📘 রাসূলুল্লাহ সাঃ এর বিচারালয় > 📄 আহযাব যুদ্ধ ও বনী গাতফান

📄 আহযাব যুদ্ধ ও বনী গাতফান


আহযাব যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিলো উহুদ যুদ্ধের দু'বছর পর। রাসূল [সা] মদীনার তিন দিকে পরিখা খনন করছিলেন। শত্রুপক্ষ দশ রাত মুসলমানদেরকে অবরোধ করে রেখেছিলো। মুসলমানগণ এতে বিচলিত ও পেরেশান হয়ে পড়ে, তখন রাসূল [সা] আল্লাহর দরবারে দু'আ স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি। প্রভু! যদি আপনার ইচ্ছে এই হয়ে থাকে যে, আপনার ইবাদত করা না হোক......। অতঃপর তিনি মদীনার খেজুর বাগানের উৎপাদিত ফসলের এক তৃতীয়াংশ প্রদানের শর্তে বনী গাতফান গোত্রকে অবরোধ প্রত্যাহার এবং প্রত্যাবর্তনের অনুরোধ করে সংবাদ দেন। কিন্তু তারা উৎপাদিত ফসলের অর্ধৈক দাবী করে। তখন রাসূলূল্লাহ্ [সা] হযরত সা'দ ইবনু মায়ায ও সা'দ ইবনু উবাদাহ্ [রা] কে ডেকে পাঠান যারা খাযরাজ গোত্রের সর্দার ছিলেন। পুরো ঘটনা খুলে বললেন। তারা বললেন- ইয়া রাসূলাল্লাহ্! এটা কি আপনার প্রতি কোনো নির্দেশ? তিনি বললেন, নির্দেশ হলে তো তোমাদের সাথে পরামর্শ করার কোনো প্রয়োজনই পড়তো না। এটা আমার নিজস্ব মতামত যা তোমাদের নিকট বললাম। তখন তারা বললেন- 'আমরা জাহেল ছিলাম। তখনও কাউকে কিছু দিয়ে সন্ধি করিনি। আর আজ আমরা মুসলমান, সর্বশক্তিমান আল্লাহ আমাদের সহায়। আল্লাহর কসম! আমরা তাদের সাথে তরবারী দিয়ে ফায়সালা করবো।' রাসূল [সা] বললেন- 'এটাই সঠিক সিদ্ধান্ত।'

📘 রাসূলুল্লাহ সাঃ এর বিচারালয় > 📄 কাফিরদের সাথে সন্ধি

📄 কাফিরদের সাথে সন্ধি


আবু উবায়দাহ্ বলেছেন- কাফিরদের সাথে সন্ধি করা হবে, না যুদ্ধ করতে হবে সে ব্যাপারে মতবিরোধ আছে। একদল বলেন, তাদের সাথে সন্ধি করা বৈধ। তাদের দলিল হচ্ছে নিম্নোক্ত আয়াত দু'টো-
وَإِنْ جَنَحُوا لِلسِّلْمِ فَاجْنَحْ لَهَا وَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ (ط) إِنَّهُ هُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ
হে নবী! যদি শত্রুপক্ষ শাস্তি ও সন্ধির জন্য আগ্রহী হয় তবে তুমিও তার জন্য আগ্রহী হও এবং আল্লাহর উপর ভরসা করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ্ সব কিছু শোনেন ও জানেন। [সূরা আল আনফালঃ ৬১]
فَلَا تَهِنُوا وَتَدْعُوا إِلَي اسلم (ق) وَانْتُمُ الْأَعْلُونَ (3) وَاللَّهُ مَعَكُمْ وَلَنْ يُتْرِكُمْ أَعْمَالَكُمْ.
অতএব তোমরা সাহসহীন হয়ে পড়ো না এবং সন্ধি করে বসো না। আসলে তোমরাই বিজয়ী হবে, কেননা আল্লাহ্ তোমাদের সাথে আছেন। তোমাদের আমল তিনি কখনো বিনষ্ট করবেন না। [সূরা মুহাম্মদ- ৩৫]
উপরোক্ত আয়াতদ্বয় প্রমাণ করে, মুসলামানগণ ইচ্ছে করলে সন্ধি করতে পারে। তবে সক্ষম অবস্থায় সন্ধির প্রস্তাব মুসলমানগণ আগে না দেওয়া উত্তম। এটি ইমাম মালিক [রা] এর অভিমত।
অন্য দলের মতে- 'কোনো অবস্থাতেই কাফিরদের সাথে সন্ধি করা যাবে না। ততোক্ষণ পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যেতে হবে যতোক্ষণ তারা ইসলাম গ্রহণ না করে অথবা জিযিয়া দিতে রাজী না হয়।'
ইবনু আব্বাস হতে বর্ণিত - যখন মুসলমানগণ যুদ্ধ করতে করতে দূর্বল হয়ে যাবে, তখন কোনো কিছুর বিনিময়ে সন্ধি করা বৈধ। অন্য বর্ণনায় আছে- মুয়াবিয়া ইবনু আবু সুফিয়ান ও আবদুল মালেক ইবনু মারওয়ান এরূপ করেছেন। এ বর্ণনাটি ইমাম আওযায়ী [রহ] এর। সন্ধির ব্যাপারে ইমাম মালিকের দলিল হচ্ছে- সাফওয়ান ইবনু উমাইয়াকে নবী করীম [সা] এই বলে ওয়াহাব ইবনু আমেরকে নিজের চাদর দিয়ে পাঠিয়েছিলেন, সাফওয়ানের জন্য দু'মাসের নিরাপত্তা প্রদান করা হলো। তাকে বলা হলো- সন্ধি করে নাও। সে বললো, অসম্ভব! আমি সন্ধি করবো না, যতোক্ষণ পর্যন্ত তুমি স্পষ্ট ঘোষণা না দেবে যে, রাসূল [সা] তোমাকে চার মাসের অবকাশ দিয়েছেন।

