📄 কোনো মুসলিম রসূলুল্লাহ্ (সা) কে কটাক্ষ করার পরে তাওবাহ্ করলেও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে হবে
কোনো মুসলিম রসূলুল্লাহ্ কে কটাক্ষ করার পরে
তাওবাহ্ করলেও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে হবে
রসূলুল্লাহকে কটাক্ষ করলে তার শাস্তি যে মৃত্যুদণ্ড তা ইতিপূর্বে বর্ণনা করা
হয়েছে। কিন্তু বুঝের বিষয় হচ্ছে যে, যে ব্যক্তি রসূলুল্লাহ্ কে কটাক্ষ করেছে সে
যদি তাওবাহ্ করে তাহলে কি তাকে মৃত্যুদণ্ড না দিয়ে ছাড় দেয়া যাবে ? না, তাকে
ছাড় দেয়া যাবে না। তার তাওবাহটি তাকে জাহান্নাম থেকে হয়তো মুক্তি দিতে পারে
কিন্তু পৃথিবীতে তার জন্য আল্লাহ্'র নির্ধারিত যে শাস্তি রয়েছে তা অবশ্যই কার্যকর
করতে হবে। এ বিষয়টি বুঝতে নিম্নোক্ত হাদিসটি লক্ষ্য করুন। ইমাম ইবনু হুসাইন
সূত্রে বর্ণিত,
من جهينة اتت النبي عليه الله فقالت انها زنت وهى حبلى قدعا رسول الله عليهم
علي الله وليالها فقال له رسول الله صل الله أحسن اليها فاذا وضعت فجيء بها
فلما ان وضعت جاء بها فامر بها النبى عليها الله فشكت عليها ثيابها ثم امر بها
فــرجـمـت تـم امـرهـم فصلوا عليها فقال عمر يا رسول الله عليه الله تصلى عليها
وقد زنت ؟ فقال والذى بنفسي بيده لقد تابت توبت لو قسمت بين
سبعين من اهل المدينة لوسعتهم وهل وجدت افضل من ان جادت بنفسها .
“একদা জুহাইনাহ্ গোত্রের জনৈক মহিলা নাবী এর নিকট এসে বললেন সে
ব্যভিচার করেছে এবং গর্ভবতী হয়েছে। রসূলুল্লাহ্ তাঁর অভিভাবককে ডেকে
এনে বললেন এঁর সঙ্গে উত্তম আচরণ কর। আর যখন সে সন্তান প্রসব করবে তখন
তাঁকে আমার নিকট নিয়ে আসবে। অতপর, সে মহিলা সন্তান প্রসব করলে তার
অভিভাবক তাঁকে নিয়ে এলো। নাবী এর আদেশে তাঁকে কাপড় দিয়ে বেঁধে
পাথর নিক্ষেপে হত্যা করা হয়। অতপর, তিনি সাহাবীদের আদেশ দিলেন যে,
তাঁর জানাযার সলাত আদায় করতে। ওমার বললেন, হে আল্লাহ্'র রসূল
আপনি তাঁর জানাযার সলাত আদায় করবেন ? সেতো ব্যভিচারিনী, তিনি
বললেন, যাঁর হাতে আমার প্রাণ তাঁর কুসম সে মহিলা এমন তাওবাহ্ করেছে যে, যা
মাদিনাবাসী সত্তর জনের মাঝে বন্টন করে দিলেও তাদের জন্য তা যথেষ্ট হবে। তুমি
তাঁর চাইতে উত্তম কোন ব্যক্তিকে পাবে যে তার স্বত্ত্বাকে উৎসর্গ করে দিল?” -মুসলিম,
অধ্যায় : ৩০, কিতাবুল হুদূদ, অনুচ্ছেদ: ৫, যে ব্যক্তি নিজে ব্যভিচার স্বীকার করে, হাদিস # আ.হা.লা.
