📘 রাসুলুল্লাহ সাঃ এর কান্না > 📄 হুনায়েনের গণিমাত বন্টনের সময় ক্রন্দন

📄 হুনায়েনের গণিমাত বন্টনের সময় ক্রন্দন


হুনায়েনের যুদ্ধে ১৩৯ মুসলমানরা প্রচুর গণিমাত লাভ করেন। হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রা) বলেন,
لما أعطى رسول الله صلى الله عليه وسلم، ما أعطى من تلك الغنائم في قريش وقبائل العرب ولم يعط الأنصار شيئاً وجدوا في أنفسهم حتى قال قائلهم: لقي رسول الله صلى الله عليه وسلم قومه فأخبر سعد بن عبادة رسول الله، صلى الله عليه وسلم، بذلك، فقال له: فأين أنت يا سعد ؟ قال: أنا من قومي. قال: فاجمع قومك لي، فجمعهم. فأتاهم رسول الله صلى الله عليه وسلم، فقال: ما حديث بلغني عنكم ؟ ألم أتكم ضلالاً فهداكم الله بي ؟ وفقراء فأغناكم الله بي ؟ وأعداء فألف الله بين قلوبكم بي ؟ قالوا : بلى والله يا رسول الله، والله ورسوله المن والفضل. فقال: ألا تجيبوني ؟ قالوا: بماذا نجيبك ؟ فقال: والله لو شئتم لقلتم فصدقتم أتيتنا مكذبا فصدقناك، ومخذولا فنصرناك، وطريدا فأويناك، وعائلا فواسيناك، أوجدتم يا معشر الأنصار في لعاعة من الدنيا تألفت بها قوماً ليسلموا ووكلتكم إلى إسلامكم، أفلا ترضون أن يذهب الناس بالشاة والبعير وترجعوا برسول الله إلى رحالكم ؟ والذي نفسي بيده لولا الهجرة لكنت أمرأ من الأنصار ، ولو سلك الناس شعباً وسلكت الأنصار شعباً لسلكت شعب الأنصار اللهم ارحم الأنصار وأبناء الأنصار وأبناء أبناء الأنصار. قال: فبكى القوم حتى أخضلوا لحاهم وقالوا: رضينا برسول الله قسماً وحظاً.
রাসূল ﷺ যখন নব দীক্ষিত মুসলমানদের বেশি পরিমাণ গণিমাত দান করলেন তখন আনসার সাহাবীরা পরস্পর বলাবলি করছিলো যে, “আল্লাহর শপথ! রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁর কওমের লোকদের পেট ভরে দিয়েছেন।” আনসারদের নেতা সাদ ইবনে উবাদাহ (রা) আনসারদের মনোভাব রাসূল ﷺ কে বললেন। রাসূল ﷺ তখন সাদ ইবনে উবাদাহকে উদ্দেশ্যে করে বললেন, فأين أنت يا سعد ؟ 'হে সাদ, তোমার মতামত কি?' তখন সাদ ইবনে উবাদাহ বলেন, أنا من قومي 'আমি আমার কওমের পক্ষে।' রাসূল ﷺ তখন সাদ ইবনে উবাদাহকে তাঁর কওমকে একত্রিত করতে বললেন এবং তাদের নিকট গিয়ে ভাষণ দিলেন। মহানবী ﷺ বললেন, হে আনসার সম্প্রদায়! তোমাদের সম্পর্কে আমি যেসব কথা শুনতে পেলাম তা কি সত্য? আমি কি তোমাদের পথভ্রষ্ট পাইনি? এরপর আল্লাহ আমার মাধ্যমে তোমাদেরকে সত্য পথ প্রদর্শন করেছেন। তোমরা কি গরীব ছিলে না? অতঃপর আল্লাহ তায়ালা তোমাদের স্বচ্ছলতা দান করেছেন। তোমরা কি একে অপরের শত্রু ছিলে না? অতঃপর আমার মাধ্যমে আল্লাহ তোমাদেরকে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ করেছেন। আনসারগণ তখন বললেন, হ্যাঁ, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ﷺ আমাদের প্রতি অশেষ অনুগ্রহ প্রদর্শন করেছেন। রাসূল ﷺ আনসারদের বললেন, তোমরা কি আমার প্রশ্নের স্পষ্ট জবাব দেবে না? তারা বললেন, সত্যিই আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ﷺ আমাদের প্রতি অশেষ অনুগ্রহ প্রদর্শন করেছেন।
রাসূল ﷺ বললেন, আল্লাহর শপথ! তোমরা ইচ্ছা করলে জবাব দিতে পারতে আর তা সঠিক হতো ও প্রমাণিতও হতো। যেমন তোমরা বলতে পারতে, আপনি এরূপ পরিস্থিতিতে এসেছিলেন যে, মানুষ আপনার কথা বিশ্বাস করছিলো না। কিন্তু আমরা আপনার কথা বিশ্বাস করেছি। আপনাকে জন্মভূমি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিলো, কিন্তু আমরা আপনাকে আশ্রয় দান করেছি। আপনি নিঃস্ব ছিলেন, আমরা আপনার প্রতি সমবেদনা জানিয়েছি। হে আনসার সম্পদায়! আমি নতুন মুসলমানদের আকৃষ্ট করার লক্ষ্যে এই ক্ষণস্থায়ী দুনিয়ার যে সম্পদ আমি তাদের দিয়েছি তাতে কি তোমরা মন খারাপ করেছ? বস্তুত আমি তোমাদের ঈমানের দৃঢ়তার ওপর পুরোপুরি আস্থা স্থাপন করেছি। হে আনসার সম্প্রদায়! তোমরা কি আনন্দিত ও সন্তুষ্ট নও যে, মানুষ তাদের সাথে উট, ছাগল, ভেড়া নিয়ে যাবে, আর তোমরা আল্লাহর রাসূলকে সাথে নিয়ে ফিরে যাবে। মহান সত্তার কসম যার হাতে আমার প্রাণ, তাঁর শপথ করে বলছি, যদি হিজরত না হতো, তাহলে আমিও আনসারদের একজন হতাম। সব লোক যদি এক পথে চলে আর আনসাররা যদি ভিন্ন পথে চলে তাহলে আমি আনসারদের পথে চলবো। হে আল্লাহ! আনসারদের প্রতি, আনসারদের সন্তানদের প্রতি এবং তাদের সন্তাদের সন্তান-সন্ততির প্রতি অনুগ্রহ প্রদর্শন কর। মহানবী ﷺ এর ভাষণে আনসাররা এরূপ প্রভাবিত হয়ে পড়েন যে, তারা কাঁদতে শুরু করেন। তারা বলতে আরম্ভ করেন, আমরা তাতেই সন্তুষ্ট যে, আল্লাহর রাসূল ﷺ আমাদের ভাগে এসেছেন।

