📘 রাসূলুল্লাহ সা কে যেভাবে ভালোবাসতে হবে এবং তাকে কটাক্ষ করার বিধান > 📄 কোনো অমুসলিম রসূলুল্লাহ্ (সা) কে কটাক্ষ করার পরে অনুতপ্ত হলে হবে না বরং ইসলাম গ্রহণ করলে তার জন্য নির্ধারিত শাস্তি মওকুফ হবে

📄 কোনো অমুসলিম রসূলুল্লাহ্ (সা) কে কটাক্ষ করার পরে অনুতপ্ত হলে হবে না বরং ইসলাম গ্রহণ করলে তার জন্য নির্ধারিত শাস্তি মওকুফ হবে


রসূলুল্লাহ্ কে কটাক্ষ করলে তাকে অবশ্যই মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে। তবে যদি কটাক্ষকারী অমুসলিম হয় এবং সে কটাক্ষ করার পরে ইসলাম গ্রহণ করে তাহলে তাকে আর মৃত্যুদণ্ড দেয়া যাবে না। রসূলুল্লাহ্ কে কটাক্ষ করার কারণে আব্দুল্লাহ্ ইবনে খাতলের দুই গায়িকা দাসীকে নাবী হত্যা করতে বলেছিলেন। তবে একজন ইসলাম গ্রহণ করলে রসূলুল্লাহ্ তাকে ক্ষমা করেছিলেন। এ সম্পর্কে বর্ণনাটি লক্ষ করুন,
وامـا قـيـنـتـا ابن خطل فقتلت احداهما وحربت الاخرى حتى استؤمن
لها رسول الله عليه وسلم بعد فامنها واما سارة فاستؤمن لها فامنها
“আব্দুল্লাহ্ ইবনে খাতলের দাসীদ্বয়ের একজনকে হত্যা করা হয় আর অপরজন পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। পরবর্তীকালে ঐ দাসী ইসলাম গ্রহণ করলে রসূলুল্লাহ্ তাকে নিরাপত্তাদান করেন।” -সিরাত ইবনে হিশাম, আরবী মিশর, অধ্যায় : من أمر النبي له بقتلهم পৃষ্ঠা : ৬১৭, ই.ফা. ৪র্থ খণ্ড, প্রকাশকাল : জানুয়ারী, ২০০৮ইং অধ্যায়: রসূলুল্লাহ্ যাদের হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন, পৃষ্ঠা : ৬৭
এই ঘটনা থেকেই বুঝা যায় যে, শুধুমাত্র ইসলাম গ্রহণ করলেই ঐ অমুসলিম কটাক্ষকারীকে মাফ করা যাবে। শুধুমাত্র অনুতপ্ত হলে হবে না। কারণ, আবু সুফিয়ান রসূলুল্লাহ্ اللهকে কটাক্ষ করত কিন্তু পরে যখন অনুতপ্ত হয়েছিল তখনও তাকে ছাড় দেয়ার কথা আসেনি। বরং তিনি যখন ইসলাম গ্রহণ করেছেন কেবল তখনি তাকে ক্ষমা করা হয়েছিল। এ সম্পর্কে বর্ণনাটি লক্ষ্য করুন,
ويحك يا أبا سفيان ! الم يأن لك ان تعلم انى رسول الله ؟ قال بابی
انت وامی ما احلمك و اكرمك واوصلك اما هذه والله فان في
النفس منها حتى الان شيئا فقاله عباس ويحك ! اسلم واشهد ان لا اله الا
الله وان محمد رسول الله قبل ان تضرب عنقك .
“রসূলুল্লাহ্ বললেন, আবু সুফিয়ান এখনও কি তোমার বুঝে আসেনি যে, আমি আল্লাহ্'র পক্ষ থেকে সত্য রসূল ? জবাবে আবু সুফিয়ান বললেন, আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য কুরবান হোক! আপনি কতইনা ধৈর্য্যশীল, মহানুভব ও আত্মীয়বৎসল! আল্লাহ্'র কুসম (আপনি নাবী হওয়ার ব্যাপারে) অবশ্যই আমার মনে এখনো কিছু সন্দেহ রয়েছে। একথা শুনে আব্বাস বলে উঠলেন, ধ্যাৎ! তুমি এখনই ইসলাম গ্রহণ করো তোমার গর্দান উড়িয়ে দেয়ার আগেই এবং স্বাক্ষ্য দাও যে, “নাই কোনো ইলাহ্ আল্লাহ্ ছাড়া এবং মুহাম্মাদ আল্লাহ্'র রসূল।” তখন আবু সুফিয়ান ইসলাম গ্রহণ করেন।”-সিরাতে ইবনে হিশাম, আরবী মিশর, অধ্যায় : اسلام ابی سفیان بن الحارث وعبد الله بن أمبيه পৃষ্টা # ৬১২, ই.ফা. প্রকাশকাল: জানু, ২০০৮ইং, অধ্যায়: রসূলুল্লাহ্ কে আবু সুফিয়ান কর্তৃক আশ্রয়দান ও তাঁর ইসলাম গ্রহণ, পৃষ্ঠা # ৫৮।
এই ঘটনাটি লক্ষ্য করুন, আবু সুফিয়ান অনুতপ্ত হয়ে রসূলুল্লাহ্-এর প্রসংশা করছিলেন কিন্তু ইসলাম গ্রহণ করছিলেন না। তখন আব্বাস বলেছিলেন তোমাকে হত্যা করার আগে ইসলাম গ্রহণ করো। এতে বুঝা গেল যে, রসূলুল্লাহ্ কে কটাক্ষকারী শুধুমাত্র অনুতপ্ত হলে তাকে ক্ষমা করা হবে না। তাকে হত্যা করতেই হবে। তবে সে যদি ইসলাম গ্রহণ করে তাহলে তাকে ক্ষমা করা হবে।

