📘 রাসূলুল্লাহ সাঃ এর বিচারালয় > 📄 রাসূল [সা] এর প্রামাণ্য আমল

📄 রাসূল [সা] এর প্রামাণ্য আমল


এখন আমরা হত্যাকান্ডের বিচার সংক্রান্ত আলোচনার পূর্বে অপরাধীদের জন্য বন্দীশালা বা জেলখানা সম্পর্কে আলোচনা করবো। প্রশ্ন হচ্ছে- নবী করীম [সা] ও হযরত আবুবকর [রা] কাউকে বন্দীশালায় রেখেছেন কি না? এ ব্যাপারে উলামাগণ দ্বিধা বিভক্ত। একদল বলেছেন- হযরত আবু বকর [রা] ও হুজুরে পাক [সা] এর কোন বন্দীশালা ছিলোনা এবং কাউকে তাঁরা বন্দী করে রাখেননি।
দ্বিতীয় দলের মতে-রাসূলে আকরাম [সা] মদীনায় এক ব্যক্তিকে হত্যার অভিযোগে বন্দী করেছিলেন। এ সম্পর্কে আবদুর রাজ্জাক ও ইমাম নাসাঈ স্ব স্ব গ্রন্থে, বাহাজ ইবনু হাকিম তাঁর পিতা এবং তিনি তাঁর দাদার সূত্রে বর্ণিত হাদীস বর্ণনা করেছেন। ইমাম আবু দাউদ তার সুনানে একই সূত্রে বর্ণনা করেছেন- (বর্ণনাকারী বলেন-) নবী করীম [সা] মদীনায় আমার সম্প্রদায়ের কিছু লোককে হত্যার অভিযোগে গ্রেফতার ও বন্দী করে রেখেছিলেন। অন্য বর্ননায় আছে- নবী করীম [সা] এক ব্যক্তিকে কিছু অভিযোগের ভিত্তিতে দিনের এক প্রহর বন্দী করে রেখেছিলেন। অবশ্য পরে ছেড়ে দিয়েছিলেন। ইবনু যিয়াদের 'আহকাম' নামক গ্রন্থে ফকীহ্ আবু সালেহ আইয়ুব ইবনু সুলাইমান থেকে এ ঘটনা বর্ণনা করেছেন, নবী করীম [সা] এমন এক ব্যক্তিকে বন্দী করলেন, যে এক গোলামকে তাঁর অংশ মুক্ত করে দিয়েছিলো। অতঃপর সে গোলামকে পুরোপুরি মুক্ত করে দেয়াটা নিজের জন্য অপরিহার্য মনে করলো। অন্য বর্ণনায় আছে- এ জন্য সে কিছু ছাগল ভেড়াও বিক্রি করেছিলো। ইবনু শো'বানের কিতাবে ইমাম আওযায়ী [রহ] থেকে বর্ণিত আছে- একবার এক ব্যক্তি ইচ্ছেকৃত এক গোলামকে হত্যা করে ফেললো। নবী করীম [সা] তাকে একশ' কোড়া ও এক বছরের নির্বাসন দিয়েছিলেন। গোলামের কোনো রক্তপণ নেননি। বরং তাকে একজন গোলাম আযাদ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। ইবনু শো'বান বলেন, নবী করীম [সা] কোড়া মারা ও বন্দী করার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

📘 রাসূলুল্লাহ সাঃ এর বিচারালয় > 📄 হযরত ওমর [রা] এর বন্দশালা

📄 হযরত ওমর [রা] এর বন্দশালা


ইবনু শো'বান থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন- এটি একটি প্রতিষ্ঠিত সত্য যে, হযরত ওমর ইবনু খাত্তাব [রা] এর একটি বন্দীশালা ছিলো এবং তিনি হাতিয়াকে দুষ্কর্মের অভিযোগে আটক করে রেখেছিলেন। আর সাবিগকে বন্দী করেছিলেন কারণ, সে সূরা আয-যারিয়াত, মুরসালাত ও নায়িয়াত ইত্যাদি সম্পর্কে উল্টা পাল্টা প্রশ্ন করেছিলো এবং লোকদেরকে ঢালাওভাবে গবেষণা করার জন্য নির্দেশ দিয়েছিলো। এজন্য তাকে ইরাক অথবা বসরা নির্বাসন দিয়েছিলেন। সাথে সাথে এ ফরমানও জারী করেছিলেন যে, কেউ যেনো তার নিকট না বসে। পরে হযরত আবু মূসা আশয়ারী [রা] হযরত ওমর [রা] কে লিখেছিলেন এখন সে তওবা করেছে। এরপর তার সাথে কথা না বলার নির্দেশ প্রত্যাহার করা হয়েছিলো।

