📄 হযরত ওমর [রা] এর বন্দশালা
ইবনু শো'বান থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন- এটি একটি প্রতিষ্ঠিত সত্য যে, হযরত ওমর ইবনু খাত্তাব [রা] এর একটি বন্দীশালা ছিলো এবং তিনি হাতিয়াকে দুষ্কর্মের অভিযোগে আটক করে রেখেছিলেন। আর সাবিগকে বন্দী করেছিলেন কারণ, সে সূরা আয-যারিয়াত, মুরসালাত ও নায়িয়াত ইত্যাদি সম্পর্কে উল্টা পাল্টা প্রশ্ন করেছিলো এবং লোকদেরকে ঢালাওভাবে গবেষণা করার জন্য নির্দেশ দিয়েছিলো। এজন্য তাকে ইরাক অথবা বসরা নির্বাসন দিয়েছিলেন। সাথে সাথে এ ফরমানও জারী করেছিলেন যে, কেউ যেনো তার নিকট না বসে। পরে হযরত আবু মূসা আশয়ারী [রা] হযরত ওমর [রা] কে লিখেছিলেন এখন সে তওবা করেছে। এরপর তার সাথে কথা না বলার নির্দেশ প্রত্যাহার করা হয়েছিলো।
📄 হযরত ওসমান [রা], আলী [রা] ও অন্যদের বন্দশালা
হযরত ওসমান ইবনু আফ্ফান [রা] যাবী বিন হারিসকে আটক করেছিলেন। সে বনু তামীম গোত্রের সন্ত্রাসী ছিলো। পরে বন্দী অবস্থায়ই সে মৃত্যু বরণ করে। হযরত আলী ইবনু আবী তালিব [রা] কুফায় জেলখানা স্থাপন করেছিলেন। আর হযরত আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়ের [রা] মক্কা শরীফে লোকদেরকে আটক করে রাখতেন এবং নিজ বাড়ির বন্দীশালায় মুহাম্মদ ইবনু হানিফা [রহ] কে আটকে রেখেছিলেন। কারণ তিনি তার কাছে বাইয়াত নিতে অস্বীকার করেছিলেন। কিতাবুল খাত্তাবীতে হযরত আলী [রা] সম্পর্কে বর্ণিত আছে, তিনি বাঁশ দিয়ে একটি কয়েদখানা তৈরী করেছিলেন এবং তার নাম রেখেছিলেন নাফে'। চোরেরা সেটিকে উপড়ে ফেলার পর তিনি মাটির দেয়াল দিয়ে মজবুত এক কয়েদখানা নির্মাণ করেন। তার নাম রাখেন মুখাইয়িস। তারপর তিনি নিচের কবিতাটি আবৃত্তি করেছিলেন:
"তোমরা কি আমার বিচক্ষণতা ও বুদ্ধিমত্তা দেখেছো, আমি নাফি'র পর মুখাইয়িস তৈরী করেছি। যা এক মজবুত কিল্লা এবং প্রশাসকও বিজ্ঞ।"
📄 কুরআন সুন্নাহর আলোকে বন্দী করে শাস্তি প্রদান
মুসান্নাফ আবু দাউদে নযর ইবনু সুমাইল কর্তৃক বর্ণিত এক হাদীসে তিনি বলেন- আমি নবী করীম [সা] এর নিকট আমার এক পাওনাদারকে হাজির করলাম। তিনি আমাকে নির্দেশ দিলেন, 'তার সাথে সাথে লেগে থাকো। হে বনী তামীমের ভাই! তুমি তোমার কয়েদীর সাথে কিরূপ আচরণ করতে চাও?'
