📄 এক মহা ভ্রমণ
এই ভ্রমণ রাসূল ﷺ এর বড়িতে ভ্রমণ। এই ভ্রমণ রাসূল ﷺ এর জীবন ও তাঁর মুওয়ামালা দেখে শিখে সে অনুযায়ী আমল করে মহা প্রতিদান লাভের আগ্রহের ভ্রমণ। নিশ্চয়ই এই ভ্রমণ শিক্ষা ও উপদেশ গ্রহণ এবং অনুকরণ ও অনুসরণের ভ্রমণ। এই ভ্রমণ বিভিন্ন মহামূল্যবান কিতাবের পাতায় পাতায় সাহাবয়ে কেরام রা: দের মুখে রাসূল ﷺ এর সিরাত ও সূরাত নিয়ে আলোচনার জন্য ভ্রমণ। এছাড়া নিছক তাঁর বাড়িতে ভ্রমণ তথা তাঁর ঘর, বাড়ি, কবর ইত্যাদি দেখতে যাওয়ার মধ্যে তো বিশেষ কোন ফায়দা নেই। তাছাড়া তিনটি মসজিদ ব্যতীত অন্য কোন স্থান বা স্থাপনা সাওয়াবের উদ্দেশ্যে ভ্রমণ করা বা দেখতে যাওয়া বৈধও নয়। যেমন রাসূল ﷺ বলেছেন,
لا تشد الرحال إلا إلى ثلاثة مساجد: المسجد الحرام، ومسجدي هذا، . والمسجد الأقصى
তিনটি মসজিদ ব্যতীত অন্য কোথাও সাওয়াবের প্রত্যাশায় ভ্রমণ করা বৈধ নয়। (আর সেগুলো হলো) মসজিদুল হারাম, আমার এই মসজিদ ও মসজিদুল আকসা।
সুতরাং আমরা তিনটি মসজিদ ব্যতীত অন্য কোন স্থান বা স্থাপনা সাওয়াবের উদ্দেশ্যে ভ্রমণ করবো না। কারণ রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাদেরকে আদেশ করেছেন, আমরা যেন তিনটি মসজিদ ব্যতীত অন্য কোন স্থান বা স্থাপনা সাওয়াবের উদ্দেশ্যে ভ্রমণ না করি। আর রাসূলুল্লাহ ﷺ এর আদেশ মানা আমাদের জন্য ওয়াজিব। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেন,
وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانتَهُوا
রাসূল ﷺ তোমাদেরকে যা দেন, তা গ্রহণ করো এবং যা নিষেধ করেন, তা থেকে বিরত থাকো।
সুতরাং রাসূল ﷺ এর সুন্নাহ তথা আমাদের জন্য তাঁর আদর্শ ও অনুসরণীয় বিষয় ব্যতীত আমরা তাঁর পরিত্যক্ত জিনিস ও নিদর্শনাবলীর অন্বেষণ করবো না। এ সম্পর্কে ইবনে ওয়াজ্জাহ বলেন,
“যেই গাছের নিচে বায়াতে রিযওয়ান সংঘটিত হয়েছিলো, ওমর ইবনে খাত্তাব রা. সেই গাছ কেটে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন, কারণ মানুষ সেখানে যেতো এবং তার নিচে ছালাত আদায় করতো। সুতরাং তিনি তাদের ফেতনায় পতিত হওয়ার আশঙ্কা করেছিলেন।”
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া রহঃ গারে হেরা সম্পর্কে বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ নবুওয়াতের পূর্বে হেরা গুহায় গিয়ে ইবাদত করতেন। আর এখানেই তাঁর উপর সর্বপ্রথম ওহী নাযিল হয়। কিন্তু তাঁর উপর সেখানে প্রথম বার ওহী নাযিল হওয়ার পর তিনি আর কখনো সেখানে যাননি। এমন কি তার নিকটেও যাননি। তিনি তো নিজে যাননি এমনকি তাঁর কোন সাহাবীও সেখানে যাননি। নবুওয়াতের