📄 দাঁত সম্পর্কে নবী করীম [সা] এর ফায়সালা
বুখারী, মুসলিমে হযরত আনাস ইবনু মালিক [রা] থেকে বর্ণিত- নযরের কন্যা এবং রবী'র বোন একবার এক মেয়েকে পাথর নিক্ষেপ করে, ফলে তার সামনের একটি দাঁত ভেঙ্গে যায়। এ ব্যাপারে নবী করীম [সা] এর দরবারে মামলা দায়ের করা হলো। তিনি কিসাসের ফায়সালা দিলেন। তখন রবী ইবনু নযরের মা দাঁড়িয়ে বললেন, 'ইয়া রাসূলাল্লাহ! অমুকের কাছ থেকে কিসাস নেয়া হবে? আল্লাহর কসম! তা কখনো হতে পারে না।' রাসূল [সা] বললেন, 'সুবহানাল্লাহ্! হে উম্মে রবী' কিসাস তো আল্লাহর কিতাবের ফায়সালা।' সে বললো, 'আল্লাহর কসম! এর থেকে কখনো কেসাস নেয়া যেতে পারে না।' একথা সে বার বার বলতে লাগলো। এমনকি দিয়াত পরিশোধের পূর্ব পর্যন্ত সে বলতে লাগলো। রাসূল [সা] বললেন- 'আল্লাহর বান্দার মধ্যে এমন কিছু বান্দা আছে যে আল্লাহর নামে শপথ করে তা পুরো করে।'
বুখারী ও মুসলিমে আছে, এক ব্যক্তি কোনো এক ব্যক্তির হাত কামড় দিয়ে চেপে ধরলো। তখন ঐ ব্যক্তি হেচকা টানে তার মুখ থেকে হাত বের করে ফেললো। কিন্তু হাত বের করার সময় তার মুখের সামনের একটি দাঁত পড়ে গেলো। লোকজন এসে নবী করীম [সা] এ নিকট এর মিমাংসা চাইলো। তিনি বললেন, 'তোমরা উটের মতো এক ভাই অপর ভাইকে কামড়ে ধরবে, এটা কেমন কথা? যাও তোমাদের জন্য কোনো দিয়াত নেই।'
আবু দাউদে আছে, নবী করীম [সা] ঐ চোখ সম্বন্ধে বলেছেন যা স্থানচ্যুত হয়না বটে কিন্তু আঘাতের ফলে ক্ষতিগ্রস্থ হয় এরূপ অবস্থায় দিয়াতের এক তৃতীয়াংশ প্রদান করতে হবে। মদুওনা এবং মুয়াত্তায় হযরত যায়িদ ইবনু সাবিত থেকে বর্ণিত হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্থ চোখের জন্য ১০০শ' দিনার প্রদান করতে হবে। ইমাম মালিক বলেন, এ ব্যাপারে মুজতাহিদগণ ইজতিহাদ করে সিদ্ধান্ত নেবেন।
📄 বিবাহিত ব্যক্তির শাস্তি
মুয়াত্তায় বর্ণিত হয়েছে- একবার বনী আসলাম গোত্রের এক ব্যক্তি হযরত আবু বকর সিদ্দিক [রা] এর কাছে এসে বললো, আমি ব্যভিচারে লিপ্ত হয়েছি। হযরত আবু বকর [রা] জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি একথা আর কাউকে বলেছো? সে বললো, না। তখন হযরত আবু বকর [রা] বললেন, তুমি আল্লাহ কাছে মা'ফ চাও এবং গোপনীয়তা রক্ষা করো। আল্লাহ তোমার দোষ গোপন রাখবেন এবং তোমার তওবা কবুল করবেন। এ কথায় সে আশ্বস্ত না হয়ে হযরত ওমর ইবনু খাত্তাব [রা] এর নিকট এলো এবং পূর্বের মতো বললো। হযরত ওমর [রা] ও হযরত আবু বকরের মত পরামর্শ দিলেন। কিন্তু সে কিছুতেই আশ্বস্ত হতে পারলো না। অগত্যা নবী করীম (সা) এর নিকট এলো এবং বললো, আমার দ্বারা ব্যভিচার সংঘটিত হয়েছে। রাসূল মুখ ফিরিয়ে নিলেন। যখন সে তার কথার উপর জিদ ধরে রইলো, তখন নবী করীম [সা] তার পরিবারের লোকদের ডাকালেন এবং জিজ্ঞেস করলেন, এ কি পাগল? এখন কি ও পাগলামী করছে? তারা উত্তর দিলো, হে আল্লাহর রাসূল! সে সম্পূর্ণ সুস্থ।