তাছাড়া আল কুরআনের নিম্নোক্ত আয়াতটি যারা বন্দীশালা সম্পর্কে কথা বলেন তাদের পক্ষের দলিল। ইরশাদ হচ্ছে-
فَامْسِكُوهُنَّ فِي الْبُيُوتِ حَتَّى يَتَوَفَّا هُنَّ الْمَوْتُ
তাদেরকে (অভিযুক্ত মহিলা) গৃহবন্দী করে রাখো, যতোদিন মৃত্যু এদেরকে তুলে না নেয়।
আর নবী করীম [সা] এর এ উক্তি যা তিনি ঐ ব্যক্তি সম্পর্কে বলেছিলেন, এক ব্যক্তিকে হত্যা করার জন্য বন্দী করে রেখেছিলো। তিনি বলেছেন-' হত্যা করো হত্যাকারীকে, বন্দী করো বন্দীকারীকে।' আবু উবাইদ [রা] বলেন-'বন্দী করো বন্দীকারীকে।' একথার তাৎপর্য হচ্ছে- বন্দী করো ঐ ব্যক্তিকে যে হত্যা করার জন্য লোকদেরকে বন্দী করে রেখেছিলো তাকে আমৃত্যু বন্দী ক'রে রাখো।
এরকম একটি কথা আবদুর রাজ্জাক তার গ্রন্থে বর্ননা করেছেন। বলা হয়েছে- হযরত আলী [রা] বন্দীদের বন্দী করে রাখতেন যতোদিন তার মৃত্যু না হতো।
টিকাঃ
২. সাথে সাথে থাকা অর্থাৎ গৃহবন্দী বা নযর বন্দী, এটাও এক ধরনের কয়েদ।
📄 যুদ্ধবন্দী কাফিরদের সম্পর্কে নবী করীম [সা] এর ফায়সালা
বুখারী ও মুসলিমে হযরত আনাস ইবনু মালিক [রা] হতে বর্ণিত- একবার বনী আকল অথবা বনী উরাইনা গোত্রের কতিপয় লোক নবী করীম [সা] এর নিকট (মুসলমান হবার জন্য) এলো। কিন্তু মদীনার আবহাওয়া তাদের অনুকূল না হওয়ায় তারা ভীষণ অসুস্থ হয়ে পড়লো। তখন নবী করীম [সা] তাদেরকে যাকাতের উটের কাছে যাবার এবং তার পেশাব ও দুধ পান করার নির্দেশ দিলেন। তারা সেখানে চলে গেলো। কিছুদিনের মধ্যেই তারা সুস্থ হয়ে মোটা তাজা হয়ে উঠলো। একদিন তারা উটের রাখালকে হত্যা করে উটগুলো নিয়ে রওয়ানা হলো। এ খবর পাওয়া মাত্র নবী করীম (সা) তাদেরকে ধরার জন্য লোক পাঠালেন। বেলা বেড়ে উঠার পর তাদেরকে গ্রেফতার করে এনে হাজির করা হলো। তখন রাসূল [সা] এর নির্দেশে তাদের হাত পা কেটে দেয়া হলো। উত্তপ্ত শলাকা দিয়ে তাদের চোখ ফুঁড়ে দেয়া হলো তারপর তাদেরকে বন্দী রাখার নির্দেশ দিলেন যতোদিন তারা তওবা না করে।
আবু কিলাবা [রা] বলেন- তারা চুরি করেছিলো, হত্যা করেছিলো, ঈমান আনার পর কুফুরী করেছিলো এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সাথে যুদ্ধ ঘোষণা করেছিলো। এ জন্য তাদেরকে এতো কঠোর শাস্তি দেয়া হয়েছিলো।
সাঈদ ইবনু যুবাইর মুসান্নাফ আবদুর রাজ্জাক এবং মুহাম্মদ ইবনু সাইর- কিতাব আবি উবাইদে বর্ণনা করেছেন, এ ঘটনাটি ঘটেছিলো সূরা আল মায়িদার নিম্নোক্ত আয়াত অবতীর্ণের পূর্বে।
إِنَّمَا جَزَاءُ الَّذِينَ يُحَارِبُونَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَيَسْعَوْنَ فِي الْأَرْضِ فَسَادًا أَنْ يُقْتَلُوا وَيُصَلِّبُوا وَتَقَطَّعَ أَيْدِيهِمْ وَارْجُلُهُم مِنْ خِلَافٍ أَوْ يُنْفَؤُا مِنَ الْأَرْضِ
যারা আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের সাথে লড়াই করে এবং পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করে বেড়ায়, তাদের জন্য নির্দিষ্ট শাস্তি হচ্ছে হত্যা কিংবা শূলে চড়ানো অথবা তাদের হাত ও পা উল্টো দিক হতে কেটে দেয়া কিংবা দেশ থেকে নির্বাসিত করা। [সূরা আল মায়িদা-৩৩)
বুখারী ও মুসলিমে আছে, তারা সংখ্যায় আটজন ছিলো। গরম শলাকা দিয়ে চোখ ফুঁড়ে দেয়া হয়েছিলো, এটি আনাস [রা] এর বর্ণনা। মুসান্নাফ আবদুর রাজ্জাকে আছে, আমি আনাস [রা] কে জিজ্ঞেস করেছিলাম, কিভাবে চোখ ফুঁড়ে দেয়া হয়েছিলো? তিনি বললেন, লোহার শিক গরম করে তাদের দু'চোখে এমনভাবে লাগানো হতো চোখ গলে পানির মতো বেরিয়ে যেতো।