পর তিনি প্রায় তের বছর মক্কায় অবস্থান করেছেন। এই সময়ের মধ্যে তিনি কখনো সেখানে যাননি এবং সেই পাহাড়ে আরোহণ করেননি। হিজরতের পরও তিনি অনেকবার মক্কায় এসেছেন। যেমন হুদাইবিয়ার সন্ধির সময়। মক্কা বিজয়ের সময় তো প্রায় বিশ দিন তিনি মক্কায় অবস্থান করেন। বিদায় হজ্ব বা অন্যান্য ওমরার সময়ও তিনি গারে হেরায় যাননি এবং তা যিয়ারত করেননি।
এই তো এখন আমরা মদীনার দিকে দৃষ্টি দেবো। মদিনার সবচেয়ে বড় নিদর্শন ও শিক্ষার জায়গা হলো উহুদ। উহুদ পর্বত সম্পর্কে রাসূল ﷺ বলেছেন,
هذا جبل يحبنا ونحبه
এটা এমন একটা পর্বত, যে আমাদের ভালোবাসে আমরাও তাকে ভালোবাসি।
আমরা রাসূল ﷺ এর বাড়িতে প্রবেশের পূর্বে, তাঁর বাড়ির কাঠামো ও স্থাপনার দিকে একবার লক্ষ করি। আমাদের এতে আশ্চর্য হওয়ার কিছুই নেই যে, আমরা দেখছি একটি ছোট্ট ও জীর্ণশীর্ণ বাড়ি, একেবারে অতিসাধারণ আসবাব পত্র ও বিছানা পত্র। রাসূল ছিলেন, পৃথিবীর সকল মানুষের চেয়ে সবচেয়ে' বেশি জাহেদ বা দুনিয়া ত্যাগী। দুনিয়ার আসবাবপত্র ও তার চাকচিক্যের প্রতি তার সামান্যতম আগ্রহ বা দৃষ্টি ছিলো না। বরং তার চক্ষুর শীতলতা ছিলো নামাজের মধ্যে।
রাসূলুল্লাহ দুনিয়া সম্পর্কে বলেন, ما لي و للدنيا ما مثلي و مثل الدنيا إلا كراكب سار في يوم صائف فاستظل تحت شجرة ساعة من نهار ثم راح وتركها
দুনিয়ার সাথে আমার সম্পর্ক কীসের? আমার এবং দুনিয়ার উপমা হলো একজন মুসাফিরের মতো যে গ্রীষ্মের দিনে সফর করেছে অতঃপর একটি গাছের ছায়ায় বিশ্রাম নিলো এবং কিছুক্ষণ পর তা ছেড়ে চলে গেলো।
আমরা রাসূল ﷺ এর বাড়ির দিকে অগ্রসর হচ্ছি। মদিনার রাস্তায় হাঁটছি। এইতো আমাদের সামনে পড়ছে খেজুর পাতা আর মাটি-পাথর দিয়ে নির্মিত আম্মাজানদের ঘরগুলো।
হাসান রা. বলেন, আমি উসমান রা. এর খেলাফতকালে আজওয়াজে মুতাহহারাদের বাড়িতে প্রবেশ করেছিলাম। তখন আমি তার ছাদ হাত দিয়ে ধরতে পারতাম।
নিশ্চয়ই রাসূল ﷺ এর বাড়ি খুবই সাধারণ বাড়ি এবং তার কক্ষ ছোট, কিন্তু তা ছিলো ঈমান ও আমল দ্বারা পূর্ণ এবং ওহী ও রিসালাত সমৃদ্ধ। সুতরাং দুনিয়ার চাকচিক্যের পিছনে না পড়ে, ঘর-বাড়ি ও আসবাবপত্রে জৌলুসের দিকে না তাকিয়ে, আখেরাত সমৃদ্ধ করার পিছনে আমাদের সময় ব্যয় করা উচিত।
টিকাঃ
* বুখারী ও মসলিম
* সূরা হাশর-৭
* বুখারী ও মুসলিম
* মাজমুউল ফাতুওয়া-২৭/২৫১
১০ বুখারী মুসলিম
১১ নাসয়ী শরীফ
১২ মুসনাদে আহমদ-১/৩০১, তিরমিযি কিতাবুয যহুদ-১৩৭৭
১০ আসসীরাতুন নববী ২/২৭৪। আততাবকাতল কুবরা১/৪৯৯
📄 রাসূল ﷺ এর বর্ণনা
