📄 নবী করীম [সা] এর মর্যাদা ও অধিকার ক্ষুণ্নকারীর শাস্তি
শক্তিশালী সনদে বর্ণিত হাদীসে বলা হয়েছে, একবার এক ইহুদী মহিলা বিষ মেশানো গোশত নবী করীম [সা] কে খেতে দেয়। সেই মহিলার নাম ছিলো, জয়নব বিনতে হারেস ইবনু সালাম। যখন গোশত নবী করীম [সা] এর নিকট রাখা হলো তিনি সিনার এক টুকরো গোশত উঠিয়ে খেতে শুরু করলেন। তাঁর সাথে বাশার ইবনু বাররাও খেতে বসেছিলেন। বাশার এক টুকরো গিলে ফেললেন কিন্তু নবী করীম [সা] গিলে ফেলার পূর্বেই টের পেলেন গোশতে বিষ মিশানো হয়েছে। তিনি মুখের গোশত ফেলে দিলেন এবং বললেন- এ হাড় আমাকে বলে দিচ্ছে, এর সাথে বিষ মিশানো হয়েছে। মহিলাকে ডাকা হলো। সে স্বীকার করলো। বললো আমি এ কারণেই বিষ মিশিয়েছি, যদি আপনি কোনো বাদশা হয়ে থাকেন তবে এ গোল্ড খেয়ে শেষ হয়ে যাবেন এবং আমরাও বেঁচে যাবো। আর যদি আপনি নবী হয়ে থাকেন তবে অবশ্যই আপনি টের পেয়ে যাবেন এবং আপনার কোনো ক্ষতি হবে না। নবী করীম [সা.] তাকে মা'ফ করে দিলেন কিন্তু বাশার ইবনু বাররা ইন্তিকাল করলেন।
বুখারী, মুসলিম, কাজী ইসমাইল এবং ইবনু হিশাম এ ব্যাপারে একমত যে, নবী করীম [সা.] তাকে মা'ফ করে দিয়েছিলেন। ইমাম আবু দাউদ এবং শরফুল মুস্তফা গ্রন্থের লেখক বলেছেন- নবী করীম [সা.] একজন মুসলমানকে বিষাক্ত ছাগলের গোস্ত খাইয়ে হত্যা করার অপরাধে তাকে হত্যা করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। শরফুল মুস্তফা গ্রন্থে অন্য এক হাদীসে আছে, তিনি তাকে শূলে দিয়েছিলেন।
মুসান্নাফ আবদুর রাজ্জাকে বর্ণিত হয়েছে- এক যাদুকরকে উপস্থিত করা হলে, তাকে বন্দী করে রাখার নির্দেশ দেন এবং বলেন- যদি যাদুকরী তার পেশা হয়- তবে তাকে হত্যা করো। অন্য বর্ণনায় আছে, রাসূল [সা.] যাদুকরকে তলোয়ার দিয়ে হত্যা করেছেন। হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনু সালাম তাঁর তাফসীরে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। কথিত আছে- আয়িশা [রা.] কে যাদু করার অপরাধে এক মুদাব্বারা দাসীকে তিনি হত্যা করেছিলেন। কিন্তু এ কথাটি দৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত নয়। তবে শুধুমাত্র এতটুকু প্রতিষ্ঠিত সত্য যে, তিনি তাকে বিক্রি করে দিয়েছিলেন। এ রকম আরেকটি ঘটনা হযরত হাফসা [রা.] এর সাথে সংশ্লিষ্ট। কাজী ইসমাইল তার আহকামুল কুরআন গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন- তিনি তাকে হত্যা করেছিলেন। তখন হযরত ওসমান [রা.] অসন্তুষ্টি প্রকাশ করলেন, কেন তিনি বিচারকের ফায়সালা ছাড়া এ সিদ্ধান্ত নিলেন।
ইবনু মুনযুর থেকে বর্ণিত- হযরত আয়িশা [রা.] সেই দাসীকে বিক্রি করে দিয়েছিলেন এবং নবী করীম [সা.] থেকে তিনি হাদীস বর্ণনা করেছেন যে, যাদুকরের শাস্তি তলোয়ার দিয়ে দিতে হবে।
