📄 নামাজের মধ্যে ক্রন্দন
রাসূলুল্লাহ ﷺ নামাজরত অবস্থায় এমনভাবে কাঁদতেন যে দূর থেকে তাঁর কান্নার আওয়াজ শোনো যেত। একবার আয়েশা (রা) কে প্রশ্ন করা হলো রাসূল ﷺ সম্পর্কে আপনার জীবনের সবচেয়ে বিস্ময়কর ঘটনা কী? তিনি বললেন, এক রাতে উঠে রাসূল ﷺ আমাকে বললেন, আয়েশা তুমি আমাকে ছাড়, আমি আমার প্রভুর ইবাদত করি। আমি বললাম, আল্লাহর কসম! আমি আপনার নৈকট্য পছন্দ করি এবং আপনার পছন্দের জিনিসও পছন্দ করি। আয়েশা (রা) বলেন, তিনি উঠে অযু করলেন এবং নামাজে দাঁড়ালেন। আর কাঁদতে আরম্ভ করলেন। কাঁদতে কাঁদতে তাঁর বক্ষ ভিজে গেল। আরো কাঁদলেন, কাঁদতে কাঁদতে মাটি পর্যন্ত ভিজে গেল। বেলাল (রা) তাঁকে ফজরের নামাজের সংবাদ দিতে এসে দেখেন তিনি কাঁদছেন। বেলাল (রা) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কাঁদছেন? অথচ আল্লাহ আপনার আগের ও পরের সকল গুনাহ মাফ করে দিয়েছেন। রাসূল ﷺ বললেন, আমার কি আল্লাহর কৃতজ্ঞ বান্দা হতে মনে চায় না? আজ রাতে আমার ওপর কয়েকটি আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে, যে এগুলো পড়বে আর চিন্তা-ফিকির করবে না, সে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। অতঃপর সূরা আল ইমারনের কতিপয় আয়াত পড়লেন।
অন্য একটি হাদিসে এসেছে,
عَنْ مُطَرِّفٍ عَنْ أَبِيهِ قَالَ أَتَيْتُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ يُصَلَّى وَلِجَوْفِهِ أُزِيزٌ كَازِيزِ الْمِرْجَلُ يَعْنِي يَبْكِي
মুতাররিফ (র) থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী ﷺ এর নিকট আসলাম, তিনি তখন নামাজরত ছিলেন এবং তাঁর পেটের মধ্যে হাপরের মধ্য থেকে নির্গত আওয়াজের অনুরূপ আওয়াজ হচ্ছিল অর্থাৎ তিনি কাঁদছিলেন।
টিকাঃ
১১০. সহীহ ইবন হিব্বান আতা (রা) থেকে। হাদিস নং-৬৮
১১১. আবু আব্দুর রহমান আহমদ আন-নাসায়ী, আস-সুনান, অধ্যায়: সিফাতুস সালাত, পরিচ্ছেদ: আল-বুকা ফিস সালাত, হাদিস নং, ১২১৪; আলবানি হাদিসটিকে সহীহ বলেছেন।
📄 কবরের আযাব ও তার শাস্তির কথা স্মরণ করে কান্না
কবরের আযাব ও তার শাস্তির কথা স্মরণ করে আল্লাহর রাসূল ﷺ কাঁদতেন। যেমন হাদিসে এসেছে,
عَنِ البَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ قَالَ : بَيْنَمَا نَحْنُ مَعَ رَسُولِ اللهِ صلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِدْ بَصُرَ بِجَمَاعَةٍ ، فَقَالَ : عَلامَ اجْتَمَعَ عَلَيْهِ هَؤُلاء ؟ قِيلَ : عَلَى قَبْرٍ يَحْفِرُونَهُ قال : ففزعَ رَسُولُ اللهِ صلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، فَبَدَرَ بَيْنَ يَدَيْ أَصْحَابِهِ مُسْرِعًا حَتَّى انْتَهَى إلى القَبْرِ ، فَجَنَّا عَلَيْهِ . قَالَ : فَاسْتَقْبَلْتُهُ مِنْ بَيْنِ يَدَيْهِ لأَنظُرَ مَا يَصْنَعُ ، فبَكَى حَتَّى بَلَّ الثَّرَى مِنْ دُمُوعِهِ ، ثُمَّ أَقْبَلَ عَلَيْنَا قَالَ : أَي إِخْوَانِي لِمِثْلِ الْيَوْمِ فَأَعِدُّوا ؟.
