📘 রাসূল ﷺ এর বাড়িতে একদিন 📄 রাসূলুল্লাহ ﷺ এর রসিকতা

📄 রাসূলুল্লাহ ﷺ এর রসিকতা


মানুষের যখন ব্যস্ততা ও দায়িত্ব বাড়তে থাকে, তখন সে ধীরেধীরে পরিবারকে সময় দেওয়া, সাধারণ মানুষদের সাথে মেলামেশা ও তাদের সাথে রসিকতা ও হাসি-ঠাট্টার কথা ভুলে যায়। তারা নিজ কর্ম নিয়েই ব্যস্ত থাকে। অন্য দিকে সময় দেওয়ার সুযোগ পায় না বা দেয় না। কখনো কখনো তো এক ব্যস্ততার কারণে অন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও ছুটে যায়। কিন্তু রাসূলুল্লাহ একদিকে উম্মতের নবী, রাষ্ট্রনায়ক ও সেনাপ্রধান, তাকে উম্মতের বিষয়, সেনাবাহিনীর বিষয়, ও পরিবারের বিষয় নিয়ে সর্বদা ব্যস্ত থাকতে হয়। অন্য দিকে কখনো কখনো ওহী নাযিলের বিষয়টা তো আছেই, এছাড়াও আরো অনেক ব্যস্ততা সত্ত্বেও রাসূলুল্লাহ প্রতিটি বিষয় যথাযথভাবে আনজাম দিয়েছেন। একটার জন্য অন্যটার হক নষ্ট হয়নি। এত দায়িত্ব ও কাজের ভার থাকা সত্ত্বেও রাসূলুল্লাহ ﷺ এর অন্তরে ছোটদের জন্য আলাদা একটা স্থান ছিল। তিনি তাদের আদর করতেন এবং তাদের সাথে রসিকতাও করতেন, তাদের মনে আনন্দ দিতেন। যার কারণে তিনি ছিলেন ছোটদের নিকট অনেক প্রিয় এবং তিনি ছোটদের মনের একেবারে কাছের মানুষ ছিলেন。

রাসূলুল্লাহ ﷺ কখনো কখনো বড়দের সাথেও রসিকতা করতেন। আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন,
قالوا يا رسول الله: إنك تداعبنا، قال: «نعم. غير أني لا أقول إلا حقًا
সাহাবাগণ বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আপনিও আামদের সাথে রসিকতা করেন!! তিনি বললেন, হ্যাঁ, তবে আমি সর্বদা সত্য বলি। (অর্থাৎ আমার রসিকতা হয়ে থাকে সত্যের মাধ্যমে। মিথ্যা কথা বলে বা মিথ্যার মাধ্যমে আমি কখনো রসিকতা করি না।)

রাসূলুল্লাহ ﷺ এর রসিকতার একটা হলো, প্রিয় কোন সাহাবিকে রসিকতা করে, কখনো কখনো নাম ব্যতীত অন্য নামেও ডাকতেন। যেমন আনাস ইবনে মালেক রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন,
إن النبي - صلى الله عليه وسلم - قال له: يا ذا الأذنين
নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলতেন, 'হে দুই কান ওয়ালা'।

আনাস রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, উম্মে সুলাইমের এক ছেলে, নাম আবু উমায়ের। রাসূলুল্লাহ ﷺ তার সাথে কখনো কখনো রসিকতা করতেন। রাসূলুল্লাহ একবার রসিকতা করে তাকে আদর করার জন্য তার বাড়িতে গিয়ে দেখেন সে মন খারাপ করে বসে আছে। তখন তাকে বললেন, কি হলো? আবু উমায়েরের মন খারাপ দেখছি যে!! উপস্থিত লোকেরা বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! সে যে নুগাইর পাখির সাথে খেলা করতো তা মারা গিয়েছে। এরপর রাসূলুল্লাহ সা. তাকে কখনো কখনো রসিকতা করে সম্বোধন করতেন,
يا أبا عمير، ما فعل النغير؟
হে আবু উমায়ের! তোমার নুগাইরের কি হয়েছে?