টিকাঃ
১৩৯. হুনায়েনের যুদ্ধ: হুনায়েন ছিল যুল মাজাযের নিকটবর্তী একটি স্থানের নাম। মক্কা বিজয়ের পর হওয়াজিন ও সাকিফ গোত্র মুসলমানদের বিরুদ্ধে নতুনভাবে ষড়যন্ত্র শুরু করেছিল। এরই অংশ হিসেবে তারা রাসূল ﷺ এর মোকাবেলা করার জন্য হুনায়েনে তাঁবু খাটালেন। তাদের ষড়যন্ত্রের খবর জানতে পেরে রাসূল ﷺ ১২০০০ সৈন্য নিয়ে ৮ম হিজরীর ৬ শাওয়াল মাসে, মক্কা বিজয়েরর ১৯তম দিনে হুনায়েন অভিমুখে যাত্রা করেন। যুদ্ধের শুরুতে মুসলিম শিবিরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলেও শেষ পর্যন্ত রাসূল ﷺ এর নেতৃত্বে মুসলমানরা বিজয় অর্জন করেন। এ যুদ্ধ থেকে মুসলিম বাহিনী যে গনিমত লাভ করে এর পরিমাণ হলো: ২৪০০০ উট, ৪০০০০ ভেড়া, ৪০০০ আওকিয়া রৌপ্যমুদ্রা, ৬০০০ যুদ্ধ বন্দি। ইবন সাদ, আত-তবাকাতুল কুবরা, ২য় খণ্ড, পৃ. ১৫২।
১৪০. আল-কামিল ফিত তারিখ, ১ম খণ্ড, পৃ. ৩৩৯।

