📘 রাসূলুল্লাহ সা কে যেভাবে ভালোবাসতে হবে এবং তাকে কটাক্ষ করার বিধান > 📄 রসূলুল্লাহ্ (সা) কে যারা কটাক্ষ করেছে তাদের সম্পর্কে যারা বলে 'আমরা তাদের ইসলাম বুঝাতে ব্যর্থ হওয়ায় তারা কটাক্ষ করার সুযোগ পেয়েছে' এ সম্পর্কিত বিধান

📄 রসূলুল্লাহ্ (সা) কে যারা কটাক্ষ করেছে তাদের সম্পর্কে যারা বলে 'আমরা তাদের ইসলাম বুঝাতে ব্যর্থ হওয়ায় তারা কটাক্ষ করার সুযোগ পেয়েছে' এ সম্পর্কিত বিধান


এই ধরণের লোকেরা মূলতঃ মুনাফিকু। ঐ অন্ধ সাহাবী নাবী ﷺ কে কটাক্ষ করার কারণে যখন তাঁর ﷺ দাসীকে হত্যা করেছিল, তখন কি নাবী ﷺ বলেছিলেন, যে তুমি তোমার দাসীকে ইসলাম বুঝাতে সক্ষম হওনি। এই কারণেই সে, আমাকে ﷺ কটাক্ষ করেছিল! এই ধরণের লোকেদের কথা শুনে বুঝা যায় যে, তারা সাহাবায়েকিরামগণের থেকেও বেশী ভদ্র ! সত্যিকার অর্থে এই লোকগুলো নাবী ﷺ সম্পর্কে কটাক্ষকারীদের বাঁচাতেই এই ধরণের বক্তব্য দিয়ে মুসলিম সমাজকে ধোঁকা দিতে চায়। মূলতঃ এই লোকগুলো ঐ কটাক্ষকারীদের দালাল। যারা মুসলিম সমাজকে ধোঁকা দেয়, তাদের সম্পর্কে আবু হুরাইরাহ্ বর্ণনা করেন,
ان رسول الله عليه وسلم قال .... من غشنا فليس منا
“রসূলুল্লাহ্ ﷺ বলেছেন, আর যে ব্যক্তি আমাদের ধোঁকা দিবে সেও আমার উম্মাত নয়।”
আর যারা মুসলিমদের সাথে ধোঁকাবাজী করে তাদের সাথে রসূলুল্লাহ্ ﷺ সম্পর্কচ্ছেদের ঘোষণা দিয়েছেন। আবু হুরাইরাহ্ (রা.) হতে বর্ণিত,
.... من غشنا فليس منی
"... (নাবী ﷺ বলেছেন) জেনে রেখো, যে ব্যক্তি আমাদের (মুসলিমদের) সাথে ধোঁকাবাজী করে তার সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নেই।”

এই দুটি হাদিস থেকে বুঝা যায় যে, এই ধরণের ব্যক্তিরা মুসলিম নয়, বরং মুনাফিকু। এরা পরোক্ষভাবে রসূলুল্লাহ্ ﷺ এর কটাক্ষকারীদের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করেছে। তাই বুঝে নিতে হবে যে, এ সকল ব্যক্তিরা নাবী ﷺ এর কটাক্ষকারীদের প্রতি পরোক্ষ সমর্থন দেয়ায়, তারাও রসূলুল্লাহ্ ﷺ কে কটাক্ষ করেছে বলে বুঝে নিতে হবে। তাই, এই ধরণের ব্যক্তিদের শাস্তিও মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে।

টিকাঃ
মুসলিম, অধ্যায়: ১, কিতাবুল ঈমান, অনুচ্ছেদ: ৪২, নাবী ﷺ এর উক্তি, যে ব্যক্তি আমাদের ধোঁকা দেয় সে আমার উম্মাত নয়, হাদিস # আ.হা.লা. ১৮৪, ই.ফা. ১৮৫, ই.সে. ১৯১।
মুসলিম, অধ্যায় : ১, কিতাবুল ঈমান, অনুচ্ছেদ: ৪২, নাবী ﷺ এর উক্তি, যে ব্যক্তি আমাদের ধোঁকা দেয় সে আমার উম্মাত নয়, হাদিস # আ.হা.লা. ১৮৫, ই.ফা. ১৮৬, ই.সে. ১৯২।

📘 রাসূলুল্লাহ সা কে যেভাবে ভালোবাসতে হবে এবং তাকে কটাক্ষ করার বিধান > 📄 রসূলুল্লাহ্ (সা) এর সম্পর্কে কটাক্ষকারীদের ব্যপারে যে সকল মুসলিম নীরব ভূমিকা পালন করে তাদের সম্পর্কিত বিধান

📄 রসূলুল্লাহ্ (সা) এর সম্পর্কে কটাক্ষকারীদের ব্যপারে যে সকল মুসলিম নীরব ভূমিকা পালন করে তাদের সম্পর্কিত বিধান