বড়দের সাথে রসিকতার একটা উদাহরণ হলো, আনাস ইবনে মালেক রা. বর্ণনা করে বলেন,
إن رجلاً من أهل البادية كان اسمه زاهر بن حرام، قال: وكان النبي - صلى الله عليه وسلم - يحبه وكان دميما، فأتاه النبي - صلى الله عليه وسلم - يومًا يبيع متاعه، فاحتضنه من خلفه وهو لا يبصر: فقال: أرسلني، من هذا؟ فالتفت فعرف النبي - صلى الله عليه وسلم - فجعل لا يألو ما ألزق ظهره بصدر النبي - صلى الله عليه وسلم - حين عرفه، وجعل النبي - صلى الله عليه وسلم - يقول: من يشتري العبد فقال: يا رسول الله إذا والله تجدني كاسدًا، فقال النبي: «لكن عند الله أنت غال
জাহের ইবনে হারাম নামে এক গ্রম্য বেদুঈন ছিলো। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে অনেক ভালোবাসতেন। সে ছিলো কালো। একবার রাসূলুল্লাহ ﷺ তার কাছে এলেন, তখন সে মালামাল বিক্রির কাজে ব্যস্ত ছিলো। রাসূলুল্লাহ ﷺ তাকে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরলেন। সে রাসূল ﷺ কে দেখতে পায়নি। তাই সে বলল, কে? ছাড়ো আমাকে। অতঃপর পিছনে তাকিয়ে যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখতে পেলো, তখন আর তার পিঠ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সিনা থেকে সরিয়ে নিতে চাইলো না। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন বলতে লাগলেন, কে এই গোলাম ক্রয় করবে? তখন সে বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আল্লাহর শপথ তাহলে আপনি আমার মূল্য অনেক শস্তা পাবেন। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, কিন্তু আল্লাহ তা'আলার নিকট তোমার মূল্য অনেক।

সুবহানাল্লাহ! কি সরলতা! কত উঁচু মনের মানুষ, একজন নবী, একজন রাষ্ট্র প্রধান, একজন সেনপতি হয়ে সাধরণ একজন গ্রাম্য লোকের সাথে কি সরল আচরণ! কি সরল রসিকতা! এমন সুন্দর দৃশ্য পৃথিবী দ্বিতীয়টি দেখেছে কি?

রাসূলুল্লাহ কখনো মুখ গোমরা করে থাকতেন না। তিনি সদা হাস্যোজ্জ্বল থাকতেন। আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন,
مَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللهِ مُسْتَجْمِعًا قَطُّ ضَاحِكًا حَتَّى تُرَى مِنْهُ لَهَوَاتُهُ، وَإِنَّمَا كَانَ يَتَبَسَّمُ
আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কখনো অট্টহাসি দিতে দেখিনি যার ফলে মুখের ভিতরের তালু প্রকাশ পায়, বরং তিনি মুচকি হাসতেন।

এমন হাস্যোজ্জ্বল চেহারা ও সুন্দর আচরণ হওয়া স্বত্ত্বেও তার সামনে কেউ আল্লাহর বিধান লঙ্ঘন করলে তাঁর চেহারা মলিন হয়ে যেতো।

আয়েশা রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ একবার সফর থেকে ফিরলেন, আমি তখন ছবি যুক্ত কাপড় দিয়ে পর্দা টানিয়েছিলাম। রাসূলুল্লাহ এটা দেখে, টেনে ছিঁড়ে ফেললেন এবং তারা চেহারার রং পরিবর্তন হয়ে গেলো। তিনি বললেন,
يا عائشة: أشد الناس عذابًا عند الله يوم القيامة الذين يضاهون بخلق الله
হে আয়েশা! যারা আল্লাহর সৃষ্টির ছবি আঁকবে (প্রাণীর ছবি আঁকবে) কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা'আলার নিকট তারা সবচেয়ে বেশি কঠিন শাস্তি ভোগ করবে।

• এর মাধ্যমে প্রমাণ হয় যে, ঘরে প্রাণীর ছবি টানানো হারাম। দেওয়ালে প্রাণীর ছবি টানিয়ে রাখা, বা কারুকাজ করে কোন প্রাণীর ছবি আঁকা, টেবিল বা আলমারির উপরে কোন ছবি বা মূর্তি রাখা কঠিন হারাম। যতক্ষণ ঘরে এই ছবি টানানো থাকবে তার গুনাহ হতে থাকবে, এবং সেই ঘরে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করে না।

টিকাঃ
৬৭ আহমাদ, হাদিস: ৮৪৮১; তিরমিযি: ১৯৯০
৬৮ আবু দাউদ, হাদিস: ৪৯৬৯
৬৯ বুখারী ও মুসলিম
৭০ আহমাদ, হাদিস: ১২৬৪৮
৭১ বুখারী, হাদিস: ৬০৯২; মুসলিম, হাদিস: ৮৯৯
৭২ বুখারী, হাদিস: ৫৯৫৪; মুসলিম: ২১০৭