📘 রাসূলুল্লাহ সা কে যেভাবে ভালোবাসতে হবে এবং তাকে কটাক্ষ করার বিধান > 📄 রসূলুল্লাহ্ (সা) কে কটাক্ষ করার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড এই আইনকে বিশ্বাস না করার বিধান

📄 রসূলুল্লাহ্ (সা) কে কটাক্ষ করার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড এই আইনকে বিশ্বাস না করার বিধান


রসূলুল্লাহ্ কে কটাক্ষ করার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড
এই আইনকে বিশ্বাস না করার বিধান
এই ব্যাপারটি ওয়াহীকে অস্বীকার করার নামান্তর। কারণ, রসূলুল্লাহ্ স্বয়ং নিজেই তাঁকে কটাক্ষ করার কারণে কা'ব বিন আশরাফকে হত্যা করিয়েছিলেন। সেখানে আমরা কোন দিক থেকে এই বিধানকে অস্বীকার করবো ? যারা রসূলুল্লাহ্ এর মাধ্যমে আসা বিধানকে বিশ্বাস করে না তাদের সম্পর্কে মহান আল্লাহ্ বলেন,
وَمَنْ يَعْصِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَيَتَعَدَّ حُدُودَهُ يُدْخِلْهُ نَارًا خَلِدًا فِيهَا ص وَلَهُ عَذَابٌ مُّهِينٌ.
“আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তার রসূল এর বিরুদ্ধাচরণ করবে এবং তাঁর নির্ধারিত সীমালংঘন করবে, আল্লাহ্ তাকে জাহান্নামে দাখিল করবেন এবং সেখানে চিরকাল থাকবে আর সেখানে অবমাননাকর শাস্তি ভোগ করবে। -সূরা নিসা-৪/১৪
এই আয়াত থেকে বুঝা যায় যে, যারা রসূলুল্লাহ্ এর বিরুদ্ধাচরণ করবে তারা জাহান্নামে চিরকাল থাকবে। জাহান্নামে চিরকাল কোন মুসলিম থাকে না বরং কাফিররাই থাকে। এতে বুঝা যায়, রসূলুল্লাহ্ এর বিরুদ্ধাচরণকারীরা মুসলিম নয় তারা কাফির। তাই যারা রসূলুল্লাহ্ এর কটাক্ষ করার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বিশ্বাস করে না, তারা রসূলুল্লাহ্ এর বিরুদ্ধাচরণ করার কারণে কাফির হয়ে গেছে।