📘 রাসূলুল্লাহ সাঃ এর বিচারালয় > 📄 গনিমতের মাল

📄 গনিমতের মাল


বুখারী ও অন্যান্য কিতাবে আছে- গনিমতের মালে নবী করীম [সা] ঘোড়ার জন্য দুই অংশ এবং যারা বাহন ছাড়া তাদের জন্য এক অংশ নির্ধারণ করেছেন। এটি রাসূল [সা] এর আমলের দ্বারা প্রমাণিত এবং এ ব্যাপারে উলামাগণ একমত। তবে ইমাম আবু হানিফা বলেন, ঘোড়া ও তার সওয়ারীর জন্য দু'অংশ এবং যাদের ঘোড়া নেই তাদের জন্য এক অংশ। তিনি মুযমা ইবনু হারিসা বর্ণিত হাদীসকে দলিল হিসাবে পেশ করেন। সেখানে বলা হয়েছে- রাসূল [সা] খায়বার যুদ্ধে প্রত্যেক সওয়ারীকে দু'অংশ এবং পদাতিককে এক অংশ গণিমতের মাল প্রদান করেছেন। ইবনু মুবারকের হাদীসেও অনুরূপ বলা হয়েছে। এ দু'টো বর্ণনাও তাদের জন্য দলিল নয়। কেননা ইবনু আব্বাস [রা] খায়বারের গনিমত বন্টন সংক্রান্ত বিপরীত হাদীস বর্ণনা করেছেন। একমাত্র আবদুল্লাহ্ ইবনু ওমর [রা] ছাড়া সমস্ত সাহাবীই বিপরীত বর্ণনা করেছেন। খায়বারের গণিমতের মাল হুদাইবিয়ার ১৪শ সাহাবীর জন্য নির্দিষ্ট ছিলো। আহলে হুদাইবিয়ার মধ্যে একমাত্র জাবির ইবনু আবদুল্লাহ্ ছাড়া আর কেউ অনুপস্থিত ছিলেন না। তবু নবী করীম [সা] তার জন্য অংশ রেখে ছিলেন। সকল অভিযানেই নবী করীম [সা] ঘোড়ার জন্য দু'অংশ এবং আরোহীর জন্য এক অংশ এ ভাবে বন্টন করেছেন। ইবনু ইসহাক বলেছেন- বনী কুরাইযার অভিযানে ৩৬জন অশ্বারোহী ছিলো। মদুওনায় বর্ণিত হয়েছে- এটিই ছিলো মুসলমানদের প্রথম গণিমতের মাল যেখানে বন্টনের নির্দেশ অবতীর্ণ হয়। সমস্ত মাল পাঁচ ভাগে বন্টন করা হয়েছিলো এবং সে ধারা এখনো অব্যহত আছে। কাজী ইসমাঈল বলেন, আমার মনে হয় পাঁচ ভাগে বন্টনের নির্দেশ তারপর অবতীর্ণ হয়েছে। এ ব্যাপারে হাদীসে কোনো সময়ের উল্লেখ নেই। তবে নিশ্চিত বলা যায়, এক পঞ্চমাংশ এর বর্ণনা হুনাইনের যুদ্ধে গনীমতের ব্যাপারে এসেছে। যে সব যুদ্ধে রাসূল [সা] অংশ গ্রহণ করেছেন এ হচ্ছে তাঁর অংশ গ্রহনে সর্বশেষ যুদ্ধ।