📘 রাসূল ﷺ এর বাড়িতে একদিন 📄 কিয়ামুল লাইল

📄 কিয়ামুল লাইল


মদিনায় রাত নেমে এসেছে। রাত্র তার কালো চাদর দিয়ে মদিনা শহরকে ঢেকে দিয়েছে। সকল মানুষ যার যার ঘরে গিয়ে বিছানায় আশ্রয় নিয়েছে। কিন্তু রাসূলুল্লাহ ﷺ বিছানায় আশ্রয় নেননি, তিনি ঘুমাননি, তিনি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে, নামায আদায় করছেন, আল্লাহর জিকির করছেন, তাঁর নিকট কাকুতি মিনতি করে দো'আ করছেন। কারণ আল্লাহ সুবহানাহু তা'আলা তাকে এই আদেশ দিয়েছেন, আল্লাহ তা'আলা বলেন,
يَا أَيُّهَا الْمُزَّمِّلُ قُمِ اللَّيْلَ إِلَّا قَلِيلًا نِصْفَهُ أَوِ انْقُصْ مِنْهُ قَلِيلًا أَوْ زِدْ عَلَيْهِ وَرَتِّلِ الْقُرْآنَ تَرْتِيلًا
হে বস্ত্রাবৃত! রাত্রিতে দন্ডায়মান হোন কিছু অংশ বাদ দিয়ে; অর্ধরাত্রি অথবা তদপেক্ষা কিছু কম অথবা তদপেক্ষা বেশি এবং কোরআন আবৃত্তি করুন সুবিন্যস্তভাবে ও স্পষ্টভাবে।

হাদিস শরীফে এসেছে, আবূ হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন,
كَانَ رَسُولُ اللهِ - صلى الله عليه وسلم - يُصَلِّي حَتَّى تَوَرَّمَتْ قَدَمَاهُ فَقِيلَ لَهُ إِنَّ اللَّهَ قَدْ غَفَرَ لَكَ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِكَ وَمَا تَأَخَّرَ . قَالَ " أَفَلَا أَكُونُ عَبْدًا شكُورًا " .
রাসূলুল্লাহ ﷺ (দীর্ঘক্ষণ ধরে) নামায পড়তে থাকতেন, এমনকি তাঁর পা দু'টো ফুলে যেতো। তাঁকে বলা হলো, আল্লাহ আপনার পূর্বাপর সকল গুনাহ ক্ষমা করে দিয়েছেন (তাহলে আপনি নিজেকে কেন এত কষ্টপ্রদান করছেন ?)৷ তিনি বলেন, আমি কি কৃতজ্ঞ বান্দা হবো না?

আসওয়াদ ইবনে ইয়াযিদ রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়েশা রা.কে রাসূলুল্লাহ এর রাতের নামায সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন,
سَأَلْتُ عَائِشَةَ - رضى الله عنها - كَيْفَ صَلاةُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِاللَّيْلِ قَالَتْ كَانَ يَنَامُ أَوَّلَهُ وَيَقُومُ آخِرَهُ، فَيُصَلِّي ثُمَّ يَرْجِعُ إِلَى فِرَاشِهِ، فَإِذَا أَذَّنَ الْمُؤَذِّنُ وَثَبَ، فَإِنْ كَانَ بِهِ حَاجَةُ اغْتَسَلَ، وَإِلَّا تَوَضَّأَ وَخَرَجَ.
তিনি রাতের প্রথমাংশে ঘুমাতেন, শেষাংশে জেগে নামায আদায় করতেন। এরপর তাঁর শয্যায় ফিরে যেতেন, মুয়ায্যিন আযান দিলে দ্রুত উঠে পড়তেন, তখন তাঁর প্রয়োজন থাকলে গোসল করতেন, অন্যথায় ওজু করে (মসজিদের দিকে) বেরিয়ে যেতেন।

রাসূলুল্লাহ রাতে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে নামায আদায় করতেন। তাঁর রাতের নামায ছিলো অনেক আশ্চর্যজনক।