📘 রাসূলুল্লাহ সাঃ এর বিচারালয় > 📄 হযরত ওসমান [রা], আলী [রা] ও অন্যদের বন্দশালা

📄 হযরত ওসমান [রা], আলী [রা] ও অন্যদের বন্দশালা


হযরত ওসমান ইবনু আফ্ফান [রা] যাবী বিন হারিসকে আটক করেছিলেন। সে বনু তামীম গোত্রের সন্ত্রাসী ছিলো। পরে বন্দী অবস্থায়ই সে মৃত্যু বরণ করে। হযরত আলী ইবনু আবী তালিব [রা] কুফায় জেলখানা স্থাপন করেছিলেন। আর হযরত আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়ের [রা] মক্কা শরীফে লোকদেরকে আটক করে রাখতেন এবং নিজ বাড়ির বন্দীশালায় মুহাম্মদ ইবনু হানিফা [রহ] কে আটকে রেখেছিলেন। কারণ তিনি তার কাছে বাইয়াত নিতে অস্বীকার করেছিলেন। কিতাবুল খাত্তাবীতে হযরত আলী [রা] সম্পর্কে বর্ণিত আছে, তিনি বাঁশ দিয়ে একটি কয়েদখানা তৈরী করেছিলেন এবং তার নাম রেখেছিলেন নাফে'। চোরেরা সেটিকে উপড়ে ফেলার পর তিনি মাটির দেয়াল দিয়ে মজবুত এক কয়েদখানা নির্মাণ করেন। তার নাম রাখেন মুখাইয়িস। তারপর তিনি নিচের কবিতাটি আবৃত্তি করেছিলেন:
"তোমরা কি আমার বিচক্ষণতা ও বুদ্ধিমত্তা দেখেছো, আমি নাফি'র পর মুখাইয়িস তৈরী করেছি। যা এক মজবুত কিল্লা এবং প্রশাসকও বিজ্ঞ।"

📘 রাসূলুল্লাহ সাঃ এর বিচারালয় > 📄 কুরআন সুন্নাহর আলোকে বন্দী করে শাস্তি প্রদান

📄 কুরআন সুন্নাহর আলোকে বন্দী করে শাস্তি প্রদান


মুসান্নাফ আবু দাউদে নযর ইবনু সুমাইল কর্তৃক বর্ণিত এক হাদীসে তিনি বলেন- আমি নবী করীম [সা] এর নিকট আমার এক পাওনাদারকে হাজির করলাম। তিনি আমাকে নির্দেশ দিলেন, 'তার সাথে সাথে লেগে থাকো। হে বনী তামীমের ভাই! তুমি তোমার কয়েদীর সাথে কিরূপ আচরণ করতে চাও?'
তাছাড়া আল কুরআনের নিম্নোক্ত আয়াতটি যারা বন্দীশালা সম্পর্কে কথা বলেন তাদের পক্ষের দলিল। ইরশাদ হচ্ছে-
فَامْسِكُوهُنَّ فِي الْبُيُوتِ حَتَّى يَتَوَفَّا هُنَّ الْمَوْتُ
তাদেরকে (অভিযুক্ত মহিলা) গৃহবন্দী করে রাখো, যতোদিন মৃত্যু এদেরকে তুলে না নেয়।
আর নবী করীম [সা] এর এ উক্তি যা তিনি ঐ ব্যক্তি সম্পর্কে বলেছিলেন, এক ব্যক্তিকে হত্যা করার জন্য বন্দী করে রেখেছিলো। তিনি বলেছেন-' হত্যা করো হত্যাকারীকে, বন্দী করো বন্দীকারীকে।' আবু উবাইদ [রা] বলেন-'বন্দী করো বন্দীকারীকে।' একথার তাৎপর্য হচ্ছে- বন্দী করো ঐ ব্যক্তিকে যে হত্যা করার জন্য লোকদেরকে বন্দী করে রেখেছিলো তাকে আমৃত্যু বন্দী ক'রে রাখো।
এরকম একটি কথা আবদুর রাজ্জাক তার গ্রন্থে বর্ননা করেছেন। বলা হয়েছে- হযরত আলী [রা] বন্দীদের বন্দী করে রাখতেন যতোদিন তার মৃত্যু না হতো।

টিকাঃ
২. সাথে সাথে থাকা অর্থাৎ গৃহবন্দী বা নযর বন্দী, এটাও এক ধরনের কয়েদ।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00