📄 রসূলুল্লাহ্ (সা) কে কটাক্ষ করার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড এই আইনকে বিশ্বাস না করার বিধান
রসূলুল্লাহ্ কে কটাক্ষ করার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড
এই আইনকে বিশ্বাস না করার বিধান
এই ব্যাপারটি ওয়াহীকে অস্বীকার করার নামান্তর। কারণ, রসূলুল্লাহ্ স্বয়ং নিজেই তাঁকে কটাক্ষ করার কারণে কা'ব বিন আশরাফকে হত্যা করিয়েছিলেন। সেখানে আমরা কোন দিক থেকে এই বিধানকে অস্বীকার করবো ? যারা রসূলুল্লাহ্ এর মাধ্যমে আসা বিধানকে বিশ্বাস করে না তাদের সম্পর্কে মহান আল্লাহ্ বলেন,
وَمَنْ يَعْصِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَيَتَعَدَّ حُدُودَهُ يُدْخِلْهُ نَارًا خَلِدًا فِيهَا ص وَلَهُ عَذَابٌ مُّهِينٌ.
“আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তার রসূল এর বিরুদ্ধাচরণ করবে এবং তাঁর নির্ধারিত সীমালংঘন করবে, আল্লাহ্ তাকে জাহান্নামে দাখিল করবেন এবং সেখানে চিরকাল থাকবে আর সেখানে অবমাননাকর শাস্তি ভোগ করবে। -সূরা নিসা-৪/১৪
এই আয়াত থেকে বুঝা যায় যে, যারা রসূলুল্লাহ্ এর বিরুদ্ধাচরণ করবে তারা জাহান্নামে চিরকাল থাকবে। জাহান্নামে চিরকাল কোন মুসলিম থাকে না বরং কাফিররাই থাকে। এতে বুঝা যায়, রসূলুল্লাহ্ এর বিরুদ্ধাচরণকারীরা মুসলিম নয় তারা কাফির। তাই যারা রসূলুল্লাহ্ এর কটাক্ষ করার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বিশ্বাস করে না, তারা রসূলুল্লাহ্ এর বিরুদ্ধাচরণ করার কারণে কাফির হয়ে গেছে।
📄 সরাসরি রসূলুল্লাহ্ (সা) কে কটাক্ষ করেনি কিন্তু কটাক্ষকারীদের সম্পর্কে বলে থাকে তাদের মত প্রকাশের স্বাধীনতা রয়েছে এ সম্পর্কিত বিধান
সরাসরি রসূলুল্লাহ্ কে কটাক্ষ করেনি কিন্তু
কটাক্ষকারীদের সম্পর্কে বলে থাকে
তাদের মত প্রকাশের স্বাধীনতা রয়েছে
এ সম্পর্কিত বিধান
এই বিষয়টি মূলত রসূলুল্লাহকে কটাক্ষ করার সাথে সমর্থন বুঝায়, যারা পরোক্ষভাবে রসূলুল্লাহকে কটাক্ষ করার ব্যাপারে সমর্থন করে তারাও মূলত রসূলুল্লাহ কে কটাক্ষ করেছে বলে বুঝে নিতে হবে, কারণ মহান আল্লাহ বলেন,
... وَمَنْ يَشْفَعُ شَفَاعَةً سَيِّئَةً يَكُن لَّهُ كِفْلٌ مِّنْهَا ....
“...যে মন্দ কাজের জন্য সুপারিশ করবে, তার জন্য তাতে অংশ আছে...” -সূরা নিসা-৪/৮৫
এই আয়াত থেকে বুঝা যায়, যারা মন্দ কাজের সমর্থন করবে তারাও মূলতঃ ঐ মন্দ কাজের অংশীদার। তাই বুঝে নিতে হবে যে, যারা রসূলুল্লাহ কে কটাক্ষ করার ব্যাপারে মত প্রকাশের স্বাধীনতা রয়েছে বলে মন্তব্য করে, তারাও ঐ কটাক্ষ করার অপরাধের অংশীদার। এই কারণে এমন ব্যক্তিদেরকেও রসূলুল্লাহকে কটাক্ষ করার অপরাধে মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে।
📄 রসূলুল্লাহ্ (সা) কে কটাক্ষ করার কারণে হত্যা করতে যারা বাঁধা প্রদান করে এ সম্পর্কিত বিধান
এ বিষয়টি দুইভাগে বিভক্ত-
(ক) যারা রসূলুল্লাহ্ ﷺ কে কটাক্ষ করেছে তাদের পক্ষ নিয়ে প্রতিরোধকারী। এরা রসূলুল্লাহ্ ﷺ কে কটাক্ষ করার ব্যাপারে সমর্থন দিয়ে মূলতঃ ইসলামকেই কটুক্তি করেছে। এই শ্রেণির মানুষ সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন,
... وَطَعَنُوا فِي دِينِكُمْ فَقَتِلُوا أَئِمَّة الْكُفْرِه ..
“...আর যদি তারা তোমাদের দ্বীনের বিরুদ্ধে কটুক্তি করে তাহলে কাফির নেতাদের বিরুদ্ধে লড়াই কর...।" সূরা তাওবা- ৯/১২
(খ) যারা রসূলুল্লাহ্ ﷺ কে কটাক্ষ করেছে তাদের পক্ষ না নিয়ে বরং শান্তি বজায় রাখার দাবীতে প্রতিরোধকারী। এরাই মূলতঃ অশান্তি সৃষ্টিকারী, কারণ যারা রসূলুল্লাহ্ ﷺ কে কটাক্ষ করেছে, তারা সমস্ত মুসলিমদের মনে এমনভাবে আঘাত দিয়েছে যে, মুসলিমদের জীবনের সমস্ত শান্তি নষ্ট করে দিয়েছে। মুসলিম সমাজে শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্য অবশ্যই ঐ কটাক্ষকারীদের হত্যা করতে হবে। যারা মুসলিম সমাজের এই শান্তি ফিরিয়ে আনার কাজকে প্রতিরোধ করে বলবে যে, “আমরা শান্তি বজায় রাখতে চাই”, তারা মূলত মুনাফিক্ব, তারা মুমিন নয়। এই সম্পর্কে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর হতে বর্ণিত,
ان النبى عليه الله قال من حمل علينا السلاح فليس منا .
নবী ﷺ বলেছেন, “যে ব্যক্তি আমাদের (মুসলিমদের) বিরুদ্ধে অস্ত্রধারণ করবে সে আমার উম্মত নয়।”
ইবনে আব্বাস হতে বর্ণিত,
... من حال وبينه فعلية لعنة الله والملائكة والناس اجمعية لا يقبل الله منه صرفا ولا عدلا .
“রসূলুল্লাহ্ ﷺ বলেছেন, আর যে ব্যক্তি কিসাসে (আল্লাহ্'র নির্ধারিত শাস্তি কার্যকরে) বাঁধা দিবে তার উপর আল্লাহ্, মালাইকাঙ্গণ (ফেরেশতাগণ) এবং সকল মানুষের লানত (অভিসম্পাত)। তার ফরজ বা নফল কোনো ইবাদাতই কুবুল হবে না।”
যারা মুসলিমদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরে এদের সম্পর্কে মহান আল্লাহ্ বলেন,
وَقَاتِلُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ الَّذِينَ يُقْتِلُونَكُمُ
“তোমরা আল্লাহ্'র পথে যুদ্ধ করো সেই লোকদের বিরুদ্ধে যারা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ কর...।” -সূরা বাক্বারাহ্, ২/১৯০
টিকাঃ
মুসলিম, অধ্যায়: ১, কিতাবুল ঈমাণ, অনুচ্ছেদ : ৪২, নাবী ﷺ এর উক্তি যে আমাদের বিরুদ্ধে অস্ত্রধারণ করবে সে আমার উম্মত নয়, হাদিস # আ.হা.লা. ১৮১,১৮২,১৮৩, ই.ফা. ১৮২,১৮৩,১৮৪, ই.সে. ১৮৮,১৮৯,১৯০, অনুচ্ছেদ: ৪৩, নাবী ﷺ এর উক্তি যে ব্যক্তি আমাদের ধোঁকা দেয় সে আমার উম্মত নয়, হাদিস # আ.হা.লা. ১৮৪, ই.ফা. ১৮৫, ই.সে. ১৯১।
নাসাঈ, সহীহ্, অধ্যায়ঃ কুসামাহ্, অনুচ্ছেদ : প্রস্তর অথবা কোড়ার আঘাতে নিহত ব্যক্তি, হাদিস # আরবী মিশর ৪৭৮৯, ৪৭৯০, ই.ফা. ৪৭৮৯, ৪৭৯০, আবু দাউদ, হাসান লি-গইরিহী, অধ্যায়ঃ ৩৪, রক্তমূল্য, অনুচ্ছেদ: ১৭, কাওমের যে ব্যক্তিকে ভুলবশতঃ হত্যা করা হয়, আরবী রিয়াদ ৪৫৩৯, ৪৫৪০, হু.মা. ৪৫৩৯, ৪৫৪০ (হাদিসটি নাসাঈর বর্ণনা)।
📄 রসূলুল্লাহ্ (সা) কে যারা কটাক্ষ করেছে তাদের সম্পর্কে যারা বলে 'আমরা তাদের ইসলাম বুঝাতে ব্যর্থ হওয়ায় তারা কটাক্ষ করার সুযোগ পেয়েছে' এ সম্পর্কিত বিধান
এই ধরণের লোকেরা মূলতঃ মুনাফিকু। ঐ অন্ধ সাহাবী নাবী ﷺ কে কটাক্ষ করার কারণে যখন তাঁর ﷺ দাসীকে হত্যা করেছিল, তখন কি নাবী ﷺ বলেছিলেন, যে তুমি তোমার দাসীকে ইসলাম বুঝাতে সক্ষম হওনি। এই কারণেই সে, আমাকে ﷺ কটাক্ষ করেছিল! এই ধরণের লোকেদের কথা শুনে বুঝা যায় যে, তারা সাহাবায়েকিরামগণের থেকেও বেশী ভদ্র ! সত্যিকার অর্থে এই লোকগুলো নাবী ﷺ সম্পর্কে কটাক্ষকারীদের বাঁচাতেই এই ধরণের বক্তব্য দিয়ে মুসলিম সমাজকে ধোঁকা দিতে চায়। মূলতঃ এই লোকগুলো ঐ কটাক্ষকারীদের দালাল। যারা মুসলিম সমাজকে ধোঁকা দেয়, তাদের সম্পর্কে আবু হুরাইরাহ্ বর্ণনা করেন,
ان رسول الله عليه وسلم قال .... من غشنا فليس منا
“রসূলুল্লাহ্ ﷺ বলেছেন, আর যে ব্যক্তি আমাদের ধোঁকা দিবে সেও আমার উম্মাত নয়।”
আর যারা মুসলিমদের সাথে ধোঁকাবাজী করে তাদের সাথে রসূলুল্লাহ্ ﷺ সম্পর্কচ্ছেদের ঘোষণা দিয়েছেন। আবু হুরাইরাহ্ (রা.) হতে বর্ণিত,
.... من غشنا فليس منی
"... (নাবী ﷺ বলেছেন) জেনে রেখো, যে ব্যক্তি আমাদের (মুসলিমদের) সাথে ধোঁকাবাজী করে তার সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নেই।”
এই দুটি হাদিস থেকে বুঝা যায় যে, এই ধরণের ব্যক্তিরা মুসলিম নয়, বরং মুনাফিকু। এরা পরোক্ষভাবে রসূলুল্লাহ্ ﷺ এর কটাক্ষকারীদের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করেছে। তাই বুঝে নিতে হবে যে, এ সকল ব্যক্তিরা নাবী ﷺ এর কটাক্ষকারীদের প্রতি পরোক্ষ সমর্থন দেয়ায়, তারাও রসূলুল্লাহ্ ﷺ কে কটাক্ষ করেছে বলে বুঝে নিতে হবে। তাই, এই ধরণের ব্যক্তিদের শাস্তিও মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে।
টিকাঃ
মুসলিম, অধ্যায়: ১, কিতাবুল ঈমান, অনুচ্ছেদ: ৪২, নাবী ﷺ এর উক্তি, যে ব্যক্তি আমাদের ধোঁকা দেয় সে আমার উম্মাত নয়, হাদিস # আ.হা.লা. ১৮৪, ই.ফা. ১৮৫, ই.সে. ১৯১।
মুসলিম, অধ্যায় : ১, কিতাবুল ঈমান, অনুচ্ছেদ: ৪২, নাবী ﷺ এর উক্তি, যে ব্যক্তি আমাদের ধোঁকা দেয় সে আমার উম্মাত নয়, হাদিস # আ.হা.লা. ১৮৫, ই.ফা. ১৮৬, ই.সে. ১৯২।