হাদিস শরীফে এসেছে, হুজাইফা রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন,
صَلَّيْتُ مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ذَاتَ لَيْلَةٍ فَافْتَتَحَ الْبَقَرَةَ فَقُلْتُ يَرْكَعُ عِنْدَ الْمِائَةِ . ثُمَّ مَضَى فَقُلْتُ يُصَلِّي بِهَا فِي رَكْعَةٍ فَمَضَى فَقُلْتُ يَرْكَعُ بِهَا . ثُمَّ افْتَتَحَ النِّسَاءَ فَقَرَأَهَا ثُمَّ افْتَتَحَ آلَ عِمْرَانَ فَقَرَأَهَا يَقْرَأُ مُتَرَسِّلاً إِذَا مَرَّ بِآيَةٍ فِيهَا تَسْبِيحُ سَبَّحَ وَإِذَا مَرَّ بِسُؤَالٍ سَأَلَ وَإِذَا مَرَّ بِتَعَوذ تَعَوَّذَ ثُمَّ رَكَعَ فَجَعَلَ يَقُولُ " سُبْحَانَ رَبِّيَ الْعَظِيمِ " . فَكَانَ رُكُوعُهُ نَحْوًا مِنْ قِيَامِهِ ثُمَّ قَالَ " سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ " . ثُمَّ قَامَ طَوِيلاً قَرِيبًا مِمَّا رَكَعَ ثُمَّ سَجَدَ فَقَالَ " سُبْحَانَ رَبِّي الأَعْلَى " ، فَكَانَ سُجُودُهُ قَرِيبًا مِنْ قِيَامِهِ . قَالَ وَفِي حَدِيثِ جَرِيرٍ مِنَ الزَّيَادَةِ فَقَالَ " سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ".

এক রাতে আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে নামায আদায় করছিলাম। তিনি সূরা বাকারা শুরু করলেন, আমি মনে করলাম সম্ভবত একশত আয়াতের মাথায় রুকু করবেন। কিন্তু তিনি অগ্রসর হয়ে গেলেন। তখন আমি ভাবলাম, তিনি সূরা বাকারা দিয়ে সালাত পূর্ণ করবেন। কিন্তু তিনি সূরা নিসা আরম্ভ করলেন এবং তাও পড়ে আল ইমরান শুরু করে তাও পড়ে ফেললেন। তিনি ধীর-স্থিরতার সাথে পাঠ করে যাচ্ছিলেন। যখন তাসবীহ যুক্ত কোন আয়াতে উপনীত হতেন তখন তাসবীহ (সুবহানাল্লাহ) পাঠ করতেন এবং যখন প্রার্থনার কোন আয়াতে উপনীত হতেন তখন তিনি প্রার্থনা করে নিতেন। আর যখন (আল্লাহর কাছে) আশ্রয় গ্রহণের আয়াতে পৌঁছতেন তখন (আল্লাহর কাছে) পানাহ চাইতেন। তারপর রুকু করলেন এবং রুকুতে سُبْحَانَ رَبِّيَ الْعَظِيمِ (আমার মহান প্রতিপালকের পবিত্রতা ঘোষণা করছি), বলতে থাকেন। তার রুকু ছিল প্রায় তার দাঁড়ানোর সমান (দীর্ঘ)। এরপর বললেন, سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ (যে ব্যাক্তি আল্লাহর প্রশংসা করে আল্লাহ তা শোনেন)। তারপর দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকলেন রুকুতে যতক্ষণ ছিলেন তার কাছাকাছি। তারপর সিজদা করলেন এবং سُبْحَانَ رَبِّي الْأَعْلَى (আমার সুমহান প্রতিপালকের পবিত্রতা ঘোষণা করছি), বললেন। তাঁর সিজদার পরিমাণ ছিলো তার দাঁড়ানোর কাছাকাছি। বর্ণনাকারী বলেন, জারীর (রহঃ) এর হাদীসে অতিরিক্ত রয়েছে যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন,
سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدِ (যে ব্যাক্তি আল্লাহর প্রশংসা করে, তিনি তা শোনেন। আমাদের প্রতিপালক! আপনারই জন্য সকল প্রশংসা)

টিকাঃ
৭৯ সূরা মুযাম্মিল, আয়াত: ১-৪
৮০ বুখারি, হাদিস: ১১৩০; ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১৪১৯
৮১ বুখারী
৮২ মুসলিম, হাদিস: ৭৭২; আহমদ, হাদিও পার

📘 রাসূল ﷺ এর বাড়িতে একদিন 📄 ফজরের পর

📄 ফজরের পর


মদিনার রাত্র যখন তার কালো চাদর উঠিয়ে ফেলতো, ফজর আলোকিত হতো। মসজিদে গিয়ে জামাতের নামায আদায়ের পর রাসূলুল্লাহ ﷺ সূর্যদয় পর্যন্ত মসজিদেই বসে বসে আল্লাহর জিকির করতেন। সূর্যোদয়ের পর তিনি দুই রাকাত নামায আদায় করতেন। জাবের ইবনে সামুরা রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন,
أَن النَّبِيَّ - صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - كَانَ إِذَا صَلَّى الْفَجْرَ جَلَسَ فِي مُصَلَّاهُ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ حَسَنًا
নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের নামায আদায় করে জায়নামাযেই বসে থাকতেন, ভালোভাবে সূর্য উদিত হওয়া পর্যন্ত।

