📄 ভূমিকা
بِسمِ اللهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ
সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহর জন্য আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য
চাই ও ক্ষমা প্রার্থনা করি। তাঁরই প্রতি আমরা ঈমান তথা বিশ্বাস রাখি এবং ভরসা
করি। আমাদের অন্তরের যাবতীয় অকল্যাণ, খারাপ ও গর্হিত কর্ম হতে আল্লাহর নিকট
আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দেন ও সৎ পথে পরিচালিত করেন তাকে কেউ
পথভ্রষ্ট ও বিভ্রান্ত করতে পারে না এবং তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে কেউ
হেদায়েত দিতে পারে না।
আমি এ সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ্ ছাড়া সত্য কোন মা'বুদ নেই, তিনি এক ও অদ্বিতীয়
তাঁর কোন অংশীদার নেই। আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ আল্লাহ্
বান্দা এবং
রসূল। অতঃপর সলাত ও সালাম বর্ষিত হোক মুহাম্মাদ এর প্রতি। পবিত্র কুরআন
এবং সুন্নাহ অনুসরণই আমাদের মুক্তির একমাত্র পথ। তাই, আমাদেরকে কুরআন এবং
সুন্নাহ যথাযথ নিয়মে পালন করতে হবে এবং এর বহির্ভূত সকল বিষয় বর্জন করতে
হবে।
কথা হচ্ছে, আজ পৃথিবীতে একটি বিষয় ভয়ংকর রূপ ধারণ করেছে, আর তা হচ্ছে
আমাদের বিশ্বনাবী মুহাম্মাদ কে নিয়ে কটাক্ষ করা। এই ঘৃণ্য কাজ সম্পর্কে
কুরআন এবং সুন্নাহ্ কি বলে তা যথাসাধ্য উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছি। এই বইটি
লিখতে গিয়ে মোটেই আমি আবেগ-তাড়িত হইনি। বরং সম্পূর্ণ সুস্থ মস্তিষ্কে এবং
সচেতনভাবে কুরআন এবং সুন্নাহ্'র দালিলগুলো উপস্থাপন করেছি। তথাপিও মানুষ
ভূলের উর্ধে নয়, যদি কোন ভাইয়ের নিকট এই ব্যাখ্যাগুলো ভূল মনে হয়, তা'হলে
অনুগ্রহ করে আমাকে কুরআন এবং সুন্নাহ্'র আলোকে শুধরিয়ে দিবেন। আল্লাহ
আমাদের সহায় হউন।
📄 রসূলুল্লাহ্ (সা) কে 'সকল মানুষ' থেকে বেশী ভালবাসা ঈমানের শর্ত
রসূলুল্লাহকে 'সকল মানুষ' থেকে
বেশী ভালবাসা ঈমানের শর্ত
আনাস হতে বর্ণিত,
قال رسول الله عليه والله لا يؤمن احدكم حتى أكون احب اليه من ولده
ووالده والناس أجمعين
“নাবী বলেছেন, তোমাদের কেউ মু'মিন হতে পারবে না যতক্ষণ পর্যন্ত না আমি
তার নিকট তার সন্তান-সন্তুতি, পিতামাতা এবং সকল মানুষ হতে অধিক প্রিয় হই।”
-বুখারী, অধ্যায়: ২, কিতাবুল ঈমান, অনুচ্ছেদ: ৮, রসূলুল্লাহকে ভালবাসা ঈমানের অন্তর্ভূক্ত, হাদিস #
আরবী মিশর ১৪,১৫, তা. পা. ১৪,১৫, ই.ফা.বা. ১৩,১৪, আ.প্র. ১৩,১৪, মুসলিম, অধ্যায় ১, কিতাবুল
ঈমান, অনুচ্ছেদ: ১৬, রসূলুল্লাহ কে স্ত্রী, পুত্র, পরিজন ও পিতামাতা তথা সকলের চাইতে অধিক ভালবাসা
ওয়াজিব এবং যে ব্যক্তি এরূপ ভালবাসবে না তার ঈমান নেই বলা হয়েছে, হাদিস # আ.হা.লা. ৭৩, ই.ফা.