রাসূলে আকরাম [সা] তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি বিবাহিত না অবিবাহিত? সে উত্তর দিলো, আমি বিবাহিত। তখন রাসূলে আকরাম [সা] তাকে পাথর নিক্ষেপে মৃত্যুদন্ড (রজম) দিলেন।
বুখারী শরীফে বর্ণনায় আছে- বনী আসলাম গোত্রের এক ব্যক্তি নবী করীম [সা] এর নিকট এসে ব্যাভিচারের স্বীকারোক্তি করলো। রাসূল [সা] তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমাকে তো পাগলামীতে পায়নি? সে জবাব দিলো, না। তিনি আবার জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি বিবাহিত? সে বললো, হ্যাঁ। তখন নবী করীম (সা) এর নির্দেশে তাকে জানাযার স্থানে পাথর নিক্ষেপে মৃত্যুদন্ড দেয়া হলো। যখন পাথর নিক্ষেপের ফলে দিক বিদিক জ্ঞানশুণ্য হয়ে সে দৌড়ে পালাতে লাগলো, তখন তাকে ধরে এনে আবার পাথর নিক্ষেপ করা হলো, যতোক্ষণ না সে মৃত্যুবরণ করলো। নবী করীম [সা] ঘটনা শুনে তার সম্পর্কে ভালো কথা বললেন এবং তার নামাযে জানাযা পড়ালেন।
আবু দাউদে (অতিরিক্ত) আছে, [নবী করীম বললেন) 'যার হাতে আমার প্রাণ তার শপথ করে বলছি, অবশ্যই সে এখন জান্নাতের ঝর্ণাধারায় অবগাহন করছে।'
মুয়াত্তায় বলা হয়েছে, এক মহিলা রাসূল [সা] নিকট এসে বললো, আমি যিনা করেছি এবং যিনার কারণে গর্ভবতী হয়েছি। নবী করীম (সা) তাকে বললেন, তুমি চলে যাও, সন্তান প্রসব হলে এবং তার দুধপান করানোর সময় শেষ হলে এসো। যখন তার সন্তানের দুধ পানের মেয়াদ শেষ হলো তখন সে রাসূল [সা] এর দরবারে এসে উপস্থিত হলো। তিনি বললেন, তোমার এ সন্তানকে কারো দায়িত্বে দিয়ে দাও। যখন সে সন্তানকে অন্য একজনের দায়িত্বে রেখে এলো, তখন তাকে পাথর নিক্ষেপে হত্যার নির্দেশ দেয়া হলো। তার জন্য বুক সমান গভীর এক গর্ত খুঁড়া হলো এবং তাকে সেখানে দাঁড় করিয়ে পাথর নিক্ষেপে হত্যা করা হলো। অতপর নবী করীম [সা] তার জানাযার নামায পড়ালেন। হযরত ওমর (রা) আরজ করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আপনি তার জানাযা নামায পড়লেন? এতো ব্যভিচারিনী। তিনি বললেন, এ মহিলা এমন তওবা করেছে তা যদি পৃথিবীবাসীর মধ্যে ভাগ করে দেয়া হয় তবে সকলের জন্য তা যথেষ্ট হবে। এর চেয়ে বড় আর কি হতে পারে যে, সে (আল্লাহর ভয়ে) নিজের জীবন দিয়ে দিলো।
নাসাঈ শরীফে (আরো) আছে- রাসূল তাকে পাথর নিক্ষেপ করতে এলেন এবং তাকে লক্ষ্য করে সজোরে একটি পাথর নিক্ষেপ করলেন। তখন তিনি গাধার ওপর সওয়ার ছিলেন।
উপরোক্ত আলোচনার আলোকে নিম্নোক্ত মাসয়ালাগুলো জানা যায়-
মাসয়ালা-১ যাকে পাথর নিক্ষেপে হত্যা করা হবে তাকে বেত্রাঘাত বা কষাঘাত করা যাবে না।
মাসয়ালা-২ পাগলের স্বীকারোক্তি গ্রহণযোগ্য নয়। কেননা নবী করীম [সা] এর বাণী- 'সে কি পাগলামী করছে?'