বারা ইবন আজিব (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূল ﷺ এর সাথে চলছিলাম এবং এক জায়গায় অনেক লোকজন দেখে রাসূল ﷺ জিজ্ঞাসা করলেন, লোকরা কেন এখানে একত্রিত হয়েছে? বলা হলো তারা একটা কবর খুড়ছে। রাবী বলেন, রাসূল ﷺ ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে গেলেন এবং সাহাবীদের সামনে থেকে দ্রুত এগিয়ে গিয়ে কবরের পাশে হাঁটু গেড়ে বসে গেলেন। রাবী বলেন, তিনি কি করেন এটা দেখার জন্য আমরা তাঁর সামনে দাঁড়ালাম। অতঃপর তিনি কাঁদতে লাগলেন এমনকি তাঁর চোখের পানিতে মাটি সিক্ত হয়ে গেল। এরপর আমাদের নিকট এসে বললেন, হে আমার সাথীরা! তোমরা কি আজকের দিনের জন্য প্রস্তুতি নিয়েছ?
যেমন অন্য হাদিসে এসেছে-
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ زَارَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم - قبْرَ أُمِّهِ فَبَكَى وَأَبْكَى مَنْ حَوْلَهُ فَقَالَ « اسْتَأذنتُ رَبِّي فِي أنْ أسْتَغْفِرَ لَهَا فَلَمْ يُؤْذِنْ لِي وَاسْتَأْذَنَتُهُ فِي أَنْ أُزُورَ قَبْرَهَا فَأَذِنَ لِى فَزُورُوا القُبُورَ فَإِنَّهَا تُذَكَّرُ الْمَوْتَ ».
আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী ﷺ তাঁর মায়ের কবর যিয়ারত করতে গেলেন। তিনি কাঁদলেন এবং আশেপাশের সবাইকে কাঁদালেন। রাসূল ﷺ বললেন, আমি আমার রবের নিকট মায়ের জন্য ক্ষমার অনুমতি চাইলাম। কিন্তু আমাকে অনুমতি দেয়া হলো না। অতএব তোমরা কবর যিয়ারত কর। কেননা কবর যিয়ারত তোমাদেরকে মৃত্যুর কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।
টিকাঃ
১১২. আবু আবদুল্লাহ আহমদ ইবন হাম্বল, মুসনাদ, অধ্যায়: জুহুদ, অনুচ্ছেদ: আল-হুযন ওয়াল বুকা, খ. ৪র্থ, পৃ. ২৯৪, হাদিস নং ১৮৬২৪। আলবানি হাদিসটিকে সহীহ বলেছেন।
১১৩. মুসলিম, আস-সহীহ, অধ্যায়: জানায়েয, অনুচ্ছেদ: ইসতিযানু নাবী রব্বাহু আয্যা ওয়া জাল্লা ফি যিয়ারাতি কবরি উম্মিহি, খ. ৩য়, পৃ. ৬৫, হাদিস নং, ২৩০৪
📄 বদরের যুদ্ধের আগের দিন ক্রন্দন