এ হাদীসটির সনদ সম্পর্কে আপত্তি আছে। কারণ এটি ইসমাঈল ইবনু মুসলিমের বর্ণনা এবং সে দূর্বল রাবীর অন্তর্ভূক্ত।
নাসাঈ ও আবু দাউদে ইবনু আব্বাস [রা.] থেকে বর্ণিত হয়েছে- এক অন্ধ ব্যক্তি শুনলো তার উম্মে ওয়ালাদ (দাসী) নবী করীম [সা.] কে গালাগালি করছে। শুনে সে অত্যন্ত রাগান্বিত হয়ে তাকে হত্যা করে ফেললো। নবী করীম [সা] তাকে দিয়াত থেকে রেহাই দিয়েছিলেন।
এ হাদীস থেকে এ মাসয়ালা জানা যায় যে, নবী করীম [সা] কে কোনো ব্যক্তি গালি দিলে তাকে হত্যা করতে হবে। তার তওবা কবুল করা হবে না। ইবনু মানযার বলেছেন, একথার ওপর অধিকাংশ আলিম একমত কিন্তু আবু হানিফা [রহ] বলেন, জিম্মিদের মধ্য থেকে যদি কেউ নবী করীম (সা কে গালী দেয় তবে তাকে হত্যা করা যাবে না। ইমাম আবু হানিফা [রহ] এর বক্তব্যের জবাবে বলা যেতে পারে, নবী করীম [সা] যখন কা'ব ইবনু আশরাফকে হত্যা করার নির্দেশ, তখনতো সে জিম্মীদের অন্তর্ভূক্ত ছিলো। রাসূল [সা] এর আদেশক্রমে একদল লোক তাকে হত্যা করার দায়িত্বে নিয়োজিত হয় এবং তাকে হত্যা করে। অন্য বর্ণনায় আছে- তার মাথা কেটে নবী করীম [সা] এর কাছে নিয়ে যাওয়া হয়েছিলো।
হযরত আবু বকর [রা] কে এক ব্যক্তি গালাগালি করে ও অকথ্য ভাষা প্রয়োগ করে কষ্ট দেয়। এ ঘটনা দেখে হযরত আবু বুরজা আসলামী [রা] তাকে হত্যা করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে তখন আবু বকর [রা] আবু বুরজাকে লক্ষ্য করে বলেন- এ অধিকার আল্লাহর রাসূল [সা] এর জন্য নির্দিষ্ট।
নবী করীম [সা] কে গালি দিলে তাকে হত্যা করতে হবে একথা প্রমাণিত এবং তাঁকে অন্য কোনোভাবে কষ্ট দেয়া অথবা তাঁর ওপর অপবাদ আরোপ করার শাস্তিও গালির অনুরূপ। এটিকে ঈসা ইবনু কাসেম হতে তাঁর সংকলিত গ্রন্থে লিপিবদ্ধ করেছেন। ইবনু ওয়াহাব মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন- যদি কেউ রাসূল [সা] কে অবজ্ঞা প্রদর্শনার্থে কোনো পন্থা অবলম্বন করে, তাকে হত্যা করতে হবে।
ঈসার সংকলনে আরো বলা হয়েছে- তাকে তওবা করতে নির্দেশ দেয়া হবে এবং তওবা না করলে তাকে হত্যা করতে হবে। এটি ওয়াজিহায় বর্ণিত মলিক ও ইবনু কাসিম প্রমুখের মত। এ ছাড়া অন্যান্য গ্রন্থে বলা হয়েছে- তাকে তওবা করার আহবান না জানিয়েই হত্যা করতে হবে। এটি ইবনু হাকিম মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন।
টিকাঃ
১২. যে ক্রীতদাসীকে তার মালিক বলে-'আমার মৃত্যুর পর তুমি মুক্ত হয়ে যাবে।' এরূপ বাঁদীকে 'মাদাব্বারা' বলে। ক্রীতদাস হলে তাকে বলা হয় 'মুদাব্বার' এবং যে মালিক এরূপ প্রতিশ্রুতি দেয় তাকে 'মুদাব্বির' বলা হয়।-অনুবাদক।