মাসয়ালা-৩ কোনো অপরাধ করে গোপনে আল্লাহর নিকট তওবা করলে তিনি তা মা'ফ করে দেন। যেমন হযরত আবুবকর ও ওমর [রা] পরামর্শ দিয়েছিলেন।
মাসয়ালা-৪ মুয়াত্তার বর্ণনা থেকে বুঝা যায়, যিনার স্বীকৃতি একবার করলেই তাকে শাস্তি দেয়া যাবে। বার বার না করলেও চলবে।
📄 নবী করীম [সা] ইহুদী ব্যভিচারীর শাস্তিতে রজমের নির্দেশ দিয়েছেন
মুয়াত্তায় বলা হয়েছে- একবার কয়েকজন ইহুদী নবী করীম (সা) এর কাছে এসে বললো, আমাদের এক মহিলা যিনা করেছে। রাসূল [সা] তাদেরকে জিজ্ঞেস করলেন, তওরাতে ব্যভিচারের জন্য কি শাস্তি নির্ধারণ করা হয়েছে? তারা বললো, আমরা তাকে অপমাণিত করি এবং চাবুক মারি। তখন আবদুল্লাহ্ ইবনু সালাম [রা] (যিনি পূর্বে ইহুদী পন্ডিত ছিলেন) বললেন, তোমরা মিথ্যে বলছো। তওরাতে যিনার শাস্তি পাথর নিক্ষেপে হত্যার কথা উল্লেখ আছে। তারা তাওরাত নিয়ে এলো এবং তা পাঠের সময় হাতের আঙ্গুল দিয়ে রজমের কথা লুকিয়ে রাখলো। আবদুল্লাহ ইবনু সালাম [রা] ইহুদী পন্ডিতকে বললেন, তোমার হাতের আঙ্গুল সরিয়ে নাও। যখন সে তা সরিয়ে নিলো তখন রজমের আয়াত বেরিয়ে গেলো। তখন রাসূলে আকরাম [সা] তাদের দু'জনকে রজমের (পাথর নিক্ষেপে হত্যার) নির্দেশ দিলেন।
আবদুল্লাহ ইবনু ওমর [রা] বলেন, আমি রজমের সময় লক্ষ্য করলাম, পুরুষটি বারবার ঝুকে পড়ছিলো; মনে হচ্ছিলো সে স্ত্রীলোকটিকে বাঁচাতে চাচ্ছে।
মারানিল কুরআনে হযরত জুযায [রা] হতে বর্ণিত হয়েছে খায়বারের ইহুদী সরদারদের মধ্যে যিনার প্রবণতা বেশী পরিলক্ষিত হতো এবং তওরাতে বিবাহিত ব্যভিচারের শাস্তি রজমের কথা উল্লেখ ছিলো। যাহোক একবার এক ইহুদী পুরুষ ও মহিলা যিনা করে, তারা তার বিচারের জন্য নবী করীম [সা] এর শরনাপন্ন হলো। এই আশায় যে, তিনি হয়তো বিবাহিত ব্যভিচারের জন্য চাবুক মারার নির্দেশ দেবেন। তাদের এ ষড়যন্তের কথা আল্লাহপাক প্রচার করে দিলেন, নিম্নোক্ত আয়াতের মাধ্যমে-
يُحَرِّفُونَ الْكَلِمَ مِنْ بَعْدِ مَواضِعِهِ (ج) يَقُولُونَ أَن أَتَيْتُمْ هَذَا فَخُذْهُ وَإِنْ لَّمْ تُؤْتُوهُ فَاحْذَرُوهُ (ط)
আল্লাহর কিতাবের শব্দসমূহ তার আসল স্থান থেকে সরিয়ে দেয় এবং লোকদেরকে বলে, তোমাদের এ নির্দেশ দেয়া হলে মানবে নইলে মানবেনা। (আল মায়িদা-৪৭)
