📄 লিওয়াতাতের শাস্তি
নবী করীম (সা) লিওয়াতাতের (সমকামের) শাস্তি স্বরূপ কাউকে রজম করেছেন অথবা তার নির্দেশ দিয়েছেন, এমন কোনো প্রমাণ নেই। শুধুমাত্র এতটুকু প্রমাণ আছে, তিনি লিওয়াতাতকারী এবং যার সঙ্গে লিওয়াতাত করা হয় তাদের উভয়কেই হত্যা করার নির্দেশ দিয়েছেন। বর্ণনাকারী ইবনে আব্বাস [রা] ও আবু হুরাইরা [রা]।
হযরত আবু হুরাইরা [রা]-এর বর্ণনায় আরো আছে, চাই সে বিবাহিত হোক কিংবা অবিবাহিত। একথার ওপর হযরত আবু বকর [রা] ফায়সালা দিয়েছেন। আর এ ফায়সালা খাইরুল কুরুন এর পরামর্শ ভিত্তিক সিদ্ধান্তের পর হযরত খালিদ [রা] এর নিকট লিখে পাঠান। এ ব্যাপারে হযরত আলী [রা] অত্যন্ত কঠোর ছিলেন। তিনি এ অপকর্মের শাস্তি স্বরূপ সমকামীদের পুড়িয়ে হত্যা করার পক্ষে মত দিয়েছেন। ইবনু আব্বাস [রা] বলেছেন, যদি অবিবাহিত হয় তবে তাকে রজম করাই সমুচীন। ইবনু ফুজ্জার [রা] বলেন, সাহাবাগণ এ ব্যাপারে একমত।
হযরত আবুবকর [রা] বলেছেন, তাদের দুজনকে কোনো উঁচু দালানের ছাদ থেকে ফেলে দিতে হবে। হযরত আলী [রা] এর অপর বক্তব্য হচ্ছে, তাদের দুজনকে দেয়ালের নীচে দাঁড় করিয়ে তাদের দেয়াল চাপা দিয়ে হত্যা করতে হবে।”
টিকাঃ
১১. লিওয়াতাতের শাস্তি উভয়কে হত্যা করা। এ ব্যাপারে সমস্ত সাহাবী একমত। কিন্তু কি ভাবে হত্যা করতে হবে এ সম্পর্কে মতভেদ আছে। -অনুবাদক।
📄 মুরতাদ ও জিন্দিকের শাস্তি
কোনো মুরতাদ অথবা জিন্দিককে নবী করীম (সা) হত্যা করেছেন, এরকম কোনো প্রমাণ নির্ভরযোগ্য কোনো কিতাবে নেই। তবে মুরতাদ ও জিন্দিকের শাস্তি যে মৃত্যুদন্ড, একথা নবী করীম (সা) বলেছেন এবং তা নির্ভরযোগ্য কিতাবে বর্ণিত হয়েছে। হযরত আবু বকর [রা] উম্মে কুরফা নামক এক মহিলাকে হত্যা করেছিলেন, সে ইসলাম গ্রহণের পর মুরতাদ হয়ে গিয়েছিলো।
📄 মাদকদ্রব্য সেবনের শাস্তি
বুখারী শরীফে হযরত উকবা ইবনু হারেস [রা] থেকে বর্ণিত। নুমানকে নবী করীম [সা] এর নিকট মাতাল অবস্থায় হাজির করা হলো, তখন তিনি ব্যাপারটি অপছন্দ করলেন এবং উপস্থিত সবাইকে তাকে প্রহার করতে নির্দেশ দিলেন। অতঃপর তারা তাকে লাঠি ও জুতা পেটা করতে লাগলো। আমিও তাদের একজন ছিলাম, যারা তাকে মারতে দেখেছেন। হযরত আনাস [রা] বলেছেন, নবী করীম [সা] মাতালকে ছড়ি ও জুতা দিয়ে মেরেছেন। আর হযরত আবু বকর (রা) তাদেরকে ৪০ টি করে বেত্রাঘাত করেছেন।
সায়িব ইবনু ইয়াজিদ বলেছেন, নবী করীম [সা] এর সময়ে হযরত আবুবকর [রা] ও হযরত ওমর [রা] এর শাসনামলের প্রথম দিকে কোনো মাতালকে উপস্থিত করা হলে তাকে আমরা হাত, জুতা ও চাদর দিয়ে পিটাতাম। হযরত ওমর [রা] এর খিলাফতের শেষ দিকে এসে ৪০ টি বেত্রাঘাতের শাস্তি নির্ধারণ করা হয়। সীমালংঘনকারী ফাসিকদেরকে তিনি ৮০টি বেত্রাঘাতের বিধান জারী করেন।
অন্য এক হাদীসে হযরত উসমান ইবনু আফফান [রা] সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে, তার কাছে হুমরান এবং অপর এক ব্যক্তি ওয়ালিদ ইবনু উকবা এর বিপক্ষে সাক্ষ্য দেয়। হুমরান বলেন, সে মদ পান করতে দেখেছে। দ্বিতীয় ব্যক্তি সাক্ষ্য দেয়, আমি তাকে মদ বমি করতে দেখেছি। তখন হযরত ওসমান [রা] বললেন, সে বমি করে মদ ফেলে দিতে পারে না। আবার এমনও হতে পারে, তখন সে মদপান করেনি। তারপর তিনি হযরত আলী [রা] কে লক্ষ্য করে বললেন- হে আলী! উঠো তাকে বেত্রাঘাত করো। হযরত আলী [রা] আবার হযরত হাসান [রা] কে লক্ষ্য করে বললেন- হাসান উঠো তাকে বেত্রাঘাত করো। শুনে ইমাম হাসান [রা] বললেন- এ কাজ ঐ ব্যক্তির ওপর অর্পণ করুন যে এটাকে আনন্দের কাজ মনে করে। সম্ভবত হযরত হাসান, হযরত আলী [রা] এর ওপর কোন কারণে মনোক্ষুন্ন হয়েছিলেন। তারপর তিনি বললেন, হে আবদুল্লাহ্ ইবনু জাফর! তুমি বেত্রাঘাত করো। তখন সে উঠে বেত্রাঘাত করতে লাগলো এবং যখন বেত্রাঘাত শেষ হলো তখন তিনি বললেন, থামো! আর নয়। নবী করীম [সা] ও হযরত আবু বকর [রা] চল্লিশ বেত্রাঘাত করেছেন এবং হযরত ওমর [রা] ৮০টি বেত্রাঘাতের শাস্তি দিয়েছেন। এ সবই সুন্নাত এবং আমি এটিই পছন্দ করি।
