন। দ্বিতীয় প্রমাণ হচ্ছে- এ আয়াত খায়বার ও বনী নাযীরের অভিযান উপলক্ষে অবতীর্ণ হয়েছে। তাছাড়া নবী করীম [সা] এর কথা- 'নিহত ব্যক্তির সম্পদ হত্যাকারীর' -হুনাইন যুদ্ধ চলাকালিন নয় বরং যুদ্ধ যখন স্তিমিত হয়ে গেছে তখনকার। এটি যদি মিমাংসিত কথা হতো তা হযরত আবু কাতাদা [রা] এর অজানা থাকার কথা নয়। কেননা, তিনি ছিলেন রাসূল [সা] এর শাহ্ সওয়ার ও জলীলুল কদর (উঁচু মর্যাদা সম্পন্ন) সাহাবী। নিহত ব্যক্তির সম্পদ হত্যাকারী পাবে এটি যদি কোনো আইন হতো তাহলে তিনি সে সম্পদের দাবী করতেন। রাসূল (সা) এর বার বার ঘোষণা প্রদানের প্রয়োজন ছিলো না।
আরো প্রমাণ হচ্ছে- নবী করীম [সা] তাকে সে সম্পদ শুধু একজনের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে দিয়ে দিয়েছেন। কোনো শপথগ্রহণ করেননি। যদি তা প্রকৃত গনমিতের সম্পদ হতো তাহলে তা প্রদানের জন্য আরো শক্তিশালী দলিল ও সাক্ষ্যের প্রয়োজন হতো যা অন্যান্য ব্যাপারে হয়ে থাকে।
আরেকটি দলিল হচ্ছে- যদি নিহত ব্যক্তির সম্পদ হত্যাকারী পাবে একথার বাধ্যবাধকতা থাকতো -তাহলে তাঁর কোনো সাক্ষ্য নেই ভেবে তিনি চুপ থাকতেন এবং বন্টন স্থগিত রাখতেন। এ থেকে প্রমাণিত হয়, এটি একটি অতিরিক্ত উপহার ছিলো।
ইমাম মালিক [রহ] বলেন- হুনাইনের দিন ছাড়া আর কোনো দিন রাসূল [সা] এরূপ বলেছেন এই মর্মে কোনো বর্ণনা আমার কাছে পৌঁছেনি। এমনকি হযরত আবু বকর [রা] এবং হযরত ওমর [রা] এরকম করেছেন তারও কোনো প্রমাণ আমি পাইনি।
ইমাম বুখারী বর্ণনা করেছেন- মুয়ায ইবনু আমর ইবনু জমূহ এবং মুয়ায ইবনু আযরা উভয়ে আনসার সাহাবী ছিলেন। তাঁরা বদর যুদ্ধের দিন আবু জাহেলের সাথে তরবারী দিয়ে যুদ্ধ করে তাকে হত্যা করলেন। তারপর রাসূল [সা] কে সংবাদ দিলেন। রাসূল [সা] জিজ্ঞেস করলেন- তোমরা দু'জনের কে তাকে হত্যা করেছো? উভয়ে বললেন, আমি তাকে হত্যা করেছি। জিজ্ঞেস করলেন, তোমরা কি তোমাদের তলোয়ার মুছে ফেলেছো? তারা না সূচক জবাব দিলেন। রাসূল [সা] তাদের তরবারী দেখলেন তারপর বললেন- তোমরা উভয়েই তাকে হত্যা করেছো কিন্তু তার মাল সামান পাবে মুয়ায ইবনু আমর ইবনু জুমূহ।
বুখারী ছাড়া অন্যরা লিখেছেন- আবু জাহেল যখন মাটিতে লুটিয়ে পড়লো তখন আব্দুল্লাহ্ ইবনু মাউদ [রা] তাকে দেখলেন তলোয়ার দিয়ে লোকদের ফিরিয়ে রাখছে। তিনি তার কাছে গিয়ে ঘাড়ে পা রেখে বললেন- 'হে আল্লাহর দুশমন! আল্লাহ্ কি তোমাকে অপমানিত করলেন? আবু জেহেল বললো, 'হে অধম ছাগলের রাখাল! তুমি এখন আমার নাগালের বাইরে অবস্থান করছো।' আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ তখন তলোয়ার দিয়ে আঘাত করলেন। কিছু হলো না। অতঃপর আবু জাহেলের তলোয়ার নিয়ে তার মাথা কেটে ফেললেন এবং সেই তলোয়ার নিয়ে নবী করীম [সা] এর কাছে হাজির হলেন। পুরস্কার স্বরূপ তিনি তাকে তলোয়ারটি দিয়ে দিলেন। আবু জাহেলকে প্রথম মুয়াজ ইবনুল জুমূহ আঘাত করেছিলেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00