আবু দাউদে আছে- এক ইহুদী পুরুষ ও মহিলা ব্যভিচার করে ধরা পড়লো এবং তাদেরকে বিচারের জন্য নবী করীম (সা) এর দরবারে হাজির করা হলো। তখন রাসূল [সা] তাদের গোত্রের দু'জন বড়ো আলিমকে হাজির করার নির্দেশ দিলেন। তাদেরকে লক্ষ্য করে বললেন, 'এদের ব্যাপারে তোমরা তাওরাতে কি নির্দেশ পেয়েছো?' তারা বললো, 'আমরা তওরাতে এই পেয়েছি, যদি চার ব্যক্তি এরকম সাক্ষ্য দেয়, তারা পুরুষ ও মহিলা উভয়ের গুপ্তস্থান এমনভাবে মিলিত অবস্থায় দেখেছে, যেভাবে সুরমাদানির মধ্যে সুরমা শলাকা ঢুকানো থাকে। তবে তাদেরকে রজম করতে হবে।' রাসূল [সা] জিজ্ঞেস করলেন, 'তাদেরকে রজমের বিধান কার্যকরী করতে তোমাদেরকে কে বাধা দিলো?' তারা বললো, 'এতে আমাদের আত্মমর্যাদা ক্ষুন্ন হয়। তাছাড়া আমরা হত্যাকে অপছন্দ করি।'
নবী করীম [সা] তাদের ব্যাপারে চারজন সাক্ষ্য চাইলেন, তারা চারজন সাক্ষ্য হাজির করলো। অতঃপর তিনি তাদের দু'জনকে রজম (পাথর নিক্ষেপে হত্যা) করার নির্দেশ দিলেন।
এ হাদীসটি থেকে যে সব ফিক্হী মাসয়ালা জানা যায় তার মধ্যে একটি হচ্ছে ইহুদীরা যখন ইসলামের ফায়সালার ওপর রাজী থাকবে তখন ইহুদী আলিমদের মতামত না নিয়েই বিচারক রায় দিতে পারেন। দ্বিতীয় মাসয়ালা হচ্ছে- ইহুদীদের বেলায় গর্ত না খুঁড়ে তাদেরকে পাথর নিক্ষেপে হত্যা করা। যদি ইহুদীদেরকে গর্ত করে রজম করা হতো তাহলে পুরুষটি মহিলার প্রতি ঝুঁকে তাকে রক্ষা করার চেষ্টা করতে পারতো না। এটি ইমাম মালিক [রহ] এর মসলক। কতিপয় আলিমের অভিমত হচ্ছে বিচারক ইচ্ছে করলে গর্ত খনন করতে পারেন আবার নাও করতে পারেন। তৃতীয় মাসয়ালা হচ্ছে- যাকে রজম করা হবে তাকে বেত্রাঘাত করা যাবেনা। সুনান আবু দাউদ এবং কিতাবুশ শরফে বর্ণিত হয়েছে- রাসূলাল্লাহ [সা] এমন এক ব্যক্তির ব্যাপারে বেত্রাঘাতের নির্দেশ দিয়েছিলেন যে তার স্ত্রীর বাঁদীর সাথে সহবাস করেছিলো এবং স্ত্রী তার জন্য তা হালাল করে দিয়েছিলো। যদি হালাল করে না দিতো তবে তাকে পাথর নিক্ষেপে হত্যার নির্দেশ দেয়া হতো।
📄 অবিবাহিত ও অসুস্থ ব্যভিচারীর শাস্তি
মুয়াত্তায় বর্ণিত হয়েছে- একবার দু'ব্যক্তি রাসূল [সা] এর দরবারে মামলা দায়ের করলো, তাদের একজন বললো, 'ইয়া রাসূলাল্লাহ! আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী আমাদের মধ্যে ফায়সালা করে দিন।' দ্বিতীয়জন বললো, হাঁ আমাদের মধ্যে আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী ফায়সালা করে দিন। তবে তার আগে আমাকে কয়েকটি কথা বলার অনুমতি দিন। নবী করীম (সা) বললেন, ঠিক আছে, বলো। সে বলতে লাগলো, আমার ছেলে তার নিকট চাকুরী করতো। সে তার স্ত্রীর সাথে অবৈধ সম্পর্ক স্থাপন করেছে। লোকজন আমাকে বলেছে, আমার ছেলে হত্যাযোগ্য অপরাধ করেছে। এ জন্য আমি তাকে (অর্থাৎ ঐ মহিলার স্বামীকে) একশ' ছাগল ও একটি দাসী ক্ষতিপূরণ দিয়েছি। এরপর আমি বিজ্ঞ লোকদের সাথে ব্যাপারটি নিয়ে আলোচনা করেছি, তারা বলেছে- তোমার ছেলেকে একশ' বেত্রাঘাত ও এক বৎসরের