ইমাম শাফিঈ [রহ] চল্লিশ বেত্রাঘাতের নিয়মকে গ্রহণ করেছেন। মুসান্নাফ আবদুর রাজ্জাকে আছে- রাসূল [সা] ৮০টি বেত্রাঘাত করেছেন।
📄 চুরির শাস্তি
মুয়াত্তায় বর্ণিত হয়েছে- রাসূল [সা] একটি ঢাল চুরির অপরাধে এক চোরের হাত কেটে দিয়েছিলেন। যার মূল্য ছিলো তিন দিরহাম। ইমাম মালিক বলেছেন, সাফওয়ান ইবনু উমাইয়া [রা] হিজরত করে মদীনায় আসেন এবং চাদর মাথার নীচে দিয়ে মসজিদে ঘুমিয়ে পড়েন। এমন সময় সেখানে এক চোর এসে চাদরটি নিয়ে পালাতে যায়। বিচারে তিনি তাকে হাত কেটে ফেলার নির্দেশ দিলেন। শুনে সাফওয়ান [রা] বললেন, 'ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমি এটা আশা করিনি। আমি তাকে আমার চাদরখানা দান করে দিলাম।' রাসূল [সা] বললেন, 'তুমি আমার এখানে অভিযোগ করার পূর্বে কেন এরূপ করলে না?'
নাসাঈ শরীফে আছে- একবার রাসূলে আকরাম [সা] এক চোরের হাত কেটে তার গলায় ঝুলিয়ে দিয়েছিলেন। বুখারী ও মুসলিমে আছে- একবার মাখজুমী গোত্রের এক কুরাইশী মহিলা চুরি করে ধরা পড়ে। নবী করীম [সা] তার হাত কেটে ফেলার নির্দেশ দেন। নির্দেশ শুনে লোকজন খুব পেরেশান হয়ে পড়লো। কারণ সেই মহিলা ছিলো সম্ভ্রান্ত গোত্রের। তারা বলাবলি করতে লাগলো, উসামা ইবনু যায়িদ ছাড়া আর কে আছে? যাকে আল্লাহর রাসূল [সা] অত্যাধিক ভালোবাসেন। তারা হযরত উসামা [রা] কে বলে সুপারিশ করতে পাঠালেন নবী করীম [সা] এর কাছে। যখন তিনি রাসূলে করীম [সা] এর সাথে এ ব্যাপারে কথা বললেন, তখন নবী করীম [সা] বললেন- 'হে উসামা! তুমি কি আল্লাহর বিধান প্রতিষ্ঠা না করার ব্যাপারে সুপারিশ করতে এসেছো?' তখন হযরত উসামা ইবনু যায়িদ ভয় পেয়ে বললেন, 'ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমাকে মাফ করে দিন। আমার ভুল হয়েছে।' অতঃপর নবী করীম [সা] মিম্বারে দাঁড়িয়ে খুতবা দিলেন। প্রথমে আল্লাহ তা'আলার হামদ্ ও সানা পেশের পর বললেন, 'হে লোক সকল! তোমাদের পূর্ববর্তী লোকজন এ কারণেই ধ্বংস হয়ে গেছে। যখন তাদের মধ্যে কোনো সম্ভ্রান্ত ও প্রভাবশালী লোক চুরি করতো তখন তারা তাকে ছেড়ে দিতো এবং দুর্বল লোক চুরি করলে তাকে শাস্তি দিতো। ঐ সত্তার কসম যার হাতে আমার প্রাণ, আজ যদি মুহাম্মদের মেয়ে ফাতিমাও চুরি করতো তবে আমি তার বেলায়ও হাত কাটার নির্দেশ দিতাম।' অপর হাদীসে আছে, মাখজুমা গোত্রের ঐ মহিলাটি অলংকার ও আসবাবপত্র চেয়ে নিতো পরে তা অস্বীকার করতো। অতঃপর নবী করীম [সা] তার হাত কেটে দেয়ার নির্দেশ দেন।
মুসান্নাফ আবদুর রাজ্জাকে বর্ণিত হয়েছে- রাসূলে করীম [সা] এর নিকট এক ক্রীতদাসকে হাজির করা হলো, যে চুরি করেছিলো তাকে চারবার নবী করীম [সা] এর কাছে নেয়া হলো চারবারই তিনি তাকে ছেড়ে দিলেন। পঞ্চমবার তাকে হাজির করা হলো। তখন রাসূল তার হাত কাটার নির্দেশ দিলেন। পরে ৬ষ্ট বার তাকে আবার চুরির অপরাধে হাজির করা হলে তার একটি পা কেটে দেয়ার নির্দেশ দিলেন। ৭ম বার চুরির অপরাধে তার অপর হাত কেটে দিয়েছিলেন। কিন্তু ৮ম বার পুনরায় চুরি করলে তার দ্বিতীয় পাটিও কেটে দেয়া হয়।'