📘 রাসূলুল্লাহ সাঃ এর বিচারালয় > 📄 বদর যুদ্ধে অংশ গ্রহণকারীদের সংখ্যা

📄 বদর যুদ্ধে অংশ গ্রহণকারীদের সংখ্যা


বায্যার বলেছেন- বদর যুদ্ধে মোট ৩১৩ জন মুসলমান অংশ গ্রহণ করেন। তার মধ্যে ৭৭ জন মুহাজির এবং ২৩৬জন আনসার। মুহাজিরদের ঝান্ডা ছিলো হযরত আলী [রা] এর হাতে এবং আনসারদের ঝান্ডা ছিলো হযরত সা'দ ইবনু উবাদা [রা] এর হাতে। তাদের মধ্যে ২০ জন ছিলো ক্রীতদাস আর ঘোড়া ছিলো তিনটি। একটি যুবায়ির [রা] এর, একটি মিকদাদ [রা] এর এবং অপরটি মুরশাদ ইবনু আবু মারছাদ [রা] এর। ৭০টি উট ছিলো। পালাক্রমে সেগুলোর ওপর আরোহন করা হতো। যেমন হুজুরে পাক [সা], হযরত আলী [রা] ও মুরশাদ [রা] এক উটের ওপর পালাক্রমে আরোহণ করতেন; আবার হামজা (রা), যায়িদ ইবনু হারিসা, আবু কুবাশা [রা] এবং আম্বাসা [রা] এক উটের ওপর পালাক্রমে আরাহণ করতেন। যায়িদ ইবনু হারিসা ও আম্বাসা ছিলেন রাসূল [সা] এর মুক্ত করে দেয়া গোলাম।
ঐতিহাসিক ইবনু হিশাম বলেছেন- বদর যুদ্ধে অংশ গ্রহণকারী মুসলমানের সংখ্যা ছিলো ৩১৪। ৮৩ জন মুহাজির, ৬১ জন আউস গোত্রের এবং ১৭০ জন খাযরাজ গোত্রের।
কাজী ইসমাঈল বলেন, উবাদাহ্ ইবনু সামিত [রা] বলেছেন, আমরা রাসূল [সা] এর সাথে বদর অভিমুখে রওয়ানা হলাম। যখন আল্লাহ্ মুশরিকদেরকে কষ্ট দেবার সিদ্ধান্ত নিলেন তখন একদল তাদেরকে হত্যা করার জন্য পেছনে গেলো, একদল রাসূল [সা] এর সাথে রইলো, অপর একদল মুশরিকদের মালামাল সংগ্রহে লিপ্ত হলো। যখন মুশরিকদের পশ্চাৎধাবনকারী দল ফিরে এসে তাদের মালের অংশ চাইলো। তারা বললো- আমরা কাফিরদের পশ্চাৎধাবন করে হটিয়ে দিয়ে এসেছি, অতএব আমাদের অংশ দাও। যারা রাসূল (সা) এর সাথে ছিলো, তারা বললো, আমরা অংশ পাবার অধিক হকদার কেননা আমরা রাসূল [সা] এর প্রতিরক্ষায় নিয়োজিত ছিলাম। যারা ময়দানে যুদ্ধ করে বিজয় অর্জন করেছিলো, তারা বললো- এ মাল আমাদের। তখন সূরা আনফাল অবতীর্ণ হয়। কাজী ইসমাঈল বলেন- বনী নাযীরের কাছ হতে প্রাপ্ত সমস্ত সম্পদ তিনজন আনসার এবং সমস্ত মুহাজিরের মধ্যে নবী করীম [সা] বন্টন করে দিয়েছিলেন। আনসারগণ হচ্ছেন, হযরত সাহল ইবনু হানিফ [রা], আবু দাজানা [রা] ও হারিস ইবনু সাম্মা [রা]। এভাবে বন্টন করে দেয়ার কারণ হচ্ছে- মুহাজিরগণ নিঃস্ব অবস্থায় মদীনায় হিজরত করে। তখন রাসূল [সা] আনসারদের সাথে ভ্রাতৃসম্পর্ক স্থাপন করে দেন। আনসারগণ তাদের দ্বীনি ভাইদের সব কিছু সমানভাবে বন্টন করে দিয়েছিলেন। যখন রাসূল [সা] এর সামনে বনী নাযীরের মালসম্পদ হাজির করা হলো, তখন তিনি বললেন- হে আনসারগণ! তোমরা যেভাবে তোমাদের সম্পদ আনসার ভাইদের মধ্যে বন্টন করে দিয়েছো সে ভাবে এগুলোও তোমাদের মধ্যে ভাগ করে নাও। আর যদি চাও তবে সবগুলো মুহাজিরদের মধ্যে বন্টন করে দিতে পারো। তখন আনসারগণ সম্মত হলেন এবং নবী করীম [সা] সমস্ত সম্পদ মুহাজিরদের মধ্যে বন্টন করে দিলেন। এতে মুহাজিরগণ চলার মত সম্পদের অধিকারী হলেন। আনসারদের মধ্যে মাত্র তিন ব্যক্তি অস্বচ্ছলতার কারণে (মুহাজিরদের সাথে) উক্ত সম্পদের অংশ গ্রহণ করেন। এ ছাড়া আর কোনো আনসার সে সম্পদ হতে কোন অংশ গ্রহণ করেননি।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00