📘 রাসুলুল্লাহ সাঃ এর কান্না > 📄 কাফেরদের প্রস্তাবের পর কান্না

📄 কাফেরদের প্রস্তাবের পর কান্না


একবার কাফেরদের একটি প্রতিনিধিদল রাসূল ﷺ এর চাচা আবু তালিব এর সাথে সাক্ষাত করে দাবি জানায়:
হে আবু তালিব! আপনি আমাদের মধ্যে শুধু বয়োজ্যেষ্ঠই নন, মর্যাদার দিক থেকেও আপনি কুরাইশদের মধ্যে সবার উপরে। আমরা ইতোপূর্বেও বলেছি, আপনি আপনার ভাতিজাকে আমাদের শত্রুতা থেকে বিরত রাখুন। কিন্তু আপনি এখনো তাকে তার তৎপরতা থেকে বিরত রাখেননি। হে আমাদের কওমের নেতা! এখন আর আমরা সংযত থাকতে পারছি না। আপনার ভাতিজা আমাদের নেতৃস্থানীয়দের কুৎসা রটিয়ে বেড়াচ্ছে। আমাদের পূর্ব পুরুষদের অবজ্ঞা করে চলছে। অনুরূপভাবে আমাদের প্রতিমাদের নিন্দাবাদ তার মুখে লেগেই আছে। এখনো যদি আপনি তাকে এসব থেকে বিরত না করেন, আমরা আপনাদের সাথে যুদ্ধ করতে বাধ্য হবো। তাতে করে ব্যাপারটার একটা কিছু সমাধান হবে।
এ ঘটনার পর চাচা আবু তালিব রাসূল ﷺ কে ডেকে এনে সব ঘটনা বিস্তারিত বললেন। এরপর বললেন, হে ভাতিজা! আমার ও তোমার নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার কথা স্মরণে রেখ। আমাকে এমন কোনো বিপদে ফেল না যা সহ্য করা আমার পক্ষে সম্ভব হবে না। এর প্রতিক্রিয়ায় রাসূল ﷺ বললেন,
فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم يا عماه لو وضعوا الشمس في يميني والقمر في شمالي على أن أترك هذا الأمر حتى يظهره الله أو أهلك فيه ما تركته.
“হে আমার চাচা! তারা যদি আমার ডান হাতে সূর্য এবং বাম হাতে চন্দ্রও দেয় আর আমাকে একাজ পরিত্যাগ করতে বলে তাহলে আমি ততক্ষণ ক্ষান্ত হবো না যতক্ষণ না এ দ্বীন বিজয় লাভ করবে অথবা দ্বীনের বিজয়ের জন্য আমি ও আমার জীবন উৎসর্গ হবে।” এসময় আল্লাহর রাসূলের অশ্রুসজল চোখ দেখে আবি তালিব ভাতিজাকে শান্তনা দিয়ে বলেন,
اذهب يا ابن أخي فقل ما أحببت، فوالله لا أسلمك لشيء أبداً.
“হে আমার ভাতিজা! তুমি তোমার দ্বীনের কাজ করে যাও, আল্লাহর কসম! কোনো কিছুর বিনিময়ে আমি তোমাকে তাদের নিকট সমর্পণ করব না।"

টিকাঃ
১৪১. ইবনে কাছির, আল-বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ, ৩য় খণ্ড, পৃ. ৬৩।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00