৪৩২৩, ৪৩২৪, আবু দাউদ, সহীহ, অধ্যায়: ৩৩, কিতাবুল হুদুদ, অনুচ্ছেদ: ২৫, নাবী জুহানাহ্ গোত্রের
যে মহিলাকে পাথর মারার আদেশ দিয়েছিলেন, হাদিস # আরবী রিয়াদ ৪৪৪০, ৪৪৪২, হু.মা. ৪৪৪০, ৪৪৪২,
ই.ফা. ৪৩৮৫, ৪৩৮৭, তিরমিযী, সহীহ্ লি-গইরিহী, অধ্যায়: ১৫, রসূলুল্লাহ্ থেকে হাদ্দ বা দণ্ডবিধি,
অনুচ্ছেদ : ৯, সন্তান জন্মগ্রহণ না করা পর্যন্ত গর্ভবতী নারীর শাস্তি বিলম্বিত হবে, হাদিস # আরবী রিয়াদ
১৪৩৫, হু.মা. ১৪৩৫, ই.ফা. ১৪৪১ (হাদিসটি আবু দাউদের বর্ণনা)।
এই হাদিসটি গভীরভাবে লক্ষ্য করুন। মহিলাটি এমনভাবে তাওবাহ্ করেছে, তার
তাওবাহ্ যদি মাদিনাবাসী সত্তর জনের মাঝে বন্টন করে দেয়া হতো তাহলে তা
তাদের জন্য যথেষ্ট হতো। কিন্তু তাঁর এই সুন্দর তাওবাহ্'র পরও রসূলুল্লাহ্
ব্যভিচার করার শাস্তিটি এতটুকুও ছাড় দেননি। বরং তাঁকে পাথর মেরে হত্যা
করিয়েছেন এবং তাঁর জন্য জানাযার সলাতও আদায় করতে আদেশ করেছেন। অর্থাৎ
বুঝা গেল যে, অপরাধটির জন্য তাওবাহ্ করলে তা জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাওয়া
যেতে পারে। কিন্তু পৃথিবীতে আল্লাহ্'র দেয়া নির্ধারিত এই শাস্তি থেকে মুক্তি দেয়া
যাবে না। যদি পৃথিবীর শাস্তি থেকে মুক্তি দেয়া হতো তাহলে মানুষ অপরাধটি করতো
আর তাওবাহ্ করে মাফ পেয়ে যেত। এতে করে পৃথিবীতে আরো বিশৃঙ্খলা হতো। এ
বিষয়টি বুঝতে আরো একটি যুক্তি দিচ্ছি, প্রত্যেক দেশেই তাদের নিজস্ব আইন
রয়েছে, এখন কেউ যদি কাউকে হত্যা করে তাহলে অবশ্যই ঐদেশের আইন অনুযায়ী
তার মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হবে। কিন্তু হত্যাকারী লোকটি যদি বলে যে,
“আমি যা করেছি তা ভুল করেছি, অতএব আমাকে ক্ষমা করুন” তাকে কি ঐ দেশের
আইন ক্ষমা করবে? নিশ্চয়ই না।
ঠিক তেমনিভাবে রসূলুল্লাহ্ কে কেউ যদি কটাক্ষ করে তাওবাহ্ করে তাহলে
তার তাওবাহ্'র জন্য হয়তো জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাবে। কিন্তু পৃথিবীতে তার জন্য
যে শাস্তি আল্লাহ্'র পক্ষ থেকে নির্ধারিত রয়েছে তা কার্যকর করতেই হবে। অর্থাৎ
তাকে মৃত্যুদণ্ড দিতেই হবে।
📄 কোনো অমুসলিম রসূলুল্লাহ্ (সা) কে কটাক্ষ করার পরে অনুতপ্ত হলে হবে না বরং ইসলাম গ্রহণ করলে তার জন্য নির্ধারিত শাস্তি মওকুফ হবে
রসূলুল্লাহ্ কে কটাক্ষ করলে তাকে অবশ্যই মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে। তবে যদি কটাক্ষকারী অমুসলিম হয় এবং সে কটাক্ষ করার পরে ইসলাম গ্রহণ করে তাহলে তাকে আর মৃত্যুদণ্ড দেয়া যাবে না। রসূলুল্লাহ্ কে কটাক্ষ করার কারণে আব্দুল্লাহ্ ইবনে খাতলের দুই গায়িকা দাসীকে নাবী হত্যা করতে বলেছিলেন। তবে একজন ইসলাম গ্রহণ করলে রসূলুল্লাহ্ তাকে ক্ষমা করেছিলেন। এ সম্পর্কে বর্ণনাটি লক্ষ করুন,
وامـا قـيـنـتـا ابن خطل فقتلت احداهما وحربت الاخرى حتى استؤمن
لها رسول الله عليه وسلم بعد فامنها واما سارة فاستؤمن لها فامنها