আমরা রাসূল ﷺ এর বাড়ির একেবারে নিকটে চলে এসেছি। আমরা তার দরজায় আওয়াজ দিয়ে ভিতরে প্রবেশের অনুমতি চাইবো। আমরা এখন সেই সাহাবীদের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনবো যারা রাসূল ﷺ কে দেখেছেন এবং নিখুঁতভাবে তাঁর বর্ণনা দিয়েছেন।
বারা ইবনে আজেব রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন,
كَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم أَحْسَنَ النَّاسِ وَجْهَا وَأَحْسَنَهُ خَلْقًا لَيْسَ بِالطَّوِيْلِ الْبَائِنِ وَلَا بِالْقَصِيْرِ
আল্লাহর রাসূল ﷺ এর চেহারা ছিলো মানুষের মধ্যে সর্বাপেক্ষা সুন্দর এবং তিনি ছিলেন সর্বোত্তম আখলাকের অধিকারী। তিনি বেশি লম্বাও ছিলেন না এবং বেঁটেও ছিলেন না。
বারা ইবনে আজেব রা. থেকে বর্ণিত অন্য এক হাদিসে এসেছে। তিনি বলেন,
كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مَرْبُوعًا بَعِيدَ مَا بَيْنَ الْمَنْكِبَيْنِ لَهُ شَعَرُ يَبْلُغُ شَحْمَةَ أُذُنِهِ رَأَيْتُهُ فِي حُلَّةٍ حَمْرَاءَ لَمْ أَرَ شَيْئًا قَطُّ أَحْسَنَ مِنْهُ قَالَ يُوسُفُ بْنُ أَبِي إِسْحَاقَ عَنْ أَبِيْهِ إِلَى مَنْكِبَيْهِ
নবী কারীম মাঝারি গড়নের ছিলেন। তাঁর উভয় কাঁধের মধ্যস্থল প্রশস্ত ছিলো। তাঁর মাথার চুল দুই কানের লতি পর্যন্ত বিস্তৃত ছিলো। আমি তাঁকে লাল ডোরাকাটা জোড় চাদর পরা অবস্থায় দেখেছি। তাঁর চেয়ে বেশি সুন্দর আমি কখনো কাউকে দেখিনি। ইউসুফ ইবনে আবু ইসহাক তাঁর পিতা হতে হাদীস বর্ণনায় বলেন, নাবী ﷺ এর মাথার চুল কাঁধ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিলো。
আবু ইসহাক আস সাবিয়ী রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন,
سَأَلَ رَجُلُ الْبَرَاءَ بْنَ عَازِبٍ : أَكَانَ وَجْهُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ . " مثل السَّيْفِ ؟ قَالَ : " لا ، بَلْ مثل الْقَمَرِ
একবার বারা ইবনে আযিব (রাঃ) কে এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করলো, রাসূলুল্লাহ ﷺ এর চেহারা কি তরবারির ন্যায় ছিলো? তিনি বললেন, না; বরং তা ছিলো চাঁদের মত。
আনাস রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন,
- ما مسست بيدي ديباجًا ولا حريرًا، ولا شيئًا ألين من كف رسول الله صلى الله عليه وسلم -، ولا شممت رائحة أطيب من ريح رسول الله صلى الله عليه وسلم
আমি রেশম ও রেশমী কাপড় ও অন্যান্য নরম জিনিস ধরে দেখেছি, কিন্তু রাসূলুল্লাহ ﷺ এর হাতের চেয়ে নরম কিছু পাইনি। রাসূলের শরীরের ঘ্রাণের চেয়ে উত্তম কোন ঘ্রাণ আমি কখনো পাইনি。
রাসূল ﷺ এর গুনাবলীর অন্যতম একটি হলো, লজ্জা। আবু সাঈদ খুদরী রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন,