ফজরের নামাযের পর জায়নামাযে বসে আল্লাহর জিকির করা, অতঃপর দুই রাকাত নামায আদায়ের মধ্যে অনেক ফজিলত রয়েছে। আর একারণেই রাসূলুল্লাহ ﷺ উম্মতকে এই মহান সুন্নত আদায় করার ব্যাপারে উদ্বুদ্ধ করেছেন, যাতে তারা এই প্রতিদান আর্জন করতে পারে। আনাস রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ বলেছেন,
مَنْ صَلَّى الْفَجْرَ فِي جَمَاعَةٍ، ثُمَّ قَعَدَ يَذْكُرُ اللهَ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ، كَانَتْ لَهُ كَأَجْرِ حَجَّةٍ وَعُمْرَةٍ، تَامَّةٍ، تَامَّةٍ، تَامَّةٍ
যে ব্যক্তি জামাতের সাথে ফজর নামায আদায় করার পর সূর্যোদয় পর্যন্ত বসে বসে আল্লাহর জিকির করে অতঃপর দুই রাকাত নামায আদায় করে। তার একটি পূর্ণ হজ ও উমরার সাওয়াব হয়। পরিপূর্ণ, পরিপূর্ণ, পরিপূর্ণ।

টিকাঃ
৮৩ মুসলিম, হাদিস: ৬৭০
৮৪ তিরমিযী, হাদিস: ৫৮৬

📘 রাসূল ﷺ এর বাড়িতে একদিন 📄 সালাতুদ দুহা বা চাশতের নামায

📄 সালাতুদ দুহা বা চাশতের নামায


দ্বিপ্রহর হবে হবে ভাব, সূর্যের উত্তাপ প্রখর হয়ে উঠেছে। তাপে মুখ পুড়ে যাবার উপক্রম। এটাই হলো সালাতুদ দুহা বা চাশতের সময়। এই সময়টা কাজের সময়, প্রয়োজন পূরণের সময়। কাঁধে রিসালাতের ভারি বুঝা, বিভিন্ন প্রতিনিধি দলের সাথে সাক্ষাৎ, সাহাবাদের তালিম দেওয়া, এবং পরিবারের দায়িত্ব আদায় করা এসব কিছুর মধ্যেও রাসূলুল্লাহ ﷺ আল্লাহ তা'আলার ইবদত-বন্দেগীতে মাশগুল থাকতেন পূর্ণভাবে। এত ব্যস্ততার মধ্যেও তিনি সালাতুদ দুহা তথা চাশতের নামায আদায় করতেন। মুআজাহ রা. বলেন,
قلت لعائشة رضي الله عنها: أكان النبي - صلى الله عليه وسلم - يصلي الضحى؟ قالت: «نعم أربع ركعات ويزيد ما شاء الله عز وجل
আমি আয়েশা রা.কে জিজ্ঞেস করলাম, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি চাশতের নামায আদায় করতেন? তিনি বলেন, হ্যাঁ চার রাকাত নামায আদায় করতেন এবং আল্লাহর ইচ্ছায় বেশিও আদায় করতেন।

রাসূলুল্লাহ ﷺ সালাতুদ দুহা তথা চাশতের নামায আদয়ের ব্যাপারে গুরুত্ব দিয়েছেন এবং সাহাবাদেরও তা পড়ার ওসিয়ত করেছেন। আবূ হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন,
أوصاني خليلي - صلى الله عليه وسلم - بصيام ثلاثة أيام من كل شهر، وركعتي الضحى، وأن أوتر قبل أن أرقد
আমার বন্ধু আমাকে প্রতি মাসে তিন দিন রোযা রাখা, চাশতের সময় দুই রাকাত নামায আদায় করা এবং ঘুমের পূর্বেই বিতর নামায আদায়ের অসিয়ত করেছেন।

টিকাঃ
৮৫ মুসলিম, হাদিস: ৭১৯
৮৬ বুখারী, হাদিস: ১৯৮১; মুসলিম, হাদিস: ৭২১

ফন্ট সাইজ
15px
17px