মদিনা থেকে ৮০ মাইল দূরে বদর একটি ক্ষুদ্র গ্রাম। ইসলামের প্রথম যুদ্ধ বদরের যুদ্ধ এখানেই সংঘটিত হয়। এ যুদ্ধে কাফেরদের সৈন্য সংখ্যা ছিল এক হাজার। তারা অস্ত্রশস্ত্রে পরিপূর্ণভাবে সজ্জিত ছিল। তাদের বাহিনীতে তিনশত ঘোড়া ও সাতশ উট ছিল। অন্যদিকে মুসলমানদের সৈন্য সংখ্যা ছিল মাত্র তিনশত তের জন এবং দুটি ঘোড়া ও সত্তরটি উট ছিল। আর কাফেরদের মতো মুসলমানদের তেমন অস্ত্রশস্ত্রও ছিল না। যুদ্ধের আগের দিন রাসূল ﷺ বদরের প্রান্তরে কাঁদছিলেন এই বলে, হে আল্লাহ! এই ছোট বাহিনীকে যদি তুমি শেষ করে দাও তবে এ পৃথিবীতে তোমার নাম স্মরণ করার মতো কেউ অবশিষ্ট থাকবে না। যেমন আলী ইবন আবি তালিব (রা) থেকে বর্ণিত,
مَا كَانَ فِينَا فَارِسٌ يَوْمَ بَدْرٍ غَيْرُ الْمِقْدَادِ ، وَلَقَدْ رَأَيْتُنَا وَمَا فِينَا قَائِمٌ إِلَّا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي تَحْتَ شَجَرَةٍ وَيَبْكِي حَتَّى أَصْبَحَ
তিনি বলেন, বদর যুদ্ধের দিন মিকদাদ (রা) ছাড়া আমাদের আর কেউ অশ্বারোহী ছিল না। আমরা দেখলাম রাসূল ﷺ একটি গাছের নিচে দাঁড়িয়ে সারারাত নামাজ পড়ছেন আর কাঁদছেন। এ অবস্থায় সকাল হয়ে গেল।
উল্লেখ্য যে আল্লাহ তার এই দোয়া কবুল করেন এবং মুসলমানদের বিজয় সংবাদ দান করে ওহী নাযিল করেন।
টিকাঃ
১১৪. আবু ইয়ালা আহমদ ইবন আলী, মুসনাদে আবু ইয়ালা (আল-মাকতাবাতুশ শামেলাহ), খ. ১ম, পৃ. ১৭৫, হাদিস নং. ২৮০
📄 সন্তান সন্ততির মৃত্যুর পর ক্রন্দন
সন্তান-সন্ততির মৃত্যুর পরে কান্নাটা রহমতের। রাসূল ﷺ এর চারজন কন্যা সন্তান ছিলেন। তাঁরা সকলেই প্রথম স্ত্রী খাদিজা (রা) এর ঔরষজাত সন্তান ছিলেন। তাঁরা হলেন: যয়নব, রুকাইয়া, উম্মে কুলসুম ও ফাতিমা (রা)। ফাতিমা (রা) বাদে বাকি তিনজনই রাসূল ﷺ এর জীবদ্দশাতেই ইন্তেকাল করেন। একমাত্র কন্যা ফাতিমা (রা) রাসূলুল্লাহ ﷺ এর ওফাতের তিন মাস পরে ইন্তেকাল করেন। এছাড়া তিনজন পুত্র সন্তান ছিল। এদের মধ্যে দু'জন ছিল প্রথম স্ত্রী খাদিজা (রা) এর এবং অন্যজন দাসী মারিয়া কিবতিয়া (রা) এর। এরা হলেন কাশেম, আব্দুল্লাহ ও ইবরাহীম। এরা সবাই শিশুকালেই মারা যান। পুত্র ইবরাহীম যখন মৃত্যুবরণ করেন, তখন রাসূলুল্লাহ ﷺ কান্নাকাটি করেন।
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رضى الله عنه قَالَ دَخَلْنَا مَعَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم - عَلى أبى سَيْفِ القين - وَكَانَ ظِيْرًا لِإِبْرَاهِيمَ - عَلَيْهِ السَّلَامُ - فَأَخَذَ رَسُولُ اللهِ - صلى الله عليه وسلم - إِبْرَاهِيمَ فَقَبَّلَهُ وَشَمَّهُ ، ثُمَّ دَخَلْنَا عَلَيْهِ بَعْدَ ذلِكَ ، وَإِبْرَاهِيمُ يَجُودُ بِنَفْسِهِ ، فَجَعَلَتْ عَيْنَا رَسُولُ اللهِ - صلى الله عليه وسلم - تذرفان . فقالَ لَهُ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَوْفٍ رضى الله عنه - وَأَنْتَ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَقَالَ « يَا ابْنَ عَوْفٍ إِنَّهَا رَحْمَة » . ثُمَّ أَتْبَعَهَا بأخرى فقال - صلى الله عليه وسلم « إِنَّ العَيْنَ تَدْمَعُ ، وَالقَلبَ يَحْزَنُ ، وَلا نَقُولُ إِلا مَا يَرْضَى رَبُّنَا ، وَإِنَّا بِفِرَاقِكَ يَا إِبْرَاهِيمُ لَمَحْزُونُونَ »
আনাস ইবন মালেক (রা) বলেন, আমরা রাসূল ﷺ এর সাথে তাঁর পুত্র ইবরাহীমের ধাত্রীর স্বামী কর্মকার আবু সাঈফের নিকট গেলাম। রাসূল ﷺ ইবরাহীমকে কোলে নিয়ে চুম্বন করলেন এবং আদর করলেন। এরপর আবার আমরা তাঁর কাছে গিয়ে দেখলাম ইবরাহীমের মুমূর্ষু অবস্থা। তখন রাসূল ﷺ এর চক্ষুদ্বয় হতে অশ্রু প্রবাহিত হচ্ছিল। আব্দুর রহমান ইবন আওফ (রা) বলে উঠলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনিও (কাঁদছেন?)! তিনি বললেন, হে ইবন আওফ! ইহা মমতা। পুনরায় অশ্রুপাত করে বললেন, নিঃসন্দেহে চোখ কাঁদে আর হৃদয় হয় ব্যথিত। কিন্তু, আমরা কেবল তাই বলি যা আমাদের রব পছন্দ করেন। হে ইবরাহীম! আমরা তোমার বিচ্ছেদে শোকাভিভূত।
عَن ابْنِ عَبَّاس قالَ لمَّا حُضِرَت بنت لِرَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم- صَغِيرَةٌ فَأَخَذَهَا رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم - فَضَمَّهَا إِلَى صَدْرِهِ ثُمَّ وَضَعَ يَدَهُ عَلَيْهَا فَقَضَتْ وَهِيَ بَيْنَ يَدَيْ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم- فَبَكَتْ أُمُّ أَيْمَنَ فَقَالَ لَهَا رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم- « يَا أمَّ أَيْمَنَ أَتَبْكِينَ وَرَسُولُ الله صلى الله عليه وسلم - عِنْدَكَ ». فقالت مَا لِي لا أَبْكِي وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَبْكِي فَقَالَ رَسُولُ الله صلى الله عليه وسلم « إِنِّي لستُ أَبْكِي وَلَكِنَّهَا رَحْمَةٌ ». ثمَّ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم- « الْمُؤْمِنُ بِخَيْرٍ عَلَى كُلِّ حَالٍ تُنْزَعُ نَفْسُهُ مِنْ بَيْنِ جَنْبَيْهِ وَهُوَ يَحْمَدُ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ ».