كان - صلى الله عليه وسلم - أشد حياء من العذراء في خدرها، فإذا رأى شيئًا يكرهه عرفناه في وجهه
রাসূলুল্লাহ পর্দার আড়ালে থাকা কুমারী বলিকার চেয়েও বেশি লজ্জাশীল ছিলেন। অপছন্দনীয় কিছু তাঁর চোখে পড়লে আমরা তাঁর চেহারা দেখেই তা বুঝতে পারতাম。
টিকাঃ
১৪ বুখারী, হাদিস: ৩৫৪৯, মুসলিম ৪৩/২৫ হাঃ ২৩৩৭, আহমাদ ১৮৫৮২
১৫ বুখারী, হাদিস: ৩৫৫১, মুসলিম হাদিস: ২৩৩৭
১৬ বুখারী, হাদিস: ৩৫৫২
১৭ বুখারী, হাদিসি: ৩৫৬১ মুসলিম, হাদিস: ২৩৩০
১৮ বুখারী, হাদিস: ৩৫৬২
📄 রাসূল ﷺ এর কথা
ইতিপূর্বে আমরা রাসূলুল্লাহ ﷺ এর কিছু গুণাবলী সম্পর্কে জেনেছি। এখন আমরা রাসূল ﷺ এর কথা-বার্তা সম্পর্কে জানবো। কেমন ছিলো তাঁর কথা বলার ধরণ এবং কিভাবে তিনি কথা বলতেন? আমরা রাসূলুল্লাহ ﷺ এর পবিত্র জবান থেকে কথা শোনার পূর্বে সাহাবায়ে কেরামদের রা. থেকে তাঁর কথা বলা সম্পর্কে জানবো। আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন,
مَا كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَسْرُدُ سُرْدَكُمْ هَذَا ، وَلَكِنَّهُ كَانَ يَتَكَلَّمُ بِكَلامٍ بَيِّنٍ فَصْلٍ ، يَحْفَظُهُ مَنْ جَلَسَ إِلَيْهِ. "
রাসূলুল্লাহ ﷺ তোমাদের ন্যায় চটপটে, তথা অস্পষ্টভাবে তাড়াতাড়ি কথা বলতেন না, বরং তাঁর প্রতিটি কথা ছিলো সুস্পষ্ট। আর শ্রোতারা খুব সহজেই তা হৃদয়ঙ্গম করতে পারতো。
রাসূলুল্লাহ ﷺ ছিলেন অত্যন্ত নরম ও কোমল হৃদয়ের অধিকারী। তিনি মানুষের সাথে কোমলভাবে সহজ ভাষায় কথা বলতেন। তিনি চাইতেন তাঁর কথা যেন সকলেই বুঝতে পারে। উম্মতের প্রতি রাসূলুল্লাহ ﷺ এর খেয়াল ছিলো এতটাই বেশি যে, তিনি শ্রোতাদের বোধ ও স্মৃতি শক্তির তারতম্যের প্রতি খেয়াল রেখে কথা বলতেন। আর এটা রাসূলুল্লাহ ﷺ এর ধৈর্যশীলতা ও সহনশীলতারও প্রমাণ বহন করে।
আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন,
كَانَ كَلاَمُ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَلامًا فَصْلاً يَفْهَمُهُ كُلُّ مَنْ يَسْمَعُهُ
রাসূলুল্লাহ ﷺ এর কথা ছিল সুস্পষ্ট ও ধীরস্থির, প্রত্যেক শ্রোতাই তাঁর কথা বুঝতে পারতো。
প্রিয় ভাই! একবার চিন্তা করে দেখো যে, কেমন ছিলো রাসূলুল্লাহ ﷺ এর কোমলতা ও তাঁর অন্তরের প্রশস্ততা। শ্রোতারা যেন তার কথা ঠিক মত বুঝতে পারে সেজন্য তিনি একটি কথা কয়েকবার বলতেন।
আনাস ইবনে মালেক রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন,
كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ , يُعِيدُ الْكَلِمَةَ ثَلاَثًا لِتُعْقَلَ عَنْهُ."