৭৫, ই.সে. ৭৭, নাসাঈ, সহীহ্, অধ্যায়ঃ ৪৭, কিতাবুল ঈমান এবং এর বিধানসমূহ, অনুচ্ছেদ : ১৯, ঈমানের
আলামত, হাদিস # আরবী মিশর, ৫০১৩, ৫০১৫ ই.ফা. ৫০১২,৫০১৪, (হাদিসটি নাসাঈর বর্ণনা)।
📄 রসূলুল্লাহ্ (সা) কে 'ধন-সম্পদ' থেকেও বেশী ভালবাসা ঈমানের শর্ত
রসূলুল্লাহ্ কে 'ধন-সম্পদ' থেকেও
বেশী ভালবাসা ঈমানের শর্ত
আনাস হতে বর্ণিত,
قال رسول الله صلي الله لا يؤمن عبد وفي حديث عبد الوارث الرجل حتى
أكون اليه من اهله وماله والناس أجمعين
“রসূলুল্লাহ্ বলেছেন, কোনো বান্দা ততক্ষণ পর্যন্ত মু'মিন হতে পারবে না যতক্ষণ
পর্যন্ত না আমি তার নিকট তার পরিবার-পরিজন, ধন-সম্পদ ও অন্যান্য লোকদের
চাইতেও অধিক প্রিয় হব।” -মুসলিম, অধ্যায়: ১, কিতাবুল ঈমান, অনুচ্ছেদ: ১৬, রসূলুল্লাহ্ কে
স্ত্রী, পুত্র, পরিজন ও পিতা-মাতা তথা সকলের চাইতে অধিক ভালবাসা ওয়াজিব এবং যে ব্যক্তি এরূপ
ভালবাসবে না তার ঈমান নেই বলা হয়েছে, হাদিস # আ.হা.লা. ৭২, ই.ফা. ৭৪, ই.সে. ৭৬।
📄 রসূলুল্লাহ্ (সা) কে ‘নিজের জীবন' থেকেও বেশী ভালবাসা ঈমানের শর্ত
রসূলুল্লাহ্ কে 'নিজের জীবন' থেকেও বেশী
ভালবাসা ঈমানের শর্ত
আব্দুল্লাহ্ ইবনে হিশাম হতে বর্ণিত,
قال كنا مع النبي عليه الله وهو أخذ بيد عمر بن الخطاب فقال له عمر يا رسول الله عليه والله لانت احب الى من كل شئ الا من نفسى فقال النبي عليه الله لا
والذي نفسي بيده حتى أكون أحب اليك من نفسك فقال له عمر
فانه الانا والله لانت احب الى من نفسى فقال النبي علي الله الانا يا عمر
“তিনি বলেন আমরা একবার নাবী এর সঙ্গে ছিলাম। তিনি তখন ওমার ইবনে
খাত্তাব এর হাত ধরেছিলেন। ওমার তাঁকে বললেন, হে
আল্লাহ্'র রসূল আমার জীবন ছাড়া আপনি আমার কাছে সবকিছু থেকে অধিক
প্রিয়। । তখন নাবী বললেন না, যাঁর হাতে আমার প্রাণ ঐ সত্তার কসম তোমার
কাছে আমি যেন তোমার প্রাণের চেয়েও অধিক প্রিয় হই। তখন ওমার তাঁকে
কে বললেন, আল্লাহ্'র কসম এখন আপনি আমার কাছে আমার প্রাণের চেয়েও
অধিক প্রিয়। নাবী বললেন, হে ওমার (এখন তুমি ঈমানদার হলে)।”
-বুখারী, অধ্যায় : ৮৩, শপথ ও মানত, অনুচ্ছেদ: ৩, নাবী এর শপথ কেমন ছিল, হাদিস # আরবী
মিশর, ৬৬৩২, তা.পা. ৬৬৩২, ই.ফা. ৬১৭৮, আ.প্র. ৬১৭০।