📘 রাসূলুল্লাহ সা কে যেভাবে ভালোবাসতে হবে এবং তাকে কটাক্ষ করার বিধান > 📄 সরাসরি রসূলুল্লাহ্ (সা) কে কটাক্ষ করেনি কিন্তু কটাক্ষকারীদের সম্পর্কে বলে থাকে তাদের মত প্রকাশের স্বাধীনতা রয়েছে এ সম্পর্কিত বিধান

📄 সরাসরি রসূলুল্লাহ্ (সা) কে কটাক্ষ করেনি কিন্তু কটাক্ষকারীদের সম্পর্কে বলে থাকে তাদের মত প্রকাশের স্বাধীনতা রয়েছে এ সম্পর্কিত বিধান


সরাসরি রসূলুল্লাহ্ কে কটাক্ষ করেনি কিন্তু
কটাক্ষকারীদের সম্পর্কে বলে থাকে
তাদের মত প্রকাশের স্বাধীনতা রয়েছে
এ সম্পর্কিত বিধান
এই বিষয়টি মূলত রসূলুল্লাহকে কটাক্ষ করার সাথে সমর্থন বুঝায়, যারা পরোক্ষভাবে রসূলুল্লাহকে কটাক্ষ করার ব্যাপারে সমর্থন করে তারাও মূলত রসূলুল্লাহ কে কটাক্ষ করেছে বলে বুঝে নিতে হবে, কারণ মহান আল্লাহ বলেন,
... وَمَنْ يَشْفَعُ شَفَاعَةً سَيِّئَةً يَكُن لَّهُ كِفْلٌ مِّنْهَا ....
“...যে মন্দ কাজের জন্য সুপারিশ করবে, তার জন্য তাতে অংশ আছে...” -সূরা নিসা-৪/৮৫
এই আয়াত থেকে বুঝা যায়, যারা মন্দ কাজের সমর্থন করবে তারাও মূলতঃ ঐ মন্দ কাজের অংশীদার। তাই বুঝে নিতে হবে যে, যারা রসূলুল্লাহ কে কটাক্ষ করার ব্যাপারে মত প্রকাশের স্বাধীনতা রয়েছে বলে মন্তব্য করে, তারাও ঐ কটাক্ষ করার অপরাধের অংশীদার। এই কারণে এমন ব্যক্তিদেরকেও রসূলুল্লাহকে কটাক্ষ করার অপরাধে মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে।

📘 রাসূলুল্লাহ সা কে যেভাবে ভালোবাসতে হবে এবং তাকে কটাক্ষ করার বিধান > 📄 রসূলুল্লাহ্ (সা) কে কটাক্ষ করার কারণে হত্যা করতে যারা বাঁধা প্রদান করে এ সম্পর্কিত বিধান

📄 রসূলুল্লাহ্ (সা) কে কটাক্ষ করার কারণে হত্যা করতে যারা বাঁধা প্রদান করে এ সম্পর্কিত বিধান


এ বিষয়টি দুইভাগে বিভক্ত-

(ক) যারা রসূলুল্লাহ্ ﷺ কে কটাক্ষ করেছে তাদের পক্ষ নিয়ে প্রতিরোধকারী। এরা রসূলুল্লাহ্ ﷺ কে কটাক্ষ করার ব্যাপারে সমর্থন দিয়ে মূলতঃ ইসলামকেই কটুক্তি করেছে। এই শ্রেণির মানুষ সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন,
... وَطَعَنُوا فِي دِينِكُمْ فَقَتِلُوا أَئِمَّة الْكُفْرِه ..
“...আর যদি তারা তোমাদের দ্বীনের বিরুদ্ধে কটুক্তি করে তাহলে কাফির নেতাদের বিরুদ্ধে লড়াই কর...।" সূরা তাওবা- ৯/১২

