📘 রাসূল ﷺ এর বাড়িতে একদিন 📄 শেষ সাক্ষাত

📄 শেষ সাক্ষাত


এতক্ষণ আমরা রাসূল ﷺ কে নিয়ে আলোচনা শুনলাম। জানলাম তাঁর উত্তম চরিত্র, জিহাদ ও বীরত্বসহ তাঁর জীবনের নানা দিক সম্পর্কে। এখন আমরা জানবো আমাদের উপর, এই উম্মতের উপর নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অনেক হক রয়েছে। যেগুলো পূরণ করা আমাদের জন্য আবশ্যক। নিম্নে আমাদের উপর তাঁর হক সম্পর্কে সামান্য আলোচনা করা হলো।

তাঁর প্রতিটি কর্ম ও কথার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা এবং তিনি যা কিছু নিয়ে এসেছেন তা মনে প্রাণে বিশ্বাস করা। তাঁর আনুগত্য করা ও অবাধ্য না হওয়া আমাদের উপর ওয়াজিব। প্রতিটি বিষয়ে তাঁর বিচার ও ফায়সালা মেনে নেওয়া এবং তাঁর বিচার ও ফায়সালার প্রতি সন্তুষ্ট থাকা। কোন ধরণের বাড়াবাড়ি ও ছাড়াছাড়ি ব্যতীত তাঁকে যথাযথ মর্যাদা দেওয়া। প্রতিটি বিষয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে তাঁর আদর্শ অনুসরণ করা।

সকল মানুষ, আত্মীয়-স্বজন, পরিবার-পরিজন, ছেলে-সন্তান এমনকি নিজের চেয়েও তাকে বেশি মুহাব্বত করা ও ভালোবাসা। যথাযথভাবে তার সম্মান করা তাঁর আনিত দ্বীন মানা এবং প্রথমে নিজের মধ্যে তারপর সকল মুসলমানের মধ্যে তার সুন্নত জিন্দা করা। সাহাবায়ে কেরাম রা.দের ভালোবাসা তাদেরকে মুহাব্বত করা, তাদের সিরাত পড়া এবং তাদের উপর দুষ্টদের আরোপিত সকল ভ্রান্ত ধারণা ও মতামতকে প্রতিহত করা। রাসূল ﷺ এর মুহাব্বতের একটি বড় নিদর্শন হলো তাঁর উপর দুরুদ পড়া।

যেমন আল্লাহ সুবহানাহু তা'আলা বলেন,
إِنَّ اللَّهَ وَمَلَائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى النَّبِيِّ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا صَلُّوا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوا تَسْلِيمًا
আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতাগণ নবীর প্রতি রহমত প্রেরণ করেন। হে মুমিনগণ! তোমরা নবীর জন্যে রহমতের দো'আ করো এবং তাঁর প্রতি সালাম প্রেরণ করো। ১৭৯

আউস ইবনে আউস রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ বলেছেন,
(إن من أفضل أيامكم يوم الجمعة فأكثروا علي من الصلاة فيه فإن صلاتكم معروضة علي) فقالوا: يا رسول الله وكيف تعرض صلاتنا عليك وقد أرمت (قال: يقول بَلِيْتَ) قال: (إن الله حرم على الأرض أجساد الأنبياء)
তোমাদের জন্য সর্বোত্তম দিন হলো জুমার দিন। সুতরাং তোমরা এই দিনে বেশি বেশি আমার উপর দরুদ পড়ো। কারণ তোমাদের দরূদ পাঠ আমার নিকট পৌঁছানো হয়। তখন তারা বললো, হে আল্লাহর রাসূল কিভাবে আমাদের দরুদ পাঠ আপনার নিকট পৌঁছানো হবে ? অথচ আপনি মাটির সাথে মিশে যাবেন! তিনি বলেন, আম্বিয়া আ.দের শরীর বক্ষন করা, আল্লাহ তা'আলা মাটির জন্য হারাম করে দিয়েছেন। ১৮০

সুতরাং নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হক আদায়ের লাক্ষ্যে আমাদেরকে বেশি বেশি দরুদ পড়তে হবে। যেমন অন্য হাদিসে এসেছে রাসূল বলেন,
البخيل من ذكرت عنده ولم يصل علي
বখিল বা কৃপণ তো সেই যার নিকট আমার আলোচনা হয় কিন্তু সে আমার উপর দরুদ পড়ে না। ১৮১

রাসূল আরো বলেন,
ما جلس قوم مجلساً لم يذكروا الله فيه, ولم يصلوا على نبيهم إلا كان عليهم ترة, فإن شاء عذبهم وإن شاء غفر لهم
কোন সম্প্রদায় যখন মজলিসে বসে আর তাতে আল্লাহ তা'আলার কথা স্মরণ করা হয় না এবং তাদের নবীর উপর দরুদ পাঠ করা হয় না। এটা তাদের জন্য হতাশার কারণ। আল্লাহ তা'আলা চাইলে তাদেরকে শাস্তি দিবেন। অথবা তিনি চাইলে তাদেরকে ক্ষমা করে দিবেন। ১৮২