“আব্দুল্লাহ্ ইবনে খাতলের দাসীদ্বয়ের একজনকে হত্যা করা হয় আর অপরজন পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। পরবর্তীকালে ঐ দাসী ইসলাম গ্রহণ করলে রসূলুল্লাহ্ তাকে নিরাপত্তাদান করেন।” -সিরাত ইবনে হিশাম, আরবী মিশর, অধ্যায় : من أمر النبي له بقتلهم পৃষ্ঠা : ৬১৭, ই.ফা. ৪র্থ খণ্ড, প্রকাশকাল : জানুয়ারী, ২০০৮ইং অধ্যায়: রসূলুল্লাহ্ যাদের হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন, পৃষ্ঠা : ৬৭
এই ঘটনা থেকেই বুঝা যায় যে, শুধুমাত্র ইসলাম গ্রহণ করলেই ঐ অমুসলিম কটাক্ষকারীকে মাফ করা যাবে। শুধুমাত্র অনুতপ্ত হলে হবে না। কারণ, আবু সুফিয়ান রসূলুল্লাহ্ اللهকে কটাক্ষ করত কিন্তু পরে যখন অনুতপ্ত হয়েছিল তখনও তাকে ছাড় দেয়ার কথা আসেনি। বরং তিনি যখন ইসলাম গ্রহণ করেছেন কেবল তখনি তাকে ক্ষমা করা হয়েছিল। এ সম্পর্কে বর্ণনাটি লক্ষ্য করুন,
ويحك يا أبا سفيان ! الم يأن لك ان تعلم انى رسول الله ؟ قال بابی
انت وامی ما احلمك و اكرمك واوصلك اما هذه والله فان في
النفس منها حتى الان شيئا فقاله عباس ويحك ! اسلم واشهد ان لا اله الا
الله وان محمد رسول الله قبل ان تضرب عنقك .
“রসূলুল্লাহ্ বললেন, আবু সুফিয়ান এখনও কি তোমার বুঝে আসেনি যে, আমি আল্লাহ্'র পক্ষ থেকে সত্য রসূল ? জবাবে আবু সুফিয়ান বললেন, আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য কুরবান হোক! আপনি কতইনা ধৈর্য্যশীল, মহানুভব ও আত্মীয়বৎসল! আল্লাহ্'র কুসম (আপনি নাবী হওয়ার ব্যাপারে) অবশ্যই আমার মনে এখনো কিছু সন্দেহ রয়েছে। একথা শুনে আব্বাস বলে উঠলেন, ধ্যাৎ! তুমি এখনই ইসলাম গ্রহণ করো তোমার গর্দান উড়িয়ে দেয়ার আগেই এবং স্বাক্ষ্য দাও যে, “নাই কোনো ইলাহ্ আল্লাহ্ ছাড়া এবং মুহাম্মাদ আল্লাহ্'র রসূল।” তখন আবু সুফিয়ান ইসলাম গ্রহণ করেন।”-সিরাতে ইবনে হিশাম, আরবী মিশর, অধ্যায় : اسلام ابی سفیان بن الحارث وعبد الله بن أمبيه পৃষ্টা # ৬১২, ই.ফা. প্রকাশকাল: জানু, ২০০৮ইং, অধ্যায়: রসূলুল্লাহ্ কে আবু সুফিয়ান কর্তৃক আশ্রয়দান ও তাঁর ইসলাম গ্রহণ, পৃষ্ঠা # ৫৮।
এই ঘটনাটি লক্ষ্য করুন, আবু সুফিয়ান অনুতপ্ত হয়ে রসূলুল্লাহ্-এর প্রসংশা করছিলেন কিন্তু ইসলাম গ্রহণ করছিলেন না। তখন আব্বাস বলেছিলেন তোমাকে হত্যা করার আগে ইসলাম গ্রহণ করো। এতে বুঝা গেল যে, রসূলুল্লাহ্ কে কটাক্ষকারী শুধুমাত্র অনুতপ্ত হলে তাকে ক্ষমা করা হবে না। তাকে হত্যা করতেই হবে। তবে সে যদি ইসলাম গ্রহণ করে তাহলে তাকে ক্ষমা করা হবে।
📄 রসূলুল্লাহ্ (সা) কে কটাক্ষ করার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড এই আইনকে বিশ্বাস না করার বিধান
রসূলুল্লাহ্ কে কটাক্ষ করার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড
এই আইনকে বিশ্বাস না করার বিধান
এই ব্যাপারটি ওয়াহীকে অস্বীকার করার নামান্তর। কারণ, রসূলুল্লাহ্ স্বয়ং নিজেই তাঁকে কটাক্ষ করার কারণে কা'ব বিন আশরাফকে হত্যা করিয়েছিলেন। সেখানে আমরা কোন দিক থেকে এই বিধানকে অস্বীকার করবো ? যারা রসূলুল্লাহ্ এর মাধ্যমে আসা বিধানকে বিশ্বাস করে না তাদের সম্পর্কে মহান আল্লাহ্ বলেন,
وَمَنْ يَعْصِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَيَتَعَدَّ حُدُودَهُ يُدْخِلْهُ نَارًا خَلِدًا فِيهَا ص وَلَهُ عَذَابٌ مُّهِينٌ.
“আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তার রসূল এর বিরুদ্ধাচরণ করবে এবং তাঁর নির্ধারিত সীমালংঘন করবে, আল্লাহ্ তাকে জাহান্নামে দাখিল করবেন এবং সেখানে চিরকাল থাকবে আর সেখানে অবমাননাকর শাস্তি ভোগ করবে। -সূরা নিসা-৪/১৪
এই আয়াত থেকে বুঝা যায় যে, যারা রসূলুল্লাহ্ এর বিরুদ্ধাচরণ করবে তারা জাহান্নামে চিরকাল থাকবে। জাহান্নামে চিরকাল কোন মুসলিম থাকে না বরং কাফিররাই থাকে। এতে বুঝা যায়, রসূলুল্লাহ্ এর বিরুদ্ধাচরণকারীরা মুসলিম নয় তারা কাফির। তাই যারা রসূলুল্লাহ্ এর কটাক্ষ করার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বিশ্বাস করে না, তারা রসূলুল্লাহ্ এর বিরুদ্ধাচরণ করার কারণে কাফির হয়ে গেছে।
📄 সরাসরি রসূলুল্লাহ্ (সা) কে কটাক্ষ করেনি কিন্তু কটাক্ষকারীদের সম্পর্কে বলে থাকে তাদের মত প্রকাশের স্বাধীনতা রয়েছে এ সম্পর্কিত বিধান
সরাসরি রসূলুল্লাহ্ কে কটাক্ষ করেনি কিন্তু
কটাক্ষকারীদের সম্পর্কে বলে থাকে
তাদের মত প্রকাশের স্বাধীনতা রয়েছে
এ সম্পর্কিত বিধান
এই বিষয়টি মূলত রসূলুল্লাহকে কটাক্ষ করার সাথে সমর্থন বুঝায়, যারা পরোক্ষভাবে রসূলুল্লাহকে কটাক্ষ করার ব্যাপারে সমর্থন করে তারাও মূলত রসূলুল্লাহ কে কটাক্ষ করেছে বলে বুঝে নিতে হবে, কারণ মহান আল্লাহ বলেন,
... وَمَنْ يَشْفَعُ شَفَاعَةً سَيِّئَةً يَكُن لَّهُ كِفْلٌ مِّنْهَا ....
“...যে মন্দ কাজের জন্য সুপারিশ করবে, তার জন্য তাতে অংশ আছে...” -সূরা নিসা-৪/৮৫
এই আয়াত থেকে বুঝা যায়, যারা মন্দ কাজের সমর্থন করবে তারাও মূলতঃ ঐ মন্দ কাজের অংশীদার। তাই বুঝে নিতে হবে যে, যারা রসূলুল্লাহ কে কটাক্ষ করার ব্যাপারে মত প্রকাশের স্বাধীনতা রয়েছে বলে মন্তব্য করে, তারাও ঐ কটাক্ষ করার অপরাধের অংশীদার। এই কারণে এমন ব্যক্তিদেরকেও রসূলুল্লাহকে কটাক্ষ করার অপরাধে মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে।