📄 রসূলুল্লাহ্ (সা) কে কটাক্ষকারী কাফির
রসূলুল্লাহ্ কে কটাক্ষকারী কাফির
মহান আল্লাহ্ বলেন,
... قل أبا اللهِ وَايْتِه وَرَسُولِهِ كُنتُمْ تَسْتَهْزِئُونَ . لَا تَعْتَذِرُوا قَدْ كَفَرْتُمْ بَعْدَ إِيْمَانِكُمْ ...
“তাদের জিজ্ঞেস করলে তারা জোর দিয়েই বলবে আমরা হাসি-ঠাট্টা ও খেল-তামাশা
করছিলাম। বল, আল্লাহ্, তাঁর আয়াত ও তাঁর রসূলকে নিয়ে বিদ্রূপ করছিলে ? ওজর
দেখানোর চেষ্টা করোনা। ঈমান আনার পর তোমরা কাফির হয়ে গেছো...।” -সূরা
তাওবাহ্, ৯/৬৫-৬৬
এই আয়াত থেকে বুঝা যায়, যারা রসূলুল্লাহ্ কে কটাক্ষ করবে তারা কাফির হয়ে যাবে।
📄 রসূলুল্লাহ্ (সা) কে কটাক্ষ করলে তার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড
রসূলুল্লাহকে কটাক্ষ করলে
তার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড
জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ্ হতে বর্ণিত,
يقول قال رسول الله عليه والله من لكعب بن الاشرف فانه قد اذى الله
ورسوله الله الله فقال محمد بن مسلمة انا فاته فقال اردنا ان نسلفنا وسقا أو
وسقين فقال ارهنونی نسائكم قالوا كيف نرهنگ نساء نا وانت اجمل
العرب قال فارهنونی ابنائكم قالوا كيف نرهن ابنائنا فيسب أحدهم فيقال
رهن بوسق أو وسقين هذا عار علينا ولكنا نرهنك اللامة قال سفين
یعنی السلاح فوعده ان يأتيه فقتلوه ثم اتوا النبي علي عليهم الله السلم فأخبروه فأح .
“তিনি বলেন রসূলুল্লাহ্ বললেন, কা'ব ইবনু আশরাফকে হত্যা করার দায়িত্ব কে
নিতে পারবে। সেতো আল্লাহ্ ও তাঁর রসূলকে কষ্ট দিয়েছে (অশ্লীল বাক্যের মাধ্যমে)
মুহাম্মাদ বিন মাসলামাহ্ তখন বললেন আমি পারবো। পরে তিনি তার কাছে
(কা'ব বিন আশরাফের কাছে) গিয়ে বললেন, আমরা তোমার কাছে এক ওয়াসাক
অথবা বলেছেন দু'ওয়াসাক খাদ্য ধার চাচ্ছি। সে বললো, তোমাদের মহিলাদেরকে
আমার কাছে বন্ধক রাখ। তিনি বললেন, তুমি হলে আরবের সেরা সুন্দর ব্যক্তি
তোমার কাছে মহিলাদেরকে কিভাবে বন্ধক রাখতে পারি? সে বললো তাহলে
তোমাদের সন্তানদেরকে আমার কাছে বন্ধক রাখ। তিনি বললেন, কিভাবে
সন্তানদেরকে তোমার কাছে বন্ধক রাখি, পরে এই বলে লোকজন তাদের নিন্দা করবে
যে, দু/এক ওয়াসাকের জন্য তারা বন্ধক ছিল। এটা আমাদের জন্য হবে বিরাট
কলঙ্ক। তার চেয়ে বরং তোমার কাছে আমাদের অস্ত্র বন্ধক রাখতে পারি। তারপর
তিনি তাকে পরে আসার প্রতিশ্রুতি দিলেন এবং পরে এসে তাঁরা তাকে (কা'ব বিন
আশরাফকে) হত্যা করলেন এবং নাবী এর কাছে এসে সে সম্পর্কে তাঁকে
অবহিত করলেন।” -বুখারী, অধ্যায়ঃ ৬৪, কিতাবুল মাগাযী, অনুচ্ছেদ : ১৫, কা'ব ইবনু আশরাফের হত্যা, হাদিস #
আরবী মিশর ৪০৩৭, তা.পা. ৪০৩৭, ই.ফা. ৩৭৩৯, আ.প্র. ৩৭৩৫, অধ্যায়: ৪৮, বন্ধক, অনুচ্ছেদঃ ৩,
অস্ত্র বন্ধক রাখা, হাদিস # আরবী মিশর ২৫১০, তা.পা. ২৫১০, ই.ফা. ২৩৪৫, আ.প্র. ২৩২৮, অধ্যায় : ৫৬,
জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার, অনুচ্ছেদ: ১৫৮, যুদ্ধে মিথ্যা বলা, হাদিস # আরবী মিশর ৩০৩১, তা.পা.
৩০৩১, ই.ফা. ২৮১৬, আ.প্র. ২৮০৬, মুসলিম, অধ্যায়ঃ ৩৩, জিহাদ ও সফর, অনুচ্ছেদঃ ৪২, ইহুদি নেতা কা'ব
ইবনু আশরাফের হত্যা, হাদিস # আ.হা.লা. ৪৫৫৬, ই.ফা. ৪৫১৩, ই.সে. ৪৫১৫ (হাদিসটি বুখারীর বর্ণনা)।
বারাআ হতে বর্ণিত,
قال بعث رسول الله الله الى رافع اليهودية رجالا من الانصارى فامر
عليهم عبد الله بن عتيك وكان اب رافع يؤذى رسول الله الله
ويعين عليه
“তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ আব্দুল্লাহ্ ইবনু আতিকুকে আমীর (নেতা) বানিয়ে তার
নেতৃত্বে আনসারদের কয়েকজন সাহাবীকে ইয়াহুদি আবু রাফিকে হত্যা করার
উদ্দেশ্যে প্রেরণ করেন, আবু রাফি রসূলুল্লাহ্ কে কষ্ট দিত এবং এ ব্যাপারে
লোকদের সাহায্য করতো ...।” -বুখারী, অধ্যায় : ৬৪, কিতাবুল মাগাযী, অনুচ্ছেদ : ১৬, আবু রাফি
আব্দুল্লাহ্ ইবনু আবুল হুক্কায়ক্বের হত্যা, হাদিস # আরবি মিশর ৪০৩৯, তা.পা. ৪০৩৯, ই.ফা. ৩৭৪১, আ.প্র.
৩৭৩৭।
وكـانـت لـه قـيـنـتـان : فـرتنى وصاحبتها, وكانتا تغنيان بهجاء رسول الله
عليهم الله فأمر رسول الله عليه الله بقتلهما .
“(আব্দুল্লাহ্ বিন খাতলের) দু'জন গায়িকা দাসী ছিল। একজন ছিলো ফারতনা এবং
অপরজন ছিলো তারই আরেক সঙ্গিনী। এরা দু'জনেই রসূলুল্লাহ্ কে নিয়ে
কুৎসামূলক গান গেয়ে বেড়াত। তিনি এই দু'জন দাসীকেও হত্যার নির্দেশ
দিয়েছিলেন।” -সিরাত ইবনে হীশাম, আরবী মিশর, অধ্যায় : من أمر النبي عالم بقتلهم পৃষ্ঠা : ৬১৬,
ই.ফা. ৪র্থ খণ্ড, প্রকাশকাল : জানুয়ারী, ২০০৮ইং অধ্যায়: রসূলুল্লাহ্ যাদের হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন, পৃষ্ঠা : ৬৫।
আবু বারযা হতে বর্ণিত,
قال أغلظ رجل يا أبى بكر الصديق فقلت اقتله فانتهرنى وقال ليس هذا لي
لحد بعد رسول الله عليه وسلم .
“তিনি বলেন একব্যক্তি আবু বাকার কে মন্দ বললে আমি বললাম, আমি তাকে
হত্যা করবো? এতে তিনি আমাকে ধমক দিয়ে বললেন রসূলুল্লাহ এর পর এটা
কারও জন্য বৈধ নয়।”-নাসাঈ, সহীহ্, অধ্যায়ঃ ৩৭, হত্যা অবৈধ হওয়া, অনুচ্ছেদ : ১৬, রসূলুল্লাহ
কে মন্দ বলা, হাদিস # আরবী মিশর ৪০৭১, ই.ফা. ৪০৭২, অনুচ্ছেদ : ১৭, এই হাদিস সম্পর্কে আ'মাশ
থেকে বর্ণনাকারীদের মধ্যে শাব্দিক পার্থক্য, হাদিস # আরবী মিশর ৪০৭২, ৪০৭৩, ৪০৭৪, ৪০৭৫, ৪০৭৬,
৪০৭৭, ই.ফা. ৪০৭৩, ৪০৭৪, ৪০৭৫,৪০৭৬, ৪০৭৭, ৪০৭৮, আবু দাউদ, সহীহ্, অধ্যায়: ৩৩, কিতাবুল
হুদুদ, অনুচ্ছেদ: ২, যে নাবী কে গালী দেয় তার বিধান, হাদিস # আরবী রিয়াদ, ৪৩৬৩, হু.মা. ৪৩৬৩,
ই.ফা. ৪৩১২ (হাদিসটি নাসাঈর বর্ণনা)।
এই হাদিসগুলো থেকে স্পষ্টভাবে বুঝা যায় যে, রসূলুল্লাহ্ কে কটাক্ষ করলে তাকে মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে।
📄 রসূলুল্লাহ্ (সা) কে কটাক্ষ করলে তাকে হত্যা করতে হবে আর এ বিষয়ে বিচারকের রায়ের অপেক্ষার প্রয়োজন নেই
রসূলুল্লাহ্ কে কটাক্ষ করলে তাকে হত্যা করতে হবে
আর এ বিষয়ে বিচারকের রায়ের
অপেক্ষার প্রয়োজন নেই
ইবনে আবাস বলেন,
أن اعمى كان على عهد رسول الله له الله وكانت له ام ولد وكان له
منها ابنان وكانت تكثر الوقيعة يعة : الرسول الله عليه عليه والله والسلم وتسبه فيزجرها فلا تنزجر
وينهاها فلا تنتهى فلما كان ذات ليلة ذكرت النبى عبد الله فوقعت فيه فلم
اصبغ ان قمت الى المغول فوضعته في بطنها فاتكأت عليه فقتلتها الى
فأصبحت قتلا فذكر ذالك للنبى عبد الله فجمع الناس وقال انشد الله رجل
لى عليه حق فعل ما فعل الا قام فأقبل الأعمى يتدلده فقال يا رسول الله
عليهم والله انا صاحبها كانت أم ولدى وكانت بي لطيفة رفيقة ولى منها ابنان
مثل اللؤلؤتين ولكنها كانت تكثر الوقيعة فيك وتشتمك فانهاها فلا تنتهى
وأزجرها فلا تنزجر فلما كانت البارحة ذكرتك فوقعت فیک فقمت الی
المغول فوضعته في بطنها فاتكأت عليها حتى قتلتها فقال رسول الله عليه والله
على اشهدوا ان دمها حدر.
“রসূলুল্লাহ এর সময় একজন অন্ধ লোক ছিল, তার একজন দাসী ছিল। যার
গর্ভে তার দুই ছেলে জন্মেছিল। সেই দাসী সর্বদাই রসূলুল্লাহ এর কথা উল্লেখ
করে তাকে মন্দ বলত, অন্ধ ব্যক্তিটি তাকে এই জন্য ধমক দিত। কিন্তু সে তাতে
কিছুই মনে করত না। তাকে নিষেধ করা হত তবুও সে বিরত হত না। অন্ধ লোকটি
বললেন এক রাত্রে আমি রসূলুল্লাহ এর কথা উল্লেখ করলে সে তাঁর নিন্দা
করতে শুরু করল। আমার তা সহ্য না হওয়ায়, আমি একটি হাতিয়ার নিয়ে তার পেটে
ঢুকিয়ে দিলাম। তাতে সে মারা গেল। ভোরে লোকজন তাকে মৃত অবস্থায় দেখে
ব্যাপারটি রসূলুল্লাহকে জানালেন। তিনি সকল লোককে একত্র করে
বললেন আমি আল্লাহর কসম দিয়ে ঐ ব্যক্তিকে বলছি, যে এমন কাজ করেছে সে
হাজির হও। এ কথা শুনে ঐ অন্ধ ব্যক্তিটি ভয়ে উঠে এসে হাজির হলেন এবং বললেন
হে আল্লাহর রসূল আমি এই কাজ করেছি। সে আমার দাসী ছিল। আমার
স্নেহময়ী সঙ্গীণী ছিল। তাঁর গর্ভের আমার দু'টি ছেলে রয়েছে, যারা দেখতে মুক্তার
মত। কিন্তু সে প্রায় আপনাকে মন্দ বলত, গালী দিত। আমি নিষেধ করলেও সে
থামত না, ধমক দিলেও সে থামত না। অবশেষে গত রাতে আমি আপনার কথা
উল্লেখ করলে সে আপনাকে মন্দ বলতে আরম্ভ করল। তখন আমি একটি অস্ত্র উঠিয়ে
তার পেটে ঢুকিয়ে দেই। তাতেই সে মারা যায়। রসূলুল্লাহ বললেন তোমরা
সাক্ষী থাক, ঐ দাসীর রক্তের কোন বিনিময় নেই।” -নাসাঈ, সহীহ্, অধ্যায়ঃ ৩৭, হত্যা অবৈধ
হওয়া, অনুচ্ছেদ : ১৬, রসূলুল্লাহ কে মন্দ বলা, হাদিস # আরবী মিশর ৪০৭০, ই.ফা. ৪০৭১, আবু
দাউদ, সহীহ্, অধ্যায়: ৩৩, কিতাবুল হুদুদ, অনুচ্ছেদ: ২, যে নাবী কে গালী দেয় তার বিধান, হাদিস #
আরবী রিয়াদ ৪৩৬১, ৪৩৬৩, হু.মা. ৪৩৬১, ৪৩৬৩, ই.ফা. ৪৩১০ (হাদিসটি নাসাঈর বর্ণনা)।
এই হাদিসটি থেকে বুঝা যায়, ঐ অন্ধ সাহাবী তার দাসীকে রসূলুল্লাহ্ কে কটাক্ষ
করার কারণে নাবী এর অনুমতি ছাড়াই হত্যা করেছিলেন। অথচ রসূলুল্লাহ্
মাদীনার বিচারক ছিলেন। এতে বুঝা যায়, রসূলুল্লাহ্ কে কটাক্ষ করলে
বিচারকের রায়ের অনুমতি ছাড়াই ঐ কটাক্ষকারীকে হত্যা করা যাবে।
📄 কোনো মুসলিম রসূলুল্লাহ্ (সা) কে কটাক্ষ করার পরে তাওবাহ্ করলেও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে হবে
কোনো মুসলিম রসূলুল্লাহ্ কে কটাক্ষ করার পরে
তাওবাহ্ করলেও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে হবে
রসূলুল্লাহকে কটাক্ষ করলে তার শাস্তি যে মৃত্যুদণ্ড তা ইতিপূর্বে বর্ণনা করা
হয়েছে। কিন্তু বুঝের বিষয় হচ্ছে যে, যে ব্যক্তি রসূলুল্লাহ্ কে কটাক্ষ করেছে সে
যদি তাওবাহ্ করে তাহলে কি তাকে মৃত্যুদণ্ড না দিয়ে ছাড় দেয়া যাবে ? না, তাকে
ছাড় দেয়া যাবে না। তার তাওবাহটি তাকে জাহান্নাম থেকে হয়তো মুক্তি দিতে পারে
কিন্তু পৃথিবীতে তার জন্য আল্লাহ্'র নির্ধারিত যে শাস্তি রয়েছে তা অবশ্যই কার্যকর
করতে হবে। এ বিষয়টি বুঝতে নিম্নোক্ত হাদিসটি লক্ষ্য করুন। ইমাম ইবনু হুসাইন
সূত্রে বর্ণিত,
من جهينة اتت النبي عليه الله فقالت انها زنت وهى حبلى قدعا رسول الله عليهم
علي الله وليالها فقال له رسول الله صل الله أحسن اليها فاذا وضعت فجيء بها
فلما ان وضعت جاء بها فامر بها النبى عليها الله فشكت عليها ثيابها ثم امر بها
فــرجـمـت تـم امـرهـم فصلوا عليها فقال عمر يا رسول الله عليه الله تصلى عليها
وقد زنت ؟ فقال والذى بنفسي بيده لقد تابت توبت لو قسمت بين
سبعين من اهل المدينة لوسعتهم وهل وجدت افضل من ان جادت بنفسها .
“একদা জুহাইনাহ্ গোত্রের জনৈক মহিলা নাবী এর নিকট এসে বললেন সে
ব্যভিচার করেছে এবং গর্ভবতী হয়েছে। রসূলুল্লাহ্ তাঁর অভিভাবককে ডেকে
এনে বললেন এঁর সঙ্গে উত্তম আচরণ কর। আর যখন সে সন্তান প্রসব করবে তখন
তাঁকে আমার নিকট নিয়ে আসবে। অতপর, সে মহিলা সন্তান প্রসব করলে তার
অভিভাবক তাঁকে নিয়ে এলো। নাবী এর আদেশে তাঁকে কাপড় দিয়ে বেঁধে
পাথর নিক্ষেপে হত্যা করা হয়। অতপর, তিনি সাহাবীদের আদেশ দিলেন যে,
তাঁর জানাযার সলাত আদায় করতে। ওমার বললেন, হে আল্লাহ্'র রসূল
আপনি তাঁর জানাযার সলাত আদায় করবেন ? সেতো ব্যভিচারিনী, তিনি
বললেন, যাঁর হাতে আমার প্রাণ তাঁর কুসম সে মহিলা এমন তাওবাহ্ করেছে যে, যা
মাদিনাবাসী সত্তর জনের মাঝে বন্টন করে দিলেও তাদের জন্য তা যথেষ্ট হবে। তুমি
তাঁর চাইতে উত্তম কোন ব্যক্তিকে পাবে যে তার স্বত্ত্বাকে উৎসর্গ করে দিল?” -মুসলিম,
অধ্যায় : ৩০, কিতাবুল হুদূদ, অনুচ্ছেদ: ৫, যে ব্যক্তি নিজে ব্যভিচার স্বীকার করে, হাদিস # আ.হা.লা.
৪৩২৩, ৪৩২৪, আবু দাউদ, সহীহ, অধ্যায়: ৩৩, কিতাবুল হুদুদ, অনুচ্ছেদ: ২৫, নাবী জুহানাহ্ গোত্রের
যে মহিলাকে পাথর মারার আদেশ দিয়েছিলেন, হাদিস # আরবী রিয়াদ ৪৪৪০, ৪৪৪২, হু.মা. ৪৪৪০, ৪৪৪২,
ই.ফা. ৪৩৮৫, ৪৩৮৭, তিরমিযী, সহীহ্ লি-গইরিহী, অধ্যায়: ১৫, রসূলুল্লাহ্ থেকে হাদ্দ বা দণ্ডবিধি,
অনুচ্ছেদ : ৯, সন্তান জন্মগ্রহণ না করা পর্যন্ত গর্ভবতী নারীর শাস্তি বিলম্বিত হবে, হাদিস # আরবী রিয়াদ
১৪৩৫, হু.মা. ১৪৩৫, ই.ফা. ১৪৪১ (হাদিসটি আবু দাউদের বর্ণনা)।
এই হাদিসটি গভীরভাবে লক্ষ্য করুন। মহিলাটি এমনভাবে তাওবাহ্ করেছে, তার
তাওবাহ্ যদি মাদিনাবাসী সত্তর জনের মাঝে বন্টন করে দেয়া হতো তাহলে তা
তাদের জন্য যথেষ্ট হতো। কিন্তু তাঁর এই সুন্দর তাওবাহ্'র পরও রসূলুল্লাহ্
ব্যভিচার করার শাস্তিটি এতটুকুও ছাড় দেননি। বরং তাঁকে পাথর মেরে হত্যা
করিয়েছেন এবং তাঁর জন্য জানাযার সলাতও আদায় করতে আদেশ করেছেন। অর্থাৎ
বুঝা গেল যে, অপরাধটির জন্য তাওবাহ্ করলে তা জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাওয়া
যেতে পারে। কিন্তু পৃথিবীতে আল্লাহ্'র দেয়া নির্ধারিত এই শাস্তি থেকে মুক্তি দেয়া
যাবে না। যদি পৃথিবীর শাস্তি থেকে মুক্তি দেয়া হতো তাহলে মানুষ অপরাধটি করতো
আর তাওবাহ্ করে মাফ পেয়ে যেত। এতে করে পৃথিবীতে আরো বিশৃঙ্খলা হতো। এ
বিষয়টি বুঝতে আরো একটি যুক্তি দিচ্ছি, প্রত্যেক দেশেই তাদের নিজস্ব আইন
রয়েছে, এখন কেউ যদি কাউকে হত্যা করে তাহলে অবশ্যই ঐদেশের আইন অনুযায়ী
তার মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হবে। কিন্তু হত্যাকারী লোকটি যদি বলে যে,
“আমি যা করেছি তা ভুল করেছি, অতএব আমাকে ক্ষমা করুন” তাকে কি ঐ দেশের
আইন ক্ষমা করবে? নিশ্চয়ই না।
ঠিক তেমনিভাবে রসূলুল্লাহ্ কে কেউ যদি কটাক্ষ করে তাওবাহ্ করে তাহলে
তার তাওবাহ্'র জন্য হয়তো জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাবে। কিন্তু পৃথিবীতে তার জন্য
যে শাস্তি আল্লাহ্'র পক্ষ থেকে নির্ধারিত রয়েছে তা কার্যকর করতেই হবে। অর্থাৎ
তাকে মৃত্যুদণ্ড দিতেই হবে।