📄 অবিবাহিত ও অসুস্থ ব্যভিচারীর শাস্তি
মুয়াত্তায় বর্ণিত হয়েছে- একবার দু'ব্যক্তি রাসূল [সা] এর দরবারে মামলা দায়ের করলো, তাদের একজন বললো, 'ইয়া রাসূলাল্লাহ! আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী আমাদের মধ্যে ফায়সালা করে দিন।' দ্বিতীয়জন বললো, হাঁ আমাদের মধ্যে আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী ফায়সালা করে দিন। তবে তার আগে আমাকে কয়েকটি কথা বলার অনুমতি দিন। নবী করীম (সা) বললেন, ঠিক আছে, বলো। সে বলতে লাগলো, আমার ছেলে তার নিকট চাকুরী করতো। সে তার স্ত্রীর সাথে অবৈধ সম্পর্ক স্থাপন করেছে। লোকজন আমাকে বলেছে, আমার ছেলে হত্যাযোগ্য অপরাধ করেছে। এ জন্য আমি তাকে (অর্থাৎ ঐ মহিলার স্বামীকে) একশ' ছাগল ও একটি দাসী ক্ষতিপূরণ দিয়েছি। এরপর আমি বিজ্ঞ লোকদের সাথে ব্যাপারটি নিয়ে আলোচনা করেছি, তারা বলেছে- তোমার ছেলেকে একশ' বেত্রাঘাত ও এক বৎসরের নির্বাসন দেয়া হবে এবং ঐ মহিলাকে রজম করা হবে। রাসূল [সা] বললেন, ঐ সত্তার কসম যার হাতে আমার প্রাণ, আমি তোমাদের মধ্যে আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী ফায়সালা করবো। তোমার ছাগল ও দাসী তোমাকে ফেরত দেয়া হবে। [তিনি তার ছেলেকে একশ' বেত্রাঘাত করে এক বৎসরের নির্বাসন দিলেন এবং নির্দেশ দিলেন, তার স্ত্রীর নিকট গিয়ে স্বীকারোক্তি নাও। যদি সে স্বীকার করে তবে তাকে পাথর নিক্ষেপে মৃত্যুদন্ড দাও। তখন তার নিকট গিয়ে স্বীকারোক্তি চাওয়া হলো। সে স্বীকৃতি দিলো, অতঃপর তাকে রজম [পাথর নিক্ষেপে হত্যা] করা হলো।
ইমাম মালিক [রহ] বলেন- উক্ত হাদীসে আসীফ ]عسيف[ শব্দ রয়েছে যার অর্থ ভৃত্য। কতিপয় ওলামা বলেন- নবী করীম [সা] এর কথা, 'আমি তোমাদের মধ্যে আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী ফায়সালা করবো' এর অর্থ হচ্ছে আমি ওহীর ভিত্তিতে ফায়সালা করবো যদিও তা কুরআনে নেই। তার প্রমাণ আল্লাহ্ তা'আলার বাণী 'তাঁর কাছে কি গায়েবের ইলম আছে যে, তিনি নির্দেশ দেন।'
এ হাদীস থেকে কয়েকটি ফিক্হী মাসয়ালা জানা যায় -
মাসয়ালা- ১ যিনা করার পর কোনরূপ সন্ধি করে নেয়া অবৈধ।
মাসয়ালা ২ হদ প্রয়োগের ব্যাপারে প্রতিনিধি নিয়োগ করা। ইমাম আবু হানিফা দ্বিমত পোষন করে বলেন- হদ প্রয়োগে প্রতিনিধি নিয়োগ বৈধ নয় বিশেষ করে সাক্ষ্য গ্রহণের ব্যাপারে।
মাসয়ালা- ৩ ব্যভিচারীর একবার স্বীকারোক্তি প্রদান করাই যথেষ্ট।
মাসয়ালা ৪ যার ওপর রজম অপরিহার্য তাকে বেত্রাঘাত করা যাবে না।
মাসয়ালা- ৫ মাসয়ালার ব্যাপারে বিজ্ঞ আলিমের কাছে জিজ্ঞেস করা।
মাসয়ালা ৬ কোনো মহিলার ওপর যিনার অপবাদ আরোপ করলে এবং তা প্রমাণ করতে না পারলে অপবাদ আরোপকারীকে শাস্তি প্রদান বাধ্যতামূলক।
মাসয়ালা-৭ বিধিবিধানের ব্যাপারে খবরে ওয়াহিদ গ্রহণযোগ্য।
মাসয়ালা -৮ যার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয় আত্মপক্ষ সমর্থন করার অধিকার তার আছে।
মাসয়ালা-৯ অবিবাহিত ব্যাভিচারীকে নির্বাসন দেয়া যাবে।
মাসয়ালা-১০ মহিলা এবং ক্রীতদাসকে নির্বাসন দেয়া যাবে না। কারণ, মহিলাদের গোপনে থাকার কর্তব্য এবং ক্রীতদাস সম্পদের অন্তর্ভুক্ত। ইমাম বুখারী নির্বাসনের ব্যাখ্যা করেছেন এভাবে তাকে এলাকা থেকে বহিস্কার করে দিতে হড়ো। তিনি বুখারী শরীফের একটি শিরোনাম নির্বাচন করেছেন এ প্রসঙ্গে- 'অবিবাহিত পুরুষ মহিলা যিনা করলে তাদেরকে বেত্রাঘাত করে নির্বাসনে পাঠানো।' গ্রন্থকার বলেন, নির্বাসন বলতে এতোটুকু দূরে তাকে যেতে বাধ্য করা যতোটুকু দূরে গেলে নামায কসর করা হয়।
📄 ব্যভিচারের অপবাদের শাস্তি
হযরত আয়িশা [রা] থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন আমার নির্দোষিতা প্রমাণ করে আয়াত নাযিল হলো, তখন নবী করীম [সা] মিম্বারে দাঁড়িয়ে অবতীর্ণ আয়াতগুলো তিলাওয়াত করে লোকদের শুনিয়ে দিলেন। যখন তিনি মিম্বর থেকে নিচে নামলেন তখন দু'জন পুরুষ ও একজন মহিলা সম্পর্কে নির্দেশ দিলেন, তাদের হদ প্রয়োগের জন্য।
বুখারীতে হযরত উরওয়া [রা] থেকে বর্ণিত- ইফকের ঘটনার সাথে হিসান, মুসতাহ্ এবং হোমনা বিনতে জাহাশের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অন্য একটি দল ছিলো সক্রিয়। যার মূল নায়ক ছিলো মুনাফিক সর্দার আবদুল্লাহ ইবনু উবাই ইবনে আস্ সুলুল।
📄 লিওয়াতাতের শাস্তি
নবী করীম (সা) লিওয়াতাতের (সমকামের) শাস্তি স্বরূপ কাউকে রজম করেছেন অথবা তার নির্দেশ দিয়েছেন, এমন কোনো প্রমাণ নেই। শুধুমাত্র এতটুকু প্রমাণ আছে, তিনি লিওয়াতাতকারী এবং যার সঙ্গে লিওয়াতাত করা হয় তাদের উভয়কেই হত্যা করার নির্দেশ দিয়েছেন। বর্ণনাকারী ইবনে আব্বাস [রা] ও আবু হুরাইরা [রা]।
হযরত আবু হুরাইরা [রা]-এর বর্ণনায় আরো আছে, চাই সে বিবাহিত হোক কিংবা অবিবাহিত। একথার ওপর হযরত আবু বকর [রা] ফায়সালা দিয়েছেন। আর এ ফায়সালা খাইরুল কুরুন এর পরামর্শ ভিত্তিক সিদ্ধান্তের পর হযরত খালিদ [রা] এর নিকট লিখে পাঠান। এ ব্যাপারে হযরত আলী [রা] অত্যন্ত কঠোর ছিলেন। তিনি এ অপকর্মের শাস্তি স্বরূপ সমকামীদের পুড়িয়ে হত্যা করার পক্ষে মত দিয়েছেন। ইবনু আব্বাস [রা] বলেছেন, যদি অবিবাহিত হয় তবে তাকে রজম করাই সমুচীন। ইবনু ফুজ্জার [রা] বলেন, সাহাবাগণ এ ব্যাপারে একমত।
হযরত আবুবকর [রা] বলেছেন, তাদের দুজনকে কোনো উঁচু দালানের ছাদ থেকে ফেলে দিতে হবে। হযরত আলী [রা] এর অপর বক্তব্য হচ্ছে, তাদের দুজনকে দেয়ালের নীচে দাঁড় করিয়ে তাদের দেয়াল চাপা দিয়ে হত্যা করতে হবে।”
টিকাঃ
১১. লিওয়াতাতের শাস্তি উভয়কে হত্যা করা। এ ব্যাপারে সমস্ত সাহাবী একমত। কিন্তু কি ভাবে হত্যা করতে হবে এ সম্পর্কে মতভেদ আছে। -অনুবাদক।
📄 মুরতাদ ও জিন্দিকের শাস্তি
কোনো মুরতাদ অথবা জিন্দিককে নবী করীম (সা) হত্যা করেছেন, এরকম কোনো প্রমাণ নির্ভরযোগ্য কোনো কিতাবে নেই। তবে মুরতাদ ও জিন্দিকের শাস্তি যে মৃত্যুদন্ড, একথা নবী করীম (সা) বলেছেন এবং তা নির্ভরযোগ্য কিতাবে বর্ণিত হয়েছে। হযরত আবু বকর [রা] উম্মে কুরফা নামক এক মহিলাকে হত্যা করেছিলেন, সে ইসলাম গ্রহণের পর মুরতাদ হয়ে গিয়েছিলো।