ইবন আব্বাস (রা) বলেন, রাসূল ﷺ এর ছোট মেয়ের মৃত্যু উপস্থিত হলে তিনি তাঁকে তুলে নিয়ে নিজ বুকের সাথে জড়িয়ে ধরলেন, তারপর নিজের হাত তার ওপর রাখলেন। রাসূল ﷺ এর সামনেই তাঁর মৃত্যু হলো। তাতে উম্মে আইমান (রা) কাঁদতে লাগলেন। রাসূল ﷺ তাঁকে বললেন, হে উম্মে আইমান! তুমি কাঁদছো অথচ আল্লাহর রাসূল ﷺ তোমার সামনে উপস্থিত। তিনি বলেন, আমি কেন কাঁদব না যখন স্বয়ং আল্লাহর রাসূল ﷺ কাঁদছেন। রাসূল ﷺ বলেন, আমি কাঁদছি না বরং তা অন্তরের প্রকৃতিগত মায়া-মমতা। অতঃপর রাসূল ﷺ বলেন, মুমিন ব্যক্তি সর্বাবস্থায় ভালো থাকে। তার পার্শ্বদ্বয় থেকে তাঁর রুহ বের করা হয় অথচ তখনও সে মহামহিম আল্লাহর প্রশংসা করতে থাকে।
টিকাঃ
১১৫. আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি রাসূল ﷺ থেকে বর্ণনা করেছেন, নবী ﷺ বলেছেন, আল্লাহ তার রহমতকে একশত ভাগে বিভক্ত করেছেন, একভাগ সমগ্র সৃষ্টির মাঝে বণ্টন করে দিয়েছেন। যার ফলে তোমরা পরস্পরের প্রতি রহম কর এবং অনুগ্রহ কর। এ কারণে বন্য প্রাণীও তার বাচ্চাদের প্রতি অনুগ্রহ করে। আর বাকী ৯৯ ভাগ রহমত দিয়ে আল্লাহ কিয়ামতের দিন তার বান্দাদের প্রতি অনুগ্রহ করবেন। সূনানে ইবনে মাজাহ, কিতাবুল জুহুদ, বাবু মা ইউরজা মিন রহমাতিল্লাহ ইয়াওমাল কিয়ামাহ, খ. ৫ পৃ. ৩৫২, হাদিস নং, ৪২৯৩।
১১৬. ইবন সাদ, আত-তবাকাতুল কুবরা, ৮ম খণ্ড, পৃ. ১৯-৩০।
১১৭. ইবরাহীম রাসূলুল্লাহ (সা) এর তৃতীয় পুত্র ছিলেন এবং তিনি ৮ম হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মহানবী (সা) এর সর্বশেষ সন্তান ছিলেন। রাসূলুল্লাহ (সা) তাঁর জন্মের ৭ম দিনে আকীকা করেন। এতে তিনি দু'টি মেষ জবেহ করে সম্পূর্ণ দরিদ্রদের মাঝে বণ্টন করে দেন এবং তাঁর মাথা মুণ্ডন করে চুল মাটিতে পুঁতে রাখেন এবং চুল পরিমাণ রৌপ্যর মূল্য গরিবদের মাঝে বিলিয়ে দেন। তিনি ১০ হিজরীর ১০ রবিউল আউয়াল মাসে মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুতে নবী (সা) বলেন, আল্লাহ ইবরাহীমের লালন পালনের জন্য বেহেশেতে জান্নাতী সেবিকা প্রেরণ করবেন। ইবন সাদ, আত-তবাকাতুল কুবরা, ৮ম খণ্ড, পৃ. ৭।
১১৮. বুখারী, আস-সহীহ, অধ্যায়: জানায়িয, অনুচ্ছেদ: কওলুন্নাবী (সা) ইন্না বিকা লা মাহযুনুন, খ. ৫ম, পৃ. ৫৭, হাদিস নং. ১২২০
১১৯. আহমদ ইবন শুআইব আবু আব্দুর রহমান আন নাসায়ী, আস-সুনান, অধ্যায়: জানায়িয, অনুচ্ছেদ: ফিল বুকা আলাল মায়্যিত, খ. ৬, পৃ. ৪১৯, হাদিস নং. ১৮০৪ আলবানি হাদিসটিকে সহীহ বলেছেন।