(খ) যারা রসূলুল্লাহ্ ﷺ কে কটাক্ষ করেছে তাদের পক্ষ না নিয়ে বরং শান্তি বজায় রাখার দাবীতে প্রতিরোধকারী। এরাই মূলতঃ অশান্তি সৃষ্টিকারী, কারণ যারা রসূলুল্লাহ্ ﷺ কে কটাক্ষ করেছে, তারা সমস্ত মুসলিমদের মনে এমনভাবে আঘাত দিয়েছে যে, মুসলিমদের জীবনের সমস্ত শান্তি নষ্ট করে দিয়েছে। মুসলিম সমাজে শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্য অবশ্যই ঐ কটাক্ষকারীদের হত্যা করতে হবে। যারা মুসলিম সমাজের এই শান্তি ফিরিয়ে আনার কাজকে প্রতিরোধ করে বলবে যে, “আমরা শান্তি বজায় রাখতে চাই”, তারা মূলত মুনাফিক্ব, তারা মুমিন নয়। এই সম্পর্কে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর হতে বর্ণিত,
ان النبى عليه الله قال من حمل علينا السلاح فليس منا .
নবী ﷺ বলেছেন, “যে ব্যক্তি আমাদের (মুসলিমদের) বিরুদ্ধে অস্ত্রধারণ করবে সে আমার উম্মত নয়।”

ইবনে আব্বাস হতে বর্ণিত,
... من حال وبينه فعلية لعنة الله والملائكة والناس اجمعية لا يقبل الله منه صرفا ولا عدلا .
“রসূলুল্লাহ্ ﷺ বলেছেন, আর যে ব্যক্তি কিসাসে (আল্লাহ্'র নির্ধারিত শাস্তি কার্যকরে) বাঁধা দিবে তার উপর আল্লাহ্, মালাইকাঙ্গণ (ফেরেশতাগণ) এবং সকল মানুষের লানত (অভিসম্পাত)। তার ফরজ বা নফল কোনো ইবাদাতই কুবুল হবে না।”

যারা মুসলিমদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরে এদের সম্পর্কে মহান আল্লাহ্ বলেন,
وَقَاتِلُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ الَّذِينَ يُقْتِلُونَكُمُ
“তোমরা আল্লাহ্'র পথে যুদ্ধ করো সেই লোকদের বিরুদ্ধে যারা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ কর...।” -সূরা বাক্বারাহ্, ২/১৯০

টিকাঃ
মুসলিম, অধ্যায়: ১, কিতাবুল ঈমাণ, অনুচ্ছেদ : ৪২, নাবী ﷺ এর উক্তি যে আমাদের বিরুদ্ধে অস্ত্রধারণ করবে সে আমার উম্মত নয়, হাদিস # আ.হা.লা. ১৮১,১৮২,১৮৩, ই.ফা. ১৮২,১৮৩,১৮৪, ই.সে. ১৮৮,১৮৯,১৯০, অনুচ্ছেদ: ৪৩, নাবী ﷺ এর উক্তি যে ব্যক্তি আমাদের ধোঁকা দেয় সে আমার উম্মত নয়, হাদিস # আ.হা.লা. ১৮৪, ই.ফা. ১৮৫, ই.সে. ১৯১।
নাসাঈ, সহীহ্, অধ্যায়ঃ কুসামাহ্, অনুচ্ছেদ : প্রস্তর অথবা কোড়ার আঘাতে নিহত ব্যক্তি, হাদিস # আরবী মিশর ৪৭৮৯, ৪৭৯০, ই.ফা. ৪৭৮৯, ৪৭৯০, আবু দাউদ, হাসান লি-গইরিহী, অধ্যায়ঃ ৩৪, রক্তমূল্য, অনুচ্ছেদ: ১৭, কাওমের যে ব্যক্তিকে ভুলবশতঃ হত্যা করা হয়, আরবী রিয়াদ ৪৫৩৯, ৪৫৪০, হু.মা. ৪৫৩৯, ৪৫৪০ (হাদিসটি নাসাঈর বর্ণনা)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00