রাসূলুল্লাহ ﷺ কোন কোন কথা তিনবার বলতেন, যাতে (শ্রোতারা) ভালোভাবে তা হৃদয়ঙ্গম করতে পারে。
রাসূলুল্লাহ ﷺ মানুষের সাথে কোমল আচরণ করতেন। তাদের সান্ত্বনা দিতেন। তারা যেন তাকে ভয় না করে সে বিষয়ে তাদেরকে প্রবোধ দিতেন। কারণ অনেকেই তাঁকে ভয় করে চলতো।
ইবনে মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন,
أَتَى النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَجُلٌ ، فَكَلَّمَهُ ، فَجَعَلَ تُرْعَدُ فَرَائِصُهُ ، فَقَالَ لَهُ : هَوِّنْ عَلَيْكَ ، فَإِنِّي لَسْتُ بِمَلِكِ ، إِنَّمَا أَنَا ابْنُ امْرَأَةٍ تَأْكُلُ الْقَدِيدَ
এক লোক নবী কারীম ﷺ এর নিকট এসে তাঁর সাথে কথা বললো। তখন ভয়ে তার শরীর কাঁপছিলো। তখন তিনি তাকে বললেন, স্বাভাবিক হও। ভয়ের কোন কারণ নেই। আমি কোন ফেরেশতা নই। আমি তো একজন মায়ের সন্তান যিনি শুকনো গোশত খেতেন。
টিকাঃ
১৯ তিরমিযি, হাদিস: ৩৬৩৯
২০ আবু দাউদ, হাদিস: ৪৮৩৯
২১ বুখারী, হাদিস: ৯৪, ৯৫, ৬২৪৪
২২ ইবন মাজাহ, হাদিস: ৩৩১২
📄 বড়ির ভিতর
আমরা এখন রাসূলুল্লাহ ﷺ এর বাড়িতে, তাঁর ঘরের ভিতরে অবস্থান করছি। আমরা আমাদের নবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ ﷺ এর বাড়ি ও ঘরের প্রতিটি বিষয় দেখবো এবং সেগুলোকে আমাদের জীবনে এবং আমাদের বাড়ি ও ঘরের উত্তম আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করবো। সাহাবায়ে কেরামগণ রা. আমাদের নিকট এই ঘরের বিভিন্ন বিষয়ের বর্ণনা দিবেন।
আমরা যখন তাঁর ঘরের অভ্যন্তর ও তার দেয়ালের দিকে তাকাবো তখন আমরা দেখবো ও জানতে পারবো যে, এই ঘরের মূল ভিত্তি হচ্ছে বিনয় এবং তার আসবাব পত্র হচ্ছে ঈমান। এ কারণেই আমরা দেখবো তাঁর ঘরের দেয়ালে কোন প্রাণী বা অন্য কোন ছবি টানো নেই। কিন্তু আফসোস! বর্তমানে বেশীরভাগ ঘরে বিভিন্ন প্রাণীর ছবি ও প্রতিকৃতি ঝুলানো থাকে। অথচ রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
لا تدخل الملائكة بيتا فيه كلب ولا تصاوير যেই ঘরে কুকুর বা অন্য কোন প্রাণীর ছবি থাকে তাতে ফেরেশতা প্রবেশ করে না।
এরপর আমরা রাসূলুল্লাহ ﷺ জীবনে ব্যবহার্য কিছু জিনিসের দিকে দৃষ্টি দেবো। ছাবেত রা. বর্ণনা করেন,
أخرج إلينا أنس بن مالك قدح خشب غليظا مضببًا بجديد فقال: يا ثابت لم - . وكان - صلى الله عليه وسلم هذا قدح رسول الله - صلى الله عليه وسلم - . - يشرب فيه الماء والنبيذ والعسل واللبن.