নির্বাসন দেয়া হবে এবং ঐ মহিলাকে রজম করা হবে। রাসূল [সা] বললেন, ঐ সত্তার কসম যার হাতে আমার প্রাণ, আমি তোমাদের মধ্যে আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী ফায়সালা করবো। তোমার ছাগল ও দাসী তোমাকে ফেরত দেয়া হবে। [তিনি তার ছেলেকে একশ' বেত্রাঘাত করে এক বৎসরের নির্বাসন দিলেন এবং নির্দেশ দিলেন, তার স্ত্রীর নিকট গিয়ে স্বীকারোক্তি নাও। যদি সে স্বীকার করে তবে তাকে পাথর নিক্ষেপে মৃত্যুদন্ড দাও। তখন তার নিকট গিয়ে স্বীকারোক্তি চাওয়া হলো। সে স্বীকৃতি দিলো, অতঃপর তাকে রজম [পাথর নিক্ষেপে হত্যা] করা হলো।
ইমাম মালিক [রহ] বলেন- উক্ত হাদীসে আসীফ ]عسيف[ শব্দ রয়েছে যার অর্থ ভৃত্য। কতিপয় ওলামা বলেন- নবী করীম [সা] এর কথা, 'আমি তোমাদের মধ্যে আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী ফায়সালা করবো' এর অর্থ হচ্ছে আমি ওহীর ভিত্তিতে ফায়সালা করবো যদিও তা কুরআনে নেই। তার প্রমাণ আল্লাহ্ তা'আলার বাণী 'তাঁর কাছে কি গায়েবের ইলম আছে যে, তিনি নির্দেশ দেন।'
এ হাদীস থেকে কয়েকটি ফিক্হী মাসয়ালা জানা যায় -
মাসয়ালা- ১ যিনা করার পর কোনরূপ সন্ধি করে নেয়া অবৈধ।
মাসয়ালা ২ হদ প্রয়োগের ব্যাপারে প্রতিনিধি নিয়োগ করা। ইমাম আবু হানিফা দ্বিমত পোষন করে বলেন- হদ প্রয়োগে প্রতিনিধি নিয়োগ বৈধ নয় বিশেষ করে সাক্ষ্য গ্রহণের ব্যাপারে।
মাসয়ালা- ৩ ব্যভিচারীর একবার স্বীকারোক্তি প্রদান করাই যথেষ্ট।
মাসয়ালা ৪ যার ওপর রজম অপরিহার্য তাকে বেত্রাঘাত করা যাবে না।
মাসয়ালা- ৫ মাসয়ালার ব্যাপারে বিজ্ঞ আলিমের কাছে জিজ্ঞেস করা।
মাসয়ালা ৬ কোনো মহিলার ওপর যিনার অপবাদ আরোপ করলে এবং তা প্রমাণ করতে না পারলে অপবাদ আরোপকারীকে শাস্তি প্রদান বাধ্যতামূলক।
মাসয়ালা-৭ বিধিবিধানের ব্যাপারে খবরে ওয়াহিদ গ্রহণযোগ্য।
মাসয়ালা -৮ যার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয় আত্মপক্ষ সমর্থন করার অধিকার তার আছে।
মাসয়ালা-৯ অবিবাহিত ব্যাভিচারীকে নির্বাসন দেয়া যাবে।
মাসয়ালা-১০ মহিলা এবং ক্রীতদাসকে নির্বাসন দেয়া যাবে না। কারণ, মহিলাদের গোপনে থাকার কর্তব্য এবং ক্রীতদাস সম্পদের অন্তর্ভুক্ত। ইমাম বুখারী নির্বাসনের ব্যাখ্যা করেছেন এভাবে তাকে এলাকা থেকে বহিস্কার করে দিতে হড়ো। তিনি বুখারী শরীফের একটি শিরোনাম নির্বাচন করেছেন এ প্রসঙ্গে- 'অবিবাহিত পুরুষ মহিলা যিনা করলে তাদেরকে বেত্রাঘাত করে নির্বাসনে পাঠানো।' গ্রন্থকার বলেন, নির্বাসন বলতে এতোটুকু দূরে তাকে যেতে বাধ্য করা যতোটুকু দূরে গেলে নামায কসর করা হয়।