টিকাঃ
১৭৯ সূরা আহযাব, আয়াত: ৫৬
১৮০ আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ এবং আলবানী সহীহ বলেছেন
১৮১ তিরমিযি, ইবনে মাযাহ, হাদিস: ১৬৩৭, ১৬৩৬
১৮২ তিরমিযী, হাদিস: ৩৩৮০

📘 রাসূল ﷺ এর বাড়িতে একদিন 📄 বিদায়

📄 বিদায়


ঈমান ও আনুগত্য দিয়ে নির্মিত ঘর ছেড়ে আমরা এখন বিদায় নেবো। তবে যারা আখেরাতে মুক্তি চায় এই ঘর তাদের জন্য নিদর্শন হয়ে মুক্তির পথ দেখাবে। যারা হেদায়াত চায়, সঠিক পথের সন্ধান চায়, এই বাড়ি তাদেরকে হেদায়াত ও সঠিক পথের সন্ধান দিবে এবং দুনিয়া ও আখেরাতে সফল মানুষদের কাতারে নিয়ে শামিল করবে।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সুন্নতের উপর আমল করার মধ্যেই আমাদের কল্যাণ ও সফলতা। আমাদের সালাফগণ তাদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সুন্নতের অনুসরণ করেছেন, সুন্নত অনুযায়ী নিজেদের জীবন পরিচালিত করেছেন। সুন্নতের অনুসরণের প্রতি সালাফদের অনুরাগ ও আগ্রহের কিছু নমুনা নিম্নে উল্লেখ করছি, যাতে সুন্নতের প্রতি তাদের অনুরাগ ও ভালোবাসা দেখে আমাদের মনেও সুন্নতের অনুসরণের আগ্রহ জাগে এবং আমরাও নিজেদের জীবনকে সুন্নতের রঙে রঙিন করতে পরি।

ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রহ. বলেন, আমি কোন হাদিসের উপর আমল না করে তা লিপিবদ্ধ করিনি। এমনকি একবার রাসূল ﷺ এর হিজামার হাদিস আমার সামনে এলো, তিনি হিজামা করিয়েছেন এবং এর বিনিময় আবু তাইবাকে এক দিনার দিয়েছেন। তখন আমিও হিজামাকারীকে এক দিনার দিয়ে হিজামা করালাম। ১৮৩

আব্দুর রহমান ইবনে মাহদী বলেন, আমি সুফিয়ান ছাওরিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, রাসূল ﷺ এর এমন কোন হাদিস আমার নিকট পৌঁছায়নি যার উপর আমি জীবনে একবারও আমল করিনি।

মুসলিম ইবনে ইয়াসার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি জুতা পরিহিত অবস্থায় নামায আদায় করি। অথচ তা খোলাই ছিলো আমার নিকট সহজ বিষয়। এর মাধ্যমে সুন্নতের অনুসরণ করাই আমার উদ্দেশ্য। ১৮৪

প্রিয় ভাই! শেষ করার পূর্বে আপনাদের সামনে রাসূল এর এক মহান হাদিস পেশ করছি। রাসূল বলেন,
كل أمتي يدخلون الجنة إلا من أبى» قالوا: يا رسول الله، ومن يأبى؟ قال: «من أطاعني دخل الجنة، ومن عصاني فقد أبى
আমার সকল উম্মতই জান্নাতে যাবে, তবে যারা অমান্য করে তারা ব্যতীত। উপস্থিত সাহাবায়ে কেরাম রা. বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! অমান্য করে কে ? তিনি বলেন, যে আমার আনুগত্য করে সে জান্নাতে যাবে আর যে আমার অবাধ্য হয় সেই অমান্য করে। ১৮৫

হে আল্লাহ আপনি আমাদেরকে নবী কারীম এর অনুসরণ করার তাওফিক দিন। প্রতিটি বিষয়ে তার মুওয়াফিক বানিয়ে দিন। আমাদেরকে পথভ্রষ্ট ও পথভ্রষ্টকারী বানাবেন না।
হে আল্লাহ! রাত দিন সর্বদা রাসূল এর উপর আপনার রহমত বর্ষণ করুন।
হে আল্লাহ! নেককার আবরার বান্দারা তার প্রতি যেই পরিমাণ রহমত কামনা করে আপনি তাঁর উপর সেই পরিমাণ রহমত বর্ষণ করুন।
হে আল্লাহ! আপনি আমাদেরকে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে জান্নাতুল ফেরদাউসে একত্র করুন। তাকে দেখে আমাদের চক্ষু শীতল করার তাওফিক দিন। তাঁর হাউজ থেকে আমাদের পান করিয়ে চির তৃপ্ত করেন।
وصلي الله علي نبينا محمد وآله وصحبه أجمعي

টিকাঃ
১৮৩ আস সিয়ার: ১১/২১৩
১৮৪ আস সিয়ার: ৭/২৪২ ও ইমাম আহমাদের কিতাবুয যহদ ৩৫৫ পৃষ্ঠা
১৮৫ বুখারী, হাদিস: ৭২৮০

ফন্ট সাইজ
15px
17px