একবার আনাস ইবনে মালেক রাঃ আমদের সামনে মোটা লোহার পাত দিয়ে তৈরি কাঠের একটি পাত্র নিয়ে এলেন। অতঃপর বললেন, ছাবেত! এটা রাসূলুল্লাহ ﷺ এর পাত্র। তিনি এতে পানি, নাবিজ, মধু এবং দুধ পান করতেন。
আনাস রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন,
أن رسول الله - صلى الله عليه وسلم - كان يتنفس في الشراب ثلاثا». يعني: يتنفس خارج الإناء.
রাসূলুল্লাহ তিন শ্বাসে পানি পান করতেন। (অর্থাৎ তিনি পাত্রের বাইরে নিঃশ্বাস ফেলতেন。)
অন্য এক হাদিসে এসেছে, ونهى عليه الصلاة والسلام أن يتنفس في الإناء أو ينفخ فيه
রাসূলুল্লাহ পাত্রের ভিতরে নিঃশ্বাস ফেলতে অথবা ফুঁ দিতে নিষেধ করেছেন。
আর সেই বর্ম যেটা পরিধান করে রাসূলুল্লাহ জিহাদে গিয়েছেন, কঠিন দিনগুলোতে যুদ্ধের ময়দানে শত্রুর মোকাবেলা করেছেন। হয় তো সেটা এখন রাসূলুল্লাহ এর বাড়িতে নেই। কারণ রাসূলুল্লাহ সেটা এক ইহুদির কাছ বন্ধক রেখে তার কাছ থেকে ত্রিশ সের জব নিয়েছেন ধার হিসেবে। যেমনটি আয়েশা রা. বলেছেন,
ومات الرسول - صلى الله عليه وسلم - والدرع عند اليهودي
রাসূলুল্লাহ এর ইন্তেকালের সময়ও বর্মটি ইহুদি লোকটির কাছেই ছিলো。
রাসূলুল্লাহ কখনই হঠাৎ করে, লুকিয়ে লুকিয়ে ঘরে চলে আসতেন না। বরং তিনি তার আগমন সম্পর্কে ঘরের লোকদের অবগত করে তবেই ঘরে প্রবেশ করতেন। তিনি ঘরে প্রবেশের পূর্বে তাদেরকে সালাম দিতেন。
প্রিয় ভাই! তুমি রাসূলুল্লাহ এর এই হাদিস নিয়ে একটু চিন্তা-ফিকির করো, রাসূলুল্লাহ বলেছেন,
طوبى لمن هدي إلى الإسلام، وكان عيشه كفافًا وقنع
সুসংবাদ ঐব্যক্তির জন্য যাকে ইসলামের দিকে হেদায়াত করা হয়েছে এবং তার জীবন যাপন ছিল সাদামাটা চলার মত আর সে ছিলো এতেই তৃপ্ত。
তুমি তোমার কর্ণকে প্রসারিত করে রাসূলুল্লাহ এর এই কথাটা একবার শোনো, তিনি বলেছেন,
من أصبح آمنا في سربه، معافى في جسده، عنده قوت يومه، فكأنما حيزت له الدنيا بحذافيرها
যে ব্যক্তি তার গোত্রের লোকদের মধ্যে নিরাপদে আছে। তার শরীরও সুস্থ। আর তার কাছে একদিনের পরিমাণ খাবার রয়েছে। দুনিয়ার সকল সুখ- শান্তিই যেন তাকে দেওয়া হয়েছে。
টিকাঃ
১ মুসলিম, হাদিস: ২১০৬
২৩ তিরমিযী
২৪ তিরমিযী, হাদিস: ১৯০৭
২৫ তিরমিযী, হাদিস: ১৯০৭
২৬ বুখারী ও মুসলিম
২৭ যাদুল মা'আদ ২/৩৮১
২৮ তিরমিযী, হাদিস: ২৩৪৯
২৯ তিরমিযী, হাদিস: ২৩৪