এবিষয়টি দুইভাগে বিভক্ত,
ক. প্রতিবাদের সামর্থ থাকার পরও নীরব থাকা
এই শ্রেণির লোকেরা মূলতঃ মুনাফিক্ব। রসূলুল্লাহ্ ﷺ এর জন্য মূলতঃ এদের অন্তরে কোনো ভালবাসা নেই। যদি ভালবাসা থাকত তাহলে তারা কখনই রসূলুল্লাহ্ ﷺ কে কটাক্ষ করার ব্যাপারে নীরব থাকত না। যাঁদের মনে রসূলুল্লাহ্ ﷺ এর প্রতি ভালবাসা আছে তাঁরা অবশ্যই এ ধরণের ঘৃণ্য কাজের প্রতিবাদ করবে, যেমনিভাবে প্রতিবাদ করেছিল ঐ অন্ধ সাহাবী ﷺ তাঁর দাসীর সাথে। এ ধরণের লোকদের সম্পর্কে মহান আল্লাহ্ বলেন,
وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يَقُولُ آمَنَّا بِا اللهِ وَبِالْيَوْمِ الْآخِرِ وَمَا هُمْ بِمُؤْمِنِينَ. يُخَادِعُونَ اللَّهَ وَمَا يَخْدَعُونَ إِلَّا أَنْفُسَهُمْ وَمَا يَشْعُرُونَ.
“মানুষের মাঝে এমন কিছু লোক আছে যারা বলে আমরা আল্লাহ্'র প্রতি এবং আখিরাতের প্রতি ঈমান এনেছি, কিন্তু প্রকৃত পক্ষে তারা ঈমানদার নয়। তারা আল্লাহ্ ও মু'মিনদেরকে প্রতারিত করে। আসলে তারা নিজেদেরকে ছাড়া আর কাউকে প্রতারিত করে না। কিন্তু এটা তারা উপলদ্ধি করতে পারে না।” -সূরা বাকুরাহ্, ২/৮-৯

খ. প্রতিবাদের সামর্থ না থাকার কারণে নীরব থাকা
যারা সামর্থ না থাকার দরুণ এই ঘৃণ্যতম অন্যায় কাজের প্রতিবাদ করতে পারছেন না। তাদের সম্পর্কে রসূলুল্লাহ্ ﷺ বলেছেন,
... من رأى منكم منكرا فليغيره بيده فان لم يستطع فبلسانه فان لم يستطع فبقلبه وذالك اضعف الايمان.
“তোমাদের কেউ অন্যায় কাজ হতে দেখলে তা যেন হাত দিয়ে পরিবর্তনের চেষ্টা করে আর যদি সেই সামর্থ না থাকে তাহলে সে যেন মুখের দ্বারা পরিবর্তনের চেষ্টা করে আর যদি এই সাধ্যও না থাকে তবে সে যেন মনে-মনে তা পরিবর্তনের উপায় খোঁজ করে, তবে এটা ঈমানের দূর্বলতার পরিচয়।”

টিকাঃ
নাসাঈ, সহীহ্, অধ্যায় ঃ ৩৭, হত্যা অবৈধ হওয়া, অনুচ্ছেদ: ১৬, রসূলুল্লাহ্ ﷺ কে মন্দ বলা, হাদিস # আরবী মিশর ৪০৭০, ই.ফা. ৪০৭১, আবু দাউদ, সহীহ্, অধ্যায়: ৩৩, কিতাবুল হুদুদ, অনুচ্ছেদ: ২, যে নবী ﷺ কে গালী দেয় তার বিধান, হাদিস # আরবী রিয়াদ ৪৩৬১, ৪৩৬৩, হু.মা. ৪৩৬১, ৪৩৬৩, ই.ফা. ৪৩১০ (হাদিসটি নাসাঈর বর্ণনা)।
মুসলিম, অধ্যায় : ১, কিতাবুল ঈমান, অনুচ্ছেদ : ২০, মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করা ঈমানের অঙ্গ। ঈমান হ্রাস ও বৃদ্ধি পায়। ভাল কাজের আদেশ করা আর মন্দকাজের প্রতিরোধ করা ওয়াজিব, হাদিস # আ.হা.লা. ৮১, ই.ফা. ৮৩, ই.সে. ৮৫।

📘 রাসূলুল্লাহ সা কে যেভাবে ভালোবাসতে হবে এবং তাকে কটাক্ষ করার বিধান > 📄 উপসংহার

📄 উপসংহার


পরিশেষে কথা হলো যে, রসূলুল্লাহ্ ﷺ কে ভালবাসতে হবে সকল মানুষ, ধন-সম্পদ, এবং নিজের জীবন থেকেও। তাহলেই আমরা ঈমানের মিষ্টতা অনুভব করতে পারব। আর যারা রসূলুল্লাহ্ ﷺ কে কটাক্ষ করে তাদেরকে কাফির বলে বিশ্বাস করতে হবে। এবং সামর্থ থাকলে তাদেরকে হত্যা করতে হবে। আর এই হত্যা কার্যকর করতে বিচারকের রায়ের অপেক্ষার প্রয়োজন নেই। যদি রসূলুল্লাহ্ ﷺ এর কটাক্ষকারীরা তাওবাহ্ করে তারপরেও তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে হবে। যারা এই কটাক্ষকারীদের সম্পর্কে বলবে যে, তাদের মত প্রকাশের স্বাধীনতা রয়েছে তাদেরকেও হত্যা করতে হবে, কারণ, তারা পরোক্ষভাবে এই ঘৃণ্যতম কাজে সমর্থন দিয়েছে। যদি হত্যা করতে সামর্থ না থাকে তাহলে নূন্যতম অন্তর দিয়ে হলেও পরিবর্তনের উপায় খোঁজ করতে হবে। যারা সামর্থ থাকা স্বত্তেও এই ঘৃণ্যতম কাজের ব্যাপারে নীরব থাকে বুঝতে হবে তারা মুনাফিক্ব। এরা মুসলিমদেরকে ধোঁকা দিতে চায়। আর যারা এই ঘৃণ্যতম কাজকে সমর্থন দিয়ে এ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে বাঁধা দিবে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে হবে এবং যারা ঘৃণ্যতম কাজকে সমর্থন না করে শান্তি বজায় রাখার দাবীতে বাঁধা দিবে তাদের বিরুদ্ধেও যুদ্ধ করতে হবে। আল্লাহ্ আমাদেরকে সঠিক বুঝ দান করুন। আমীন

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00